টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে ২০২২

টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়

টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে আর্টিকেলটিতে আমরা সেরা ১০টি উপায় সম্পর্কে জানবো যা সম্পূর্ণ লেজিট। তবে, বাংলাদেশ থেকে সহজে ইনকাম করতে চাওয়া লোকজনের চাওয়া থাকে এমন যে, একটা অ্যাপ ইন্সটল দিলাম, ১০-২০ মিনিট টাইম দিবো, আর প্রতিদিন ৫-১০ ডলার হলেই হবে। আমার বাবা অত লোভ নেই! তাহলে ধন্যবাদ স্যার, টাকা ইনকাম করার উপায় নিয়ে লেখা এই আর্টিকেল পড়ে আপনার সেরকম কোনো লাভ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

এখানে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে করা যাবে এমন সব কাজ নিয়ে কথা বলবো যার জন্য আপনাকে ৬ মাস ১ বছর ট্রেনিং নিতে হবে না সত্য, তবে কাজ করতে হবে, সময় দিতে হবে।

আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি টাকা ইনকাম করার সহজ যত কাজের কথা এখানে আলোচনা করা হবে, তার সবগুলো বাংলাদেশ থেকে করতে পারবেন এবং চাইলে শুধু প্যাসিভ ইনকাম নয়, বরং ফুল টাইম কাজ বা ক্যারিয়ার হিসেবেও নিতে পারবেন ইনশা-আল্লাহ।

টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশের জন্য

যেহেতু এখনো আমাকে ছেড়ে যাননি, তাই ধরে নিচ্ছি আপনি টাকা ইনকাম করার সহজ তবে অবশ্যই ভালো উপায়গুলোই জানতে চান। তাহলে তাহলে চলুন বাংলাদেশ থেকে টাকা আয় করার সহজ উপায়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

  • ডিজিটাল সেবা
  • কন্টেন্ট রাইটিং
  • সার্ভে / ক্যাপচা পূরণ
  • ফটোগ্রাফি
  • অনলাইন বিজনেস
  • ফেসবুক বিজনেস
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • ইউটিউবিং
  • ব্লগিং
  • ফ্রিল্যান্সিং

১। ডিজিটাল সেবা : টাকা আয় করার সহজ উপায়

আপনি কি জানেন, বাংলাদেশ থেকে কত মানুষের বিদেশী প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নেওয়ার জন্য ডলার প্রয়োজন হয়? যেমন: ওয়েব হোস্টিং, থিম, প্লাগইন ক্রয় করা, ফেসবুক অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, ইত্যাদি। কতশত লোক তার জমাকৃত অর্থ আনতে পারছেন না, কেননা তার কাছে সেরকম কোনো পেমেন্ট মেথড নেই।

আপনি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেন। সততার সাথে সার্ভিস দিলে আপনি প্রতি ডিলের জন্য ১০০০+ টাকা ইনকাম করার আশা করতে পারেন।

এজন্য আপনাকে একটি আইপি এড্রেস কিনে (যেহেতু বাংলাদেশ লোকেশন থেকে ব্যবহার করতে পারবেন না) পেপাল এবং অন্যান্য জনপ্রিয় পেমেন্ট মেথড এ একাউন্ট করতে হবে।

সেইসাথে আরো ভাল হয় যদি ব্যাংক একাউন্ট করে ডলার এন্ডোর্স করা যাবে এমন কার্ড অর্ডার করে নেন (ব্যাংক থেকে চাইলেই দিবে, ইসলামী ব্যাংক একাউন্টধারীদের জন্য প্লাটিনাম কার্ড প্রযোজ্য)। তবে ডলার এন্ডোর্স করার সময় পাসপোর্ট দেখাতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় শুধু পেপাল, পেওনিয়ার দিয়েও শুরু করতে পারেন।

এই কাজের জন্য সেরকম কোনো ইনভেস্টমেন্ট প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র আইপি এড্রেস কেনার টাকা লাগবে। আর যদি পারেন, নিজের একাউন্টে কিছু ডলার ক্যাশ ইন করে নিন।

ব্যাস, এবার বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইটে একাউন্ট করে সার্ভিস এড করুন। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে (ডিজিটাল সার্ভিস দেয় এমন লোকেদের গ্রুপ রয়েছে) পোস্ট করুন। সেইসাথে নিজের একটি পেজ খুলে নিবেন।

প্রতিটি সফল ডিলের পর রিভিউ নিতে ভুলবেন না যেন।

পেমেন্ট ছাড়াও আরো অনেক ডিজিটাল সেবা আছে, যা আপনি একইসাথে প্রোভাইড করতে পারেন।

২। কন্টেন্ট রাইটিং : টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে

অফলাইনের যুগে পত্রিকায় লেখা পাঠানো আর পুস্তক ছিল একমাত্র লিখিত কন্টেন্ট। কিন্তু সময় বদলেছে, এসেছে ডিজিটাল মিডিয়া বেড়েছে কন্টেন্টের বহুমাত্রিক চাহিদা। শর্ট ভিডিও, ফিচার আর্টিকেল, ব্লগ আর্টিকেল, স্ক্রিপ্টসহ আরো বহু জায়গায় বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট, ও কপি রাইটিং প্রয়োজন হয়।

এসব কন্টেন্ট নেওয়ার জন্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটের পাশাপাশি ফেসবুক গ্রুপ থেকেও কন্টেন্ট রাইটার হায়ার করা হয়।

কন্টেন্ট রাইটিং এ দক্ষতা দেখাতে পারলে আপনার প্রতিটি নতুন গ্রাহককে পার্মানেন্ট করে ফেলতে পারবেন।

৩। সার্ভে/ক্যাপচা পূরণ : টাকা ইনকাম করার সবচেয়ে সহজ উপায়

এই আর্টিকেলে যতগুলো কাজ নিয়ে কথা বলবো, সেসবের মাঝে সম্ভবত টাকা ইনকাম করার সবচেয়ে সহজ উপায় বাংলাদেশে এটিই।

বিভিন্ন সাইটে নিশ্চয়ই দেখেছেন, আপনি মানুষ নাকি রোবট তার টেস্ট নেয়। এই কাজটিই ক্যাপচা পূরণ।

অন্যদিকে সার্ভে হলো বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে আসার জন্য, সমস্যা খুঁজে বের করতে, এবং বৈজ্ঞানিক কাজের অংশ হিসেবে সাধারণ লোকেদের তথ্য জানার দরকার হয়। সেসব কাজের জন্য পেমেন্টও করা হয়। অর্থাৎ আপনি আমাকে আপনার তথ্য দিবেন, বিনিময়ে আমি আপনাকে কিছু টাকা দিবো।

তবে এখানে একটি সমস্যা আছে, বেশিরভাগ বিখ্যাত ও বিশ্বস্ত সার্ভে এবং ক্যাপচা পূরণ করে আয় করার সাইট বাংলাদেশ থেকে কাজ করতে দেয় না।

তবে চিন্তার কারণ নেই, সামান্য কিছু ডলার খরচ করে একটি আইপি এড্রেস কিনে কাজ শুরু করতে পারবেন।

এই taka income korar sohoj upay থেকেও বাংলাদেশ থেকে মাসে ১০০০+ ডলার ইনকাম করা সম্ভব।

৪। ফটোগ্রাফি : টাকা ইনকাম করার স্মার্ট উপায়

আপনার কি ছবি তোলার শখ আছে? কম্পিউটারে নিশ্চয়ই বেশ কিছু ছবি জমে আছে। না পারছেন ডিলিট করতে না পারছেন ল্যাপটপের জায়গা খালি করতে। তাহলে উপায় কি?

আপনাকে যদি এমন ক্লাউডস্টোর দেওয়া হয়, যেখানে শতভাগ রেজ্যুলেশনের সাথে ছবি জমা রাখবে, আবার পেমেন্টও দিবে, তাহলে কেমন হয়?

যি, এমনটা অবশ্যই সম্ভব। এজন্য আপনাকে স্টক ফটো সাইটগুলোতে একাউন্ট করে ছবি জমা দিতে হবে। আপনার ছবি ডাউনলোড হলেই আপনার একাউন্টে টাকা জমবে। ছাত্রদের জন্য টাকা আয় করার যত উপায় রয়েছে, তার মাঝে সবচেয়ে সেরা উপায় ফটোগ্রাফি।

আপনি কি ভাবছেন? আমার তো ক্যামেরাই নেই!

আরে মশাই, আপনার কাছে মোবাইল আছে তো? মোবাইল দিয়ে ফটোগ্রাফি করেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

৫। অনলাইন বিজনেস

টাকা-ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশআপনি কি এমন কোন এলাকায় আছেন, যেখানে বিখ্যাত প্রোডাক্ট পাওয়া যায়? যেমন: বগুড়ার দই, কুমিল্লার রসমালাই, নাটোরের কাচাগোল্লা বা সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্প!

এগুলোকে সিগনেচার প্রোডাক্ট বলা হয়।

এরকম প্রোডাক্টের চাহিদা থাকলেও অরিজিনাল প্রোডাক্ট সব জায়গায় পাওয়া যায় না। তাই, এমন সিগনেচার প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস করলে বেশ ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের জন্য আরো অনেক সম্ভবনাময় অনলাইন বিজনেস আইডিয়া রয়েছে যেগুলো নিয়েও শুরু করতে পারেন।

অনলাইন ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট থাকলে বা ডেভেলপ করে নিতে পারলে  ভালো, তবে না থাকলে ই-কমার্স সাইটগুলোতে শপ খুলেও শুরু করতে পারেন।

অনলাইন বিজনেস শুরু করার জন্য এমন প্রোডাক্ট বেছে নিন, যেন আপনার ইনভেস্টমেন্ট ক্যাপাসিটির মাঝে থাকে। যেমন: সিগনেচার প্রোডাক্ট এর জন্য আপনাকে তেমন কোনো ইনভেস্টই করতে হবেনা।

৬। ফেসবুক বিজনেস

অনলাইন বিজনেসকে বলা হয় ই-কমার্স, আর ফেসবুক বিজনেসকে বলা হয় এফ-কমার্স। এখানে পার্থক্য হলো, বিজনেস করার জন্য ওয়েবসাইট কংবা অন্য কোনো ই-কমার্স সাইটে একাউন্ট করতে হবে না। বরং, একটি ফেসবুক পেজ এবং সাথে গ্রুপ খুলেই ব্যবসা করে সহজেই টাকা আয় করতে পারবেন।

কি নিয়ে ব্যবসা করবেন, তা ই-কমার্স ব্যবসার আইডিয়াগুলো থেকে দেখে নিতে পারেন। এখানে সুবিধা হলো, আপনি কোনো ক্যাপিটাল ছাড়াই এফ কমার্স শুরু করতে পারবেন। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে ফেসবুক সবচেয়ে ভালো মাধ্যম।

৭। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ধরুন, আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে, সেখানে আমি একটি একাউন্ট করে আপনার প্রোডাক্টের জন্য আমার জন্য একটি ইউনিক লিঙ্ক তৈরি করলাম।

লিঙ্কটা নিয়ে আমি আমার ওয়েবসাইটে রাখায় একজন ভিজিটর সেখানে ক্লিক করে প্রোডাক্টটি কিনে ফেললো। এখন আপনার হয়ে আপনার প্রোডাক্ট প্রমোট করে বিক্রি করতে হেল্প করায় আপনার লাভের একটি অংশ আমাকে দিলেন, আমার জন্য এটাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংঅ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মডেল

অর্থাৎ অন্যের প্রোডাক্ট মার্কেটিং করে বিক্রি করা এবং তার বিপরীতে কমিশন নেওয়া। যদি এটা আমি আমার নিজের প্রোডাক্টের জন্য করতাম, তবে এটা হতো মার্কেটিং, যেহেতু ডিজিটাল মিডিয়ায় করছি, তাই Digital Marketing হতো।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনার ভিজিটর দরকার, সেটা হোক সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ব্লগ সাইট। কেননা, আপনার লিঙ্কে ক্লিক করে যদি কেউ না ক্র‍য় করে, তবে আপনার কোনো লাভ হবে না।

কার সাথে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন তা ঠিক করতে সেরা ১০ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস দেখে নিন।

৮। ইউটিউবিং

আপনি কি কোনো বিষয়ে পারদর্শী? অথবা আপনার কাছে কি নতুন কোনো আইডিয়া বা টপিক আছে? যা নিয়ে রেগুলার ভিডিও তৈরি করতে পারবেন?

যদি আপনার উত্তর হ্যা হয়, তবে এখনই একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিডিও আপলোড করা শুরু করুন।

ইউটিউব এ 1000 সাবস্ক্রাইবার ও 4000 ঘন্টা ওয়াচ টাইম এবং সেইসাথে ইউটিউব কন্টেন্ট পলিসি মেইনটেইন করলেই এডসেন্স এপ্রুভাল নিয়ে চ্যানেল মনিটাইজ করতে পারবেন।

ইউটিউব নিশ্চয়ই কঠিন নয়। তবে ভিউ বাড়ানোর জন্য ভালো কন্টেন্ট এবং প্রেজেন্টেশন ভালো হতে হবে।

৯। টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় : ব্লগিং

ব্লগ হলো ইন্টারনেটে থাকা একটি সাইট যেখানে নিয়মিত নতুন নতুন কন্টেন্ট পাবলিশ করা হয়।

আপনি আর্টিকেলটি যে সাইটে পড়ছেন, এটিও একটি ব্লগ। ব্লগ শুরু করার জন্য কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হবে। যেমন: ডোমেইন, হোস্টিং, থিম এবং আরো আনুষঙ্গিক বিষয়বস্তু।

যদি আপনি লিখতে পছন্দ করে এবং শেখাতে ও জানাতে ভালো লাগে সেইসাথে নিয়মিত নতুন বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকে তবে ঘরে বসে বাংলাদেশ থেকে টাকা ইনকাম করার সবচেয়ে সহজ ও সেরা উপায়গুলোর একটি ব্লগিং

ব্লগ করতে কি কি লাগে, কত টাকা খরচ হবে জানতে আমাদের পূর্ববর্তী আর্টিকেলটি পড়ে নিন।

১০। ফ্রিল্যান্সিং: টাকা ইনকাম করার সেরা উপায়

ফ্রিল্যান্সিং শব্দের সাথে আপনি নিশ্চয়ই পরিচিত! বর্তমানে রয়্যাল পেশার একটি। তবে এখানে আপনি কতটুকু সফল হবেন তা নির্ভর করছে আপনার স্কিল এবং কমিউনিকেশন স্কিল এর উপর।

আপনি কি কোনো বিষয়ে পারদর্শী? ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাওয়া যায় এমন সাইটগুলোতে যদি প্রবেশ করেন, তবে দেখবেন শত শত কাজ এখান থেকে আউটসোর্সিং হচ্ছে যা হয়তো আপনি কখনো ভাবেননি যে এমন কাজ করেও টাকা আয় করা যেতে পারে, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটেও টাকা আয় করার এত সহজ উপায় আছে!

আপনি যদি মনে করেন আপনার ইংরেজি দক্ষতার জন্য কাজ পেতে সমস্যা হবে, তবে ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কাজ শুরু করুন।

টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশের বিষয়ে পরিশেষ

আমরা এতক্ষনের আলোচনায় যে ১০টি টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় সম্পর্কে জানলাম সবগুলোই বাংলাদেশ থেকে করতে পারবেন। হ্যা, কিছু কাজের জন্য আইপি কেনার দরকার হবে, তবে তার জন্য খুব একটা খরচ পড়বে না। সহজ কাজ করার জন্য এটুকু খরচ নিশ্চয়ই আপনার জন্য সমস্যা হওয়ার কথা না।

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার আরও কোনো সহজ উপায় বাংলাদেশের জন্য জানা থাকলে আমাদের সাথে কমেন্ট করে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!