নতুন সেরা ৬ স্যামস্যাং মোবাইল ফোন

সেরা স্যামস্যাং মোবাইল ফোন

সেরা স্যামসাং মোবাইল ফোন সম্পর্কে জানতে চান? অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মার্কেটের একটা বড় অংশ দখল করে আছে স্যামসাং ফোন। ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং স্মুথ সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স যাদের চাহিদা তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকে স্যামসাং ফোন। স্যামসাং মোবাইল ফোনের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও বর্তমানে গ্রাহকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রায় সব ধরনের বাজেটেই samsung এর এক বা একাধিক ফোন রয়েছে।

ইউজার ফ্রেন্ডলি ও অসাধারণ সব ফিচারযুক্ত ইউজার ইন্টারফেস এবং অসাধারণ ডিসপ্লে- স্যামসাং ফোনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আপনিও কি best samsung phone ক্রয় করার কথা ভাবছেন? তাহলে দেখে নিন ২০২১ সালের ৬টি সেরা স্যামসাং ফোন সম্পর্কে।

সেরা স্যামসাং মোবাইল ফোন তালিকা

আপনি যদি বেশি দাম থেকে শুরু করে মোটামুটি বাজেটের একটি সেরা স্যামস্যাং মোবাইল কিনতে চান তাহলে আজকের লেখাটি মোবাইল মডেল বাছাই করতে নিঃসন্দেহে সহায়ক হবে। কেননা, বিভিন্ন বাজেটে স্যামস্যাং এর সেরা ছয়টি ফোন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তবে কমদামে ভালো ফোন খুঁজে থাকেন তবে আমাদের ১৫ হাজার টাকার মাঝে যেসব ফোন পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর লিস্ট দেখে নিন।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, বাজেটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোন ফোনটি আপনার জন্য ভালো হবে তা জানতে পুরো লেখাটি পড়ুন।

১. স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫২এস ( Samsung galaxy A52s )

স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫২এসসম্প্রতি বাংলাদেশে প্রিমিয়াম মিডরেঞ্জ বাজেট ক্যাটাগরিতে গ্যালাক্সি এ৫২এস ফোনটি লঞ্চ হয়। লঞ্চের পরপর বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে ফোনটি। সবদিক মিলিয়ে একটি ভালো প্যাকেজ অফার করছে ফোনটি।

সাড়ে ছয় ইঞ্চির সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লেটির রেজোলিউশন ফুল এইচডি প্লাস। এর রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্জ। ডিসপ্লেটি কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫ দ্বারা সুরক্ষিত হলেও পেছনের দিকে ব্যবহার করা হয়েছে প্লাস্টিক। তবে ফোনটি আইপি৬৭ ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট। এই বাজেটে আইপি৬৭ অফার করে এমন ফোন নেই বললেই চলে।

পেছনের চারটি ক্যামেরার সেটআপের মেইন ক্যামেরাটি ৬৪ মেগাপিক্সেলের এবং আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরাটি ১২ মেগাপিক্সেলের। মেইন ক্যামেরায় ওআইএস বা অপটিক্যাল ইমেজ স্টয়াবিলাইজেশন আছে।

এছাড়াও ৫ মেগাপিক্সেলের একটি ম্যাক্রো ক্যামেরা ও একটি ডেপথ সেন্সর আছে। ফ্রন্ট ক্যামেরাটি ৩২ মেগাপিক্সেলের।

কোয়ালকমের ফাইভজি সমর্থিত স্ন্যাপড্রাগন ৭৭৮জি চিপসেটের ব্যবহার হয়েছে ফোনটিতে। নতুন এ চিপসেটটি ফ্ল্যাগশিপ ফোনের কাছাকাছি পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে ৪৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি ও ২৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার। ফোনটিতে ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার আছে।

ফোনটি পাওয়া যাবে ৬ বা ৮ গিগাবাইট র‍্যামের সাথে ১২৮ বা ২৫৬ গিগাবাইট র‍্যাম ভ্যারিয়্যান্টে।

এক নজরে স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫২এস ফোনটির ফিচারসমূহ:

  • প্রসেসর: কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৭৭৮জি।
  • ডিসপ্লে: ৬.৫ ইঞ্চি অ্যামোলেড।
  • ডিসপ্লে রিফ্রেশ রেট: ১২০ হার্জ।
  • ডিসপ্লে রেজোলিউশন: ১০৮০ * ২৪০০।
  • ব্যাটারি: ৪৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার।
  • রিয়ার ক্যামেরা: ৬৪+১২+৫+৫ মেগাপিক্সেল।
  • সেলফি ক্যামেরা: ৩২ মেগাপিক্সেল।
  • সিকিউরিটি: আন্ডার ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেইস আনলক।
  • অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ১১।
  • ডাইমেনশন: ১৫৯.৯ * ৭৫.১ * ৮.৪ মিলিমিটার।
  • ওজন: ১৮৯ গ্রাম।

এই ফোনটির ৮/১২৮ গিগাবাইটের ভ্যারিয়্যান্টটি বাংলাদেশে অফিসিয়ালি ৪৪,৯৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

২. স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড থ্রি ( Samsung GalaxyZ fold 3 )

স্যামসাং জেড ফোল্ড ৩স্যামসাং এর সেরা একটি স্মার্টফোন। সাধারণ ফোন আর ট্যাব, একের ভেতর দুইয়ের অভিজ্ঞতা! ভাবতেই দারুণ লাগে না? ভাঁজ করলে সাধারণ স্মার্টফোনের মতোই কাজ করবে আবার ভাঁজ খুললে ট্যাবের মতো কাজ করবে। এতদিন অসম্ভব হলেও স্যামসাং এই অসম্ভবকে সম্ভব করে নিয়ে এসেছে গ্যালাক্সি ফোল্ড সিরিজ। গ্যালাক্সি ফোল্ডের প্রথম দুই প্রজন্মের পরে তৃতীয় প্রজন্ম এসে ফোল্ড সিরিজ বেশ পরিণত হয়ছে।

বাইরের দিকে লম্বা একটি ডিসপ্লে আর ভেতরের দিকে ছোটখাট ট্যাবের মত বড় ডিসপ্লে। ভেতরের দিকের ডিসপ্লেটি কোমল গ্লাস দিয়ে তৈরি বলে ভাঁজ করা যায়।

বাইরের দিকের ডিসপ্লেটি বেশ সরু এবং লম্বাটে। ৬.২ ইঞ্চির এই ডিসপ্লেটি কর্নিং গরিলা গ্লাস দ্বারা সুরক্ষিত। ভেতরের মূল ডিসপ্লেটি ৭.৬ ইঞ্চির। দুইটি ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেটই ১২০ হার্জ।

পেছনের দিকে ওয়াইড, আল্ট্রাওয়াইড আর টেলিফটো- মোট তিনটি ক্যামেরার সেটআপ রয়েছে। তিনটি ক্যামেরার রেজোলিউশনই ১২ মেগাপিক্সেল।বাইরের ডিসপ্লেতে ১০ মেগাপিক্সেলের একটি পাঞ্চহোল ক্যামেরা আছে। অন্যদিকে সামনের দিকের ডিসপ্লেতে ৪ মেগাপিক্সেলের একটি ফ্রন্ট ক্যামেরা আছে যেটি একটি আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরা। ক্যামেরাটি ডিসপ্লের নিচে অবস্থিত বলে খুব একটা লক্ষণীয় নয়।

৪৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারির সাথে ২৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জ সাপোর্ট থাকলেও বক্সে নেই কোনো চার্জার। ফোনটি আইপিএক্স৮ ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট অর্থাৎ ১.৫ মিটার গভীর পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকতে সক্ষম।

২০২১ এর অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ ফোনের মতোই এতে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ প্রসেসরের সাথে ১২ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৫১২ গিগাবাইট পর্যন্ত ইন্টারনাল স্টোরেজ আছে।

এক নজরে স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোল্ড থ্রি ফোনটির ফিচারসমূহ:

  • প্রসেসর: কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮।
  • ডিসপ্লে: ৬.২ ইঞ্চি ও ৭.৬ ইঞ্চির ডুয়াল অ্যামোলেড ডিসপ্লে।
  • ডিসপ্লে রিফ্রেশ রেট: ১২০ হার্জ।
  • ডিসপ্লে রেজোলিউশন: ২২৬৮*৮৩২ ও ২২০৮*১৭৬৮।
  • ব্যাটারি: ৪৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার।
  • রিয়ার ক্যামেরা: ১২+১২+১২ মেগাপিক্সেল।
  • সেলফি ক্যামেরা: ১০ মেগাপিক্সেল ও ৪ মেগাপিক্সেল আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরা।
  • সিকিউরিটি: ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেইস আনলক।
  • অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ১১।
  • ডাইমেনশন: ১৫৮.২*১২৮.১*৬.৪ মিলিমিটার (খোলা) ও ১৫৮.২*৬৭.১*১৪.৪ মিলিমিটার (বন্ধ)।
  • ওজন: ২৭১ গ্রাম।

এই ডিভাইসটি স্যামসাংয়ের সবচেয়ে দামী স্মার্টফোন। এই ফোনটির ১২/২৫৬ গিগাবাইটের ভ্যারিয়্যান্টটি বাংলাদেশে অফিসিয়ালি ১,৮৪,৪৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

৩. স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ থ্রি ( Samsung Galaxy Z flip 3 )

স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৩স্যামসাংয়ের আরেকটি সেরা ফোল্ডিং ফোনের সিরিজ হচ্ছে ফ্লিপ সিরিজ। এ সিরিজের তৃতীয় প্রজন্মের ফোন স্যামসাং গ্যালাক্সি ফ্লিপ থ্রি। এই ফোনটি আড়াআড়ি ভাঁজ করা যায়। ফোনটি দেখলে এক-দেড় দশক আগের ফোল্ডিং ফোনের কথা মনে হবে। একদম কমপ্যাক্ট ফোন বলতে যা বোঝায়, ফ্লিপ থ্রি ঠিক তা-ই!

ফোল্ড থ্রি এর মতো ফ্লিপ থ্রিতেও আছে ডুয়াল ডিসপ্লে। এর মধ্যে একটি ৬.৭ ইঞ্চির কোমল পাতলা গ্লাস নির্মিত ফোল্ডেবল ডিসপ্লে। আর অন্যটি ১.৯ ইঞ্চির সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে। এই ছোট ডিসপ্লেটিতে নোটিফিকেশন, সময় দেখা ও নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে।

ফোনটির বাইরের দিকটা কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিকটাস দ্বারা সুরক্ষিত। ৩৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারির সাথে আছে ১৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জ সাপোর্ট। এছাড়াও এটি ১০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিংও সমর্থন করে।

ফোনটির রিয়ারে থাকছে ১২ মেগাপিক্সেলের দুইটি ক্যামেরা, যার একটি ওয়াইড ও অন্যটি আল্ট্রাওয়াইড। আর ফ্রন্ট ক্যামেরাটি ১০ মেগাপিক্সেলের।

ফোল্ড থ্রি’র মতো এই ফোনটিতেও আছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ প্রসেসর। কিন্তু র‍্যাম-রম কম। ৮ গিগাবাইট র‍্যামের সাথে ১২৮ গিগাবাইট ও ২৫৬ গিগাবাইটের রম ভ্যারিয়ান্টে পাওয়া যাবে।

এক নজরে স্যামসাং গ্যালাক্সি ফ্লিপ থ্রি ফোনটির ফিচারসমূহ:

  • প্রসেসর: কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮।
  • ডিসপ্লে: ৬.৭ ইঞ্চি ও ১.৯ ইঞ্চির ডুয়াল অ্যামোলেড ডিসপ্লে।
  • ডিসপ্লে রিফ্রেশ রেট: ১২০ হার্জ।
  • ডিসপ্লে রেজোলিউশন: ১০৮০ * ২৬৪০ ও ২৬০ * ৫১২।
  • ব্যাটারি: ৩৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার।
  • রিয়ার ক্যামেরা: ১২+১২ মেগাপিক্সেল।
  • সেলফি ক্যামেরা: ১০ মেগাপিক্সেল।
  • সিকিউরিটি: ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেইস আনলক।
  • অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ১১।
  • ডাইমেনশন: ১৬৬*৭২.২*৬.৯ মিলিমিটার (খোলা) ও ৮৬.৪*৭২.২*১৫.৯ মিলিমিটার (বন্ধ)।
  • ওজন: ১৮৩ গ্রাম।

এই ফোনটির ৮/১২৮ গিগাবাইটের ভ্যারিয়্যান্টটি বাংলাদেশে অফিসিয়ালি ১,০৯,৯৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

৪. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২১ আল্ট্রা ( Samsung Galaxy S21 Ultra )

স্যামস্যাং গ্যালাক্সি এস২১ আল্ট্রাস্যামসাংয়ের সাধারণ ফ্ল্যাগশিপ এস সিরিজের ফোন হচ্ছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২১ আল্ট্রা। নাম থেকেই বোঝা যায়, ফোনটি আল্ট্রা সব ফিচার ও হার্ডওয়্যার সমৃদ্ধ।

৬.৮ ইঞ্চির বিশাল অ্যামোলেড ডিসপ্লের রেজোলিউশন কোয়াড এইচডি প্লাস। ফোনের ডিসপ্লের বিবেচনায় বাজারের অন্যতম সেরা ডিসপ্লে বলা যায় এটিকে। অনেক বেশি ব্রাইট ও শার্প এবং ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট হওয়ায় ডিসপ্লেটিতে দেখার ও স্ক্রল করার অভিজ্ঞতা হবে অসাধারণ।

এস২১ আল্ট্রার পেছনের দিকে আছে চারটি ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরাটি ১০৮ মেগাপিক্সেলের। এর পাশাপাশি ১০ মেগাপিক্সেলের দুটি টেলিফটো ক্যামেরা আছে, যার একটি ১০x পেরিস্কোপ অপটিক্যাল জুম ও অন্যটি ৩x অপটিক্যাল জুম ক্যামেরা।

এছাড়াও ১২ মেগাপিক্সেলের একটি আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা আছে। ১০x জুম ক্যামেরাটি দিয়ে সর্বোচ্চ ১০০x পর্যন্ত ডিজিটাল জুম করা সম্ভব। অন্যদিকে পাঞ্চহোল ফ্রন্ট ক্যামেরায় আছে ৪০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর।

৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারিতে ২৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জ সাপোর্ট থাকলেও যথারীতি বক্সে নেই কোনো চার্জার।

বাংলাদেশে অফিসিয়াল এস২১ আল্ট্রার প্রসেসর হিসেবে আছে স্যামসাংয়ের নিজস্ব এক্সিনোস ২১০০ চিপসেট। ১২ ও ১৬ গিগাবাইট র‍্যামের সাথে ১২৮ গিগাবাইট, ২৫৬ গিগাবাইট ও ৫১২ গিগাবাইটের রম ভ্যারিয়্যান্টে পাওয়া যাবে ফোনটি।

এক নজরে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২১ আল্ট্রা ফোনটির ফিচারসমূহ:

  • প্রসেসর: এক্সিনোস ২১০০।
  • ডিসপ্লে: ৬.৮ ইঞ্চি অ্যামোলেড।
  • ডিসপ্লে রিফ্রেশ রেট: ১২০ হার্জ।
  • ডিসপ্লে রেজোলিউশন: ১৪৪০ * ৩২০০।
  • ব্যাটারি: ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার।
  • রিয়ার ক্যামেরা: ১০৮+১২+১০+১০ মেগাপিক্সেল।
  • সেলফি ক্যামেরা: ৪০ মেগাপিক্সেল।
  • সিকিউরিটি: ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেইস আনলক।
  • অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ১১।
  • ডাইমেনশন: ১৬৫.১ * ৭৫.৬ * ৮.৯ মিলিমিটার।
  • ওজন: ২২৭ গ্রাম।

এই ফোনটির ১২/১২৮ গিগাবাইটের ভ্যারিয়্যান্টটি বাংলাদেশে অফিসিয়ালি ১,৩৯,৯৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

৫. স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৩২ ( Samsung Galaxy A32 )

স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৩২মিড বাজেট রেঞ্জে স্যামসাং অফার করছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৩২। দেখতে অনেকটা এ৫২এস এর মতো হলেও ভেতরে আছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।

৬.৪ ইঞ্চির সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লেটি ফুল এইচডি রেজোলিউশনের। এ৫২এস এ ১২০ হার্জের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হলেও এ৩২ তে দেওয়া হয়েছে ৯০ হার্জ রিফ্রেশ রেট। এটি কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫ দ্বারা সুরক্ষিত।

এই ফোনটিতেও পেছনে কোয়াড ক্যামেরার সেটআপ রয়েছে। ৬৪ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরার সাথে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়াও দুইটি ৫ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো ক্যামেরা ও ডেপথ সেন্সর রয়েছে। সেলফি তোলার জন্য আছে ২০ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা।

ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের বিশাল ব্যাটারি যা ১৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জ সমর্থিত।

প্রসেসর হিসেবে আছে মিডিয়াটেকের হেলিও জি৮০ চিপসেট। ফোনটি পাওয়া যাবে ৪ গিগাবাইট, ৬ গিগাবাইট ও ৮ গিগাবাইট র‍্যামের সাথে ৬৪ গিগবাইট ও ১২৮ গিগাবাইট রম ভ্যারিয়্যান্টে।

এক নজরে স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৩২ ফোনটির ফিচারসমূহ:

  • প্রসেসর: মিডিয়াটেক হেলিও জি৮০।
  • ডিসপ্লে: ৬.৪ ইঞ্চি সুপার অ্যামোলেড।
  • ডিসপ্লে রিফ্রেশ রেট: ৯০ হার্জ।
  • ডিসপ্লে রেজোলিউশন: ১০৮০ * ২৪০০।
  • ব্যাটারি: ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার।
  • রিয়ার ক্যামেরা: ৬৪+৮+৫+৫ মেগাপিক্সেল।
  • সেলফি ক্যামেরা: ২০ মেগাপিক্সেল।
  • সিকিউরিটি: আন্ডার ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেইস আনলক।
  • অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ১১।
  • ডাইমেনশন: ১৫৮.৯ * ৭৩.৬ * ৮.৪ মিলিমিটার।
  • ওজন: ১৮৪ গ্রাম।

স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৩২ ফোনটির ৬/১২৮ গিগাবাইটের ভ্যারিয়্যান্টটি বাংলাদেশে অফিসিয়ালি ২৫,৯৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

৬. স্যামসাং গ্যালাক্সি এম১২ ( Samsung Galaxy M21)

স্যামসাং গ্যালাক্সি এম১২লোয়ার মিড বাজেট রেঞ্জে স্যামসাংয়ের আরেক ফোন এম১২। সাধারণ দৈনন্দিন কাজকর্ম মোটামুটি ভালোভাবে চালিয়ে নেওয়ার মত একটি ফোন এম১২।

সাড়ে ছয় ইঞ্চির পিএলএস আইপিএস ডিসপ্লেটির রেজোলিউশন এইচডিপ্লাস। তবে লো রেজোলিউশন হলেও রিফ্রেশ রেট হাই। ৯০ হার্জের রিফ্রেশ রেট ব্যবহার করা হয়েছে ডিসপ্লেটিতে।

৪৮ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরার সাথে ৫ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ও ২ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো ও ডেপথ ক্যামেরা আছে। এছাড়াও সামনের নচে আছে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।

৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সুবিশাল ব্যাটারি দিয়ে মোটামুটি ব্যবহারে প্রায় দুই দিন চালিয়ে নেওয়া যাবে। বক্সে আছে ১৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার।

প্রসেসর হিসেবে আছে স্যামসাং এর নিজস্ব এক্সিনোস ৮৫০ চিপসেট। ৩ গিগাবাইট, ৪ গিগাবাইট ও ৬ গিগাবাইট র‍্যামের সাথে ৩২ গিগাবাইট, ৬৪ গিগাবাইট ও ১২৮ গিগাবাইট রম ভ্যারিয়্যান্টে পাওয়া যাবে ফোনটি।

এক নজরে স্যামসাং গ্যালাক্সি এম১২ ফোনটির ফিচারসমূহ:

  • প্রসেসর: এক্সিনোস ৮৫০।
  • ডিসপ্লে: ৬.৫ ইঞ্চি পিএলএস আইপিএস।
  • ডিসপ্লে রিফ্রেশ রেট: ৯০ হার্জ।
  • ডিসপ্লে রেজোলিউশন: ৭২০ * ১৬০০।
  • ব্যাটারি: ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার।
  • রিয়ার ক্যামেরা: ৪৮+৫+২+২ মেগাপিক্সেল।
  • সেলফি ক্যামেরা: ৮ মেগাপিক্সেল।
  • সিকিউরিটি: সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেইস আনলক।
  • অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ১১।
  • ডাইমেনশন: ১৬৪ * ৭৫.৯ * ৯.৭ মিলিমিটার।
  • ওজন: ২২১ গ্রাম।

বাংলাদেশে ফোনটির ৬/১২৮ ভ্যারিয়্যান্টটির অফিসিয়াল মূল্য ধরা হয়েছে ১৮,৪৯৯ টাকা।

স্যামসাং মোবাইল ফোন নিয়ে শেষ কথা

স্যামসাং ফোন বহু আগে থেকেই দেশের বাজারে বিশ্বস্ত নাম। ব্র্যান্ড ভ্যালু ও সফটওয়্যার আপডেটের কথা বিবেচনা করলে স্যামসাং ফোন বেশ ভালো অপশন হতে পারে।

প্রায় সব বাজেট রেঞ্জেই স্যামসাংয়ের ফোন আছে। আপনার বাজেট ও চাহিদা অনুযায়ী এই সেরা স্যামসাং মোবাইল ফোন এর তালিকায় থাকা ফোনগুলো বেশ ভালো ভ্যালু এড করবে বলা যায়। তবে, আপনার যদি ফোনগুলোর বাজেট বেশি হয়ে যায়, তবে অল্পদামে সেরা ২০টি ফোনের তালিকা দেখে নিন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 + 8 =

error: Content is protected !!