সেরা ৩ বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট | বিল্যান্সার, সচ্ছল ও কাজখুঁজি

বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট

ফ্রিল্যান্সিং করতে চাচ্ছেন, অথচ ইংরেজিতে দূর্বলতার কারণে করতে পারছেন না! আপনি জানেন কি, বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট আছে? বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট এ রেজিস্ট্রেশন করে আপনি ইংরেজি না জেনেও শুধুমাত্র দক্ষতার কারণে ফ্রিল্যান্স কাজ পেতে পারেন।

তবে কাজ করতে আগ্রহী এমন অনেকেই বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইট সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। কিন্তু আমাদের দেশে প্রচুর ফ্রিল্যান্সার আছেন এবং যুবক সমাজের মধ্যেও ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে আগ্রহী হচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভীতির কারণে আস্থা পাচ্ছেন না।

আপনার দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও যদি আন্তর্জাতিক সাইটে কাজ করার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে অনলাইনে আয় করতে না পারেন, তবে এবার একটু নিজেকে সুযোগ দিন। বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলো আপনার জন্য আশীর্বাদ হয়ে যেতে পারে।

কারণ, বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট আপনাকে এমন সব কাজ দিতে পারে যা মোবাইল দিয়েও করা যায় অর্থাৎ, মোবাইল দিয়ে অনলাইনে ইনকাম করার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট এ কেন কাজ করবেন?

বাংলাদেশী হিসেবে সেরা ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে কাজ করার জন্য আমাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। প্রধান দুইটি সমস্যা হলো;

  • কমিউনিকেশন
  • পেমেন্ট মেথড

বেশিরভাগ আউটসোর্সিং সাইট পেপালের মাধ্যমে পেমেন্ট করে যা আমাদের দেশে এখনো স্বীকৃত নয়। তাই, এসব সমস্যার সমাধান হতে পারে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সিং সাইট।

বর্তমানে বাংলাদেশের ৩টি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে কাজ পাওয়ার জন্য ফ্রিল্যান্সার প্রোফাইল তৈরি করা এবং কাজ করানোর জন্য Freelancer হায়ার করা যায়।

আরো পড়ুন:  গ্রাফিক্স ডিজাইন করে কত টাকা আয় করা যায় - সেরা ১০ উপায়

বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট | Bangladeshi Freelancing Websites

সেরা ৩ টি বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট এর তালিকা:

  • বিল্যান্সার ডটকম
  • সচ্ছল ডটকম
  • কাজখুঁজি ডট কম ডট বিডি

১. BELANCER – বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট

BELANCER- বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সিং সাইট

বাংলাদেশের বেকার যুবক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজের সুযোগ করে দিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ (পলক) এর আগ্রহ এবং সরকারী সহযোগিতায় ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম ফ্রিল্যান্সিং সাইট Belancer.com

বিল্যান্সার নামটিও প্রস্তাব করেছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ (পলক)। সাইটটির মূল উদ্যোক্তা মোঃ শফিউল আলম।

এখন পর্যন্ত ৪৯৬২৮ জন্য ফ্রিল্যান্সার বিল্যান্সারে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। ৫৮২৯ জন Employer ১২৯৫৮ টি কাজ করানোর জন্য জব পোস্ট করা হয়েছে। যার প্রজেক্ট মূল্য ৩ কোটি ৬১ লাখ ৬২ হাজার টাকারও বেশি।

এখানে কাজ খোঁজাও বেশি সুবিধাজনক। আপনার একাউন্ট তৈরি করে ভালভাবে সাজিয়ে নিতে হবে। যে কাজ করতে চান সেখানে বিড করে এপ্রুভাল পেতে হবে, এরপর কাজটি জমা দিয়ে পেমেন্ট নিতে পারবেন।

Freelancerদের জন্য সুখবর হলো বিল্যান্সার টিম এখন দেশের বাইরে থেকেও প্রজেক্ট নিয়ে আসার চেষ্টা করে যাচ্ছে, যা আপনাদের আরো বেশি কাজের সুযোগ দিবে, একইসাথে পারিশ্রমিকও বৃদ্ধি পাবে।

বিল্যান্সারে যেসব কাজ বেশি পাওয়া যায়:

পেমেন্ট পাওয়ার গ্যারান্টি

বিলান্সারে কোনো নিয়োগতর্তা জব পোস্ট করলে তার একাউন্ট থেকে কাজের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জমা নেওয়া হয়। কাজ সম্পাদন হলে ফ্রিল্যান্সারের একাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ পেমেন্ট নিয়ে অনিরাপদ অনুভব করার কোনো কারণ নেই।

বিল্যান্সার নিয়োগতর্তা এবং ফ্রিল্যান্সার উভয়ের কাছ থেকেই ৫% কমিশন নেয়।

পেমেন্ট মেথড

যেমনটা বলেছিলাম, বাংলাদেশের কোনো ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করার সুবিধা হলো সহজ পেমেন্ট মেথড। বিল্যান্সার ডট কম আপনাকে বিকাশ, ক্রেডিট কার্ড এবং পেপালের মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে এবং নিতে পারবেন।

আরো পড়ুন:  সেরা ফ্রিল্যান্সিং সাইট | Best 10 Freelancing websites

২. বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট – Shocchol

shocchol বাংলাদেশের আউটসোর্সিং সাইট

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ফ্রিল্যান্সিং সাইট হলো সচ্ছল ডটকম। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয় ২০২১ সালের জানুয়ারীতে। সচ্ছল ডটকম ফ্রিল্যান্সিং সাইটের প্রতিষ্ঠাতা এম,এন মনির।

shocchol.com কে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট বলা হয়। কেননা, বিল্যান্সার এর পর আর কোন সাইটে এত বেশি কাজ আপলোড হয়না।

যারা ইংরেজির ভয়ে সন্ত্রস্ত এবং দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কাজ করতে পারছেন না, তাদের জন্য কাজ সচ্ছল সাইটটি বেস্ট অপশন।

সাইটটিতে ফ্রিল্যান্সার একাউন্ট খুলে জব পোস্টগুলোতে বিড করতে হয়। এছাড়াও এখানে ফাইভার সাইট এর মতো গিগ প্রকাশ করার সুযোগও রয়েছে। ফলে আপনার কাজের দক্ষতা এবং রেটিং ভালো থাকলে ইমপ্লয়াররাই আপনাকে কাজের জন্য অফার করবে।

এখানে কাজ করার জন্য আপনার কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা জরুরী নয়, তবে অবশ্যই দক্ষতা থাকতে হবে। ফ্রিলান্সিং সাইটটিতে প্রতিদিন অনেকগুলো জব পোস্ট হয় এবং কাজের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

সচ্ছলে যেসব ফ্রিল্যান্সিং কাজ বেশি পাওয়া যায়:

পেমেন্ট মেথড

ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট দেওয়া হয় বিকাশ, নগদ ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। ফ্রিল্যান্সারদের ইনকামের উপর ৫% কমিশন কাটা হয়। এছাড়া প্রতিবার টাকা উত্তোলনের জন্য ৫ টাকা চার্জ কাটা হবে। তবে, ব্যাংক একাউন্টে টাকা নিতে হলে ৫০ টাকা চার্জ করা হবে।

৩. kajkhuji.com.bd – বাংলা ভাষায় বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইট

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইট

কাজখুঁজি ফ্রিল্যান্সিং সাইটটি সম্পূর্ণ মাতৃভাষায় ডিজাইন করা হয়েছে। প্রতিটি পেজের সকল তথ্য বাংলায় লেখার কারণে ইংরেজি যারা একদমই জানেন না, তাদের জন্যও এই বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করা সম্ভব হবে।

অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটের মতো এখানেও একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যোগ দিতে ফ্রিল্যান্সার একাউন্ট খুলে নিতে হবে। এরপর আপনার দক্ষতার উপর বিভিন্ন সাজানো ও আকর্ষণীয় গিগ প্রকাশ করুন।

আরো পড়ুন:  ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি | কিভাবে ওয়েব ডেভেলপার হওয়া যায়

বিভিন্ন এমপ্লয়ার এখানে জব পোস্ট করেন, সেগুলোতে বিড করতে পারেন। কয়েকটি ভালো রেটিং পাওয়ার পর এমপ্লয়াররা নিজে থেকেই আপনাকে জব অফার করা শুরু করবেন।

বাংলাদেশের কাজখুঁজি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে যেসব কাজ পাওয়া যায়:

পেমেন্ট মেথড

কাজখুঁজি ডট কম ডট বিডি নামক এই বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইটে বাংলাদেশে আছে এমন সকল পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করেই পেমেন্ট নেওয়া যায়। সুতরাং, বিকাশ, নগদ, রকেট এবং ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে আপনার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইটে Employer দের সুবিধা

বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট দুইটি যারা কাজ করতে চায় শুধুমা্ত্র তাদের জন্য যে সুবিধা করেছে তা কিন্তু নয়। আপনার যদি কোনো ফ্রিল্যান্সার হায়ার করার দরকার হয় সেটাও সহজে করতে পারবেন।

সবাই বাংলা ভাষা-ভাষী হওয়ায় আপনার রিকুয়ারমেন্ট এবং কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝাতে পারবেন, যার ফলে কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারবেন।

এছাড়া বাইরের দেশের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটগুলোতে কাজের মূল্য শুরু হয় ৫ ডলার থেকে, অথচ একই কাজ এখানে আপনি ১০০ টাকাতেই করিয়ে নিতে পারবেন। সুতরাং, বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে কাজ করিয়ে নিলে অনেকটা খরচ বেচে যাবে।

বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট নিয়ে শেষ কথা

ফ্রিল্যান্সিং সাইট এখন বিশ্ব বাজারের অন্যতম বৃহত্তম মার্কেট, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। আমাদের দেশের রাজস্বের একটা বড় অংশও নিয়ে আসেন ফ্রিল্যান্সাররা।

আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন আমাদের বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করবে।

যারা ইতিমধ্যে Upwork, Freelancer, Fiverr এর মতো সাইটগুলোতে কাজ করেন কিংবা শুরু করতে চাচ্ছেন, সবাই যদি এসব সাইটের পাশাপাশি বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতেও সামান্য একটিভ হন, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে দেশের বাইরের কোনো আউটসোর্সিং সাইটে কাজ করতে হবেনা।

আমাদের বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইট-ই বিশ্বের সেরাদের কাতারে চলে আসবে একদিন। আর এটিই হতে পারে আমাদের বেকারত্ব সমস্যার সমাধান। সেই সাথে আমাদের বাংলা ভাষাও পৌছে যাবে বিশ্বের অপর প্রান্তে, আরো বহুদূরে।

4 thoughts on “সেরা ৩ বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সিং সাইট | বিল্যান্সার, সচ্ছল ও কাজখুঁজি”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top