বর্তমানে আমাদের যুবক সমাজের মাঝে বার্নিং কোয়েশ্চেনগুলোর একটি আউটসোর্সিং কি? আউটসোর্সিং কিভাবে শুরু করবো? কোন কাজ জানলে outsourcing করা যায়। আসলে অনেক প্রশ্নই জমে আছে আমাদের যুবক সমাজের মাঝে। তবে প্রথমেই বলি, আপনি যদি কাজ খুঁজে থাকেন তবে আউটসোর্সিং শব্দটাই আপনার জন্য সঠিক নয়।

আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং একে অপরের সাথে কানেক্টেড, কিন্তু এক নয়। Freelancing এবং Outsourcing এর মাঝে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান।

আউটসোর্সিং কি?

Outsourcing শব্দটি Out এবং Source শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ বাইরের কোনো সোর্স। বর্তমান মার্কেটের ভাষায় বললে স্থায়ী কর্মীদের বাইরের কোনো জায়গা বা ফ্রিল্যান্সার থেকে কাজ করে নেওয়াই হলো আউটসোর্সিং।

অর্থাৎ, ফ্রিল্যান্সিং যেমন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ব্যবহৃত শব্দ, তেমনি ফ্রিল্যান্স কাজ প্রদানকারীদের জন্য আউটসোর্সিং শব্দ।

ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কী?

ধরুন, আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্টে পারদর্শী একজন ফ্রিল্যান্সার। প্রতিবর্তন একটি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য নিজের ওয়েব ডেভেলপারদের বাইরে আপনাকে কাজটি করতে দিলো (আউটসোর্স কন্ট্রাক্টর)।

তাহলে এখানে আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজ করছেন,। অন্যদিকে, প্রতিবর্তন আউটসোর্সিং করছে। অর্থাৎ, টিমের বাইরে গিয়ে নতুন কোনো কর্মী না নিয়ে শুধুমাত্র এই কাজটির জন্য আপনার সাথে চুক্তি করছে। আপনি প্রতিবর্তনের জন্য আউট সোর্স।

আউটসোর্সিং করায় আপনাকে পেমেন্ট দিতে হবে, অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সিং করায় আপনি পেমেন্ট পাবেন।

আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং কাজ দেওয়া নেওয়ার জন্য সাধারনত আমরা একই সাইটে কাজ ও ফ্রিল্যান্সার খুঁজি। অর্থাৎ আউটসোর্সিং সাইট এবং ফ্রিল্যান্সিং সাইট এর মাঝে পার্থক্য নেই।

তাহলে বুঝলেন তো, আউটসোর্সিং কি? আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মাঝে কি পার্থক্য!

ফ্রিল্যান্সিং কি ( what is Freelancing )?

ফ্রিল্যান্সিং এর কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই, তবে ফ্রিল্যান্সিকে একটু বুঝিয়ে বলা যায়। ধরুন আপনাকে বলা হলো একটা আম বাগান থেকে ১০০টা ভালো ও সুন্দর আম সংগ্রহ করতে এবং সময় বেঁধে দেওয়া হইলো ৩০ মিনিট।

এই অল্প সময়ে দ্রুত আম গাছ থেকে আম সংগ্রহ করা দুস্কর তবে এই কাজটির জন্য আপনাকে ভালো একটা এমাউন্ট পেমেন্ট করা হবে। তো আপনার কাছে শর্ত গুলো হলো :

  • ভালো আম
  • ১০০ টি আম
  • সময় ৩০ মিনিট

এই ৩টা শর্ত আপনার একার পক্ষে মেনে কাজ করা কঠিন। তো আপনি যদি এই অল্প সময়েই সবগুলো শর্ত মেনে কাজগুলো করতে চান তবে এর জন্য আপনার প্রয়োজন বেশী সংখ্যক মানুষ। কারণ শর্তে কোথাও লেখা নেই আপনাকে একাই আম তুলতে হবে।

তো আপনি ১০ জন লোক নিয়োগ করলেন এই কাজটির জন্য এবং বিনিময়ে তাদের জন্য কিছু অর্থও বরাদ্দ করলেন। দেখা গেলো ঠিক সবগুলো শর্ত আপনি ঠিক ঠাক পূরণ করতে পেরেছেন। মূলত এটাই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

এক কথায় “নিজের কোনো একটি কাজ অন্যকে দিয়ে করানো এবং বিনিময়ে অর্থ প্রদান অথবা অন্যের কোনো কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে কিছু অর্থ উপার্জনকেই সাবলীল ভাষায় ফ্রিল্যান্সিং ( freelancing ) বলে”।

এখন নিশ্চয়ই আপনি কাজ দেওয়ার জন্য এই আর্টিকেলটি পড়তে আসেননি। সুতরাং, আমাদের আর্টিকেলটি মূলত ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবেন সেবিষয়ে, Outsourcing নিয়ে নয়।

তবে যেহেতু, সবাই আউটসোর্সিং নিয়ে গুগলে সার্চ করছে, এজন্যই আউটসোর্সিং শিরোনাম দিয়ে লেখা। অনুগ্রহ পূর্বক আর্টিকেলের বাকি অংশে ব্যবহৃত আউটসোর্সিং শব্দকে ফ্রিল্যান্সিং ধরে নিয়ে পড়বেন।

আউটসোর্সিং শেখার উপায় কি?

আউটসোর্সিং শব্দটা ছোট হলেও বর্তমান এই ছোট শব্দটিই বহু তরুণ – তরুণীর ঘুরে দাঁড়ানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাস সিক্সে থাকতে পড়েছিলাম “আত্মকর্মসংস্থান” নিয়ে। অর্থাৎ নিজেই কাজের সৃষ্টি করা।

Outsourcing এ মূলত নিজেই নিজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার এক চমৎকার মাধ্যম। আপনি কোনো ব্যাপারে অভিজ্ঞ থাকলে নিজের অভিজ্ঞতা বা পছন্দকে পেশাতে রূপ দিয়ে ফেলুন।

কাজটা যাই হোক না কেনো, শুধু একটু চেষ্টা আর ধৈর্য্যই পারে আপানাকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে উন্নতির চরম শিখড়ে পৌছে যেতে।

ফ্রিল্যান্সিং করতে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যেই তিনটি জিনিস প্রয়োজন তা হলো একজন ফ্রিল্যান্সারের

  • সময়,
  • ধৈর্য্য এবং
  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে দক্ষতা।

ফ্রিল্যান্সার হতে হলে অবশ্যই আপনাকে এইদিকে বেশী সময় দিতে হবে। ধৈর্য্য ছেড়ে দিবেন তো হেরে যাবেন। এছাড়াও আপনাকে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

যদি আপনি ভিডিও এডিটিং বা মাইক্রোসফট এক্সেল বা যে কোনো কাজ হোক তা টাইপিং, সাউন্ড মিক্সিং, ডিজাইনিং যাই হোক না কেনো তা আপনাকে মোটামুটি আয়ত্বে রাখতে হবে বা ঐ বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। কম্পিউটারসহ অন্যান্য টুলস তো আপনাকে সাথে রাখতেই হবে।

আউটসোর্সিং সাইটে কি ধরনের কাজ করা যায়?

আউটসোর্সিং সাইটগুলোতে আপনি একটি ফেসবুক কভার পেজ কিংবা কোন ইভেন্ট ব্যানার পেজ বানিয়েও আয় করতে পারবেন। ছোট ছোট কাজ যেগুলো আপনি শখের জন্য করে থাকেন, এমন কাজ করেও ফাইভার থেকে আয় করা সম্ভব।

এমনকি ছবি ইডিট করে, কিংবা ছবি বিক্রি করে আয় করতে পারেন। এছাড়া দেখে দেখে লিখে অর্থাৎ রি-রাইট করেও আয় করা যায় (অনেকের পিডিএফ ফাইলকে ওয়ার্ড  এ নেওয়ার দরকার হয়)। এমন হাজারো সহজ কাজ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে।

আউটসোর্সিং সাইট job category

  1. Graphics & Design
  2. Web Developement
  3. Digital Marketing
  4. Content Writing & Translation
  5. Video & Animation
  6. Music & Audio
  7. Programming & Tech
  8. Business
  9. Lifestyle
  10. Industries, etc

প্রত্যেকটি ক্যাটাগরিতে আবার ১০০+ সাব-ক্যাটাগরি রয়েছে। আপনার দক্ষতা রয়েছে, এমন কাজ অবশ্যই আপনি ফাইভারে পেয়ে যাবেন।

আউটসোর্সিং সাইট ( Outsourcing sites )

আউটসোর্সিং জব গ্লোবাল ভিলেজ থিউরিকে বাস্তব করে তুলেছে। সারা পৃথিবীর ক্রেতা-বিক্রেতাকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাকে এক করে দিতে অনেক মধ্যস্ততাকারী সাইট রয়েছে। তবে আউটসোর্স কন্ট্রাক্টরদের কাছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সাইটগুলো হচ্ছে

Fiverr এ দ্রুত কাজ কাজ পাওয়া যায়, ৫-১০ ডলারের ছোট ছোট কাজ পাওয়ার জন্য ফাইবার এবং মাইক্রোওয়ার্কার এ কাজ শুরু করতে পারেন।

এই সাইটের জন্য আপনার ওয়েব ডেভলপমেন্ট এর মতো কঠিন কাজ না জানলেও আয় করার সুযোগ রয়েছে। একটি ইংরেজি আর্টিকেল লিখেও ১০ থেকে ৩০০ ডলার বা তারও বেশি আয় করা সম্ভব।

আউটসোর্সিং এর সুবিধা কি?

যদি আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হন তবে আপনি বেশ কিছু সুবিধা পেতে চলেছেন বা পাচ্ছেন যা অন্য সব পেশাজীবীরা পায় না।

  •  ফ্রিল্যান্সিং যেহেতু এক ধরনের মুক্ত পেশা তাই আপনাকে কারো কাছে কাজের জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে না।
  •  একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি আপনার পছন্দের যে কোনো কাজকে প্রাধান্য দিতে পারেন।
  •  আপনি আপনার বাসায় বা যেকোনো জায়গায় বসেই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারেন।

আউটসোর্সিং এর অসুবিধা কি?

সব কাজেই সুবিধা এবং অসুবিধা দুটোই থাকে। আউটসোর্সিং কাজও এর থেকে ভিন্ন নয়। যেহেতু আপনাকে কোনো অফিসে যেয়ে কাজ করতে হয় না তাই কিছু মানুষ ফ্রিল্যান্সিংকে ছোট করে দেখেন।

তাছাড়া আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্স কন্ট্রাক্টদের জন্য একটাই সমস্যা দেখা দেয় এবং সেটা হচ্ছে পেমেন্ট।

সাধারণত পেপাল, ভিসা, মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট রিসিভ করতে হয় এবং এটি তুলনামূলক একটু বেশী ঝামেলার। তবে খুব শীঘ্রই সরকার এই সমস্যা থেকে উত্তরণ করার চেষ্টা করছে।

শেষ কথা

আমাদের উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানলাম আউটসোর্সিং কি, কিভাবে আউটসোর্সিং শুরু করা যায় এবং আরো জেনেছি আউটসোর্সিং এর সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে।

আউটসোর্সিং পেশায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের দেশের বহু বেকার তরুণ তরুণী আজ ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। আশা করা যায় এই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত দেশের মতোই এগিয়ে যেতে পারবে।


Shakib Ahmed

আমি সাকিব আহমেদ। অবসর সময়ে PRATIBORTON এ লেখালেখি করি।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 − nine =

error: Content is protected !!