আপনি যদি নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে ওয়েব ডেভলপমেন্ট ( Web Developement ) বেছে নেওয়ার চিন্তা করেন এবং সেজন্য কিভাবে ওয়েব ডেভেলপার হওয়া যায় ( how to be a web developer bangla guide ) সেই পথ খুঁজছেন তবে এই লেখাটি আপনার জন্য।

আশে পাশে আমরা যা দেখি সবকিছু্রই একজন ডেভলপার আছেন। একটি সাইটও এমনিই তৈরি হয়না, এর পিছনে রয়েছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর মতো কাজ এবং একজন ওয়েব ডেভেলপার ( Web Developer )।

আপনি যেখান থেকেই এই পেইজটি ব্রাউজ করছেন না কেনো এই ওয়েব পেইজ বা ওয়েবসাইটটি কিন্তু আগে থেকেই যে এমন ছিলো তা কিন্তু ভাবা যাবে না। আপনি কতটুকু শক্তি বা সময় খরচ করলেন এই ওয়েবসাইটে ঢুকার জন্য? নিশ্চয়ই আপনার হয়তো কিছু ইন্টারনেট ডেটা খরচ হয়েছে এর বেশি আপনার খুব বেশী কিছু করতে হয়নি।

ওয়েবসাইটটি খুঁজেছেন এবং নির্ধারিত ক্যাটাগরি চেপে পছন্দমত তথ্য পেয়ে গেছেন। কিন্তু এই পেজটি বা ওয়েবসাইটটি তো একদিন দুদিনে হয়ে উঠেনি। কেউ একজন এই ওয়েবসাইটটিকে বানিয়েছেন, সাজিয়েছেন। আপনার প্রয়োজনমত সুবিধা মতো বিভিন্ন লে-আউট দিয়েছে।

ঠিক কোথায় গেলে আপনি ক্যাটাগরি পাবেন এবং কোথায় গেলে বা সার্চ করলে আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাবেন সবকিছুই কেউ একজন গুছিয়েছেন।

যে ব্যক্তিই এই সার্বিক কাজটি নিয়ন্ত্রন করেছেন, তিনিই একজন ওয়েব ডেভেলপার (Web Developer)। একজন ওয়েব ডেভেলপারের কাজ গুলোকেই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (Web Development) বলে। একইভাবে একটি অ্যাপের জন্য যিনি করেন তাকে অ্যাপ ডেভলপার বলে।

আমাদের আজকের আলোচনায় জানবো ওয়েব ডেভলপমেন্ট কি? কিভাবে ওয়েব ডেভেলপার হওয়া যায়, একজন পূর্ণাঙ্গ ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে কি কি শিখতে হবে, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্স কোথায় করা যায়,  ওয়েব ডেভেলপার কিভাবে আয় করেন, ইত্যাদি সম্পর্কে। চলুন আলোচনায় যাওয়া যাক!

❐ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? [What is Web Development]

লেখার শুরুতেই এক কথায় সংজ্ঞায়িত করেছি ওয়েভ ডেভেলপমেন্ট কি এবং যিনি এই ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজটি করেন তাকে কি বলা হয়। তবুও ব্যাপারটিতে আরেকটু শুনার আকাঙ্ক্ষা থাকে। তবে দেরী না করে আলোচনা শুরু করা যাক।

আমরা যারা পাঠ্যবই পড়ি বা পড়ছি তারা একটি বই কেনার সময় কি কি বিষয় মূলত লক্ষ্য রাখি? যে যা বিষয়ই মাথায় রাখি না কেনো কিছু বিষয় মৌলিক থাকে। বইটি তথ্যবহুল কিনা, উত্তর সহজ কিনা, দাম হাতের নাগালে কিনা এবং সহজে তথ্য পাওয়া যায় কিনা। এগুলো আমরা সবাই কম বেশী মেনে চলে একটি বই কেনার পূর্বে।

তবে আপনি আপনার পছন্দের বইটি হাতে পাওয়া পূর্বের খবর আদৌ জানেন কি? আপনার বইটির ভিতরের তথ্যগুলো বিভিন্নজন লিখেছেন। কেউ একজন আবার লেখাগুলোর ফন্ট ঠিক করে পেইজ নম্বর ঠিক করেছেন। কেউ আবার ভুল ত্রুটি থাকলে তা ঘষামাজা করেছেন। এরপর আবার সূচিপত্র গুছানো হয়েছে যেন আপনি হুটহাট যেকোনো চ্যাপ্টারে পৌছে যেতে পারেন।

পরিশেষে বিভিন্ন অ্যানিমেশন, লে আউট এবং চমৎকার প্রিন্টিং ব্যবহার করে বইটিকে আপনার কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। বইয়ের এই সমগ্র কাজের সাথে একবার যদি ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজ গুলোকে মিলিয়ে দেই তবেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যায়।

প্রতিটি ওয়েবসাইটের পিছনে একজন থাকেন যিনি তার নিজের দক্ষতা, সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইটটিকে আমাদের নিকট আকর্ষণীয়, সহজে নেভিগেশন এবং তথ্যবহুল করে তোলেন। যিনি এই কাজটি করে থাকেন তাকে ওয়েব ডেভেলপার বলে এবং তার এই দায়িত্বশীল কাজকে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বলা হয়।

❐ কিভাবে ওয়েব ডেভেলপার হওয়া যায়?

<!DOCTYPE html>
<html lang="en">
<head>
<title>Title of the document</title>
</head>
<body>

<h1>I love my Country</h1>
<p>The name of my country is Bangladesh</p>

</body>
</html>

একজন ওয়েব ডেভেলাপর হওয়ার জন্য আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করা শিখতে হবে। উপরের এই যেই লেখাগুলো আছে এটি কিন্তু একটি ভাষা। এই ভাষাটিতে একটি হেডিং এবং একটি প্যারাগ্রাফ আছে।

আমরা যদি এই স্ট্রাকচারটি আমাদের ব্রাউজে রান করি তবে দেখতে পাবো প্রথমে লেখা, “I love my country” এবং এর নিচে ছোট করে প্যারাগ্রাফ শুরু হয়ে লেখা আসবে, “The name of my country is Bangladesh” এই ভাষাটি ততটা আমাদের বোধগম্য নয় তবে কম্পিউটার এই ভাষাটিকে বুঝে।

ওয়েব-ডেভেলপমেন্ট

এই ভাষাটিকে HTML ল্যাঙ্গুয়েজ বলে। কম্পিউটারের ভাষা আর আমাদের ভাষা এক নয়। কম্পিউটার বুঝবে মেশিনারি ভাষা। কয়েকটি ধাপে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখা যেতে পারে :

» ধাপ ১ :

আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্টে আগ্রহী হন তবে আপনাকে জানতে হবে মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ।

(Markup Language) কী?

☞ HTML
☞ CSS
এই দুটি ভাষাকে মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ বলে। এই দুটি ভাষা আয়ত্তে আনলে আপনি ওয়েব পেইজ বা সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট করার প্রথম ধাপ অতিক্রম করবেন।

» ধাপ ২ :

ওয়েব ডেভেরপার হওয়ার এই এই ধাপে আপনাকে শিখতে হবে একটি প্রোগ্রামিং ভাষা এবং একটি ডাটাবেজ ভাষা।

• PHP – প্রোগ্রামিং ভাষা
• SQL – ডাটাবেজ ভাষা

এই দুটি ভাষায় আপনি পারদর্শী হলে আপনি কিছু দক্ষতা অর্জন করবেন যা একটি Dynamic ওয়েবসাইট এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজে যথেষ্ট।

» ধাপ ৩ :

যেহেতু আপনার ওয়েবসাইটটিকে দৃষ্টিনন্দন এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে, তাই আপনাকে জাভাস্ক্রিপ্ট ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে। আপনার গ্রাফিক্সের বেশ কিছু কাজ করার প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

সেক্ষেত্রে আপনাকে Adobe PhotoShop, Illustrator বা Graphics এর বেসিক ধারণা থাকতে হবে। আপনি চাইলে C, C++, Python, Visual Basic দিয়ে সফটওয়্যার তৈরি করতে পারবেন।

❐ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্স কোথায় করা যায়?

হ্যাঁ! ওয়েব ডেভেলপার তৈরি করার জন্য বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের উপর বিভিন্ন মেয়াদী কোর্স করায় এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এতে সার্টিফিকেটেও প্রদান করে।

এমন অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে যেখানে যেখানে ঘরে বসে ফ্রি অনলাইন কোর্স করে ওয়েব ডেভলপমেন্ট শেখা যায়। আপনি যদি ইংরেজি ভাষায় সমস্যা অনুভব করেন, তবে বাংলা ভাষায়ও অনেক সাইটে কোর্স অফার করে যেমন বহুব্রীহি যেখান থেকেও আপনি শিখতে পারবেন।

❏ ওয়েব ডেভলপার হিসেবে কিভাবে আয় করা যায়

ধরলাম আপনি একজন Beginner অর্থাৎ প্রথম প্রথম ওয়েভ ডেভেলপমেন্ট শুরু করছেন। আপনি যদি সত্যিই ক্রিয়েটিভ হন বা আপনার সৃজনশীলতা গুণটি যদি আপনার জন্য সহায়ক হয়ে থাকে আপনি তবে নিয়মিত আয় করতে পারবেন।

আমাদের দেশে দক্ষ ওয়েব ডেভেলপারের সংখ্যা মাঝারি। কিন্তু কিছু ফড, অদক্ষ ডেভলপারের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বীতা অনেক বেশী। কিছু ফ্রড ওয়েভ ডেভেলপার আছেন যারা একটি সাইট ডেভেলপ করার জন্য ৩০$ বা এর কম দামে করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মার্কেট খারাপ করছেন। গ্রাহক এবং সত্যিকারের ডেভলপাররা এদের জন্য সমস্যায় পরছেন।

❐ কিভাবে ওয়েব ডেভলপমেন্ট করে টাকা আয় করা যায়?

আমাদের দেশে স্বনামধন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা তাদের ওয়েবসাইট তদারকির জন্য বিভিন্ন ওয়েব ডেভেলপার এবং সফটওয়ার ডেভেলপারদের নিয়োগ রাখেন। খুবই স্বল্প পদে এই নিয়োগটি বরাদ্দ থাকে।

দেশের ঘরোয়া প্রতিষ্ঠান গুলোর ওয়েব ডেভেলপিং করার শেষে আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে গিগ আপলোড করতে পারেন। আপনার কাজের দক্ষতা এবং সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন Buyer নিজে থেকে আপনাকে কাজ দিবেন। আপনি যদি আপনার এই কাজকে নিয়মিত ধৈর্য্যের সাথে চালিয়ে যেতে থাকেন তবে প্রতি মাসে আপনার আয় সর্বনিম্ন ৩০ হাজার হতেই পারে।

একটি ওয়েবসাইট ডেভলপ করতে একজন দক্ষ ডেভলপার ১০হাজার থেকে লাখ টাকাও নিতে পারেন, সবকিছু সাইটটির কাঠামোর উপর নির্ভর করছে।

তাছাড়া প্রতিটি ওয়েবসাইটের দেখাশোনা করার জন্য একজন ওয়েব ডেভলপারকে নিয়োগ দিতে হয়, প্রতি মাসে এজন্য একজন ডেভলপার গড়ে ২০হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। এমন ৫টি সাইটের দায়িত্য নিলেও মাসে ১লাখ টাকা আসবে।

ওয়েব-ডেভেলপার

❐ Web Develpment নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
ওয়েব ডেভেলপার হতে কি বিজ্ঞান শাখার ছাত্র হতে হয়?

এই প্রশ্নটা সবারই মনে আশা স্বাভাবিক তবে বিভিন্ন অফিসে খোঁজ নিতে গেলে দেখা যাবে যে ৮৫% এর বেশী ওয়েব ডেভেলপাররাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শাখার ছিলেন না। তবে তারা কম্পিউটার চালনাতে খুবই ভালোভাবে দক্ষ ছিলেন। মূলত কথাটা এটাই। আপনি কোন বিভাগের ছাত্র তা মুখ্য নয় তবে কম্পিউটার চালনায় বিশেষ দক্ষতা থাকলে আপনি এই দক্ষতার জোরে এগিয়ে থাকতে পারবেন।

কম্পিউটার চালনাতে অভিজ্ঞতা ছাড়াও আর কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে কি?

আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে হলে অবশ্যই আপনার একটি কম্পিউটার থাকতে হবে। কম্পিউটার চালনাতে দক্ষ হতে হবে। এছাড়াও আপনার যেই বিশেষ গুণগুলোর প্রয়োজন হবে তা হলো ধৈর্য্য ও আত্মবিশ্বাস।

এমন বহু স্বনামধন্য ওয়েব ডেভেলপারের নাম আমরা শুনতেই পারতাম যদি না তারা তাদের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস উঠিয়ে না দিতো। আপনি প্রথম প্রথমই উন্নতির চরম শিখরে পৌছে মাসে লাখ টাকা আয় করে ফেলবেন তা সম্পূর্ণই আপনার ভুল ধারনা। আপনাকে ধৈর্য্য ধারন করতেই হবে। ধৈর্য্য এবং কঠোর পরিশ্রম আপনাকে নিয়ে যাবে উন্নতির শীর্ষে।

আমি কি একজন ওয়েব ডেভেলপার হবো নাকি ওয়েব ডিজাইনার?

প্রশ্নের উত্তরটি সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করে আপনারই উপর। যদি আপনি একটি ওয়েব পেইজ ডিজাইন (গ্রাফিক্স, এনিমেশন, কালারফুল ফন্ট, লে আউট ইত্যাদি) নিয়ে কাজ করতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তবে আপনি হবেন একজন ওয়েব ডিজাইনার। একজন সফল ওয়েব ডিজাইনারও বিভিন্ন উপায়ে আয় করতে পারেন।

তবে যদি আপনি একটি পেইজের বা ওয়েবসাইটের এডমিনিস্ট্রেটের কাজগুলো করতে পারেন এবং তথ্য নিয়ন্ত্রন করতে পারেন তবে আপনাকে অভিনন্দন আপনি হচ্ছেন একজন ওয়েব ডেভেলপার।

শেষ কথা :

কিভাবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে হবে এবং কীভাবে ওয়েব ডেভেলপার হওয়া যায় সে সম্পর্কে আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

পরিশেষে পরামর্শ থাকবে একটাই এই প্রতিদ্বন্দ্বীপূর্ণ পরিবেশে টিকে থেকে ব্যবসায় করা দুষ্কর। চাকুরীজীবীরাও নিজেদের চাকুরীর নিশ্চয়তা কোনো ভাবেই দিতে পারছেন না। এমতাবস্থায় নিজেকে এই প্রতিকূল পরিবেশে টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই বিকল্প কিছু আবিষ্কার করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং জগতে গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং ওয়েব ডেভেলপারদের জয়জয়কার। একজন ওয়েব ডেভেলপারকে কখনই আয় – ইনকাম নিয়ে ভাবতে হবে না। তিনি যতটুকু সময় দিবেন ততটুকুই তিনি আয় করতে পারবেন।

গতানুগতিক চাকুরী ও ব্যবসা থেকে একজন ওয়েব ডেভেলপারের আয়ও ভালো। আশাকরি আর্টিকেলটি পড়ার পর বাংলাদেশে আরো অনেকেই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবেন এবং কিছু নতুন ওয়েব ডেভেলপার সৃষ্টি হবে, যারা তাদের সৃজনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিবেন।

 


Shakib Ahmed

আমি সাকিব আহমেদ। অবসর সময়ে PRATIBORTON এ লেখালেখি করি।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 + 2 =

error: Content is protected !!