হোস্টিং কেনার আগে অনেক বিষয় চিন্তা করতে হয়। আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ওয়েব হোস্ট বাছাই করা একটি বড় সিদ্ধান্ত, কারণ এটি আপনার ব্যবসা কিংবা ব্লগিং এর সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সঠিক ওয়েব হোস্টের সাহায্যে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের কর্মক্ষমতা ব্যাপকভাবে উন্নত ও জোরদার করতে পারেন। আবার ভুল কোনো ওয়েব হোস্টিং বাছাই করলে আপনি সমস্যার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সাধারণত আমাদের প্রথমবার Web Host কেনার সময়ই ভুল হয়, কারণ প্রথমবার হোস্টিং প্যাকেজ এর বিভিন্ন নতুন নতুন টার্ম বিষয়ক ধারণা না থাকায় ভুল প্যাকেজ পছন্দ করে ফেলেন।

বিদেশী হোস্টিং গুলোর পাশাপাশি বর্তমানে দেশেও বেশি কিছু ভালো ওয়েব হোস্টিং সার্ভার রয়েছে, যেখানে বিকাশে পেমেন্ট করার সুবিধা রয়েছে। একইসাথে খারাপ সার্ভিস ও বাজে হোস্টিং প্রোভাইডারও কম নেই।

আপনারও যেন ডোমেইন হোস্টিং কেনার সময় ভুল না হয় সেজন্য আমাদের আজকের আয়োজন।

এই আর্টিকেলে আমরা আপনার ব্যবসায়ের জন্য সঠিক ওয়েব হোস্টিং বেছে নেওয়ার জন্য যেসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত সেসব নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি।

সূচীপত্র

ডোমেইন কী ( what is domain in bangla )?

ডোমেইন একটি ঠিকানা যা ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস করতে পারেন। সহজভাবে বললে এটি একটি বাড়ির ঠিকানা, যেটি ফলো করে তার কাছে পৌছানো যায়।

এই ঠিকানা আমরা যেভাবে মনে রাখি সেরকম দেখতে মোটেই নয়। উদাহরণস্বরূপ গুগল.কমের আইপি এড্রেস “74.125.127.147”.

কম্পিউটার আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে, যা সংখ্যার একটি সিরিজ। কিন্তু এধরনের সংখ্যার মনে রাখা মানুষের পক্ষে কঠিন, তাই মানুষের মনে রাখা সহজ করতে বাহ্যিকভাবে মানুষের মনে রাখার মতো সহজবোধ্য কোনো ছদ্ম নাম দেওয়া হয়।

একটি ডোমেইনে দুটি প্রধান উপাদান অংশ থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের সাইটের ডোমেইন নাম প্রতিবর্তন.কম। অর্থাৎ, ওয়েবসাইটের নাম প্রতিবর্তন এবং ডোমেইন এক্সটেনশন .কম নিয়ে ডোমেইনটি গঠিত।

হোস্টিং কি ( What is  Web Hosting in Bangla )?

ওয়েব হোস্টিং এমন এক স্থান যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত ফাইল জমা রাখা হয়। প্রতিটি সা্ইটের জন্য ওয়েব হোস্টিং হলো তার বাড়ি যেখানে সে বাস করে।

ডোমেইন হোস্টিং এর মাঝে সম্পর্কে বোঝার একটি ভাল উদাহরণ হলো, যদি ডোমেইন নামটি আপনার বাড়ির ঠিকানা হয়, তবে ওয়েব হোস্টিং আপনার সেই বাড়ি। ইন্টারনেটে আসার জন্য সমস্ত ওয়েবসাইটের ওয়েব হোস্টিং প্রয়োজন।

হোস্টিং কত প্রকার

  • Shared Web Hosting
  • VPS
  • Dedicated Hosting
  • Cloud Web Hosting
  • WordPress Hosting

শেয়ারড হোস্টিং (Shared Web Hosting ) কী?

Shared Web Hosting এক ধরণের ওয়েব হোস্টিং যেখানে একটি সার্ভার একাধিক সাইট হোস্ট করে। অনেক ব্যবহারকারী একক সার্ভারে সংস্থানগুলি ব্যবহার করে যা ব্যয় কম রাখে।

ব্যবহারকারীরা প্রত্যেকে সেই সার্ভারের একটি নির্দিষ্ট অংশ তাদের ওয়েবসাইটের ফাইল হোস্ট করার জন্য ব্যবহার করতে পারে। শেয়ারড হোস্টিং এর একটি সার্ভার শত শত ব্যবহারকারীকে হোস্ট করতে পারে, তাই সবার জন্যই খরচ কম পরে।

ভিপিএস ওয়েব হোস্টিং ( VPS Web Hosting ) কী?

VPS এর পূর্ণরূপ Virtual Private Server hosting. ভিপিএস ওয়েব হোস্টিং কে আপনার অফিসের একটি কম্পিউটার বলা যায়, যেটি অফিসের বাকি সকল কম্পিউটারের মতো একই সোর্স থেকে বিদ্যুৎশক্তি পেলেও প্রত্যেকের আলাদা কর্মক্ষমতা রয়েছে।

শেয়ারড হোস্টিং এর সাথে ভিপিএস হোস্টিং এর পার্থক্য হলো VPS হোস্টিং শুধুমাত্র আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা র্যা ম, সিপিইউ, হার্ডডিস্ক রাখা হয়। তাই অনেক সাইটের লোড একই হোস্ট এর উপর না পরায় স্পিড এবং নিরাপত্তা বেশি থাকে।

ডেডিকেটেড ওয়েব হোস্টিং ( Dedicated Web Hosting ) কী?

ডেডিকেটেড হোস্টিং হলো একটি প্রাইভেট সার্ভার যেখানে শুধুমাত্র একটি সাইটের ফাইল রাখা হয়, শুধুমাত্র সেই সাইটকেই হোস্ট করা হয়। সকল প্রকার কন্ট্রোল সাইট মালিককে দেওয়া হয়।

ভিপিএস হোস্টিং এবং ডেডিকেটেড হোস্টিং এর পার্থক্য :

ভিপিএস ওয়েব হোস্টিং ডেডিকেটেড ওয়েব হোস্টিং
একই সার্ভারের ব্যক্তিগত স্পেস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ওয়েব হোস্টিং সার্ভার
ফাস্ট লোডিং স্পিড সুপার কুইক লোডিং স্পিড
রিসোর্স লিমিটেড (তবে যেকোনো সাইটের জন্য যথেষ্ট) রিসোর্স লিমিট নেই বললেই চলে
দাম তুলনামূলক কম দাম অনক বেশি
ছোট থেকে মিডিয়াম সাইটের জন্য বেস্ট বড় সাইট এবং বেশি ট্রাফিক রয়েছে এমন সাইটের জন্য প্রয়োজনীয়

ক্লাউড ওয়েব হোস্টিং ( Cloud Web Hosting ) কী?

একটি সাইটের স্পিড এবং আপটাইম বৃদ্ধির জন্য ইন্টারলিঙ্কড একাধিক সার্ভারে রাখাকে ক্লাউড হোস্টিং বলা হয়। অর্থাৎ কোনো একটি সার্ভার ডাউন করলেও অন্য একটি সার্ভারের কারণে সাইট লাইভ থাকবে।

যেসব সাইটে প্রতি মিনিটে হাজার হাজার ট্রাফিক, তাদের সাইট ১মিনিট ডাউন থাকলেও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তাদের জন্য ক্লাউড হোস্টিং আশীর্বাদ স্বরূপ।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব ( WordPress Web Hosting ) কী?

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এমন হোস্টিং যা শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুরক্ষার জন্য স্পেশালি ডিজাইন করা হয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট শুরু করার জন্য অন-ক্লিক ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করার সুবিধাও থাকে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এ।
ওয়েব হোস্টিং ও ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এর পার্থক্য;

  • ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এ শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি সাইট হোস্ট করা যায়
  • security তুলনামূলক বেশি
  • আপগ্রেড–ডাউনগ্রেড করা সহজ
  • শেয়ার্ড হোস্টিং এর চেয়ে দাম বেশি
  • সার্ভার আপটাইম প্রায় ১০০%
  • ফাস্ট লোডিং স্পিড।

এবার আপনি সিদ্দান্ত নিন, কোন ধরনের হোস্টিং প্যাকেজটি নিবেন। কিন্তু সঠিক হোস্টিং এবং প্যাকেজ বাছাই করার আগে আরো কিছু বিষয় দেখে নেওয়া জরুরী।

হোস্টিং কেনার আগে কি দেখতে হবে? সেরা হোস্টিং বাছাই

ডোমেইন হোস্টিং কিনে সমস্যায় পরার চেয়ে আগেই খোঁজ খবর নেওয়া উচিৎ। চলুন দেখে নেই একটি সেরা ওয়েব হোস্টিং কেনার আগে কোন কোন বিষয় দেখে নিতে হবে।

ওয়েব হোস্টিং বাছাই

হোস্টিং স্টোরেজ ( Hosting Storage ) কী?

একটি সাইটের সমস্ত ফাইল, ডেটাবেজ রাখার জন্য কিছু স্পেস দরকার হয়। আপনার সাইটের ছবি, ভিডিও, অডিও, থিম, প্লাগইনসহ সমস্ত ফাইলের জন্য এই হোস্টিং স্টোরেজ ব্যবহার হবে।

এখন আপনার সাইটে যদি বেশি বেশি ছবি, ভিডিও কিংবা অডিও রাখার প্রয়োজন হয় তাহলে স্টোরেজ বেশি কিংবা আনলিমিটেড প্যাকেজ নেওয়া ভালো হবে।

সাধারণ ব্লগিং করতে প্রথম বছরের জন্য ২ জিবি স্টোরেজ যথেষ্ট।

সার্ভার স্পিড ( Server Speed ) কী?

গুগলের হিসেবে একটি সাইট ফুল লোড হওয়ার জন্য ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে ট্রাফিক লস করে। কারণ সাইট স্পিড এসইওর অংশ এবং বড় রকমের Ranking Factor.

যেকোনো ভালমানের সার্ভারে থাকা একটি প্রথম শ্রেনীর ওয়েবসাইটের স্পিড ১.২ সেকেন্ড থেকে ১.৫ সেকেন্ড হয়ে থাকে। একটি সাইটের স্পিড কত ভালো হবে তা ৫০% এরও বেশি নির্ভর করে সার্ভার স্পিড এর উপর।

আপনার সার্ভার যদি স্লো হয়, আপনি যতো ভালভাবেই সাইট অপটিমাইজ করুন না কেন, খুব বেশি লাভ হবেনা।

ব্যান্ডউইথ / Bandwith কী?

সহজ কথায় ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি হলো একটি সাইট প্রতিমাসে কতটি পেজ ওপেন করতে পারে তার ক্ষমতা। অর্থাৎ কি পরিমাণ ট্রাফিক লোড নিতে পারবে, তা ঠিক করে ব্যান্ডউইথ ভলিয়্যুম।

মনে করুন, আপনার সাইটের প্রতিটি পেজের সাইজ ১০০কেবি। প্রতিদিন ১০০জন ভিজিটরস আসেন এবং প্রত্যেকে ২টি করে পেজ ওপেন করেন। তাহলে প্রতিদিন ২০০টি পেজ ওপেন হচ্ছে অর্থাৎ, ২০০০০ কিলো বাইট বা ২ এমবি। তাহলে প্রতিমাসে আপনার প্রয়োজন ৬৬ এমবি।

ধরে নেই আপনার ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি ৭০ এমবি। কোনো মাসে আপনার সাইটের ট্রাফিক বেড়ে যাওয়ায় মাসের ২৫ তারিখে Bandwidth limit ৭০ এমবি শেষ হয়ে গেল, তাহলে কি হবে?

আপনার সাইট ডাউন থাকবে আগামী ৫দিন, যদি না ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে নেন।

অ্যাডঅন / addon ডোমেইন কী?

যেকোনো হোস্টিং প্যাকেজের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। আপনার যদি একাধিক ওয়েবসাইট থাকে, তবে আপনি হয়তো একই হোস্টিং প্যাকেজেই তাদের রাখতে চাইবেন।

কিন্তু আপনার প্যাকেজে যদি অ্যাড-অন ডোমেইন লিমিট ‘No’ করা থাকে, তবে আপনার হোস্টিং এ শুধুমাত্র একটি ডোমেইন যোগ করতে পারবেন।

অর্থাৎ যতগুলো এডঅন ডোমেইন হোস্টিং প্যাকেজে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে ততটি ওয়েবসাইট ওই প্যাকেজের মধ্যে যুক্ত করতে পারবেন।

সাবডোমেইন: সাবডোমেইন কি?

একটি সাবডোমেইন আপনার প্রধান ডোমেইন নামের একটি অতিরিক্ত অংশ। অর্থাৎ মূল ডোমেইনের আগে বা পিছে একটি অংশ যুক্ত করে আরো একটি স্বতন্ত্র ডোমেইন যা ভিন্ন একটি ওয়েবসাইট তৈরির সুবিধা দেয় সাব ডোমেইন।

যেমন, pratiborton.com আমাদের সাইটের মূল ডোমেইন। কিন্তু আমরা আর্টিকেল এবং বিভিন্ন সার্ভিস দেওয়ার জন্য একটি সাব ডোমেইন articleshop.pratiborton.com তৈরি করে নিয়েছি।

এজন্য আমাদের নতুন করে কোনো ডোমেইন হোস্টিং কিনতে হয়নি। হোস্টিং সি-প্যানেল থেকে ১০মিনিটেই বানিয়ে নিয়েছি।

আপনি যদি কোনো ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং তার সাথে আরো সাবডোমেইন দরকার হয় যেমন অনেক ভাষায় ওয়েবসাইট প্রকাশ করার জন্য সাবডোমেইন সবচেয়ে ভালো সমাধান।

কারণ একই ডোমেইন হওয়ায় পরস্পর লিঙ্কআপ থাকে, তাই সবগুলোর জন্য ব্রান্ডিং, কিংবা মার্কেটিং প্রয়োজন হয়না।

কিছ কিছু প্যাকেজে সাবডোমেইন লিমিট শূন্য করা থাকে, সেসব সাইট ঐ হোস্টিং প্যাকেজে সাবডোমেইন তৈরি করার অনুমতি পায় না।

হোস্টিং মেইল একাউন্ট কী?

আপনি নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ওয়েবসাইটে দেখেছেন যোগাযোগ admin@domain.com

আপনার কি মনে হয়? জিমেইল, ইমেইলের বাইরে গিয়ে তারা এমন মেইল এড্রেস কোথায় পেলো? তাদের ডোমেইন হোস্টিং থেকেই পেয়েছে।

আপনার কতটি ইমেইল এড্রেস প্রয়োজন সেটা আপনি ভালো বুঝবেন, তাই হোস্টিং প্যাকেজ বেছে নেওয়ার আগে দেখে নিন সেখানে কতটি মেইল একাউন্ট তৈরি করতে দিবে।

FTP Account / এফটিপি একাউন্ট কী?

FTP (File Transfer Protocol) FTP এর পুরো abbreviation হল ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল (File Transfer Protocol)। ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল (File Transfer Protocol) বা এফ টি পি নেটওয়ার্কে ফাইল আদান প্রদানের একটি জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত পদ্ধতি (তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া)।

যখন আপনি একটি হোস্টিং প্যাকেজ নেন, এবং এডমিন হিসেবে লগইন করে তখনই একটি এফটিপি একাউন্ট তৈরি হয়ে যায়। অর্থাৎ ফাইল ট্রান্সফার, আপলোড, ডাউনলোড করার অনুমতি পান।

কিন্তু যদি আপনি অ্যাডমিন কন্ট্রোল না দিয়ে শুধু ফাইল কন্ট্রোল দিতে চান তবে তার জন্য একটি FTP একাউন্ট করে দিয়ে অনুমতি দিতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি যদি আপনার রিসেলার হোস্টিং প্যাকেজ নিয়ে থাকেন, তবে আপনার সার্ভার এর কিছু অংশ অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্যও এফটিপি একাউন্ট প্রয়োজন হয়।

ওয়েব হোস্টিং আপটাইম / uptime কী?

একটি সাইট কত শতাংশ সময় অনলাইনে একটিভ বা সচল থাকে তা নির্ভর করে হোস্টিং সার্ভারের আপটাইমের উপর। যেসময় ওয়েবসাইট সার্ভার ডাউন হয়ে যায় তখন সাইট আর কাজ করেনা বা সাইটে প্রবেশ করা যায় না।

যেকোনো ভালো হোস্টিং সার্ভারের আপটাইম (uptime ) ৯৯.৯৯%।

Cpanel control

একটি সাইট ডোমেইন হোস্টিং কিনে নিয়ে পরিচালনা করার উদ্দেশ্যই নিরাপত্তা ও কন্ট্রোল। কিন্তু cpanel এ যদি সম্পূর্ণ কন্ট্রোল নাই পান, তাহলে ব্লগস্পটে ব্লগিং করাই ভালো ছিলো।

তাই হোস্টিং কেনার আগে দেখে নিন তারা আপনাকে Cpanel control ১০০% দিবে কি না!

সার্ভিস এবং সাপোর্ট

বিভিন্ন সময় আমাদের তাৎক্ষনিক সাপোর্ট দরকার হয়। কিন্তু যারা প্রফেশনাল নয় তাদের কাছ থেকে সাপোর্ট নিতে গেলে আপনি প্রায়শই ঝামেলায় পরবেন।

ভালো যেকোনো ডোমেইন হোস্টিং সার্ভার সাইট তাৎক্ষণিক রেস্পন্স এবং সেবা দিয়ে থাকে। এছাড়াও ২৪ ঘন্টা ৭দিন তাদের টিকিট সাপোর্ট (এডমিন এবং হোস্ট সার্ভারের নিরাপদ কথা বার্তার মাধ্যমে সাপোর্ট সিস্টেম) দেয় কিনা জেনে নিন।

অটোম্যাটিক ব্যাকআপ ( Automatic backup ) কী?

একটি সাইটে অনেক কছিু কাস্টমাইজ করতে হয়। মাঝে মাঝেই বিভিন্ন পরিবর্তন আনতে হয়। কিন্তু এসব করতে গিয়ে হয়তো আপনার সাইটে বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দিলো।

এসব অবস্থায় আপনার সাইটের সব ডাটা ডিলিটও হয়ে যেতে পারে। যার মধ্যে থাকতে পারে আপনার সাজানো গোছানো থিম, এবং আপনার শত শত আর্টিকেল।

এমতা অবস্থায় কি করবেন? ব্লগিং ছেড়ে দিবেন! নাকি আবার সাজাবেন আর পুনরায় পোস্টগুলো লিখবেন!
মাথা খারাপ হয়ে যাবে না ব্লগার সাহেব! তাহলে উপায় কি?

যারা ডোমেইন হোস্টিং কিনে ব্লগিং করেন, তাদের সুবিধা হলো এই অটো ব্যাকআপ সিস্টেম। আপনার সকল ডাটা সুরক্ষিত রাখার উপায় হোস্ট সার্ভারের অটোম্যাটিক ব্যাকআপ ( Automatic Backup )।

প্রতিদিন তারা আপনার আপডেটেড ডাটা রেখে দিয়ে পুরাতন ডাটা ডিলিট করে দিবে।  যদি কখনো এমন খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়, তবে কয়েকটি ক্লিক করেই আপনার ওয়েবসাইটকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

ওয়েবসাইট হোস্ট বেছে নেওয়ার আগে অবম্যই দেখে নিন, তারা ডেইলি ব্যাকআপ রাখবে কি না! না রাখলে বুঝতেই পারছেন কি বিপদ অপেক্ষা করে আছে!

এসএসএল সার্টিফিকেট ( SSL certificate ) কী?

এসএসএল এর পূর্ণরূপ সিকিউর সকেট লেয়ার। যদি আমরা কোনো সাইটে প্রবেশ করতে যাই, তখন তা কয়েকটি কম্পিউটার থেকে ডাটা নিয়ে তারপর নির্দিষ্ট সার্ভারে পৌছায়।

কিংবা আমি আপনার সাইটে লগইন করলাম, তাহলে এই লগইন ইনফো যে অন্য কারো হাতে চলে যাবেনা, তার গ্যারান্টি কী?

আপনার মুখের কথায় কেউ বিশ্বাস করবেনা যে আপনি ভিজিটরসদের তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছেন না। এজন্য আপনার কাছে সার্টিফিকেট থাকা চাই।
এই সার্টিফিকেট ওয়েবসাইট দুনিয়ায় এসএসএল সার্টিফিকেট নামে পরিচিত।

ডোমেইন হোস্টিং

যদি আপনার হোস্ট SSL certificate ইনস্টল করে না দেয়, তবে ভিজিটরস সাইটে প্রবেশ করার সময় একটি বার্তা পাবে “এই সাইটটি নিরাপদ নয়, বিভিন্ন তথ্য চুরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে”।

এমন একটি ভয়াবহ বার্তা দেখলে আপনি কি প্রবেশ করতেন! নিশ্চয়ই না। তাই বিশাল ট্রাফিক লস হবে সে নিশ্চয়তা দেওয়াই যায়।

যখন এসএসএল সার্টিফিকেট ইনস্টল করবেন তখন সাইটে https ও প্যাডলক চালু হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ অবস্থায় আসবে। কোনো সাইটে প্রবেশ করলে https এর আগে যে তালা চিহ্ন থাকে এটিই প্যাডলক।

তাই SSL Certificate এর গুরুত্ব কতটুকু বুঝতে নিশ্চয়ই সমস্যা হচ্ছেনা। সুতরাং হোস্টিং কিনে নেওয়ার আগে অবশ্যই নিম্চত হয়ে নিন প্যাকেজে এসএসএল থাকছে কি না!

আপগ্রেড / ডাউনগ্রেড করার সুযোগ

একটি সাইট শুরু করার জন্য প্রাথমিক অবস্থায় একটি ডোমেইন এবং সামান্য স্পেস এর হোস্টিং হলেই হয়। সাইট বড় হওয়ার সাথে সাথে আরো বেশি হোস্টিং স্পেস প্রয়োজন হয়।

কিংবা আপনি প্রাথমিকভাবে আনলিমিটেড হোস্টিং প্যাকেজ নিয়ে নিলেন যার মূল্য অনেক বেশি, কিন্তু পরবর্তীতে দেখলেন এতা স্পেস আপনার প্রয়োজন হচ্ছেনা।

এমন অবস্থায় আমাদের হোস্টিং স্পে বাড়ানো কমানোর প্রয়োজন হয়। কিন্তু যদি আপনার হোস্টিং সার্ভার আপগ্রেড ডাউনগ্রেড করার সুযোগ না দেয়, তাহলে আপনি সমস্যায় পরে যাবেন।

বিশেষ করে আপগ্রেড করার সুযোগ না থাকলে স্টোরেজ শেষ হওয়ার পর সাইট ডাউন হয়ে যাবে।

শেষ কথা

একটি সাইটের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স অনেকাংশে নির্ভর করে ডোমেইন হোস্টিং এর উপর। কঠিন ডোমেইন নাম ভিজিটরস মনে রাখতে পারেরনা, তেমনি সাইটের হোস্টিং এর কারণে লোডিং স্পিড কম থাকলেও ট্রাফিক ফেরৎ যাবে।

তাই হোস্টিং কেনার আগে আমাদের খুব সাবধানতার সাথে সবকিছু দেখে নিতে হবে। হোস্টিং বাছাই করার আগে তাদের সার্ভিস রিভিউ দেখে নিন।


Abdullah

বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে অধ্যয়নরত। জানার আগ্রহ থেকে whyorwhen এবং Pratiborton এ লেখালেখি করি।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!