ইন্টারনেট কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি | ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে?

ইন্টারনেট কি

ইন্টারনেট কি : ইন্টারনেট হলো একটি বিশাল নেটওয়ার্ক যা সারা বিশ্বের কম্পিউটারকে সংযুক্ত করে রেখেছে। মানুষ ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে যেকোনো জায়গা থেকে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে এবং যোগাযোগ করতে পারে।ইন্টারনেট কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি, ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে (How does internet Works in Bangla) এধরনের প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনেই রয়েছে। আপনি যদি এখনো ইন্টারনেট কি সেবিষয়ে না বুঝে থাকেন, তবে চলুন আরো একটু ক্লিয়ার করা যাক।

কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে ইন্টারনেট বলে। ইন্টারনেটে লক্ষ লক্ষ গৃহ, একাডেমিক, ব্যবসায়িক, এবং সরকারী নেটওয়ার্ক রয়েছে যেগুলো একসাথে বিভিন্ন ধরনের তথ্য বহন করে। ইন্টারনেটের সংক্ষিপ্ত রূপ হল ‘নেট’। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা www তার সবচেয়ে বড় পরিষেবাগুলির মধ্যে একটি।

একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। আমরা প্রায়ই মোবাইল এবং ল্যাপটপ ক্যাবল দিয়ে একে অপরের সাথে কানেক্ট করে তথ্য, ফাইল আদান প্রদান করি। এই যে দুইটি ডিভাইসের মাঝে ইন্টার কানেকশান, এটাই একধরনের ইন্টারনেট, তবে ছোট পরিসরের ইন্টারনেট।

এখন কেউ যদি ভারতে বসে তার ডিভাইসে থাকা আমার সাথে কিছু শেয়ার করতে চায়, তাহলে কিভাবে আমাদের দুজনের ডিভাইস কানেক্টেড হবে! এখানেই ইন্টারনেট এর প্রয়োজন হয়, যা দূরবর্তী ডিভাইসগুলোর মাঝে কানেকশানের ব্যবস্থা করে দেয়।

ইন্টারনেট বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত এবং ছোট-বড় সবার কাছেই পরিচিত একটি নাম। এটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এতোটাই জড়িয়ে আছে যে, একে বাদ দিয়ে একটা দিনও কল্পনা করা যায় না।

কোথায় নেই ইন্টারনেট! এই যে এই মুহূর্তে আপনি আমার আর্টিকেলটি পড়ছেন এটিও কিন্তু ইন্টারনেটের সাহায্যেই সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বানিজ্য, বিনোদন, কেনাকাটা সর্বক্ষেত্রেই এই ইন্টারনেটের অবদান রয়েছে।

সমগ্র বিশ্বকে একসাথে সংযুক্ত করে রেখেছে এই ইন্টারনেট। তবে আমরা প্রতিনিয়ত এই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকলেও, অনেকেই এই ইন্টারনেট কি, ইন্টারনেট কাকে বলে, ইন্টারনেট কত প্রকার, কিংবা ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে, সেসব বিষয়ে অবগত নই।

তাই আজকে তাদের সুবিধার্থেই আমি এই আর্টিকেলে ইন্টারনেট কি, কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি, ইন্টারনেটের ইতিহাস এবং ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে সেসব বিষয়ে যাবতীয় বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

ইন্টারনেট কি | ইন্টারনেট কাকে বলে | What Is Internet in Bangla?

Internet হচ্ছে একটি ইংরেজি শব্দ যা “ইথারনেট” থেকে এসেছে। এর বাংলা অর্থ হচ্ছে “অন্তর্জাল”। Internet মূলত দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। Inter এবং Net, যেখানে Inter মানে হচ্ছে সংযুক্ত এবং Net মানে হচ্ছে জাল।

অর্থাৎ ইন্টারনেট মানে হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য কম্পিউটার যে নেটওয়ার্ক বা জালের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে ডাটা আদান-প্রদান করে থাকে।

ইন্টারনেট কাকে বলে এটি সহজ কথায় বলতে গেলে, Internet হচ্ছে সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত, পরস্পরের সাথে সংযুক্ত অনেকগুলো Computer Network এর সমষ্টি। এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত যেটিতে ইন্টারনেট Protocol (IP) নামের এক প্রামাণ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাটা আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে।

উইকিপিডিয়ার মতে, ইন্টারনেট হলো সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত, একে অপরের সাথে যুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি, যা সকলের জন্য উন্মুক্ত, যেখানে ইন্টারনেট প্রটোকল এর মাধ্যমে ডেটা শেয়ার করা হয়।

অনেকেই WWW (world wide web) কে ইন্টারনেট হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। কিন্তু দুইটার অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। World Wide Web (www) হচ্ছে ইন্টারনেটে তথ্য গ্রহণের পদ্ধতি, যে পদ্ধতিতে Hypertext Link এর মাধ্যমে ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন Document বা File একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে।

আশা করি ইন্টারনেট কি, বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। এবার চলুন, ইন্টারনেটের ইতিহাস ও ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে সেসম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ইন্টারনেট কত প্রকার ও কি কি?

ইন্টারনেটকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে অনেকভাবে ভাগ করা হয়েছে। তবে ইন্টারনেটকে মূলত ৬ প্রকার;

  1. ডায়াল-আপ (Dial-up)
  2. ডিএসএল (DSL)
  3. স্যাটেলাইট (Satellite)
  4. ক্যাবল ( Cable)
  5. ওয়ারলেস (Wireless)
  6. সেলুলার (Cellular)
Related:  ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি? Virtual Reality কিভাবে কাজ করে? 

চলুন ইন্টারনেটের প্রকারভেদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত করে নিম্নে জেনে নেওয়া যাক;

1. ডায়াল-আপ ইন্টারনেট : Dial up internet

স্ট্যান্ডার্ড মোবাইল লাইন থেকে যে Internet সংযোগ পাওয়া যায় তাই হচ্ছে ডায়াল-আপ।এই প্রক্রিয়াটি ১০ সেকেন্ড ব্যয় করে মোবাইলে ইন্টারনেট কানেকশন করে ফেলে। তবে এর ধীরগতির জন্য এটি মানুষের কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্য হয় নি।

2. ডিএসএল ইন্টারনেট : DSL internet

ডায়াল-আপের ধীরগতির জন্য এর পরিবর্তে আরও দ্রুতগতি সম্পন্ন ডিএসএল বাজারে এসেছে। এটি মূলত cable connection যেটি ডায়াল-আপের চেয়েও ১০০ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন।

এটি মানুষের কাছে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

3. স্যাটেলাইট ইন্টারনেট : Satellite internet

Satellite হচ্ছে দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট পরিসেবা। এটি তারবিহীন সর্বোচ্চ ইন্টারনেট পরিসেবা প্রধান করে থাকে।

4. ক্যাবল ইন্টারনেট : Cable internet

Cableএর মাধ্যমে ব্রডব্যান্ডের সংযোগের ফলে কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে Internet সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। এটি হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন একটি মাধ্যম।

5. ওয়ারলেস ইন্টারনেট : Wireless internte

দুটি মাধ্যম কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান করে একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে যখন তথ্য আদান-প্রদান করে তখন তাকে ওয়ারলেস কানেকশন বলে।

6. সেলুলার ইন্টারনেট : Cellular Internet

মোবাইল ফোনে যে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় তাকে সেলুলার বলে। সেলুলার connection খুবই জনপ্রিয় যা আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করে থাকি।

ইন্টারনেট এর জনক কে?

আমরা ইতোমধ্যেই ইন্টারনেট কি? বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে গেছি। Internet আমাদের জীবনকে অনেক সহজ এবং আরামদায়ক করে তুলেছে। পূর্বে যা ছিলো অকল্পনীয় বর্তমানে তাও সম্ভব হচ্ছে ইন্টারনেটের কল্যাণে।

তবে আমরা কি জানি এই ইন্টারনেটের জনক কে? এই Internet একদিনে আবিষ্কার হয়নি, ১৯৮৩ সালের ১লা জানুয়ারী ইন্টারনেট আবিষ্কার হয় বলে ধরে নেওয়া হয়। এবং ইন্টারনেট এর জনক Vinton Gray Cerf.

ইন্টারনেট আবিষ্কারের পিছনে রয়েছে অনেক মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম। ১৯৮৩ সালের আগেও অনেক নেটওয়ার্ক থাকলেও সেগুলোর কোন নির্দিষ্ট স্ট্রাকচার এবং সফলতা ছিল না।

তবে Internet আবিষ্কারের কথা উঠলেই যে দুইজন ব্যক্তির নাম প্রথমেই মনে আসে তাঁরা হলেন রবার্ট ই কান এবং ভিনটন জি কার্ফ। ইন্টারনেট আবিষ্কারের মূল দুটি জিনিস Transmission Control Protocol (TCP) এবং Internet Protocol (IP) এই দুটি প্রটোকল আবিষ্কার করেন এই মহান দুই ব্যাক্তি যা ইন্টারনেট আবিষ্কারের যাত্রাকে সহজ করে তুলেছে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আরও নতুন নতুন সংযোজনের ফলে আজ ইন্টারনেট এতো গতিশীল এবং সুবিধাসম্পন্ন হয়ে এসেছে আমাদের সামনে।

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে | how does internet works?

আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হওয়াকে ইন্টারনেট বলে। এখন আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে, এই ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে (How does Internet work in Bangla)?

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে? ভালো প্রশ্ন হ্যা! ইন্টারনেটের কাজ সঠিকভাবে করার জন্য শুরুতেই একে Global network এর সাথে তার (Wire) কিংবা বেতার (Wireless) এর মাধ্যমে যুক্ত হতে হয়।

এরপর এই Global network এর সাথে যুক্ত থাকা বিভিন্ন কম্পিউটারের সাথে আমাদের Computer রাউটার (Router) কিংবা সার্ভিসের (Service) এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে Data কিংবা Information সংগ্রহ করে নেয়। মূলত এইভাবেই কাজ করে থাকে কম্পিউটার।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি কম্পিউটার আছে। কিন্তু সব কম্পিউটার একই কাজ করছে না।এসব কম্পিউটারগুলোর মাঝে কিছু কম্পিউটার এমন রয়েছে যারা শুধু তথ্য জমা রাখে, আর এদেরকে বলা হয় সার্ভার। স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনে হতে পারে সার্ভার আবার কী?

ধরুন, আপনার কম্পিউটারে আপনি সবার জন্য উম্মুক্ত করে কিছু পাবলিক তথ্য রেখেছেন,  যা ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেখা যায়। কিন্তু, আমার এখন প্রয়োজন অথচ আপনার কম্পিউটারটি বন্ধ থাকায় আপনার ডিভাইসের সাথে আমার ডিভাইস কানেক্ট করা যাচ্ছে না। সার্ভার এই জায়গাতেই কাজ করে থাকে। এসব সার্ভার কম্পিউটার কখনো বন্ধ করা হয় না।

তাই, আপনার কোন তথ্য জমা রাখলে যেকোন সময় যেকোন ডিভাইস থেকে ইন্টারনেট কানেকশানের মাধ্যমে এক্সেস করা যায়। যেমন: আমাদের এই ওয়েব পেজটি আমাদের নিজস্ব কম্পিউটার, মোবাইল দিয়ে তৈরি করা এবং আর্টিকেলগুলোও আমাদের ডিভাইস থেকেই পাবলিশ করা হয়। কিন্তু, আমাদের ডিভাইস সব সময় অন করা না থাকলেও যেকোন সময় যেকেউ ব্রাউজ করতে পারেন, কেননা আমরা আমাদের সকল ফাইল একটি সার্ভারে স্টোর করে থাকি।

Related:  ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি? Virtual Reality কিভাবে কাজ করে? 

সকল সাইটের ফাইলই এরকম কোনো সার্ভারে জমা রাখা হয় এবং যখন কেউ তথ্য খুঁজতে কেউ সাইটকে রেকুয়েস্ট পাঠায়, তখন সার্ভার নির্দিষ্ট তথ্যটি ব্যবহারকারীর ডিভাইসে পাঠিয়ে দেয়।

এবার আমরা আমাদের মূল আলোচনার বিষয় ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে সেবিষয়ে বিস্তারিত জানবো।

সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা কম্পিউটারগুলো নিজেদেরকে প্রথমে স্থানীয় নেটওয়ার্কের সাখে কানেক্ট করে। স্থানীয় নেটওয়ার্কগুলো পরবর্তীতে অন্য একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে কানেক্ট হয়ে ইন্টারনেট বা অন্তর্নিহিত জাল তৈরি করে।

উদাহরণ দিয়ে যদি বলতে চাই, একটি কম্পিউটার মডেম বা LAN, Wifi এর মাধ্যমে ISP (Internet Service Provider) অর্থাৎ ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়। ISP গুলো আবার পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে সারাদেশের সকল কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়। এরপর প্রতিটি দেশে পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে বৃহৎ ইন্টারনেট তৈরি করে।ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে

ISP’র এরূপ ধারাবাহিক সংযোগের শেষে সাধারণত কোন ফাইবার অপটিক ব্যাকবোনের সাথে কানেক্টেড থাকে। ব্যাকবোনগুলো আবার উচ্চ গতির অপটিক্যাল ফাইবার (সমুদ্র তলদেশ দিয়ে এক দেশের সাথে অন্য দেশের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সংযোগের জন্য ব্যবহৃত তার) বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত।

আর এভাবেই বিস্তৃত জালের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে অবস্থিত দুই বা ততোধিক কম্পিউটার ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযোগ রক্ষা করে তথ্য আদান প্রদান করছে। বুঝলেন তো, ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে?

ইন্টারনেটের কাজের জন্য কি কি জিনিস প্রয়োজন?

Internet এর কাজের জন্য তিনটি জিনিসের প্রয়োজন।

১. একটি ডিভাইসের প্রয়োজন যেখান থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে।

২. Internet service provider (ISP) যেটি থেকে ইন্টারনেট সেবা গ্রহন করা যাবে।

৩. একটি ওয়েব ব্রাউজার (web browser) বা এপ্লিকেশন (application) ব্যবহার করা।

১. Device প্রয়োজন

Internet  কাজ করার জন্য শুরুতেই একটি ডিভাইসের প্রয়োজন। এই ডিভাইস হতে পারে আপনার ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার (computer), ল্যাপটপ (leptop), আপনার হাতের মোবাইল, স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেট। তবে বর্তমানে Smart television বের হয়েছে যেগুলোতে Internet ব্যবহার করার ব্যবস্থা রাখা হয়।

২. ISP থেকে সার্ভিস নিতে হবে

এখন আমাদের প্রয়োজন হবে ইন্টারনেট কানেকশনের (Internet connection)। এর জন্য আমাদের আশেপাশে থাকা বিভিন্ন Internet service provider দের থেকে খুব সহজেই সার্ভিস নিতে পারবো।

Airtel, vodafone, JIO, BSNL, IDEA ইত্যাদি হলো বিভিন্ন ISP যেগুলো আমাদেরকে telecommunication service দেওয়ার পাশাপাশি Internet service ও প্রদান করে থাকে।

এই ISP গুলো থেকে ইন্টারনেট কিনে বা নিয়ে তার কিংবা বেতার যেকোনো মাধ্যমে আমরা আমাদের কম্পিউটার কিংবা অন্য ডিভাইসটিতে ইন্টারনেট সেবা Connect করে নিতে পারি।

৩. একটি ওয়েব ব্রাউজার (web browser) বা application প্রয়োজন

এখন এই ইন্টারনেটকে ব্যবহার করতে কিংবা কাজ করতে একটি ওয়েব ব্রাউজার কিংবা অ্যাপ্লিকেশনের প্রয়োজন। এই ওয়েব ব্রাউজার (Web browser) হচ্ছে এক ধরনের software বা application যেটি আপনার কম্পিউটার কিংবা ব্যবহৃত অন্য ডিভাইসের ইন্টারনেটকে নেটওয়ার্কের জালের সাথে সংযুক্ত করে যাকে Global network বলে।

অর্থাৎ আপনার কম্পিউটার কিংবা অন্য যেকোনো ডিভাইসের (mobile, smartphone, leptop etc) ইন্টারনেটকে Global network এর সাথে যুক্ত করে। এর ফলে global network এর সাথে যুক্ত অন্যসব কম্পিউটার থেকে আপনি আপনার কম্পিউটারের Information, File কিংবা Document দেখতে পারেন কিংবা নিজের কম্পিউটারে নিয়ে আসতে পারেন।

তবে বর্তমানে আধুনিক ইন্টারনেট service দ্বারা video call, online messaging, online chatting, video sharing সহ আরো অনেক সুবিধা গ্রহণ করা যায়।

ইন্টারনেট সম্পর্কে কেন জানবেন

২০২২ সালে আপনি যেদিকেই তাকাবেন সবদিকেই ইন্টারনেটের ব্যবহার লক্ষ্য করবেন। অর্থাৎ বর্তমান যুগে আপনি Internet  ছাড়া অচল বললেও কম বলা হবে।

বর্তমানে ইন্টারনেটে সব ধরনের knowledge এবং ইনফরমেশন available রয়েছে। আপনি খুব সহজেই যেকোনো ধরনের Information ইন্টারনেটে পেয়ে যাবেন।

যেকোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে চাইলেও আপনি ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে পারেন। বর্তমানে ইন্টারনেটে সব ধরনের skill সম্পন্ন ভিডিও বা তথ্য রয়েছে যা আপনার বাস্তব ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করবে।

এছাড়াও বর্তমানে প্রায় সব অফিস বা চাকরি ক Internet  সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে কিংবা ইন্টারনেটে ভালো দক্ষতা আছে এমন মানুষকে চাকরিক্ষেত্রে বেশি সুযোগ দেওয়া হয়।

তাই বর্তমান যুগের সঙ্গে চলতে হলে অবশ্যই আপনাকে ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে।

ইন্টারনেটের ব্যবহার কি কি

বর্তমান যুগকে যদি আমরা ইন্টারনেটের যুগ বলি তাহলেও ভুল হবে না। ২০২২ সালে এসে আপনি যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই ইন্টারনেটের ব্যবহার দেখতে পারবেন।

শিক্ষা, বিনোদন, ব্যবসা-বানিজ্য, চাকরি কোন ক্ষেত্রে নেই ইন্টারনেট? সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই আপনি ইন্টারনেটের ব্যবহার দেখতে পারবেন।

Related:  অপটিক্যাল ফাইবার কি | অপটিক্যাল ফাইবারে সাধারণত কয়টি অংশ থাকে?

চলুন নিম্নে তারই কিছু নমুনা দেখে আসা যাক।

ইন্টারনেটের সুবিধা – সেরা ৮ টি

১. যোগাযোগ করার মাধ্যম

বর্তমানে ইন্টারনেটের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় যোগাযোগ ক্ষেত্রে। Internet  যোগাযোগ ক্ষেত্রে এতোটাই সুফল বয়ে এনেছে যে এখন ঘরে বসেই মূহুর্তের মধ্যে দেশ-বিদেশের যেকোনো প্রান্তে সহজেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।

ইন্টারনেটের সুবাদে এখন ঘরে বসেই দূর প্রান্তের মানুষের সাথে অনলাইন চ্যাটিং, অনলাইন ম্যাসেজিং, ভিডিও শেয়ারিং ইত্যাদি খুব সহজেই করা সম্ভব হচ্ছে।

২. শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেট

Education সেক্টরে ইন্টারনেটের অবদান অতুলনীয়। এখন যেকোনো বিষয় জানার জন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষকের দ্বারপ্রান্তে যেতে হয় না। ঘরে বসেই ইন্টারনেটে সার্চ করে যেকোনো বিষয় খুব সহজেই পেয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া ইন্টারনেটের সুবাদে এখন অনলাইন ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। এছাড়াও প্রচলিত চক-ব্লাকবোর্ডের পরিবর্তে এখন মাল্টিমিডিয়া দিয়ে খুব সহজেই ক্লাস নিতে পারছেন শিক্ষকরা, যা পাঠ্যক্রম আরও সহজ করে তুলেছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য।

৩. ইমেইল (Electronic mail)

Email হচ্ছে অনলাইন যোগাযোগের একটি সহজ মাধ্যম। প্রচলিত অফলাইন মেইল পাঠাতে যেখানে কয়েকদিন কিংবা কয়েক মাসের প্রয়োজন পরে সেখানে অনলাইন মেইলে মূহুর্তের মধ্যেই মেইল পৌঁছে যায় গ্রহীতার কাছে।

এটি এতোটাই সহজ, দ্রুত যে বর্তমানে ৮০% মানুষই এই অনলাইন ইমেইল ব্যবহার করে থাকেন।

৪. অনলাইন কেনাকাটা (online shopping)

ইন্টারনেটের বদৌলতে কেনাকাটায় এসেছে নতুন মাত্রা। বর্তমানে মানুষ বাজারে গিয়ে কেনাকাটার চেয়ে ঘরে বসেই নিজেদের পছন্দের জিনিস কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করে।
ইন্টারনেটের সাহায্যে মানুষ ঘরে বসেই নিজের পছন্দের জিনিসপত্র অর্ডার করে এবং সেই অর্ডার করা জিনিসগুলো ঘরেও পৌঁছে যাচ্ছে।

এটি একদিকে যেমন কেনাকাটাকে সহজ করে তুলেছে, অপরদিকে সময়ও বাঁচায়।

৫. ফাইল ডাউনলোড করা( File download)

ইন্টারনেটের সুবাদে এখন আমরা ঘরে বসেই যেকোনো Server বা website থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় file কিংবা পছন্দের গান, ভিডিও,সফটওয়্যার, ছবি কম্পিউটার কিংবা মোবাইলে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারি।

৬. তথ্য খোঁজার জন্য

মানুষ কৌতূহলী প্রাণী। মানুষ চায় নিত্যনতুন বিষয় জানতে। আর এই জানার কৌতুহল মিটাতে সাহায্য করে আমাদের ইন্টারনেট বন্ধু।

আপনার কোনো বিষয় সম্পর্কে জানার ইচ্ছে হয়েছে? Internet  চালু করে যেকোনো ওয়েবসাইটের সার্চ বাটনে বিষয়টি লিখে সার্চ করলেই মুহূর্তের মধ্যেই পেয়ে যাবেন আপনার উত্তর।

এখন আমরা দেশ বিদেশের নানান খবর ঘরে বসেই মুহূর্তের মধ্যে পেয়ে যাচ্ছি ইন্টারনেটের কল্যাণে।

৭. ঘরে বসেই ইনকামের মাধ্যম

এখন ঘরে বসেই আয় করা যায় লাখ লাখ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। Internet  আমাদের জন্য এতোটাই সুফল বয়ে এনেছে যে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে এটি।

ইউটিউব ভিডিও তৈরি, ব্লগিং (blogging), ফ্রিল্যান্সিং (freelancing) ইত্যাদি থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বর্তমানে আয় করা সম্ভব হচ্ছে ঘরে বসেই।

৮. বিনোদনের জন্য

বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেশি লক্ষ্য করা যায় বিনোদন ক্ষেত্রে। মানুষ মুভি দেখা, গান শুনা কিংবা যেকোনো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখার জন্য এখন ইউটিউবের দিকে বেশি ঝুঁকে পরছে।

Internet ব্যবহার করে মানুষ খুব সহজেই এখন নিজেদের পছন্দের Movie, গান, খেলাধুলা যেকোনো সময়ে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে। 

ইন্টারনেট বর্তমান সময়ে এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে যে এর ব্যবহার, কাজ কিংবা সুবিধার কথা বলে শেষ করা যাবেনা।

ইন্টারনেটের অসুবিধা ও কুফল

  1. আসক্তি, সময় নষ্ট করে, এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে
  2. ট্রল, স্টকার এবং অপরাধ
  3. স্প্যাম এবং বিজ্ঞাপন
  4. পর্নোগ্রাফিক এবং হিংসাত্মক ছবি
  5. কখনই কাজ থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম না হওয়া
  6. পরিচয় চুরি, হ্যাকিং, ভাইরাস এবং প্রতারণা
  7. ফোকাস এবং ধৈর্য প্রভাবিত করে
  8. স্বাস্থ্য সমস্যা এবং স্থূলতা
  9. হতাশা, একাকীত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা
  10. আপনার প্রয়োজন নেই এমন জিনিস কেনা
  11. শিশুদের জন্য নিরাপদ স্থান নয়
  12. ভাইরাস/ম্যালওয়ার

ইন্টারনেট নিয়ে শেষ কথা

তবে সবকিছুরই ভালো এবং খারাপ দুটি দিক থাকে, ইন্টারনেটও ব্যতিক্রম নয়। বর্তমান যুগ হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির যুগ। Internet ছাড়া এখানে একটি দিনও কল্পনা করা দুরূহ হয়ে উঠবে। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত এর খারাপ দিকগুলোকে না বলে সঠিকভাবে এটিকে কাজে লাগানো।

আমরা এই আর্টিকেলে ইন্টারনেট কি, ইন্টারনেট কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি, ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে? এছাড়াও ইন্টারনেট সম্পর্কে আরো বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ইন্টারনেট সম্পর্কে আপনার আরও কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।