ফেসবুক মার্কেটিং কি? বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি ক্রিয়াকলাপ হলো ফেসবুক মার্কেটিং। আপনি যদি ইন্টারনেট মার্কেটিং এর কথা চিন্তা করে থাকেন, তবে নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন যে, প্রথমেই ফেসবুকে মার্কেটিং করার কথা চিন্তা করতে হবে।

সরাবিশ্বের ২.২৭ বিলিয়ন একটিভ ইউজার, প্রতিদিন ১.৫ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর এক্টিভিটিস, মার্কেটিং এর দুনিয়ায় ফেসবুককে এক অপ্রতিদ্বন্দী আসনে বসিয়ে দিয়েছে।

প্রতিদিনই সারাবিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। ছোট থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষই এখন ফেসবুকে সক্রিয় থাকেন। বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহার করেন না এমন সংখ্যা লাখে একজনও হবে কী না সন্দেহ আছে।

একটা সময় ছিলো যখন মানুষ এই ফেসবুককে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ আর বিনোদনের জন্য ব্যবহার করতো। আজ ফেসবুক দিয়ে যত উপায়ে ইন্টারনেট থেকে ইনকাম করা যাচ্ছে ১০ বছর আগে মানুষ হয়তো চিন্তাও করতে পারতোনা।

বর্তমানে এই ফেসবুকই হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি লাভজনক প্লাটফর্ম। বিভিন্ন ছোট-বড় কিংবা মাঝারি ব্যবসায়ী এই ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্যবসার প্রসার করছেন, ফেসবুক থেকে আয় করছেন।

আমরা এই ফেসবুক মার্কেটিং টিউটোরিয়াল এ ফেসবুক মার্কেটিং কি? কিভাবে ফেসবুকে মার্কেটিং করব? সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

মার্কেটিং কি?

Marketing হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া বা ক্রিয়াকলাপ যার মাধ্যমে আপনি আপনার যেকোনো পণ্য, সার্ভিস কিংবা নিজের ব্যবসাকে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে মানুষের কাছে ঐ পণ্য, সেবা কিংবা নিজের ব্যবসাকে পৌঁছে দিবেন।

অর্থাৎ মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি প্রসেস যার মাধ্যমে মানুষের কাছে নিজের পণ্য বা সার্ভিসের গুণাগুণ তুলে ধরে ঐ পণ্য কিংবা সার্ভিসের বিক্রি বাড়িয়ে নেওয়া হয়।

বর্তমানে দুই ধরনের মার্কেটিং আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে,

  • ট্রাডিশনাল মার্কেটিং এবং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং। 

তবে বর্তমানে সফল ব্যবসায়ীরা ট্রাডিশনাল মার্কেটিংয়ের চেয়ে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। 

চলুন সংক্ষিপ্ত করে ডিজিটাল মার্কেটিং কি? সেবিষয়ে জেনে নেওয়া যাক। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

মার্কেটিং কৌশলমার্কেটিং সম্পর্কে তো ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন। এখন এই মার্কেটিংয়ের কাজটা তো অনেকভাবেই করা যায়। 

যখন মার্কেটিংয়ের কাজটি ইন্টারনেট কিংবা অনলাইনকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্লাটফর্ম (যেমন; ফেসবুক,  ইন্সটাগ্রাম,  টুইটার, ওয়েবসাইট,  ইউটিউব  ইত্যাদির) এর মাধ্যমে করা হয়, তখন তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।

অর্থাৎ আপনি যখন কোনো বিজনেস, পণ্য কিংবা সার্ভিসকে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে প্রমোট কিংবা প্রচার করবেন তখন সেটা হবে ডিজিটাল মার্কেটিং।

কিছু ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপায় হলো:

  • এসইও মার্কেটিং
  • কনটেন্ট মার্কেটিং
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • পিপিসি (pay per click)
  • মোবাইল মার্কেটিং, ইত্যাদি।

ফেসবুক মার্কেটিং কি?

আমরা ইতোমধ্যেই মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কাকে বলে? এ বিষয়টি আলোচনা করে ফেলেছি।

উপরে উল্লেখ করা বিভিন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং উপায়গুলোর মাঝে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ছিলো। যার মাঝে ফেসবুক মার্কেটিংও অন্তর্ভুক্ত। 

ফেসবুক মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো বিজনেস, পণ্য কিংবা সার্ভিসকে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রমোট করা হয়।

অর্থাৎ আমরা যখন ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ের কাজটা ফেসবুকের মাধ্যমে করে থাকি তখন থাকে ফেসবুক মার্কেটিং বলা হবে।  

ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের বিজনেসকে প্রচার করে থাকেন। তবে ফেসবুক যেহেতু বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারীদের প্লাটফর্ম, তাই অনেক সফল ব্যবসায়ীদেরই এটি প্রথম পছন্দ। 

ফেসবুক মার্কেটিং কেন করবেন?

মার্কেটিং এর মূল লক্ষ্যই হলো কোনো পণ্য কিংবা সার্ভিসকে অধিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর যেহেতু বর্তমানে ফেসবুক সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ব্যবহারকারীদের প্লাটফর্ম, তাই এই সুবর্ণ সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন আজকের সফল ব্যবসায়ীরা।

ছোট্র একটি তথ্য দিলে আরো বেশি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

  • ৫বিলিয়ন+ ফেসবুক একাউন্ট
  • ২০০ মিলিয়ন+ ফেসবুক বিজনেস
  • প্রতিদিন ১০০ বিলিয়ন+ মেসেজ আদান প্রদান
  • ডেইলি ১ বিলিয়ন+ স্টোরি ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। (তথ্যসূত্র – ফেসবুক কোম্পানী ইনফো)

ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে করব

এখন আপনিই বলুন, এত বিশাল সংখ্যক অডিয়েন্স আর কোথায় রয়েছে।

যদিও ফেসবুকের বিরূদ্ধে বেশ কিছু ডাটা স্ক্যান্ডাল রয়েছে কিন্তু, পরিসংখ্যান বলছে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করছেন না

আপনিও নিশ্চয়ই এখন ফেসবুক মার্কেটিং করে নিজের পণ্য কিংবা সার্ভিসকে মানুষের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই।

ফেসবুক মার্কেটিং কত প্রকার ও কী কী?

Facebook marketing  মূলত দুই প্রকার।  দুটি উপায়ে এই ফেসবুক মার্কেটিং করা যায়। চলুন জেনে নেই তাদের সম্পর্কে  ;

১. ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং

আপনি যখন মার্কেটিংয়ের কাজটা কোনো রকম খরচ ছাড়াই করতে পারবেন, তখন থাকে ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং বলা হবে।

নিজের কোম্পানি বা ব্রান্ডের নামে পেইজ খুলে ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং করতে হয়। আপনার ফেসবুক পেইজটিতে ফ্যান, ফলোয়ারস যতো বাড়বে আপনি এই মার্কেটিংয়ের কাজটি ততো ভালোভাবে করতে পারবেন। 

তবে এই কাজটি আপনি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে জয়েন হয়ে পোস্ট দেওয়ার মাধ্যমেও করতে পারবেন। এছাড়াও নিজের ফেসবুক প্রোফাইল কিংবা মেসেঞ্জারের মাধ্যমেও এই ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং করা যায়। 

তবে সাধারণত ছোট ব্যবসায়ীরাই শুধুমাত্র ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং করে থাকেন।

২. পেইড ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুক পেইড মার্কেটিংআপনি যখন নিজের কোনো পণ্য, সার্ভিস কিংবা বিজনেসের প্রচার করানোর জন্য ফেসবুককে ডলার দিয়ে মার্কেটিংয়ের কাজটি করাবেন তখন থাকে পেইড ফেসবুক মার্কেটিং বলা হবে।

এক্ষেত্রে আপনার বিজনেস রিলেটেড একটি ফেসবুক পেইজ থাকতে হবে (না থাকলেও সমস্যা নেই)। এরপর আপনি ফেসবুককে টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিজের পণ্য কিংবা বিজনেসকে প্রমোট করতে পারবেন। 

এই পেইড ফেসবুক মার্কেটিংয়ে আপনি ঠিক করে দিতে পারবেন, কোন বয়সের লোকেদের কাছে আপনার বিজনেসের বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত হবে? কিংবা কোন কোন এলাকার মানুষের কাছে।

তবে কত সংখ্যক লোকের কাছে আপনার বিজনেস এর বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত হবে সেটা নির্ভর করবে আপনি কত টাকা ফেসবুককে পে করছেন? যত বেশি পে করবেন তত বেশি সংখ্যক লোকের কাছে বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শিত হবে।

ফেসবুক মার্কেটিংয়ের মধ্যে এই পেইড ফেসবুক মার্কেটিংই বেশি কার্যকর। এতে অল্প সময়েই খুব বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে নিজের বিজনেসের প্রচার করা সম্ভব হয়।

ফেসবুক মার্কেটিংয়ের সুবিধা

বর্তমানে অধিকাংশ সফল ব্যবসায়ীরই মার্কেটিং করার জন্য প্রথম পছন্দ এই ফেসবুক। ছোট থেকে বড়, সব ধরনের ব্যবসায়ীরাই এই Facebook marketing করতে বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

তবে এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে? চলুন জেনে নেই সেই কারণগুলো;

  • বর্তমানে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ ফেসবুকে সক্রিয়। তাই এখানে কাস্টমারের অভাবই হয় না।
  • খুব সহজেই প্রচারণার কাজটি করা যায়। তেমন কোনো ঝামেলা ছাড়াই।
  • অল্প সময়ের মধ্যেই সির্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে প্রচারণা করা যায়।
  • খুব সহজেই যেকোনো বয়সের, লিঙ্গভিত্তিক এবং এলাকার কাস্টমারদের টার্গেট করা যায়।
  • মার্কেটিংয়ের কাজটি করতে খুব একটা খরচ করতে হয় না। সম্পূর্ণ ফ্রিতেও এই ফেসবুক মার্কেটিংয়ের কাজটি করা যায়। তাই নতুন উদ্যোক্তা কিংবা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কেটিংয়ের এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। 

এছাড়াও ফেসবুক মার্কেটিংয়ের আরো অনেক সুবিধা রয়েছে। আপনি যখন নিজেই ফেসবুক মার্কেটিং করতে যাবেন, তখন সবগুলো সচক্ষেই দেখতে পারবেন।

ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে করব?

ফেসবুক মার্কেটিং করা খুবই সহজ একটি কাজ। যেকেউ নিজ ইচ্ছা আর একটু দক্ষতা দিয়ে খুব সহজেই এই ফেসবুক মার্কেটিং করতে পারবে।

আমরা এখানে একজন নতুন ন্যবসায়ী কিংবা মার্কেটার হিসেবে কিভাবে ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করবেন সেই উপায়গুলো স্টেপ বাই স্টেপ তুলে ধরবো। 

১. ব্যবসার জন্য উপযুক্ত ব্যান্ড বা প্রোডাক্ট নির্বাচন

ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করতে হলে আপনার নিশ্চয়ই একটি বিজনেস, ব্যান্ড কিংবা প্রোডাক্ট থাকতে হবে, তাই তো?

এই ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে এমন কিছু দিয়ে এই ফেসবুক মার্কেটিং শুরু করতে হবে যা ফেসবুকে সাড়া ফেলবে। ফেসবুকে মানুষ কিনতে পছন্দ করে এমন সব প্রডাক্ট দিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন মার্কেটিংয়ের কাজটি।

২. ফেসবুক পেজ তৈরি করুন

আপনি আপনার প্রডাক্ট, ব্যান্ড কিংবা বিজনেস রিলেটেড নাম দিয়ে একটি ফেসবুক পেইজ ক্রিয়েট করুন। ফেসবুক পেইজ তৈরি করা খুবই সহজ। যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন তারা সবাই নিশ্চয়ই ফেসবুক পেইজ খোলার নিয়মের সাথে কম-বেশি পরিচিত। তাই এবিষয়ে আর কথা বাড়াচ্ছি না।

৩. প্রোফাইল পিকচার ও কভার ছবি যুক্ত করুন

ফেসবুক পেজ খোলার পর আপনার কাজ হলো নিজের কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে প্রোফাইল পিকচার ও কভার ছবি যুক্ত করা।

আপনার বিজনেসের সাথে রিলেটেড এমন আকর্ষণীয় ছবি প্রোফাইল ও কভার ছবিতে দিতে চেষ্টা করুন। যেনো মানুষ ছবিগুলো দেখেই আপনার কোম্পানির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরে।

৪. Description box / About us সেকশন

ফেসবুক মার্কেটিংয়ের এই ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বিজনেসটি কী রিলেটেড? কিংবা কোন ধরনের পণ্য পাওয়া যাবে আপনার পেইজটিতে?

সংক্ষিপ্ত করে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলুন বিষয়গুলো।

একজন কাস্টমার কিংবা ভোক্তা যেনো আপনার পেইজটির এবাউট পড়েই কোম্পানি সম্পর্কে ভালো ধারণা নিয়ে নিতে পারে সেটি খেয়াল রাখবেন।

৫. বাটন ও কাস্টমাইজ ট্যাব

আপনার কাস্টমার কিংবা গ্রাহকরা যেন আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে, সে জন্য প্রত্যেক ফেসবুক পেজে কিছু কাস্টমাইজ ট্যাব থাকে।

একটি ফেসবুক পেজে সাধারণত Contact us, send message,  shop now, sign up, watch video ইত্যাদি অপশন থাকে।

আপনি আপনার চাহিদামত যেকোনো বাটন আপনার পেজটি যুক্ত করে নিতে পারেন। এর ফলে আপনার পেইজের কাস্টমার কিংবা ভিজিটররা যেকোনো প্রয়োজনে খুব দ্রুত এবং সহজেই আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।

৬. পেইজ URL / Username গঠন

আপনার পেইজটিতে এমন URL তৈরি করতে চেষ্টা করবেন, সেটা যেনো আপনার ওয়েবসাইট কিংবা কোম্পানির নামের সাথে মিল থাকে। URL অবশ্যই যতোটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্য করার চেষ্টা করা উচিৎ। 

আমাদের ক্ষেত্রে ফেসবুক পেজ লিঙ্ক fb.com/pratiborton, এবং ইউজারনেম @pratiborton

যেকেউ @pratiborton লিখে সার্চ করলে আমাদের ফেসবুক পেজটি খুব সহজেই খুঁজে পেতে পারেন।

৭. Like and followers

মার্কেটিংয়ের মূল লক্ষ্যই হলো গ্রাহক। এখন আপনার কাজ হলো আপনার ফেসবুক পেইজটিতে কাস্টমার, ভিজিটর কিংবা গ্রাহক নিয়ে আসা।

আপনি আপনার ফ্রেন্ডদের আপনার পেজটিতে ইনভাইট করতে পারেন। এছাড়াও পেইজে আকর্ষণীয় সব অফার কিংবা বিভিন্ন কনটেস্টের মাধ্যমেও ভিজিটর নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে।

এছাড়া পেইড ফেসবুক মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে খুব সহজেই দ্রুত আপনি আপনার ফেসবুক পেইজটিতে টার্গেট কাস্টমার নিয়ে আসতে পারবেন। 

৮.  Add a Page CTA

যদিও Facebook Marketing ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু ট্রাডিশনাল মার্কেটিং থেকে শতভাগ সরে আসেনি। ভিজিটর এবং গ্রাহককে ধরে রাখতে কল টু একশান বাটন যুক্ত করার সুযোগ করে দিয়েছে।

ফেসবুক পেজের টপ থেকে + Add a Button অপশান থেকে আপনার কাস্টমাইজ কোনো লিঙ্ক যুক্ত করে ভিজিটরকে আরো বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন।

হতে পারে আপনার ওয়েবসাইট লিঙ্ক, কিংবা কোনো ভিডিও বা গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট লিঙ্ক অথবা ফোনে কথা বলার সুযোগ করে দিতে মোবাইল নাম্বারও যোগ করা যেতে পারে।

৯. ফেসবুক পেজের টাইমলাইনে কি পোস্ট করবেন?

  • আপনার প্রোডাক্ট বা কোম্পানির সাথে রিলেটেড মানসম্মত, তথ্যবহুল আর্টিকেল
  • আপনার ব্লগের কনটেন্ট লিঙ্ক করুন
  • কুপন কোড
  • নতুন প্রোডাক্ট এনাউন্সমেন্ট
  • আপনার ফলোয়ারদের কাজে লাগবে এমন অনলাইন টুলস
  • কাস্টমাইজড ভিডিও

১০. পেজ ভেরিফাই করুন

এটা যদিও বাধ্যতামূলক নয়, কিংবা সবাই পাবেন সেরকমও নয়। তবে ফেসবুক পেজ ভেরিফাইড হলে গ্রাহক অনেক বেশি বিশ্বস্ততা খুঁজে পায়।

সাধারণত যেসব ক্যাটেগরির ফেসবুক পেজ ভেরিফিকেশনের আবেদনযোগ্য:

  • News/Media
  • Sports
  • Government & Politics
  • Music
  • Fashion
  • Entertainment
  • Digital Creator/Blogger/Influencer
  • Gamer
  • Global Business/Brand/Organization

উপরের কোনো ক্যাটেগরির পেজ হয়ে থাকলে পেজ সেটিংস থেকে জেনারেল অপশান সিলেক্ট করে ভেরিফিকেশন রেকুয়েস্ট পাঠাতে পারবেন। কিংবা ব্লু ভেরিফিকেশন রেকুয়েস্ট ফরম পূরণ করেও আবেদন করা যাবে।

ফরম পূরণ করার আগে পেজের সমস্ত তথ্য যেমন, প্রোফাইল পিকচার, কভার ফটো, মোবাইল নাম্বার, দেশ প্রভৃতি পূরণ করে নিতে ভুলবেন না।

প্রশ্ন থাকতে পারে, পেজে কত লাইক থাকলে ফেসবুক পেজ ভেরিফাইড করার জন্য আবেদন করতে পারবো?

না, হাজার হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে, এমন কোনো নির্দেশনা কিংবা বাধ্যবাধকতা নেই।

ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে শেষ কথা

ফেসবুক হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া। বিশ্বের সব প্রান্তের, সব বয়সের মানুষই এটি প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছে। আর এই ব্যবহারকারীদের সংখ্যা দিন দিন হয়তো আরও বৃদ্ধি পাবে।

ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই এখন ব্যবসায়ীরা নিজের পণ্য, সার্ভিস কিংবা বিজনেসকে প্রচার করছেন। এটি খুবই ফেসবুক ব্যবসা লাভজনক এবং সহজ  উপায় বলেই ফেসবুক মার্কেটিং ব্যবসায়ীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। 

আশা করি আর্টিকেলটি ফেসবুক মার্কেটিং কি? কিভাবে করা হয়, সেসম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়েছেন। এছাড়াও আপনার যদি ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে কিছু জানার থাকে, তবে নিঃসংকোচে কমেন্ট করে ফেলুন।


Adrita Rakhi

জানার আগ্রহ আর লেখালেখির প্রতি ভালোবাসা থেকেই টুকটাক লেখালেখি করি।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × three =

error: Content is protected !!