ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? সেরা ৮ উপায় জেনে নিন

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

আপনি কি ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় জানতে চান? এখনও অনেকের মনেই ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়, ফেসবুক থেকে আয় করার উপায় সমূহ কি কি সেসব সম্পর্কে জানার আগ্রহ রয়েছে।

বর্তমানে ফেসবুক থেকে আয় করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফেসবুকে টাকা আয় করার উপায় ও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ফেসবুকে টাকা আয় করার উপায় আসার পর থেকে এটা আর শুধু সামাজিক মাধ্যম নেই। এটা রীতিমত অনলাইন ইনকামের প্লাটফর্মে রূপান্তরিত হয়েছে যেন। ফেসবুকে এফিলিয়েট মার্কেটিং, ফেসবুক গ্রুপ, ফেসবুক বিজনেস, ফেসবুক পেজ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অনেকেই টাকা ইনকাম করে নিচ্ছেন।

ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার উপায় তৈরি হওয়ার প্রথমদিকে ফেসবুক থেকে ইনকাম করার কথা শুনলে তো অনেকেই খুব আশ্চর্য হয়ে যেতেন, কিভাবে সম্ভব! আসলেই এখানে ইনকাম করা যায়! নাহ এটা ফাঁদ, প্রলোভিত করা হচ্ছে, ইত্যাদি প্রশ্ন আমি আপনিও হয়তো করেছি।

তবে, সময়ের সাথে সাথে মানুষ যে Facebook এ সারাদিনের অধিকাংশ সময় নষ্ট করতো, বন্ধুদের ছবিতে লাইক, কমেন্টে আর মেসেজিং করে কাটাতো, সেখান থেকেই এখন লাখ লাখ টাকা আয় করে নিচ্ছেন।

আপনি এখনো যদি ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে থাকেন, তথা ফেসবুকে আয় করার উপায় খুঁজে না পেয়ে থাকেন, তবে নিশ্চয়ই ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় সেসম্পর্কে জানতে চান!

চিন্তার কোন কারণ নেই, আজকের আলোচনা থেকে আমরা ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় তার সেরা ৮টি উপায় সম্পর্কে জানবো।

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় | How to earn from Facebook?

ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার জনপ্রিয় ৮ উপায় হলো:

  1. ইনফ্লুয়েন্সিং
  2. এফিলিয়েট মার্কেটিং
  3. ফেসবুক বিজনেস
  4. ভিডিও আপলোড
  5. ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল
  6. পেইড পোস্ট
  7. বুস্টিং
  8. পেজ/গ্রুপ বিক্রি

১) ইনফ্লুয়েন্স করে ফেসবুক থেকে টাকা আয়

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ইদানিং সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার (Social Media Influencer) এর বেশ আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। ইনফ্লুয়েনসাররা একজন ব্রান্ড অ্যম্বাসেডরের মতো কাজ করে থাকেন। সাধারণত চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করে থাকে, মানুষকে বিভিন্ন কাজে মোটিভেট করে থাকেন, পেজের একটি ইমেজ তৈরি করেন।

একটি পেজ খুলে তাতে চলমান বিভিন্ন টপিক নিয়ে আলোচনা, এর বিভিন্ন দিকসমমূহ তুলে ধরা হয়। পেইজ খুলে তা অপটিমাইজ করা, দর্শকদের মতামত বা চাহিদা অনুযায়ী কন্টেন্ট তৈরি করা,জনমত সৃষ্টি করা – এসবই করে থাকেন একজন ইনফ্লুয়েন্সার।

তবে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ভুল তথ্য বা ভুল চিন্তাভাবনা যেন কোনোভাবে ছড়িয়ে না পড়ে। কোনো বিষয় সম্পর্কে বলার আগে সেই বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করে নিতে হবে যেন ভুল তথ্য ছড়িয়ে না পড়ে।

একটি নির্দিষ্ট পরিমান ভিউ এবং ফলোয়ার্স পাওয়ার পর বিভিন্ন স্পন্সরের মাধ্যমে ফেসবুক পেজ থেকে আয় করা সম্ভব। আপনার লেখায় কিংবা পেজে কোনো কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রোডাক্ট বা সেবা সম্পর্কে জানাতে অনুরোধ করবে এবং এর জন্য আপনি পেমেন্ট পাবেন। যতো বড় পেজ হবে ততো বেশি পেমেন্ট পাবেন।

এছাড়া Hireinfluence, BlogMint, Fromote এর মতো ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেট সাইটগুলোতে গিয়ে একাউন্ট করে আপনার ইনফ্লুয়েন্স রেট ঠিক করে পোস্ট দিতে পারেন। পরবর্তীতে এখান থেকে পাওয়া কোনো কোম্পানী/প্রোডাক্ট প্রমোট করে ফেসবুক পেজ থেকে আয় করতে পারবেন।

একজন Influencer হতে হলে পেজের কোয়ালিটি এবং টপিক ঠিক রাখতে হবে। লেখা ও ব্যবহৃত ছবির কোয়ালিটির সাথে কম্প্রোমাইজ করা চলবে না, টপিকের বাইরে লেখা যাবেনা।

Related:  এফিলিয়েট মার্কেটিং বাংলাদেশ - সেরা ১০টি এফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট

২) ফেসবুকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা আয়

ফেসবুকে এলিফিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর জন্য প্রথমে একটি ফেসবুক পেজ বা ফেসবুক গ্রুপ খুলতে হয়। তবে নিজের পেজ ও গ্রুপের বাইরে বিভিন্ন বাই সেল গ্রুপে অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দিতে হয়, affiliate products প্রোমোশন করতে হয়। প্রতিটি প্রোডাক্ট বিক্রির উপর কমিশন হিসেবে ইনকাম হয়ে থাকে।

এখানে ফলোয়ার, লাইক, ভিউ এর উপর ভিত্তি করে ইনকাম বাড়বেনা, বরং প্রোডাক্ট সেল বৃদ্ধির সাথে সাথে ইনকাম বাড়বে। বেশি বিক্রির জন্য ফেসবুকের চেয়ে বড় মিডিয়া আর কি হতে পারে। বাংলাদেশের অনেকেই ফেসবুকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে গড়ে ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকেন।

বেশি ইনকাম করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রসেসটা ভালো করে শিখে নিন। কারণ এটি বর্তমানে এত বড় মার্কেটিং সেক্টর যে হাজার হাজার কোম্পানী দাড়িয়ে রয়েছে শুধুমাত্র অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর। শত শত কর্মীর বেতন দেওয়ার পরেও প্রতি মাসে লাখ লাখ ডলার আয় করছে।

৩) ফেসবুক বিজনেস করে আয় করুন

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় সেই প্রশ্নের উত্তরে এফ কমার্স বা ফেসবুক বিজনেস সম্পর্কে না জানলে লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ওয়েবসাইট তৈরি করার মতো ফেসবুকে বিজনেস করার জন্য কোন খরচ করতে হয় না। উপরুন্ত, ওয়েবসাইট দেখাশোনা করার জন্য যেমন একজন ডেভেলপার প্র্রয়োজন সেটারও দরকার হচ্ছে না। তাই Facebook এ ব্যবসা করার জন্য সেরকম কোনো ইনভেস্টমেন্ট দরকার হয়না।

ফেসবুক ব্যবসার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। এতে করে সময় অপচয় রোধ হচ্ছে। দোকান বা জায়গার ভাড়া বেচে যাচ্ছে। একসাথে সব কালেকশন ওয়েবসাইটের মতো ক্যাটালগ করা যায়, তাই বাড়তি ঝামেলাও নেই।

লাইভে এসে প্রোডাক্টস দেখনো যায়। প্রোডাক্ট রিভিউ, প্রোডাক্ট দেখানো, প্রাইসিং, অনলাইন অর্ডার, হোম ডেলিভারি এসব হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। এতে করে ক্রেতা – বিক্রেতা সবাই উপকৃত হচ্ছে।

Facebook থেকে আয়ফেসবুক বিজনেস থেকে আয় করে অনেক বেকার বিশেষ করে যাদের পরিচয় ছিলো গৃহীনি, তারাও আজ নিজের পরিচয় গড়তে পারছেন। লকডাউনের মাঝে ৮হাজার টাকায় শাড়ি ব্যবসা শুরু করে এক আপু ৩ মাসের মাঝে ৩ লাখ টাকার শাড়ি বিক্রি করেছেন।

এরকম হাজারও গৃহীনি ফেসবুক থেকে আয় করে আজ ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। তাই আপনিও কিছু চিন্তা করুন, আর লেগে পড়ুন নিজের ব্যবসা, পরিচয় তৈরির কাজে।

৪) ফেসবুকে Video Upload করে টাকা আয়

ফেসবুকে আপলোড করা ভিডিওতে ইউটিউবের মতো Facebook Instream Ads ( ফেসবুক বিজ্ঞাপন ) দেখিয়ে ফেসবুক পেজ থেকে আয় করতে পারেন। তবে একটি facebook page থাকলেই হবেনা, পেজের ভিডিওতে ফেসবুক বিজ্ঞাপন বসানোর জন্য পেজটি eligible হতে হবে।

ফেসবুক ইনস্ট্রিম বিজ্ঞাপনের জন্য যেসব যোগ্যতা প্রয়োজন:

  • কমপক্ষে ১০,০০০ ( দশ হাজার) ফলোয়ার্স
  • আপনার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
  • যদি ভিডিও থেকে থাকে তাহলে তা কমপক্ষে ৩ মিনিট দৈর্ঘ্যের হতে হবে।
  • ভিডিও লাস্ট ৬০ দিনে কমপক্ষে ৩০,০০০ ভিউ হতে হবে।
  • কনটেন্ট ফেসবুকের Terms and conditions মোতাবেক হতে হবে।

আপনার ফেসবুক পেজটি Facebook Instream Ads এর জন্য Eligible কিনা চেক করে দেখতে পারেন।

৫) Instant Article এর মাধ্যমে ফেসবুকে টাকা আয়

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এসম্পর্কে যারা সামান্য জানেন, তারাও হয়তো এই বিষয়ে জানতেন না। ওয়েবপেজে কন্টেন্ট মনিটাইজেশনের (Web page content monetization) মাধ্যমে ফেসবুকে ইনকাম করা সম্ভব। তবে এর জন্য আপনার একটি ব্লগ থাকতে হবে।

ফেসবুকের ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলে পেজ যুক্ত করলে পেজে শেয়ার করা কোনো লিঙ্ক ভিজিটরস ভিজিট করলে ব্লগে না গিয়ে facebook নিজের মতো একটি ডিজাইনে পৌছিয়ে দেয়।

Related:  টেলিগ্রাম থেকে ইনকাম করার কার্যকরী ৫টি উপায়

অর্থাৎ পুরো ওয়েবসাইটকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু আর্টিকেলটিকে গুরুত্ব দেয়, এজন্য আর্টিকেলটি দ্রুত লোড নেয়। আপনার ওয়েবসাইটে যদি অন্য কোম্পানীর বিজ্ঞাপন থেকে থাকে, সেটাও Avoid করে ফেসবুক তার নিজস্ব বিজ্ঞাপন দেখাবে, এবং এজন্য আপনাকে Pay করবে।

ফেসবুক-ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল থেকে আয়

তবে এর একটি খারাপ দিক হলো facebook instant Article এ যুক্ত করলে ফেসবুক থেকে ব্লগে Visiors আসবেনা, আর্টিকেল পড়লেও তাই গুগল এনালাইটিক্স এসব পাঠককে কাউন্ট করবেনা।

ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের জন্য যা যা প্রয়োজন;

  • একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট
  • ব্লগে নূন্যতম ২০টি পোস্ট
  • একটি ফেসবুক পেজ

ফেসবুকে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের জন্য আপনার পেজ এলিজেবল কিনা দেখে নিন

ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল শুধুমাত্র ফেসবুক অ্যাপের জন্য প্রযোজ্য। কোনো ভিজিটরস ব্রাউজার থেকে লিঙ্কে ক্লিক করলে সরাসরি ওয়েবসােইটে যাবে, ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এখানে Applicable হবেনা।

৬) পেইড পোস্ট দিয়ে ফেসবুক থেকে টাকা আয়

ফেসবুকে বড় বড় পেজ ছোট পেজ বা গ্রুপ সম্পর্কে প্রচার করার জন্য, পেজে লাইক, ভিউ বাড়ানোর জন্য পেইড পোস্ট দিয়ে থাকে। বিভিন্ন বড় গ্রপে বা পেজে ছোটো ছোটো গ্রুপ/পেজ মালিকেরা এমন পেইড পোস্টের জন্য অনুরোধ করে থাকেন।

এই প্রক্রিয়ায় ছোট পেজ বা গ্রুপের একটি পোস্ট বড় পেজের মাধ্যমে প্রচার করা হয় এবং সেখানে বলা থাকে সৌজন্যে **** পেজ/গ্রুপ। লেখাটি যাদের ভালো লাগে তারা সেই গ্রুপ বা পেজে যোগ দেন। অথবা অনেক লোকের কাছে পৌছানের জন্য কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কিত রিভিউ পোস্ট দেওয়া হয়।

প্রতিটি পোস্টের জন্য নির্দিষ্ট পরিমান ইনকাম আসে। এইভাবে একটি গ্রুপ খুলে তাতে মেম্বার্স বাড়িয়ে পেইড পোস্টের মাধ্যমেও ফেসবুক থেকে ইনকাম করা যায়।

বিভিন্ন পড়াশোনার পেজ/গ্রুপে এডমিশন রিলেটেড বই, ইংরেজি শেখার বই নিয়ে রিভিউ পোস্ট করা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন বই এর সৌজন্যে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। এজন্য ফেসবুক পেজ/গ্রুপ অ্যাডমিনরা বই পাবলিশারদের কাছ থেকে টাকা পেয়ে থাকেন।

বাংলাদেশে এখন এমন কিছু ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে বিশেষ করে রিভিউ গ্রুপস যারা এখন পেমেন্ট ছাড়া কোনো পোস্টই এপ্রুভ করেনা।

৭) বুস্টিং করে ফেসবুকে আয়

পেজ বা গ্রুপ খুলে ফেসবুকে ইনকাম করতে হলে ৬০ দিনের মধ্যে পেজে ১০ হাজার ফলোয়ার, ৩০ হাজার ভিউ লাগে। এরপর পেজ মনিটাইজেশনের জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যায়। ৬০ দিনে এত ফলোয়ার্স, লাইক, ভিউ এর জন্য পেজ বা গ্রুপ বুস্টিং অনেক কার্যকরী।

বিভিন্ন পেজ বা গ্রুপে লাইক এবং শেয়ার বিক্রি করা যায়। এসব পেজ বা গ্রুপে চুক্তিভিত্তিক লাইক, শেয়ার দিয়ে ইনকাম করা যায়। এতে করে পেজের রিচ বাড়ে সাথে সাথে যারা লাইক, শেয়ার দিচ্ছেন তাদের ও ইনকাম হয়।

আপনার যদি বড় একটি পেজ থাকে যেখানে লাখ খানেক ফলোয়ার্স রয়েছে, কিংবা একটি বড় গ্রুপ। তাহলে ফলোয়ার্স/মেম্বার্স কাজে লাগিয়ে অন্য গ্রুপ/ফেসবুক পেজ প্রমোট ( Page Promote) করে আয় করতে পারেন। প্রতি ১০০০ লাইকের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০টাকা পেতে পারেন।

৮) পেজ / গ্রুপ বিক্রি করে ফেসবুকে টাকা আয়

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এই প্রশ্নের উত্তরে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সহজ ও সুন্দর পদ্ধতি হলো পেজ ও গ্রুপ বিক্রি করে আয় করার পদ্ধতি। আপনার যদি একটি বড় পেজ তৈরি হয়ে যায়, তবে মাঝারি সাইজের আরও একটি গ্রুপ/পেজ তৈরি করা কোনো কঠিন কাজ নয়।

মাঝারি সাইজের এসব পেজ/গ্রুপ বিক্রি করে আয় আয় করতে পারবেন। একটা বিজ্ঞাপন দিলে আপনার পেজের কোনো ফলোয়ার কিংবা গ্রুপ মেম্বারই কিনে নিবে হয়তো।

Related:  সেরা ৭ ছবি বিক্রির ওয়েবসাইট | অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয়

ফেসবুক পেজ/প্রুপের টপিক ডিমান্ডিং রাখবেন। যেন ক্রেতা সেই গ্রুপ বা  ফেসবুক পেজ থেকে আয় করতে পারেন। যতো বড় পেজ বা গ্রুপ হবে, যতো বেশি ডিমান্ডিং টপিক হবে মূল্যও ততো বেশি পাবেন।

ফেসবুকে টাকা আয় করা কি আসলেই সম্ভব?

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এই প্রশ্নের উত্তর জানার পরেও যদি আপনার মনে এই ধরনের প্রশ্ন থেকে থাকে, তবে চলুন আর একটু আলোচনা করা যাক!

উন্নত বিশ্বের প্রায় সব কিছুই এখন অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ অনলাইনের দিকে ঝুকে পড়ছে। আজকাল অনলাইনে ইনকামও করা যাচ্ছে। আগে তেমন একটা জনপ্রিয় না হলেও এই করোনাকালীন সময়টায় অনলাইন ভিত্তিক কার্যক্রম খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

অনলাইনে ইনকাম হয়ে উঠেছে সহজতর ও সহজলভ্য। অনলাইন ইনকামের মাধ্যমে সময়ের অপচয় অনেকটা কমে এসেছে। অনলাইন ইনকামটা স্টুডেন্ট, গৃহিনীদের (যাদের পক্ষে বাইরে গিয়ে সময় নিয়ে চাকরি করা সম্ভব না) জন্য বেশ সুবিধাজনক ও ফলপ্রসু।

শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইনে ইনকাম করে নিজের হাতখরচ নিজেই বহন করতে পারে। অনলাইনে ইনকাম করার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে এবং প্রতিদিন আরো যোগ হচ্ছে।

এদের মধ্যে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টেলিগ্রাম, ইউটিউব, পিন্টারেস্টসহ নানারকম সামাজিক মাধ্যমে ইনকাম ও জনপ্রিয় এবং অনেক উপায় রয়েছে।

আপনি এখনো ক্লিয়ার না তাই তো! আপনি ভাবছেন এজন্য তা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে, ওয়েবসাইট রয়েছে, ই-কমার্স রয়েছে। এসবের মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেন ঢুকে পরেলো!

কারণ, মানুষ এখন অনেক বেশি ব্যস্ত। সময়ের আগে আগে আমরা চলতে চাই। এখন শুধু চ্যাটিং আর লাইক, কমেন্ট দিয়ে আমাদেরকে ধরে রাখা সম্ভব না।

তাছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে ট্রেন্ড, ক্রেজ শুরুতে ছিলো, সেটিও কমে যেতে শুরু করেছে। যে কারণে ২০১৭-১৮ সালের দিকে ফেসবুকের একটিভ একাউন্টের সংখ্যা কমতে শুরু করেছিলো।

Facebook বলেন আর অন্যান্য সামাজিক মিডিয়ার কথাই বলেন, সবার একটাই উদ্দেশ্য, তাদের সাইটের users এবং Engagement বাড়ানো। এজন্য তাদের ধরে রাখতে নিত্য নতুন ফিচার নিয়ে এসে আকর্ষণ ধরে রাখার চেষ্টা করে।

আপনি যখন ফেসবুকে বিজনেস ( Facebook Business ) শুরু করবেন, ফেসবুক আপনার কর্মস্থল হবে, তখন আপনি এবং আপনার কাজের সাথে জড়িত মানুষেরা আরো বেশি ফেসবুকে সময় দিবে। ফেসবুক তাদের বিজ্ঞাপনগুলো আরো বেশি মানুষের কাছে পৌছাতে পারবে এবং তাদের আয় বাড়বে।

এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, কেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজেদেরকে ভেঙ্গে কমার্শিয়াল প্লেস বানিয়ে নিচ্ছে!

ফেসবুকে টাকা আয় করার উপায় নিয়ে পরিশেষ

উপরে উল্লিখিত উপায় ছাড়াও বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপ মোডারেশন, ম্যানেজমেন্ট, কনটেন্ট তৈর করেও ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবেন। ফেসবুক এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে ২.৭ বিলিয়ন একটিভ ইউজার রয়েছে। এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় social media.

অবসর সময়ে অনেকেই ফেসবুকিং করি, এর সাথে সাথে যদি ফেসবুক থেকে আয় করা যায়, বা Facebook এর মাধ্যমেই ক্যারিয়ার গড়ে তোলা যায় তাহলে নিশ্চয়ই খারাপ হয় না। বেকারত্বের সমস্যায় আক্রান্ত দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে আপনাকে সব সুযোগ লুফে নিতে হবে।

ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপ থেকে আয় করার বিভিন্ন উপায় (how to earn money from facebook) সম্পর্কে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম, আশা করি ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এবিষয়ে আপনার বেশ ভালো একটা ধারণা তৈরি হয়েছে।

আমি কি ফেসবুক থেকে আয় করার কোন দারুণ কার্যকরী উপায় মিস করেছি? কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।