পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া খুঁজছেন? হাতে আছে পুঁজি, মন চায় লাভ, তাহলে পাইকারি ব্যবসার বিকল্প আর কি’ই বা হয়? যেখানে লাভ বেশি হবে, সেখানে পুঁজি কিংবা বিনিয়োগের পরিমাণ একটু বেশিই হবে, তাই নয় কি? আপনার হাতে যদি মোটামুটি ভালো মানের অর্থ থাকে, তবে পাইকারি ব্যবসা হতে পারে আপনার জন্য সেরা চয়েস।

বর্তমানে এই পাইকারি ব্যবসা করে অনেকে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করে নিচ্ছেন। পাইকারি ব্যবসায় লাভ যেমন বেশি তেমনি এতে খুচরা ব্যবসার চেয়ে ঝামেলাও কম।

তবে পাইকারি ব্যবসার জন্য শুধু যে মুনাফা প্রয়োজন এমন কিন্তু নয়। মুনাফা থাকার পাশাপাশি আপনার অবশ্যই পাইকারি ব্যবসা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। কোন পণ্যের বাজারে কেমন দাম? মানুষের কাছে কোন পণ্যের ডিমান্ড কেমন? সব কিছুর উপর আপনার ধারণা থাকা লাগবে।

আপনিও নিশ্চয়ই পাইকারি ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। এই আর্টিকেলে আমরা কিছু সেরা পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া তুলে ধরবো।

বর্তমানে লাভজনক এবং মানুষের কাছে ডিমান্ডেবল ১০ পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া আপনাদের জানাবো। তাহলে চলুন দেরি না করে মূল প্রসঙ্গে চলে যাই। 

পাইকারি ব্যবসা বলতে কী বুঝায়?

আপনি পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন, অথচ জানেন না পাইকারি ব্যবসা আসলে কী? তাহলে কি হবে? চলুন সংক্ষিপ্ত করে জেনে নেই, পাইকারি ব্যবসা আসলে কী?

পাইকারি ব্যবসা হচ্ছে সেই ব্যবস্থা যেখানে পাইকারি ব্যবসায়ী উৎপাদকের থেকে পাইকারি হারে পণ্য কিনে সেগুলো খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন।

অর্থাৎ একজন পাইকারি ব্যবসায়ী উৎপাদক এবং খুচরা বিক্রেতার মাঝে সেতু বন্ধনের কাজটি করে থাকেন।

১০ টি লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া 

পাইকারি ব্যবসা অনেক ধরনের আছে। তবে আমরা এখানে বর্তমানে ডিমান্ডেবল এবং লাভজনক কয়েকটি পাইকারি ব্যবসার কথাই তুলে ধরবো। 

এখানে আমরা এমন কয়েকটি পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে কথা বলবো, যেখানে কোনটি করতে আপনাদের পুঁজির পরিমাণ বেশি হতে পারে, আবার কোনোটি অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করে ফেলতে পারবেন। 

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই ১০ টি পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে;

১. চালের পাইকারি ব্যবসা

মাছে-ভাতে বাঙালির ঘরে কিছু থাকুক আর না থাকুক চাল থাকবেই। এই নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীটা দিয়েই যদি পাইকারি ব্যবসাটা শুরু করা যায়, তবে মন্দ হয়না। 

তবে এই পাইকারি ব্যবসাটির জন্য আপনাকে কিছু বিষয়ে অবশ্যই ধারণা রাখতে হবে। চালের বাজার দাম কেমন? মানুষের কাছে কোন ধরনের চালের ডিমান্ড বেশি? খোঁজ নিন শুরুতেই।

এরপর মিল থেকে পাইকারি মূল্যে কিনে আনুন চাল। খুচরা বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করুন। তবে এক্ষেত্রে যাতায়াত খরচের দিকটাও মাথায় রাখবেন। 

মোটকথা এই চালের ব্যবসায় আপনার প্রথমে একটু বেশি পুঁজির প্রয়োজন হলেও, লেগে থাকলে খুব ভালো লাভ হবে এই পাইকারি ব্যবসাটি থেকেই।

২. কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা

পাইকারি ব্যবসার আইডিয়ার কথা উঠেছে, অথচ কাপড়ের ব্যবসার নাম আসবেনা, এমন হবেই না। এটি খুবই লাভজনক একটি পাইকারি ব্যবসা।

তবে শুরুতেই বলে নেই, এই ব্যবসাটির জন্য আপনার বেশ ভালো মানের একটা বিনিয়োগ করা লাগবে। 

কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা

৮-১০ লক্ষ পুঁজি নিয়ে আপনি ব্যবসাটি ভালোভাবে শুরু করতে পারবেন। তবে সবক্ষেত্রে যে এত পুঁজি প্রয়োজন এমন কিন্তু নয়। এটি নির্ভর করবে আপনি কোন ধরনের কাপড় নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে চাইছেন।

থান কাপড় থেকে শুরু করে, শাড়ি কিংবা যেকোনো পরিধেয় বস্ত্র দিয়ে শুরু করুন ব্যবসাটি। তবে শাড়ি নিয়ে ব্যবসাটি করার কথা ভাবতে পারেন। এতে লাভ বেশি হবে।

তাঁতিদের থেকে পাইকারি মূল্যে কাপড় কিনে এনে সেগুলো স্থানীয় দোকানদার কিংবা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করুন।

কাপড়ের ব্যবসায় আপনার একটু বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন পরলেও, ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকলে খুব ভালো লাভ হবে আপনার। 

৩. জুতার পাইকারি ব্যবসা 

পাইকারি ব্যবসার আইডিয়ার মধ্যে এই জুতার ব্যবসাটি আসলেই লাভজনক।  ঘরের বাইরে বলুন কিংবা ঘরের ভিতরে, জুতার প্রয়োজন সবারই।

তাই এতে কাস্টমারের কমতি হবে না। এই ব্যবসা করতে মোটামুটি মানের একটা বাজেট হলে শুরু করার কথা ভাবতে পারেন। 

কিছু কৌশল অবলম্বন করে এই ব্যবসায়ে ভালো লাভ করতে পারবেন। ঋতুভেদে জুতার ভিন্নতা দেখা দেয়। তাই জুতা কেনার পূর্বে বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্কদের জুতাও কালেকশনে রাখতে পারেন। জুতা তৈরির কারখানা থেকে পাইকারি মূল্যে জুতা কিনে আনুন। উৎপাদক মালিকের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, যেনো পরবর্তীতে আরো লেনদেন করতে পারেন।

৪. ব্যাগের পাইকারি ব্যবসা

এই ব্যবসাটি একটু বেশি পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজন পরবে। তবে বিনিয়োগ বেশি হলেও, এটি খুব লাভজনক একটি পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া। 

ব্যাগের পাইকারি বিজনেস

কোন অঞ্চলে কোন ধরনের ব্যাগের চাহিদা কেমন? বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যাগ নির্বাচন করুন। নির্মাতাদের থেকে ব্যাগের পাইকারি মূল্যের ধারণা নিন।

ব্যাগের গুণগত মানের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখবেন। ভালো মানের ব্যাগ সরবরাহ করতে পারলে, এই ব্যবসায়ে লাভ হবে নিশ্চিত। 

৫. মুদি সামগ্রীর পাইকারি ব্যবসা

মুদির দোকানের নিয়মিত বিক্রি হয় যে সামগ্রীগুলো, সেগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন পাইকারি ব্যবসাটি। এতে খুব একটা পুঁজির প্রয়োজন পরবে না।

তেল, ডাল, মশলা এগুলো মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। তাই এদের ডিমান্ড অনেক বেশি। পাইকারি হারে কিনে, মুদির দোকানে খুচরা মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন এই সামগ্রীগুলো। এক্ষেত্রে গুণগত মানের দিকে নজর রাখবেন।

৬. টি-শার্টের পাইকারি ব্যবসা

অল্প পুঁজিতে এটি একটি লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া।  আপনি যদি কম পুঁজিতে পাইকারি ব্যবসার উপায় খুঁজেন, তবে এই টি-শার্টের ব্যবসাটি আপনার জন্যই।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বনভোজন কিংবা যেকোনো বিশেষ দিনের জন্য মানুষ টি-শার্ট অর্ডার করে থাকে। সেগুলোর খোঁজ রাখুন। গার্মেন্টস থেকে কম দামে বানিয়ে সেগুলো সরবরাহ করুন। 

৭. বোরকা ও হিজাবের পাইকারি ব্যবসা

খুবই লাভজনক একটি পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া। আপনি যদি মোটামুটি ভালো বিনিয়োগ করার ক্ষমতা রাখেন, তবে বোরকা ও হিসাব একসাথে রাখতে পারেন।

তবে অল্প পুঁজি খরচের কথা চিন্তা করলে শুধুমাত্র হিজাব দিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। লেটেস্ট ডিজাইনের দিকে নজর দিতে পারেন। 

৮. কসমেটিকস সামগ্রীর পাইকারি ব্যবসা

বর্তমানে অন্যতম লাভজনক একটি পাইকারি বিজনেস হচ্ছে এই কসমেটিকসের ব্যবসা। প্রায় সব মেয়েদেরই পছন্দের সামগ্রী হচ্ছে এই কসমেটিকসের জিনিস।

তাই ক্রেতাদের কোনো কমতি হবেই না। পাইকারি হারে কিনে স্থানীয় কসমেটিকসের দোকানগুলোতে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন। 

৯. ঘড়ির পাইকারি ব্যবসা

এই ব্যবসাটি বর্তমানে পাইকারি বিজনেস আইডিয়ার সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। এই ব্যবসাটি আপনি দুইভাবে করতে পারেন। ব্রান্ডের ঘড়ি অথবা নন ব্রান্ডের ঘড়ি দিয়ে শুরু করতে পারেন। 

ঘড়ির পাইকারি ব্যবসা

আপনার হাতে যদি পুঁজির পরিমাণ বেশি থাকে, তবে ব্যান্ডের ঘড়ি দিয়ে পাইকারি ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে অভিজাত কোম্পানিগুলোর খোঁজ নিতে হবে, যারা ব্রান্ডের ঘড়ি তৈরি করে থাকেন। তাঁদের সাথে আলোচনা করে পণ্য ক্রয় করতে হবে।

তবে আপনি যদি কম মূলধনে ব্যবসা করার পরিকল্পনা করেন, তবে নন ব্যান্ডের ঘড়ি দিয়ে শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রেও আপনার ভালো লাভ হবে।

বর্তমানে কোন মডেলের ঘড়ি বেশি ব্যবহৃত হয়? মানুষ কোন ডিজাইনের ঘড়ি বেশি পছন্দ করে? আপনাকে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

১০. মোবাইল এক্সেসরিজ এর পাইকারি ব্যবসা

বর্তমানে মোবাইল ফোন নেই এমন মানুষ লাখে একজনও হবে বলে মনে হয় না। আমাদের প্রত্যেকের হাতে অন্তত একটি মোবাইল ফোন থাকে।

আর এই মোবাইল ফোনের জন্য প্রয়োজন পরে চার্জার, মোবাইলের কভার, ইয়ারফোন কিংবা হেডফোনের। তো এইসব সামগ্রি নিয়েই যদি পাইকারি ব্যবসাটি শুরু করা যায় তবে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক।

আপনি যদি মোটামুটি মূলধনে পাইকারি ব্যবসা খুঁজে থাকেন, তবে এই মোবাইল এক্সেসরিজ নিয়ে ব্যবসা করার কথা ভাবতেই পারেন। 

শেষ কথা

বর্তমানে ব্যবসার একটি লাভজনক উপায় হচ্ছে এই পাইকারি ব্যবসা। তবে যে ব্যবসাই করুন কেনো, ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই সে বিষয়ে ভালো ধারণা নিয়ে তবেই শুরু করতে হবে।

পাইকারি ব্যবসায় যেহেতু বিনিয়োগের পরিমাণ একটু বেশি, তাই ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে এ বিষয়ে ধারণা নিয়ে, পরিকল্পনা মাফিক কাজ শুরু করতে হবে। ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকতে পারলে আপনি অবশ্যই লাভবান হবেন।

আমরা এই আর্টিকেলে ১০ টি লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া তুলে ধরেছি।  আপনি আপনার পছন্দ মতো যেকোনো পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন।  এছাড়াও যদি পাইকারি ব্যবসা নিয়ে আপনার কোনো ধরনের প্রশ্ন থাকে, আমাদেরকে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন!


Adrita Rakhi

জানার আগ্রহ আর লেখালেখির প্রতি ভালোবাসা থেকেই টুকটাক লেখালেখি করি।

0 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।