ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? এটা শুধু আপনার মনের প্রশ্নই নয়, বরং শত শত মানুষ প্রতিদিন এই প্রশ্ন করছেন। ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার উপায় নিয়ে যেসব কথা শুনেছেন, তা কোনোভাবেই প্রচলিত কোনো গুজব না।

ইনফ্যাক্ট, পার্ট টাইম-ব্লগ বা শখের ব্লগকে টাকা ইনকাম সোর্স হিসেবে তৈরি করা এখন বেশ কমন। আপনি ঘরে বসে ওয়েবসাইট তৈরি করে টাকা ইনকাম করতে পারেন। অনলাইনে আয় করার যত উপায় আছে, সেসবের মাঝে সবচেয়ে স্বাধীন কাজ এটি।

অনলাইনে এমন কিছু নেই যা পাওয়া যায় না। ব্লগ লেখা থেকে শুরু করে ফিজিক্যাল শপ কিংবা ডিজিটাল সার্ভিস দেওয়ার মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে আয় করা যায়।

তাছাড়া, পার্সোনাল কিংবা ব্যবসার প্রসার বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ওয়েবসাইট বেশ কার্যকরী উপায়।

এই আর্টিকেলে আমরা জানবে ওয়েবসাইট কী?, ওয়েবসাইটের বিভিন্ন প্রকারভেদ, কীভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় এবং ওয়েবসাইট থেকে আয় করার বিভিন্ন উপায়।

সূচীপত্র

ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার উপায়

ওয়েবসাইট জনপ্রিয় করতে পারলে বিভিন্ন উপায়ে উপার্জন করা যায়। যেমন:

  • স্পনসরশিপ
  • পন্য বিক্রি
  • আফিলিয়েট মার্কেটিং
  • আর্টিকেল বিক্রি
  • ই-বুক বিক্রি
  • অনলাইন কোর্স বিক্রি
  • ভিজিটরস বিক্রি
  • সার্ভিস বিক্রি
  • বিজ্ঞাপন
  • পেইড সাবস্ক্রিপশন

ওয়েবসাইট থেকে আয় করার এসব উপায় সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত অবশ্যই জানবো, তবে তার আগে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে তো!

একটি সফল ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাইলে কিছু বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারণা রাখা দরকার। আপনার কেমন ওয়েবসাইট প্রয়োজন, কত টাকায় ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, সেসব বিষয়ে পরিষ্কার হতে হবে।

ওয়েবসাইট কী?

ওয়েবসাইট আসলে অনেকগুলো পাতার সমষ্টি, যেখানে আপনি আপনার ব্যক্তিগত মতামত, ব্যবসায়িক কাজ, কোন পণ্যের প্রমোশন অথবা আপনার যে কোনো প্রতিভা বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করে অনলাইনে সবার সাথে শেয়ার করতে পারেন।

অর্থাৎ ওয়েবসাইট হলো বিশ্বের কাছে নিজেকে প্রকাশ করার অনলাইন মাধ্যম।

ওয়েবসাইট কত প্রকার? স্ট্যাটিক ও ডায়নামিক ওয়েবসাইটের মধ্যে পার্থক্য

ওয়েবসাইট প্রধানত দুই ধরনের।

  1. স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট
  2. ডায়নামিক ওয়েবসাইট

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট কী?

নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে static website বলতে যেসব সাইট পরিবর্তন করা হয় না, তথ্যগুলো নির্দিষ্ট হয় তাদেরকে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট বলে।

যেমন, আপনি যদি আপনার নিজের জন্য একটি বায়োডাটা নিয়ে প্রোফাইল সাইট তৈরি করেন, তবে এটা নিশ্চয়ই প্রতিদিন আপডেট করার প্রয়োজন হবেনা।

ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়লে কোডিং নলেজ না জানলে করতে পারবেন না, ডেভেলপারের হেল্প নিতে হবে।

ওয়েবসাইট থেকে সোর্স কোড ডাউনলোড দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে পুনরায় আপলোড করতে হয়।

উদাহরণস্বরূপ, আপনার ফোন নাম্বার আপডেটের প্রয়োজন পরলে আপনি ফোন নাম্বারটা সাধারণভাবে লিখেই পরিবর্তন করতে পারবেন না। এজন্য সোর্স কোড খুঁজে বের করে সেখানে পরিবর্তন করতে হবে।

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এইচটিএমএল এবং সিএসস ব্যবহার করেই সাধারণত স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হয়। এখানে কোনো এডমিন প্যানেল বা ইউজার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নেই, তাই ডায়নামিক পেজের চেয়ে অধিক নিরাপদ।

পেজ সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকার কারণে ওয়েবপেজ লোডিং স্পিড অনেক বেশি পাওয়া যায়।

ডায়নামিক ওয়েবসাইট কী?

Dynamic Website স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট এর সম্পূর্ণ উল্টো প্রক্রিয়া। প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে এমন সিস্টেম তৈরি করা হয়, যেন ওয়েবসাইটের বেশিরভাগ তথ্যগুলো কোনোরকম প্রোগ্রামিং নলেজ ছাড়াই পরিবর্তন করা যায়।

ফেসবুক নিশ্চয়ই ব্যবহার করেন! প্রতিনিয়ত আপনার ফিড পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, এসব কি ডেভেলপার পরিবর্তন করছেন? নাহ, বিভিন্ন ইউজারই এসব পরিবর্তনের কারণ, যিনি কোনো কোডিং ছাড়াই আপডেট করতে পারছেন।

আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, আমাদের প্রতিবর্তন ব্লগে অনেক লেখক আছেন। তাদের নিজস্ব ভূমিকা ভিন্ন ভিন্ন। তারা নিজেরা যখন একাউন্টে লগইন করেন, প্রত্যেকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সাইটটি নিজেকে প্রকাশ করে। কেউই অন্য লেখকের লেখা এডিট করতে পারেন না।

ওয়েবসাইট আর ব্লগ কি একই?

ওয়েবসাইট সম্পর্কে ভালো মানের একটি ধারণা রাখতে অনেক তথ্য সম্পর্কেই আপনার কৌতূহল থাকতে পারে। এর ভেতর সাধারণ একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগতে পারে, যে ওয়েবসাইট আর ব্লগ কি একই? তাহলে চলুন ব্যাপারটি আরো খোলসা করা যাক।

ব্লগ আসলে ওয়েবসাইটের একটি প্রকারভেদ। মূলত ওয়েবসাইট এবং ব্লগের মধ্যে পার্থক্য হলো ব্লগে নতুন নতুন আর্টিকেল পাবলিশ করার মাধ্যমে আপডেট রাখা হয়, এবং নতুন কন্টেন্ট ব্লগ সাইটের প্রথমে দেখানো হয় (newer posts first) যেমন: প্রতিবর্তন।

অন্যদিকে, সাধারণ ওয়েবসাইট বলতে যেসব সাইটের কনটেন্ট পেজ আকারে সাজানো থাকে, এবং প্রায়শই পরিবর্তন কিংবা আপডেট করা হয়না।

অর্থাৎ, ব্লগ সাধারণত ডায়নামিক এবং প্রায়শই আপডেট করা হয়। তবে বিভিন্ন বড় বড় ওয়েবসাইটের বিজনেস বাড়ানোর জন্য ব্লগ সেকশান থাক। অর্থাৎ, ব্লগ ওয়েবসাইটের অংশ হতে পারে।

অন্যভাবে বলা যায়, ব্লগ ক্যাটেগরি ও ট্যাগ এর মাধ্যমে সাজানো হয়, অন্যদিকে শুধুমাত্র কয়েকটি ওয়েবপেজ দিয়ে অরগানাইজ করা সাইটকে ওয়েবসাইট বলে।

ওয়েবসাইট এবং ওয়েব পেজের মাঝে পার্থক্য কী?

ওয়েবসাইট আসলে অনেকগুলো ওয়েব পেজের সমষ্টি। আপনি এখন এই ওয়েবসাইট নিয়ে যে লেখাটি পড়ছেন, এটাই আসলে ওয়েবপেজ, আর যে সাইট অর্থাৎ প্রতিবর্তন ডট কম আসলে একটি ব্লগ।

আরো সাধারণভাবে আপনার পড়ার বইয়ের সাথে তুলনা করলে, আপনার পড়ার বইটি আসলে ওয়েবসাইট এবং বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো হলো ওয়েবপেজ।

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি প্রয়োজন?

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য অবশ্যই প্রয়োজন দুইটা জিনিস,

  • ডোমেইন ও
  • হোস্টিং

ডোমেইন:

যদি আমি আপনার কাছে জিজ্ঞাসা করি, আমি আপনাকে কিভাবে খুজে পাব? তাহলে আপনি নিশ্চয়ই আপনার একটি নির্দিষ্ট আপনার নাম ও বাড়ির ঠিকানা আমাকে দেবেন, যেন পুরো পৃথিবীর এতো মানুষের ভীড়ে আমি আপনাকে সহজেই খুঁজে পাই।

ঠিক তেমনই, অনেক ওয়েবসাইট এর ভেতর আপনার নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটটি খুঁজে পাওয়ার জন্য নাম-ঠিকানা হিসেবে ডোমেইন ব্যবহার করা হয়।

ওয়েব সার্ভার:

আপনাকে খুঁজে পেতে হলে, আপনার বাড়ির ঠিকানা প্রয়োজন। সেটা তো আমাকে দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে আপনাকে পেতে হলে তো আপনার বাড়ি থাকাটাও প্রয়োজন!

আপনার বাড়িটাই হলো ওয়েব সার্ভার। অর্থাৎ, আপনার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র যেমন আপনার বাড়িতে থাকে, ঠিক তেমনই আপনার নিজের ওয়েবসাইটের বিভিন্ন তথ্য ওয়েব সার্ভারে থাকে।

যেভাবে আপনি আপনার বাড়িটির জন্য সরকারকে খাজনা দেন, ঠিক একইভাবে ওয়েব সার্ভারের জন্য আপনাকে কিছু অর্থ খরচ করতে হয়।

ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম

একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরির উপায় সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা হচ্ছে নিশ্চয়ই? তাহলে চলুন কিছু ধারণা নেওয়া যাক।

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরির পদ্ধতি এবং সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কিত বিস্তারিত অন্য একটি প্রবন্ধে উপস্থাপন করেছি। তাই আমরা এখানে পেইড ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরির উপায় সম্পর্কে জানবো।

আপনি তিনভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

  • সম্পূর্ণ নিজস্ব কোড (Require a web developer)
  • সেলফ হোস্টেড প্লাটফর্ম (যেমন, wordpress.org)
  • হোস্টেড প্লাটফর্ম (যেমন, wordpress.com, wix)

তবে কম খরচে যেকোনো ধরনের প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরির সুবিধা থাকার কারনে বেশিরভাগ লোকই ওয়েবসাইটের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন।

এখানে আপনি বাৎসরিক ১৫০০ থেকে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করেই ভালো মানের একটি ওয়েবসাইট পেতে পারেন।

১) ডোমেইন নেইম কিনুন

আপনার ওয়েবসাইট প্রমোশনের জন্য ব্যবহৃত ইউআরএল এর ক্ষেত্রে ডোমেইন নেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাছাড়া ডোমেইন নেইমটির অনন্য হতে হবে, যেন অনুসন্ধান এবং নিবন্ধনের জন্য সহজ হয়। আপনার ক্লায়েন্টের কনফিউশন দূর করার জন্য আপনার ডোমেইন নেইমটি ছোট এবং সহজ রাখার চেষ্টা করুন।

ওয়েবসাইট এর ধরন অনুযায়ী ডোমেইন নেম এক্সটেনশান এ পরিবর্তন আসবে (.com, .net, .biz, .me ইত্যাদি )।

২) হোস্ট পছন্দ করে কিনুন

ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম

হোস্টিং কেনার পূর্বে বিভিন্ন জিনিস জেনে নেওয়া দরকার। মূল্য অনুযায়ী সার্ভারের স্পিড, আপডেট হার, সিকিউরিটি ভিন্ন হয়।

অর্থাৎ আপনার টাকা ইনভেস্ট করার আগে এসব খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে তারপর প্লান সিলেক্ট করতে হবে।

এক্ষেত্রে প্লাটফর্মগুলোর প্রিমিয়াম অফার সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। সুতরাং আপনার জন্য ওয়েবসাইট তৈরির আগে সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে খোঁজ-খবর নেওয়া লাভজনক হবে।

বিভিন্ন জনপ্রিয় হোস্টিং কোম্পানীর বেগিনার প্লান প্রাইস:

  • GoDaddy $11
  • GreenGeeks $2.491
  • HostGator $2.751
  • Hostinger $0.99
  • InMotion $2.492
  • Kinsta $251
  • SiteGround $6.991

তবে পেমেন্টে মেথড যাদের জন্য সমস্যা, তারা বাংলাদেশের সেরা ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানী থেকে বিকাশে পেমেন্ট করার মাধ্যমে কিনতে পারবেন।

৩) ওয়েবপেজ সাজিয়ে নিন

আপনি আপনার ওয়েবপেজ সাজানোর ক্ষেত্রে কোন ওয়েবসাইট ডিজাইনার নিয়োগ করতে পারেন বা আপনি নিজেই নিজের ওয়েবসাইটের পেজগুলোর ডিজাইন করতে পারেন।

এক্ষেত্রে আপনাকে একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে। অনেক সময় অপচয় হবে। যেহেতু আপনি একা তৈরি করার কথা ভাবছেন, সেহেতু ওয়েবসাইটের কোয়ালিটি মাঝারি মানের হতে পারে।

আপনার ওয়েবসাইট অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযুক্ত করতে হবে (“আমাদের সম্পর্কে”, “সাইন আপ”, “যোগাযোগ করুন”, “ক্রয় করুন”, ইত্যাদি)।

এছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী লিংক, ইমেইল এড্রেস, ফোন নাম্বার বা লেখকের তথ্য, পণ্যের বিস্তারিত তথ্য, ছবি ইত্যাদি সংযুক্ত করতে হবে।

সবকিছু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়ে, এবার আপনি আপনার ওয়েবপেজ পাবলিশ করতে পারেন।

প্রতিবর্তন ডেভেলপার টিম আপনার প্রথম ব্লগ/ওয়েবসাইট তৈরিতে হেল্প করতে প্রস্তুত।

সফল Website তৈরি করার ক্ষেত্রে লক্ষনীয় বিষয়

একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করতে আপনাকে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে।

১) হুবহু কপি করা তথ্যের ব্যবহার বর্জন করতে হবে।

২) আপনার তথ্যের সত্যতা যাচাই করে নিতে হবে। ভুল বা মিথ্যা কোনো তথ্য প্রচারে আপনার ওয়েবসাইট জনপ্রিয়তা হারাবে।

৩) কাজের মান এবং সার্ভিস ভালো হতে হবে।

৪) ক্লায়েন্টের কাঙ্খিত চাহিদা পূরণ করতে হবে।

৬) প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সুন্দরভাবে সাজাতে হবে।

৭) পণ্যের মান এবং ক্লায়েন্টের সন্তুষ্টির দিকে নজর রাখতে হবে।

৮) বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

৯) স্বল্প সময়ের মধ্যে ভালো মানের সার্ভিস দিতে হবে।

ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার সেরা ১০টি উপায়

আপনি ইতিমধ্যেই ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন। ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কেও জেনেছেন। তবে এবার চলুন এই আয়ের অর্থ কিভাবে আসে, এসম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেই।

আয়ের প্রথম শর্ত হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক (ওয়েবসাইট ভিজিটর) পরিমান ভালো হতে হবে। তবেই আপনি নিচের পদ্ধতি গুলোর মাধ্যমে উপার্জন করতে পারবেন।

১) স্পনসরশিপ:

আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করিয়ে আয় করতে পারেন। অর্থাৎ বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন বিজ্ঞাপন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করাবেন, বিনিময়ে কোম্পানিগুলো আপনাকে কিছু অর্থ পে করবে।

মিনিমাম ২৫ থেকে ১০০ ডলারের স্পনসরশিপ থেকে খুব সহজেই আয় করতে পারেন। তবে ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি বেশি পেমেন্ট দিলেও লোকাল কম্পানিগুলো থেকে পেমেন্টের পরিমাণ কম হতে পারে।

২) পন্য বিক্রি:

ওয়েবসাইটে পণ্য বিক্রি

আপনার ওয়েবসাইটটি নিজের ব্যবসায়িক কাজেও ব্যবহার করতে পারবেন। ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার অন্যতম জনপ্রিয় উপায় এটি। আপনার নিজস্ব পণ্যগুলো এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন।

হাজার হাজার অনলাইন শপ প্রতিদিন তাদের ওয়েবসাইট থেকে শুধুমাত্র পণ্য বিক্রি করে ইনকাম করছে।

যদি নিজের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ভালো মানের অনলাইন শপ তৈরি করতে পারেন তবে, এখান থেকে ভালো অংকের অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

বিভিন্ন নকশার হস্তশিল্প, পোশাক বিক্রির জন্যেও আপনার ওয়েবসাইটি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি solidhoneybd.com ‘র মতো কোনো জনপ্রিয় পণ্য বা আপনার এলাকার বিখ্যাত পণ্য নিয়েও নিজের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

৩) আফিলিয়েট মার্কেটিং:

এক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য প্রমোট করে তাদের পণ্য বিক্রি করতে হয় এবং আপনার দেওয়া লিঙ্ক থেকে বিক্রি হলেই কিছু কমিশন (১০-২৫%) পাবেন। বর্তমানে বেশিরভাগ ওয়েবসাইট এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করে থাকে।

৪) আর্টিকেল বিক্রি:

আপনার লেখা বিভিন্ন আর্টিকেল বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন, যেমন: বাংলা আর্টিকেল শপ। অর্থাৎ, Freelance Author সেবা।

অন্যান্য নতুন ব্লগিং ওয়েবসাইটে পাবলিশ করার জন্য তাদের আর্টিকেলে প্রয়োজন পড়ে। তারা নির্দিষ্ট একটি মানসম্মত অর্থের বিনিময়ে আপনার ওয়েবসাইটে গিয়ে আর্টিকেল ক্রয় করার জন্য অর্ডার করতে পারবে।

৫) ই-বুক বিক্রি:

বই পড়ে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আপনার নিজের কথাই একবার ভাবুন তো!

আপনি কাজে ব্যাস্ত থাকেন সারাদিন, দিনের কিছু সময় যদিও পড়া যেত, কিন্তু হাতে করে সব জায়গায় তো আর বই নিয়ে যাওয়া যায় না। এই চাপে পড়ে হয়তো বই পড়েন না, তবে বই পড়ার ইচ্ছা তো মরে যায় না।

এক্ষেত্রে আপনার মতো মানুষদের জন্য বর্তমানে ই-বুক যে পরিমাণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, তা আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ে না।

আসলে বইয়ের ইলেকট্রনিক ফরম্যাট হলো ই-বুক। আপনার মাঝে লেখক সত্ত্বা যদি থাকে, যদি ভালো মানের লেখা তৈরি করতে পারেন। তবে তো চিন্তাই নেই!

ভালো মানের গ্রহণযোগ্য লেখা অন্যান্য সাইটে পাবলিশ না করে, বরং নিজের মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে নিজের ওয়েবসাইটেই ই-বুক বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন।

৬) অনলাইন কোর্স বিক্রি:

মনে করুন, আপনি একজন শিক্ষক এবং আপনি চাইছেন আপনার পড়ানোর পদ্ধতি, টেকনিক, মজার কিছু ছন্দ বা কৌশল সারা দেশের সব শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে।

তাহলে আপনার নিজের ওয়েবসাইটি কিন্তু এক্ষেত্রে দারুণ কাজের হবে। আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিকের মাধ্যমে অথবা শিক্ষণীয় কোর্স বিক্রির মাধ্যমে বেশ ভালো মানের অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

এ বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতার জন্য টেনমিনিট স্কুল.কম কিংবা বাংলায় অনলাইন কোর্স করার সাইটগুলো দেখতে পারেন।

আপনি কি ভাবছেন শুধুই পড়া লেখার ব্যাপারে কোর্স বিক্রি করা যায়?

মোটেও না। অনেকেই রান্নাবান্নার বিভিন্ন টিউটোরিয়াল (আর্টিকেল বা ভিডিও), বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরি, কাপড়ের বুটিক শিল্পের টিউটোরিয়াল ইত্যাদি হরেক রকম কোর্স বিক্রি করে উপার্জন করছেন।

অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী, সে বিষয় সম্পর্কিত বিভিন্ন কোর্স আপনার উপার্জনের মাধ্যম হতে পারে।

৭) ভিজিটরস বিক্রি:

আইডিয়াটা শুনে প্রথমবার আমিও আপনার মতোই অবাক হয়েছিলাম!

তবে আয় করতে এটি বেশ কার্যকরী উপায় এটা নিয়ে সন্দেহ নেই। কারণ বিভিন্ন নতুন ওয়েবসাইট বিল্ডাররা নিজেদের ওয়েবসাইটে ভিজিটর পাওয়ার জন্য কিছু টাকা দেয়। অর্থাৎ তাদের সাইট সম্পর্কে জানানো।

এটা হতে পারে স্পন্সরড আর্টিকেল পাবলিশ করা কিংবা পেইড ব্যাকলিঙ্ক দেওয়ার মাধ্যমে।

৮) সার্ভিস বিক্রি:

আপনি যদি ভালো কুক হয়ে থাকেন বা আপনার মানুষ বা পণ্য পরিবাহী গাড়ি থাকে, তাহলে সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে হোম ডেলিভারী খাবার সার্ভিস এর মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, জোগাড় করার মাধ্যমে শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, অন্যান্য লোকের জন্য আয়ের বিশ্বস্ত মাধ্যম হতে পারেন।

বর্তমানে উবার, ফুড পান্ডার মতো সাইটগুলো জনপ্রিয়তা এবং বিশ্বস্ততা অর্জন করে সারা বাংলাদেশে সার্ভিস দিচ্ছে। এখান থেকে আপনিও আইডিয়া নিতে পারেন।

৯) বিজ্ঞাপন:

ডিজিটাল মার্কেটিং এর দুনিয়ায় ব্লগ এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানো সবচেয়ে লাভজনক উপায়। ব্যবসায়ীরা তাদের বিজনেসের প্রসারের জন্য বিভিন্ন এড প্লাটফর্ম যেমন, এডসেন্স, মিডিয়াম, হালাল এডস প্রভৃতির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে।

আপনার ব্লগটি মানসম্মত ট্রাফিক পেলে আপনার ব্লগে এডসেন্স এপ্রুভাল নিয়ে এসব বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

অনেক ব্লগারের ব্লগ থেকে উপার্জনের একমাত্র উপায়ই থাকে গুগল এডসেন্স, কিন্তু তারপরেও মাস শেষে বেশ ভাল একটা এমাউন্ট আয় করেন।

এডসেন্স অনুমোদন পাওয়া না গেলে এডসেন্স বিকল্প নেটওয়ার্ক এর সাথেও বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন।

তবে, মুসলিম হিসেবে এড প্লাটফর্ম এর সাথে বিজ্ঞাপন দেখানোর সময় অবশ্যই বিজ্ঞাপন ক্যাটেগরি ফিল্টার করে দিবেন, যেন হারাম কোনো বিজ্ঞাপন না দেখানো হয়।

১০) পেইড সাবস্ক্রিপশন

আপনার ব্লগের বিষয়বস্তু যদি এমন হয় যে, প্রচুর মানুষের চাহিদা রয়েছে এবং পরবর্তী আপডেট পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অনেক পাঠক অপেক্ষা করে থাকে, তবে সকল কনন্টেন্ট ফ্রি এবং উম্মুক্ত না রেখে পেইড সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা রাখতে পারেন।

পেইড সাবস্ক্রিপশন পাওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে আর্টিকেলের চেয়ে পডকাস্ট তৈরি অধিক কার্যকরী বলে প্রমাণিত।

শেষ কথা

যেকোনো কাজের প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে, একাগ্রতা বা কাজের প্রতি নিষ্ঠা। আপনি যদি পরিশ্রমী হন এবং হালাল উপার্জন করতে চান, তবে আপনাকে কিছুটা সময় এবং পরিশ্রম অবশ্যই দিতে হবে।

তাহলে আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার জন্য কোন কাজটিকে বেছে নিচ্ছেন? আপনার কাজের উপরই নির্ভর করবে, স্ট্যাটিক নাকি ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে।

ফ্রি ব্লগ সাইট তৈরি করে আয় করার জন্য প্রথম দিকে শুধুমাত্র এড নেটওয়ার্কের বিজ্ঞাপন এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

অন্যদিকে ওয়েবসাইট হলে এই দুইটার পাশাপাশি বিভিন্ন সার্ভিস এবং পণ্য বিক্রি করে আয় করা যাবে।

তবে, পেইড সাবস্ক্রিপশন, ভিজিটরস বিক্রি, বা স্পন্সরশিপের মতো বিষয়গুলো দিয়ে ওয়েবসাইট থেকে আয় করার জন্য ওয়েবসাইট জনপ্রিয় করার উপায় সমূহ সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

আমরা এই আর্টিকেলে ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার অনেক উপায় জেনেছি, তবে ব্লগ বা বিজনেস ওয়েবসাইট যেটাই শুরু করুন, প্রথমেই টাকা ইনকাম করার পিছনে ছুটবেন না।

প্রথমে আপনার নিজের কাছে প্রশ্ন রাখুন, আমার ওয়েবসাইট কি টাকা উপার্জন করার জন্য প্রস্তুত? যখন পজিটিভ উত্তর আসবে, তখন ইনকামের ‍উপর ফোকাস করুন।

ওয়েবসাইট তৈরি করে টাকা আয় করার কোন উপায়টিকে আপনার কাছে বেশি পছন্দ হলো, আমাদের জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।


Mabia maria

জীবনের প্রতিটি ধাপেই শিখতে চাই। পথে হাজার বার হোঁচট খেতে চাই, যেন আবার নতুন উদ্যম আর অভিজ্ঞতা নিয়ে জীবনের দুর্গম পথগুলি পেরিয়ে যেতে পারি।প্রত্যেকর নিজস্ব একটা ভাষা থাকে, আমার ভাষা কলম।

2 Comments

Md Munna · মে 14, 2021 at 6:39 পূর্বাহ্ন

Thanks

    Mabia maria · মে 16, 2021 at 2:57 অপরাহ্ন

    আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

six + 4 =

error: Content is protected !!