মধু খাওয়ার উপকারিতা | 10 Benefits of Eating Honey

মধুর উপকারিতা

মধুর ইংরেজি প্রতিশব্দ Honey. এটি একটি মিষ্টি স্বাদের তরল পদার্থ। মধুর ঘনত্ব পানির তুলনায় অনেক বেশি। মধু ও চিনি উভয়ই খেতে মিষ্টি হলেও মধু খাওয়ার উপকারিতা ও রূপচর্চায় ব্যবহারের কারণে কারণে সবসময়ই মধুর কদর বেশি।

আজকে আমরা মধু খাওয়ার উপকারিতা সমূহ, পুষ্টিগুণ ও মধু খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিবো ইন-শা-আল্লাহ।

মধু খাওয়ার উপকারিতা সমূহ | Benefits of Eating Honey

মধু খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে একটি প্রবন্ধে সবকিছু জানানো বেশ কঠিন। কেননা, মধু খাওয়ার উপকারিতা নামক তালিকায় নতুুন নতুন উপকারিতা যুক্ত হচ্ছে। চলুন, মধু খাওয়ার প্রধান প্রধান কিছু উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মধু খাওয়ার উপকারিতা
মধু খাওয়ার উপকারিতা সমূহ

1. মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেক গুণ বৃদ্ধি করে। মধু হলো নানা ধরনের ভিটামিন, মিনারেলস ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের আধার।

আপনি যদি নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন তবে এই উপাদানগুলোও আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির দায়িত্ব নিজেদের করে নেবে।

2. ওজন কমাতে সহায়ক মধু

শরীরের অতিরিক্ত ওজনের জন্য দায়ী করা হয় ফ্যাট বা চর্বিকে। মধুতে ফ্যাটের পরিমাণ জিরো হওয়ায় এটি শরীরের ওজন কমাতে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

যারা স্লিম ফিগার ধরে রাখতে চান তাদের উচিত নিজেদের খাদ্যতালিকায় মধুকে অপরিহার্য করে তোলা।

আরো পড়ুন:  চিরতা খাওয়ার উপকারিতা | চিরতা খাওয়ার নিয়ম

যাদের শরীরে ইতোমধ্যেই চর্বি জমে গেছে, পেটের চর্বি কমাতে তারা যদি নিয়মিত গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে উপকার পাবেন।

এটি খাওয়ার নিয়ম হলো সকালের প্রথম খাবার হিসেবে ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১/২ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং ১/২ টেবিল চামচ মধু মিশাতে হবে। তারপর খেয়ে ফেলতে হবে।

নিয়মিত এটা ফলো করতে পারলে মুটিয়ে যাওয়া শরীর আবার কাঙ্খিত অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে হ্যাঁ! নিজের রসনাও সামলে রাখতে হবে!

3. অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় মধু খাওয়ার উপকারিতা

ঘুম শরীরের জন্য বিশেষ প্রয়োজন। কিন্তু কেমন লাগে যখন কোনো শারীরিক বা মানসিক কারণে এই ঘুম রীতিমতো ডুমুরের ফুল হয়ে যায়! নানা কারণে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ এই অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

আপনি কি অনিদ্রায় ভুগছেন? তাহলে আপনার জন্য পরামর্শ হলো দয়া করে ডাক্তারের কাছে দৌঁড়িয়ে সময়, শ্রম ও অর্থ অপচয় করবেন না। বরং নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে এক চামচ মধু গুলে খেয়ে নিন। এই শরবত আপনাকে শান্তিপূর্ণ গভীর ঘুম উপহার দেবে।

এখানে একটি কথা আছে, তা হলো বিষয়টা এমন না যে এক দুইদিন খেলেই আপনার ঘুম হবে, এটি যেহেতু ভেষজ, তাই একটু সময়সাপেক্ষ হবে এটা নিশ্চিত থেকেই আপনার এই পদ্ধতি ফলো করতে হবে। যদি ধৈর্য সহকারে নিয়মিত এটি মেইনটেইন করতে পারেন তাহলে শতভাগ উপকৃত হতে পারবেন ইন-শা-আল্লাহ।

4. পেটের নানাবিধ সমস্যার সমাধানে মধু

মধুতে আছে নানা ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট। এই এজেন্ট গুলো পাকস্থলীতে কার্যকর থেকে খাদ্য হজমে সহায়তা করে।

একই সাথে ডায়রিয়া, আমাশয়, প্রদাহজনিত সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাকে নিয়ন্ত্রনে রাখে।

আপনি যদি নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন তাহলে আপনিও মধুর এই গুণাগুণ দ্বারা উপকৃত হতে পারবেন।

আরো পড়ুন:  থানকুনি পাতার দারুন সব উপকারিতা : ১০টি বড় সমস্যার সহজ সমাধান

5. রক্ত উৎপাদনে সহায়ক

খাদ্য তালিকায় নিয়মিত মধুর উপস্থিতি আপনাকে এনিমিয়া থেকে দূরে রাখবে। মধুতে থাকা আয়রন ও অন্যান্য খনিজ উপাদান আপনার শরীরে নিয়মিত রক্ত উৎপাদন করে শরীরকে সুস্থ রাখবে।

6. ঠান্ডা সারাতে মধু

যাদের কোল্ড এলার্জির সমস্যা আছে  ঠান্ডা কাশির ব্যামো তাদের বছর জুড়েই থাকে। মধুতে আছে তারও সমাধান।

১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ২ টেবিল চামচ মধু ও অর্ধেকটা লেবুর রস ও সামান্য আদার রস মিশিয়ে প্রতিদিন দুইবার করে খেতে হবে। এতে কাশি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

7. হার্টের সুস্থতায় মধু

মধুর উপাদানগুলো শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল অর্থাৎ, লো ডেনসিটি কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় প্রায় ১০% পর্যন্ত।

এই লো ডেনসিটি কোলেস্টেরলই হার্টের শিরা উপশিরায় জমে থেকে হার্টে রক্ত সঞ্চালনের পথ সরু করে ফেলে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক কিংবা ফেইলিউরের মতো সাংঘাতিক রোগ হয়ে যেতে পারে।

আপনি যদি মধুকে আপনার ডায়েটের নিত্যসঙ্গী করতে পারেন, তবে মধুও আপনাকে নিরাশ করবে না।

8. তারুণ্য ধরে রাখতে মধু

তারুণ্য ধরে রাখতে কে না চায়! এজন্য কত রকম ডায়েটই না মানুষ ফলো করে থাকে। নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস আপনাকে দেবে দীর্ঘদিন তরুণ থাকার প্রতিশ্রুতি।

মধু আপনার ত্বক, নখ, চুল সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে। প্রতিরোধ করবে বয়সের কারণে পড়ে যাওয়া বলিরেখাও।

9. হাড় ও দাঁতের সুস্থতায় মধু

মধুতে আছে নানা ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলস। এসব উপাদান আমাদের শরীরের হাড় ও দাঁতের সুস্থতায় অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে হাড়ের স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি কমে আসে। গিটে গিটে ব্যাথা দেখা দেয়।কিন্তু আপনি যদি পূর্ব থেকেই নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন তবে বৃদ্ধ বয়সে এই সব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।

10. মধু খাওয়ার ইসলামিক উপকারিতা

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা দুটি শেফাদানকারী বস্তুকে নিজেদের জন্য আবশ্যকীয় করে নাও। একটি মধু এবং অপরটি কোরআন।

মধুর উপাদান সমুহ

মধু বা Honey হলো একটি অলরাউন্ডার ভেষজ তরল। খেতে যেমন সুমিষ্ট, তেমনি মধুর উপাদানগুলোও বেশ ঈর্ষণীয়। একমাত্র স্নেহ জাতীয় পদার্থ ও প্রোটিন ব্যতীত আর সবই আপনি পাবেন এই মধুতে।

আরো পড়ুন:  চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম | চিয়া সিড এর উপকারিতা

চলুন জেনে নেই, প্রতি ১০০ গ্রাম মধুতে থাকা কোন কোন পুষ্টি উপাদান রয়েছে:

উপাদান

পরিমাণ

শক্তি

৩০৪ কিলো.ক্যালরি

শর্করা

৮২.৪ গ্রাম

চিনি

৮২.১২ গ্রাম

ফাইবার

০.২ গ্রাম

ফ্যাট

০ গ্রাম

প্রোটিন

০.৩ গ্রাম

পানি

 ১৭.১০ গ্রাম

রিবোফ্লাভিন (বি২)

০.০৩ মি.গ্রা

নায়াসিন ( বি৩)

০.১২১মি.গ্রা

প্যানটোথেনিক এসিড ( বি ৫)

০.০৬৮ মি.গ্রা

ভিটামিন বি৬

০.০২৪ মি.গ্রা

ফোলেট (বি৯)

২ মাইক্রোগ্রাম

ভিটামিন সি

০.৫ মি.গ্রা

ক্যালসিয়াম

৬ মি.গ্রা

আয়রন

০.৪২ মি.গ্রা

ম্যাগনেসিয়াম

২ মি.গ্রা

ফসফরাস

৪ মি.গ্রা

পটাশিয়াম

 ৫২ মি.গ্রা

সোডিয়াম

৪ মি.গ্রা

জিংক

০.২২ মি.গ্রা

গ্লুকোজ 

২৫-৩৭%

ফ্রুক্টোজ

৩৪-৪৩%

সুক্রোজ

০.৫- ৩.০ %

মল্টোজ

৫-১২%

অ্যামাইনো এসিড

২২%

খনিজ লবণ

২৮%

এনজাইম

১১%

মধু খাওয়ার নিয়ম

মধু খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অনেক তো জানলেন। এবার চলুন জেনে নেই মধু খাওয়ার দুইটি সহজ নিয়ম।

মধু খাওয়ার পদ্ধতি-১: ১ গ্লাস গরম দুধে ২ চা চামচ মধু ও ৩-৪ টা জাফরান মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে বেশ সহায়ক।

মধু খাওয়ার পদ্ধতি-২: সমপরিমাণ মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে একদম পানি ছাড়া। সকালের ভরপেট নাস্তার পর নিয়মিত এটা খেতে পারলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

মধু খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা: স্বাভাবিক তাপমাত্রা মধু হাজার বছর ভালো থাকে। খাওয়ার জন্য কিংবা সংরক্ষণের জন্য এটাকে গরম বা ঠান্ডা করার কোনো প্রয়োজন নাই। গরম করলে মধুর খাদ্য গুণাগুণ লোপ পায়। যারা চায়ে চিনির বদলে মধু ব্যবহার করেন তাদের প্রতি পরামর্শ একদম গরম চায়ে মধু দিবেন না, বরং একটু ঠান্ডা হয়ে এলে তারপর মধু যোগ করবেন।

মধু খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে শেষ কথা

আর্টিকেলটি থেকে আমরা মধু খাওয়ার উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিলাম। সম্পূর্ণ প্রবন্ধটি পড়ে নিলে এতক্ষণে নিশ্চয়ই নিয়মিত মধু খাওয়ার নানাবিধ উপকারিতা সম্পর্কে জেনে গেছেন। তাহলে আর অপেক্ষা না করে আজ থেকেই মধু খাওয়ার উপকারিতা নেওয়া শুরু করুন।

2 thoughts on “মধু খাওয়ার উপকারিতা | 10 Benefits of Eating Honey”

  1. অসাধারণ পোস্ট, সত্যিই অনেক তথ্যবহুল এবং উপকারী একটি লেখা। পোস্টটি পড়ে মনে হল মধুর এ জীবনে মধুর গুণাবলী বলে আদৌ শেষ করা সম্ভব নয়। ধন্যবাদ Salsabil Jannat এমন সুন্দর একটি পোস্ট উপহার দেয়ার জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top