মোবাইলে ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার – সেরা ১০টি

ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার

ভিডিও এডিট করার প্রয়োজন আমাদের প্রায়শই হয়। আর এজন্য একটি ভালো ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার দরকার। আপনি যদি মোবাইলে ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার খুঁজে থাকেন, তাহলে আজকের Best 10 video editing app লিস্টটি আপনার জন্যই।

আর্টিকেলটিতে উল্লেখ করা মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যারগুলোর মাঝে আপনি ফাইনাল কাট প্রো বা অ্যাডোব প্রিমিয়ার প্রো ইত্যাদি কম্পিউটার ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর মতো অভিজ্ঞতা পাবেন না, তবে আপনি চাইলে এই অ্যাপগুলো দিয়ে প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং অবশ্যই করতে পারবেন।

সেরা ১০ ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার

  1. ইনশট (inShot)
  2. কাইনমাস্টার (KineMaster)
  3. ফিল্মমেকার (Film maker)
  4. পাওয়ার ডিরেক্টর (Power Director)
  5. অ্যাকশন ডিরেক্টর (Action Director)
  6. অ্যাডোব প্রিমিয়ার রাশ (Adobe Premiere Rush)
  7. ফ্লিমোরা গো (Filmora Go)
  8. ফানিমেট (funimate)
  9. কুইক (quik)
  10. ভিভাভিডিও (VivaVideo)

১। ইনশট- Inshot

ইনশট ভিডিও এডিটরইনশট হল একটি অতি সাধারণ ভিডিও এডিটর যা ফিল্টার, ফেইড ইন এবং আউট, ভিডিও ট্রিমিং এবং ভিডিও কাটা, যোগ করার মতো বিষয়গুলোতে বেশ সহজ করে তুলেছে। এটিতে একাধিক ভিডিও এবং অডিও যুক্ত করার সুবিধাও রয়েছে।

এর টুলসেট, স্টিকার প্যাক, স্পীড কন্ট্রোল এবং অন্যান্য ফিচার এটিকে ইউটিউব, ফেসবুক এবং অনুরূপ প্ল্যাটফর্মের জন্য ফ্রি ভিডিও এডিটর হিসেবে বেশ দারুণ জনপ্রিয় করে তুলেছে।

সফটওয়্যারটির দারুন একটি ফিচার হলো ভিডিও রেজ্যুলেশন ও কোয়ালিটি ঠিক করে দেওয়ার সুবিধা। ভিডিও সেভ করার সময় ৩৬০পি থেকে ১০৮০ পি রেজ্যুলেশন বাছাই করে নিতে পারবেন।

মেইন ফিচার:

  • ট্রিম এন্ড কাট। এক ভিডিওকে আলাদা আলাদা ক্লিপ এ ভাগ করা
  • দুই বা ততোধিক ভিডিওকে একসাথে করা
  • Combine and compress (কোনোরকম কোয়ালিটি নষ্ট না করেই)
  • ভিডিও ক্রপ করা
  • ভিডিও ratio এডজাস্ট করা
  • ভিডিও স্পিড কন্ট্রোল (0.2x to 100x)
  • ভিডিও ভলিয়্যুম এডজাস্ট করা
  • Reverse এন্ড Rewind
  • ফটো স্লাইড শো তৈরি
Related:  সফটওয়্যার কি? প্রকারভেদ এবং কিভাবে সফটওয়্যার তৈরি করে

২। কাইনমাস্টার-KineMaster

কাইনমাস্টার ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারবর্তমানে কাইনমাস্টার মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিট করার সেরা সফটওয়্যার।

অ্যাপটি দিয়ে আপনি প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন। স্মার্টফোন দিয়ে ভিডিও এডিট করেছেন নাকি কম্পিউটার দিয়ে সেটিই আপনার ভিউয়ার্সরা বুঝতেই পারবেনা।

ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার জন্য ভিডিও এডিটিং করতে চাইলে কাইনমাস্টার আপনার জন্য সেরা অ্যাপ। তাছাড়া, কাইনমাস্টার দিয়ে এডিটিং করা অনেক বেশি সহজ।

আপনি এটি কিছুদিনের জন্য ট্রায়াল মোডে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সকল সুবিধা পাওয়ার প্রতিমাসে $4.99 মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

মেইন ফিচার:

  • ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন
  • স্টিকার এবং টেক্সট (Sticker and text)
  • গতি নিয়ন্ত্রণ (Speed Control)
  • আনলিমিটেড লেয়ারের ভিডিও
  • বিভিন্ন সাইজের ভিডিও
  • ভিডিওতে চ্যানেলের লোগো
  • ভিডিওতে ভয়েস ডাবিং
  • ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক
  • Effects
  • স্লাইড শো ভিডিও নির্মাণ
  • ফিল্টার (Filter)
  • ফুল এইচডি ভিডিও সেভ

৩। ফিল্মমেকার-Filmmaker

ফিল্মমেকার ফ্রি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারবর্তমানে পাওয়া সেরা ফ্রি ভিডিও এডিটর অ্যাপের মধ্যে মুভি মেকার সফটওয়্যার হলো ফিল্মমেকার। আপনি ভিডিও কন্টেন্ট ট্রিম, ক্রপ এবং পুনর্বিন্যাস করার পাশাপাশি ফোকাল পয়েন্ট সেট করতে পারবেন।

অ্যাপটিতে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ইফেক্ট রয়েছে, পাশাপাশি আপনি আপনার নিজস্ব কাস্টম ফিল্টার ডিজাইনও করতে পারবেন, যদিও সেই কার্যকারিতা খুব বেশি শক্তিশালী নয়।

সফটওয়্যারটিতে সংগীত/অডিও যুক্ত করার মতো অন্যান্য বেসিক ফিচারও রয়েছে। অ্যাপটি প্রথমবার পাবলিশ হওয়ার পর থেকেই কিছু বাগ সমস্যার সাথে লড়াই করেছে, কিন্তু এটি এখন বেশি ভাল ভিডিও এডিটিং অ্যাপস। মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার টি পাচ্ছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

মেইন ফিচার:

  • টেক্সট অ্যানিমেশন
  • ট্রান্জিশন ভিডিও এডিটর
  • ব্লেন্ডিং মোড মুভি মেকার
  • ভিডিও কনভার্টার

৪। পাওয়ার ডিরেক্টর-Power Director

পাওয়ার ডিরেক্টর ভিডিও এডিটিং অ্যাপপাওয়ার ডিরেক্টর এই তালিকার অন্যতম সেরা ভিডিও এডিটর অ্যাপ। যারা প্রায়ই ভিডিও এডিট করেন তাদের জন্য নিশ্চয়ই অ্যাপটি পরিচিত। এটি একটি বাস্তব ভিডিও সম্পাদক, বিশেষ করে ক্রোমবুক বা ট্যাবলেটের মতো বড় পর্দার জন্য সেরা এডিটর।

এটি দ্রুত সম্পাদনা টুলস, বিভিন্ন ইফেক্ট এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সহ হাজারটি ফিচার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। ইন্টারফেসটি কাজ করার জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ এবং এটি ক্লাসিক টাইমলাইন এডিটর পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। ফ্রি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার টি কোলাজ মেকিং, স্লো মোশন এর মতো জিনিসগুলোও সাপোর্ট করে।

Related:  ইংরেজি শেখার সেরা অ্যাপ | 7 Best English Learning app

এটি বিনামূল্যে ডাউনলোড এবং ব্যবহার করা যায়, তবে সমস্ত বৈশিষ্ট্য পেতে আপনাকে কিছু অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।

মেইন ফিচার:

  • 4K resolution
  • ভিডিও স্ট্যাবিলাইজার
  • অ্যানিমেটেড টাইটেলস
  • ভয়েস পরিবর্তন

৫। অ্যাকশন ডিরেক্টর-Action Director

অ্যাকশন ডিরেক্টর ভিডিও এডিটর সফটওয়্যারঅ্যাকশন ডিরেক্টর পিসির অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। ভালো খবর হলো এটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের জন্যও পাওয়া যায়। মোবাইল ভার্সন সফটওয়্যার দিয়ে কিছু মৌলিক কাজ করা যায়। সফটওয়্যারটি দিয়ে ভিডিও ক্লিপ যোগ করা, সম্পাদনা করা এবং ভিডিও রেন্ডার করা যায়।

আপনি আপনার নিজের সঙ্গীত যোগ করা, ভিডিও ছাঁটা এবং কাটা, টেক্সট যোগ করা, ধীর গতিতে কাজ করা এবং আরও অনেক কিছুই এই ভিডিও এডিটর দিয়ে করতে পারেন।

এটি মাত্র কয়েকটি ভিডিও এডিটর অ্যাপের মধ্যে একটি যা 4K ভিডিও সমর্থন করে। তবে আপনার ডিভাইসটি এটি 4K সাপোর্ট করে কিনা তা আপনাকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

৬। অ্যাডোব প্রিমিয়ার রাশ-Adobe Premiere Rush

ফিল্মমেকার-প্রোঅ্যাডোব প্রিমিয়ার রাশ তালিকার নতুন ভিডিও এডিটর অ্যাপগুলির মধ্যে একটি এবং এটি বেশ ভাল। অ্যাপটিতে মাল্টি-ট্র্যাক টাইমলাইন, ক্লাউড সিঙ্কিং এবং কিছু উন্নত এডিটিং টুল সহ অনেকগুলি ফিচার রয়েছে।

যদিও ব্যবহারকারীদের মতে অ্যাপ্লিকেশনটির এখনও কিছু UI কাজ এবং কিছু বাগ সংশোধন প্রয়োজন

৭। ফ্লিমোরাগো-FilmoraGo

ফ্লিমোরাগো অ্যান্ড্রয়েড ভিডিও ইডিটরফ্লিমোরাগো হল Wondershare এর একটি ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। এটি অবশ্যই সেরা ভিডিও এডিটর অ্যাপগুলির মধ্যে একটি।

আপনি ছাঁটা এবং কাটা, রেন্ডার, এবং এই ধরনের জিনিসের মতো মৌলিক কাজগুলি করতে পারেন। ভিডিও রিভার্স করা, ইনস্টাগ্রামের জন্য স্কয়ার ভিডিও (1:1) এবং ইউটিউবের জন্য বিশেষভাবে 16:9 ভিডিও সাইজ করার সুবিধাও রয়েছে।

এছাড়াও স্লো মোশন, ট্রানজিশন, মিউজিক, ওভারলে এবং আরও অনেক কিছু করা সম্ভব। অ্যাপটির পেইড ভার্সন থাকলেও বেশিরভাগ এডিটরস ফ্রি ভার্সনই ব্যবহার করেন।

৮। ফানিমেট- Fanimate

ফানিমেট ভিডিও এডিটরফানিমেট আশ্চর্যজনকভাবে জনপ্রিয়, কিন্তু অত্যধিক শক্তিশালী ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার নয়। এখানে ১৫ টি ভিডিও ফিল্টার আছে যা ভিডিওতে ব্যবহার করতে পারেন এবং ভিডিও এডিট করার প্রক্রিয়া মোটামুটি যন্ত্রণাহীন।

তবে এই অ্যাপটি এমন কিছু নয় যা একটি গুরুতর ভিডিও এটি করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রকৃত ভিডিও তৈরির পরিবর্তে  ইফেক্টগুলো ব্যবহার করে এটি ছোট ছোট সামাজিক মিডিয়া পোস্ট  তৈরির জন্য বেশ ভাল ভিডিও এডিটিং অ্যাপ।

Related:  ডিলিট হওয়া ছবি, ভিডিও ফিরে পাওয়ার উপায়

৯। কুইক-Quik

কুইক ভিডিও এডিটর সফটওয়্যারকুইক একটি নতুন প্রজন্মের ভিডিও এডিটর অ্যাপস। নির্দিষ্ট জায়গা বা সময়ের ছবিগুলো একসাথে রাখতে আমাদের প্রায়শই ফাইল তৈরি করতে হয়। কিন্তু, বাছাই করে নতুন একটা ফাইলে নেওয়া নিশ্চয়ই সহজ কাজ নয়।

ছবি হারানোর কষ্ট লাঘব করতে এবং একসাথে সকল ছবি ফাইল ও ভিডিও আকারে রাখার সেরা অ্যাপ কুইক। এছাড়া, ছবি এডিট করার পাশাপাশি ভিডিও এডিট করার সাধারণ টুলসগুলোও রয়েছে।

এটি অ্যাডোব প্রিমিয়ার ক্লিপ বা পাওয়ারডাইরেক্টরের মতো প্রায় শক্তিশালী নয়, তবে প্রত্যেকেরই এমন কিছু প্রয়োজন হয় না যা জটিল ও শক্তিশালী।

১০। ভিভাভিডিও-Vivavideo

ভিভাভিডিও এডিটর অ্যাপভিভাভিডিও অত্যন্ত জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। এটি একটি খুব মাঝারি মানের ভিডিও এডিটর। এটি সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ছোট ছোট ক্লিপগুলোর জন্য বেশ ভাল কাজ করে।

এখানে ২০০টিরও বেশি ভিডিও ফিল্টার এবং অন্যান্য ইফেক্ট, টেক্সট ইনপুট রয়েছে। এছাড়া ভিডিও ফাস্ট এবং স্লো করতে পারবেন।

ভিভাভিডিওর যদিও একটি একটি ফ্রি ভার্সন রয়েছে, তবে ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক আসবে। তাছাড়া, ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করলে বড় ভিডিও এডিট করতে পারবেন না। সকল সুবিধা সম্বলিত যেকোনও ভিডিও এডিট করার জন্য আপনাকে প্রো ভার্সন কিনে এই বিধিনিষেধগুলি সরাতে হবে।

ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার নিয়ে পরিশেষ

তাহলে আপনার জন্য কোন ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার সেরা হবে? এখানে উল্লেখ করা সবগুলো Video editing apps ই ভালো। তবে আমার ব্যক্তিগত সাজেশন হলো-

  • যদি আপনি প্রফেশনাল ভিডিও এডিট করতে চান, তবে কাইনমাস্টার প্রো এর বিকল্প নেই।
  • সহজভাবে ছোট ছোট ভিডিও করার জন্য ইনশট বেস্ট।
  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউব শর্ট ভিডিও তৈরির জন্য ফানিমেট।

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য সেরা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার লিস্টটি আরো সমৃদ্ধ করতে আপনিও কন্ট্রিবিউট করতে পারেন। আমাদের তালিকায় উল্লেখ করা সেরা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর বাইরে আপনার জানা অন্য কোনো ভালো ভিডিও এডিটর থাকলে কমেন্ট করে সবার সাথে শেয়ার করুন।

2 thoughts on “মোবাইলে ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার – সেরা ১০টি”

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।