অনলাইনে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

বিএমইটি হলো বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকারী ক্লিয়ারেন্স। এখন ঘরে বসে অনলাইনে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকারী আগ্রহী তালিকায় নাম লেখানো যায়। বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম জেনে অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ও বিএমইটির দেওয়া বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান BMET (Bureau of Manpower, Employment and Training)। এটি “জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো” নামেই বেশী পরিচিত। বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করার উদ্দেশ্যে সরকার বিএমইটি প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে। এখান থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয় ও বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়। এসব সুবিধা নিতে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম জেনে প্রথমেই বিএমইটি কার্ড পেতে হবে। বিদেশ যাওয়ার অনুমতিস্বরূপ দেওয়া এই বিএমইটি স্মার্ট কার্ড অনেকের কাছে ম্যান পাওয়ার কার্ড নামেও পরিচিত।

সারাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে বিএমইটি-এর নেটওয়ার্ক। একনজরে বিএমইটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে দেখে নেওয়া যাক।

বিএমইটি কি

BMET কি কাজ করে?

বিদেশগামী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার নিয়ে কাজ করে বিএমইটি। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুগোপযোগী বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়ন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। বিএমইটি এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে তাদের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নীচে তুলে ধরা হলো:

  1. বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা।
  2. তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াকরণ।
  3. বৈদেশিক কর্মসংস্থানে যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের ছাড়পত্র প্রদান।
  4. আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন ।
  5. বিদেশে বাংলাদেশের কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণ, সার্বিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
  6. কর্মপ্রত্যাশীদের তালিকা করণ ও সম্ভাব্য কর্মসংস্থানে নিয়োগ সহায়তা প্রদান।
  7. বিভিন্ন কর্মোপযোগী ও পেশাভিত্তিক ট্রেডে প্রাতিষ্ঠানিক ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান।
  8. চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক কখনো বিশেষ কার্যক্রম গ্রহন ও বাস্তবায়ন।
  9. প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সমন্বয় সাধন।

অর্থাৎ, বিএমইটি প্রবাসীদের কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদেরকে দেশে ও প্রবাসে সার্বিক সহায়তা করছে। তাদের নিরপদ কর্মপরিবেশ তৈরি ও আদর্শ জনশক্তি রূপে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সেবাসমূহকে ডিজিটাল করা হয়েছে। যার ফলে এখন ঘরে বসেই করতে পারছেন বিএমইটির রেজিস্ট্রেশন।

অনলাইনে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

স্মার্টফোন, কম্পিউটার সহ ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইসগুলো দিয়েই এখন করা যাচ্ছে বিএমইটি এর রেজিস্ট্রেশন। এর জন্য যা যা করতে হবে তা ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো। প্রতিটি ধাপ সঠিক ভাবে অনুসরন করলেই আপনি সফল ভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। তাহলে শুরু করা যাক:-

আমি প্রবাসী অ্যাপ রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

১. আমি প্রবাসী অ্যাপ ডাউনলোড: প্রথমেই চলে যান গুগল প্লে স্টোর (Google Play Store) এ। অথবা গুগলে সার্চ করুন “আমি প্রবাসী” বা “Ami Probashi” অ্যাপ। তারপর এটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে ফেলুন।

২. মোবাইল নাম্বার দিন: অ্যাপটি ওপেন করলে যে ইন্টারফেস আসবে সেটাতে এখন যে দেশে আছেন সেই দেশ সিলেক্ট করুন ফোন নাম্বারের কান্ট্রিকোড এর জন্য। তারপর যে নাম্বার দিয়ে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করতে চাচ্ছেন সেই নাম্বারটি দিন। এবার “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করুন।

৩. ভেরিফাই করুন: যে ফোন নাম্বারটি দিয়েছিলেন সেটিতে একটি কোড যাবে। দ্রুত সেই কোডটি বসিয়ে দিন। ‘কনফার্ম’ এ ক্লিক করুন।

৪. পাসওয়ার্ড সেট: পাসওয়ার্ড দেওয়ার জন্য বক্স চলে আসবে সামনে। শক্তিশালী কিন্তু মনে রাখার মতো পাসওয়ার্ড দিন। নীচের ঘরে একই পাসওয়ার্ডটি পুনরায় লিখুন। এবার “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করতে হবে। এবার ভেসে উঠবে “ঠিক আছে” নামে একটি বাটন। সেটাতে ক্লিক করুন।

৫. দেশ নির্বাচন: সামনে চলে আসবে অনেকগুলো দেশের নামের তালিকা। আপনি যে দেশেগুলোতে যেতে ইচ্ছুক এরকম কমপক্ষে ৩ টি দেশের নাম সিলেক্ট করতে হবে। তারপর “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করতে হবে।

৬. দক্ষতা নির্বাচন: এবার কারিগরি দক্ষতার তালিকা সামনে এসে গেল। বেছে বেছে আপনার দক্ষতাগুলো সিলেক্ট করুন। সিলেক্ট করা হয়ে গেলে “সম্পন্ন” বাটনে ক্লিক করে এরপর “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করতে হবে।

৭. ব্যক্তিগত তথ্য: এবার আপনার সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হবে। আপনি পুরুষ নাকি মহিলা, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির অবস্থা, আপনি কি এখন বিদেশে কর্মরত? আপনার বিএমইটি স্মার্টকার্ড আছে কি না? সবগুলো বক্স সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করে “সম্পন্ন” বাটনে ক্লিক করবেন। তারপর আমি প্রবাসি এর পক্ষ থেকে একটি উইন্ডো আসবে। সেটাতে “ঠিক আছে” অপশনে ক্লিক করুন।

BMET রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

এবার আপনি অ্যাপসের মূল অংশে চলে এসেছেন। এখানে আপনি ভ্যাক্সিন রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট অফিস, Recruiting Agency অফিস, জনশক্তি অফিস, মেডিকেল সেন্টার, ট্রেনিং সেন্টার, দূতাবাস ইত্যাদি অনেক অপশন পাবেন। আপনার যখন যে সেবা প্রয়োজন হবে সেটা এখান থেকে ব্যবহার করতে পারবেন সহজেই।

প্রাথমিক কাজগুলোতো ইতিমধ্যে সেরেই ফেলেছেন। এবার চলুন ধাপে ধাপে অনলাইনে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম অনুসারে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলা যাক:

১. বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন: অ্যাপসের উপরের দিকেই রয়েছে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন অপশন। সেটার উপর ক্লিক করলে একটি বক্স চলে আসবে। বক্সগুলো পূরণ করে ফেলুন আপনার তথ্যগুলো দিয়ে। তারপর ক্লিক করতে হবে “পরবর্তী” বাটনে।

২. পাসপোর্ট স্ক্যান করুন: এবার যে পেজটি সামনে আসবে সেখানে একটি ম্যাসেজ দেখাবে “মাত্র ৩০০ টাকা প্রদানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। রেজি. শুরু করার জন্য আপনার পাসপোর্ট থাকা আবশ্যক”। এই পেজ এর নীচের দিকেই পাসপোর্ট স্ক্যান করার অপশন রয়েছে। সেখানে ক্লিক করুন। ‘গ্যালারি’ ও ‘ক্যামেরা’ নামক দুটি অপশন। এখান থেকে দুইভাবে পাসপোর্ট স্ক্যান করা যাবে। পাসপোর্ট স্ক্যান করার দুটি নিয়মই নীচে দেয়া হলো:

৪. পাসপোর্ট তথ্য যাচাই: আপনার পাসপোর্টের সব ডিটেইলস অটোমেটিক এখানে চলে আসবে। যদি না আসে তবে আপনি নিজে টাইপ করে পূরণ দেবেন। সকল তথ্য চেক করে যাচাই করে নিন। কোনো তথ্য ভুল থাকলে তা ঠিক করে দেবেন। সব ঠিক থাকলে “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করুন।

৫. ব্যাক্তিগত তথ্য দিন: আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য দেওয়ার জন্য নতুন আরেকটি ফর্ম সামনে আসবে। এটাতে আপনার পিতার নাম, মাতার নাম, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, উচ্চতা, ওজন এগুলো চাওয়া হবে। তাই খালি বক্সগুলো সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। এবার “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন।

৬. যোগাযোগ তথ্য: আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য তথ্য চাওয়া হবে এবারের পেজে। আপনার মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, স্থায়ী ঠিকানা, থানা/উপজেলা, ওয়ার্ড/ইউনিয়ন, এলাকা/গ্রাম, বাড়ির নাম/নং এগুলো দেওয়ার জন্য বক্স চলে আসবে। সবগুলোতে তথ্য দিন। তবে ই-মেইল দেওয়াটা অপশনাল (যদি থাকে দিতে পারেন, না থাকলে প্রয়োজন নেই)।“পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করুন।

৭. নমিনী তথ্য: এই পেজে আপনার কাছে নমিনীর তথ্য চাওয়া হবে। নমিনীর সাথে আপনার সম্পর্ক, নাম, আইডি কার্ড, নমিনীর মোবাইল নম্বর, উনার পিতা-মাতার নাম এগুলো আপনি ইংরেজীতে পূরন করে দিবেন। সব ঠিক থাকলে ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করুন।

৮. জরুরী যোগাযোগ মাধ্যম: জরুরী ভিত্তিতে আপনার সাথে যোগাযোগের তথ্য দেওয়ার ফর্ম চলে আসবে সামনে। অর্থাৎ, আপনাকে না পেলে যার মাধ্যমে আপনার সাথে জরুরি ভাবে যোগাযোগ করা যাবে। যার সাথে যোগাযোগ করা হবে তার নাম, তার সাথে আপনার সম্পর্ক, তার মোবাইল নাম্বার লিখে দেবেন। আবার “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করে দিন।

৯. শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য: আপনার ডিগ্রি, পাশের সাল, প্রতিষ্ঠানের নাম, বোর্ড, বিষয়, গ্রেড/ডিভিশন এই তথ্যগুলো চাওয়া হবে। ফর্মের মধ্যে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিয়ে খালিঘরগুলো পূরণ করে দিন। যদি আরো শিক্ষাগত যোগ্যতা যোগ করতে চান তবে নীচের দিকে “আরো যোগ করুন” নামক বাটনে ক্লিক করলে আরো শিক্ষাগত যোগ্যতা যোগ করে দিতে পারবেন। ভালোভাবে সবগুলো তথ্য চেক করে দেখে “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করুন।

১০. ভাষাগত দক্ষতা: আপনি কোন কোন ভাষাতে দক্ষ তা এখানে যোগ করে দিন। আপনি মৌখিকভাবে কোন ভাষাগুলো ভালো পারেন, লিখিত ভাবে কোনগুলো পারেন এগুলো যোগ করুন।যদি একাধিক ভাষায় দক্ষ হয়ে থাকেন তবে পেইজের নীচের দিকে ‘ভাষাগত দক্ষতা যোগ করুন’ অপশনে ক্লিক করে একাধিক ভাষা সিলেক্ট করে দিতে পারবেন। পুনরায় ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করুন।

১১. তথ্য যাচাই:  এই পেজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে বলা হয়েছে আপনি পেমেন্ট করার আগে এতক্ষণ যাবৎ যে তথ্যগুলো দিয়েছেন সেগুলো পুনরায় যাচাই করে নিন। যদি কোনো ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন তবে আপনার আবেদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে।

সুতরাং, এখানে প্রদানকৃত সব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে। তাই আপনার সব তথ্য পুনরায় যাচাই করার জন্য ডানপাশের ‘রিভিউ’ লেখা বাটনটি ক্লিক করুন। সাবধানতার সহিত সবকিছু রিভিউ করার পর এই পেইজের বামপাশের ‘পরবর্তী’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

১২. পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন: এবার ‘ভেরিফিকেশন’ নামের একটি পেজ সামনে আসবে। এখানে বলা হয়েছে আপনার পাসপোর্টের তথ্য যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এখন “ঠিক আছে” অপশনে ক্লিক করুন।

১৩. অপেক্ষা করুন: এবার অপেক্ষার পালা। সবারই ৭২ ঘন্টা সময় লাগে না। কারো ৪৮ ঘন্টা পরেই পেমেন্টের অপশন চলে আসে। কখনো আরো কম সময়ও লাগে। সেটা আপনার ভাগ্যের উপর নির্ভর করবে।

যদি এই যাচাই সফল হয় তবে পেমেন্টের অপশন চলে আসবে। আর যদি যাচাই ব্যর্থ হয় তবে পেমেন্টের অপশন আসবে না। নীচের দিকে ‘আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন’ নামে অপশন আসবে। সেখানে ক্লিক করে আবার প্রথম থেকে সবকিছু শুরু করতে হবে। সাধারনত ভুল তথ্য প্রদান করলে এধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

১৪. পেমেন্ট অপশন: ২ দিন অপেক্ষার পর অ্যাপসে প্রবেশ করে চেক করে দেখবেন পেমেন্টের অপশন এসেছে কি না? এজন্য অ্যাপসটি ওপেন করার পর উপরের দিকেই ‘আবেদন প্রক্রিয়াধীন’ নামে একটি অপশন থাকে সেখানে ক্লিক করলেই যাচাইয়ের অবস্থা দেখতে পারবেন। আগেই বলেছি যে যদি যাচাই সফল হয় তবে এখানে ‘পেমেন্ট করুন’ অপশন আসবে। এবার এই অপশনে ক্লিক করুন।

১৫. পেমেন্ট করুন: এবার দুটি অপশন আসবে টাকা পেমেন্ট করার। ‘নগদ’ ও ‘বিকাশ’ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ঘরে বসেই টাকা পেমেন্ট করতে পারবেন। এখন আপনার সুবিধা অনুযায়ী নগদ বা বিকাশ সিলেক্ট করে টাকা পেমেন্ট করুন। আপনাদের সুবিধার্থে বিকাশে টাকা পেমেন্ট করার নিয়মটি লিখে দেওয়া হলো:

  • “বিকাশ” লেখা বাটনের উপর ক্লিক করলে “bKash Payment” নামক উইন্ডো আসবে।
  • স্বয়ংক্রিয় ভাবেই পেমেন্টের পরিমান ৩০০ টাকা লেখা থাকবে। এবং একটি খালি বক্সে যে বিকাশ নাম্বার থেকে পেমেন্ট করবেন সেই নাম্বার দেওয়ার জন্য বলা হবে। তাই বিকাশ নাম্বার দিয়ে “CONFIRM” বাটনে ক্লিক করুন।
  • তারপর বিকাশ থেকে একটি কোড আসবে সেই নাম্বারে। সেই কোডটি এখন ফাঁকা বক্সে লিখে দিয়ে “CONFIRM” বাটন চাপুন।
  • এবার ফাঁকা বক্সে সেই বিকাশ একাউন্টের পিন নাম্বার দিয়ে আবার “CONFIRM” এ ক্লিক করতে হবে।
  • আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ আসার মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন হয়ে যাবে।

অভিনন্দন! আপনি সফল ভাবে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করতে পেরেছেন। এখন “আমি প্রবাসী” অ্যাপসে প্রবেশ করলে উপরের দিকে “বিএমইটি কার্ড” নামক অপশন আসবে। এখানে ক্লিক করলে আপনার সকল তথ্য দেখতে পাবেন।

বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন চেক করার নিয়ম

উপরের নিয়মগুলো অনুসরন করে এতক্ষনে নিশ্চয় আপনার বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে ফেলেছেন। কিন্তু চেক করে দেখে তারপর তো নিশ্চিত হতে হবে, তাই না? তাহলে চলুন বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন চেক করার নিয়ম দেখে নিন:

১. প্রথমেই গুগল বা অন্য কোনো ব্রাউজার ওপেন করে বিএমইটি এর ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

২. এবার Database Searching নামক পেজে চলে এসেছেন। এখনে সার্চ করার জন্য কিছু ক্যাটাগরি রয়েছে। অর্থাৎ, আপনি কিসের মাধ্যমে সার্চ করতে চান। যেমন, Job Category, Upazila, District, Reg. ID, Passport ID ইত্যাদি। এখান থেকে Passport ID এর ঘরটিতে চিহ্ন দিয়ে দিন। তাহলে আপনি আপনার পাসপোর্ট নাম্বার দিয়েই সহজে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন চেক করতে পারবেন।

৩. Passport ID লেখাটির ডানপাশের খালি ঘরে আপনার পাসপোর্ট নাম্বারটি লিখে দিন। এবার নীচের দিকে “Find” বাটন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করুন।

বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন চেক করার নিয়ম

৪. তৎক্ষনাৎ আপনার সকল তথ্য সামনে চলে আসবে। আপনার পিতার নাম, মাতার নাম, জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার, জব নেম, পাসপোর্ট নাম্বার সব চলে আসবে। তাহলে বুঝা যাবে যে, আপনার বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন সফল হয়েছে। আর যাদের তথ্যগুলো আসবে না তাদের রেজিস্ট্রেশন সফল হয়নি।

ব্যাতিক্রম: কারো কারো রেজিস্ট্রেশন সফল হলেও পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সার্চ করার পর তাদের তথ্য সামনে চলে আসে না। তাই এক্ষেত্রে কোনো সমস্যার কারনে তথ্যগুলো নাও আসতে পারে। যদি এরকম হয় তবে অবিলম্বে বিএমইটি এর হেল্পলাইনে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করে আপনার সমস্যার কথা তাদেরকে জানান। আপনাদের সুবিধার্থে বিএমইটি হেল্পলাইন নাম্বার নীচে দেওয়া হলো:

  • ০২৪৯৩৫৭৯৭২
  • ০৮০০০ ১০ ২০ ৩০ (টোল ফ্রি)
  • + ৮৮ ০১৭৯৪ ৩৩৩ ৩৩৩
  • + ৮৮ ০১৭৮৪ ৩৩৩ ৩৩৩

উপরের যেকোনো নাম্বারে ফোন করে আপনার সমস্যার কথা জানালে কর্তৃপক্ষ এটা সমাধান করে দিবেন।

এভাবেই ধাপে ধাপে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর চেক করে নিতে হয়।

বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন ফি কত?

বিএমইটিতে সফল নিবন্ধনের জন্য সরকারি ফি ২০০/= টাকা দিতে হয়। আর অতিরিক্ত হিসেবে “আমি প্রবাসী” অ্যাপের সার্ভিস চার্জ করসহ ১০০/= টাকা প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ, BMET এর মোট রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র ৩০০/= টাকা।

বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম নিয়ে শেষ কথা

বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম উপরে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই উপরের পদ্ধতি যথাযথ অনুসরণ করে থাকলে আপনি সফল ভাবে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করতে পেরেছেন। রেজিস্ট্রেশন করার পর অবশ্যই বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন চেক করে নিতে হবে।

বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম অথবা সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।