পারিবারিক বন্ধন বৃদ্ধি করতে পারে মজার যে ৮টি কাজ

পারিবারিক বন্ধন বৃদ্ধি
68

পারিবারিক বন্ধন বৃদ্ধি করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রযুক্তির এ যুগে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক প্রতিনিয়ত হালকা হয়ে যাচ্ছে। ৫ বছরের বাচ্চারা কাছেও যেন এখন বাবা-মায়ের চেয়ে ভিডিও গেমস জরুরী। কিন্তু মজাদার অনেক কাজ রয়েছে যেগুলো মাঝে মাঝে পরিবারের সবাই একসাথে মিলে আয়োজন করলে একে অপরের সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানা যায়, হাজারো সুন্দর স্মৃতি তৈরির পাশাপাশি পরিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়। পারিবারিক বন্ধন যার ভাল নয়, জীবন তার কাছে দুঃসহ হয়ে উঠে।

পারিবারিক বন্ধন তৈরির উপায়

আপনার পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে আমরা আজ ৮ টি মজার কাজের লিস্ট তৈরি করবো যা হয়তো আপনার জীবনকে নতুনভাবে উপভোগ করার উপায় দেখাবে।

১) বোর্ড গেম আয়োজন করুন :

স্মার্টফোন, ডিজিটাল স্ক্রিনের বাইরে  এসে ট্র্যাডিশনাল কোন গেম আয়োজন করুন। হতে পারে  ক্রাম বোর্ড, লুডু, বা কার্ড অথবা অন্যকিছু। সাপ্তাহিক দিনগুলোতে বা মাসে একবারও আয়োজন করা যেতে পারে।

যেকোন গেম সিলেক্ট করুন এবং একটি গেম নাইট তৈরি করুন, ভবিষ্যতে মনে করার জন্য অনেক স্মৃতি তৈরি করতে পারবেন।

২) পিকনিক আয়োজন :

বন্ধন দৃঢ় করতে এটি সবসময়ই ফলপ্রসু একটি উপায়, যা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন তৈরিত প্রায়সই আয়োজন করা হয়। কিন্তু ফ্যামিলি পিকনিক করতে আমরা খুব একটা আগ্রহী নই।

পারিবারিক পিকনিক আয়োজন করার জন্য দূরে কোথাও না গেলেও চলবে, এমনকি আপনার বাড়ির ছাদে বা আঙিনাতেও হতে পারে, বারবিকিউ পার্টি করেও একটা সুন্দর ফ্যামিলি পিকনিক করা যেতে পারে। পিকনিকে যেন সবাই কাজ করার সুযোগ পায় সেটা নিশ্চিত করুন, তাহলে দেখবেন কি সুন্দর একটা দৃশ্য আপনার সামনে চিত্রায়িত হয়েছে।

৩) পারিবারিক বন্ধন বৃদ্ধি করতে মুভি নাইট আয়োজন :

পারিবারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি

মুভি বেশিরভাগ মানুষই পছন্দ করে এমনকি বাচ্চারাও ব্যতিক্রম নয়। সিনেমার যাদু আমাদের পরস্পরকে আরো কাছ নিয়ে আসতে সাহায্য করে। তাই পারিবারিক সম্পর্ক গাঢ় করার জন্য লেটেস্ট রিলিজড মুভি অথবা পুরাতন কোনো ক্লাসিক মুভি দেখার জন্য মুভি নাইট সেট করতে পারেন। নেটফ্লিক্স এর জন্মই হয়েছিল ফ্যামিলি মুভি নাইট তৈরির উদ্দেশ্যে।

৪) হাটতে বের হন :

হাটা ফিটনেসের জন্য খুবই উপকারী। হাটার কারণে রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকে, হৃৎপিন্ড ভাল থাকে এবং ওজন হ্রাস পায়। কিন্ত পরিবারের সাথে  হাটলে একসাথে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন যা পরস্পরের মাঝে সম্পর্ক সুন্দর দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।

৫) পারিবারিক সম্পর্ক গাঢ় করতে ফ্যামিলি ট্যুর :

আমরা আজকাল অনেক বেশি পর্যটন প্রিয় হয়ে উঠেছি, কিন্তু পরিবারকে সাথে নিয়ে ট্যুর দেওয়ার চিন্তায় পিছিয়ে রয়েছি। একসাথে নতুন জায়গায় নতুন নতুন মোমেন্ট তৈরির এমন সুযোগ আর হয়না।

ফ্যামিলি ট্যুরে কখনো এক জায়গায় বারবার যাবেন না। প্র্রতি বছর একবার হলেও নতুন কোন জায়গায় ঘুরে আসুন। পারিবারিক ট্যুর সবার মন ফ্রেশ করে তুলবে যা আগামী দিনগুলোতে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

৬) ডিনার পার্টি আয়োজন :

পরিবারির সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি

পরিবারের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশি এবং বন্ধুদেরকে নিয়ে ডিনার পার্টি আয়োজন করতে পারেন। এমন আয়োজন আপনার বাচ্চাদের নতুন নতুন বন্ধু তৈরিতে সাহায্য করবে, তারা নিজেদেরকে আরো সামাজিকভাবে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আপনার বাচ্চাদের সামাজিকভাবে সমৃদ্ধ হতে দেখলে নিশ্চয়ই আপনার ভাল লাগবে।
তাছাড়া এমন আয়োজনে বাচ্চারা নিজেদের জন্য উপযুক্ত বন্ধু খুঁজে পাবে যা ভবিষ্যতে খারাপ বন্ধুদের সঙ্গী হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

৭) বাগান তৈরি করুন :

বাগান আমাদের মনকে সতেজ এবং প্রফুল্ল করে। আশে-পাশে বাগান থাকলে সজীব অক্সিজেন পাওয়া যায়, কার্বনে সয়লাব এই যুগে যা একান্ত প্রয়োজন।

একসাথে বাগান করা, কঠোর পরিশ্রম, পরিচর্যা এবং অবশেষে যখন সাফল্য দেখতে পারেবেন তখন আপনার মনে শেয়ারিং এর একটি সুন্দর স্মৃতি তৈরি হবে। বাচ্চারা আপনার আরো কাছে চলে আসবে, প্রতিদিন একসাথে নিজেদের সাফল্য উদযাপন এবং উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হবে।

৮) প্রতিযোগিতা আয়োজন :

পারিবারিক আয়োজনে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আপনার বাচ্চার প্রতিভা এবং আগ্রহ সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাছাড়া প্রতিযোগিতা টিম ওয়ার্কের সুযোগ দেয় এবং লিডারশীপ সম্পর্কে ধারণা দেয় অর্থাৎ প্রতিযোগিতা আমাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করে। টিমওয়ার্কের মাধ্যমে আমাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে শেয়ারিং মনোভাবের সৃষ্টি হয়।

শেষ কথা :

পারিবারিক বন্ধন বৃদ্ধি করতে ছোট ছোট আয়োজন জীবনকে আনন্দদায়ক করতে পারে। পারিবারিক সম্পর্ক গাঢ় করতে উপরের উল্লিখিত আয়োজনগুলো পরীক্ষিত এবং কার্যকরী। এগুলো ছাড়াও পরিবারের সাথে সম্পর্ক সুন্দর করতে একসাথে গল্পের বই পড়া, নতুন কিছু একসাথে শেখা, নিজের দক্ষতা অন্যদেরকে শেখানোও ভাল উপায় হতে পারে।

আপনার সবগুলো উপায় অবলম্বন করতে হবে এমন নয়, কিন্তু পরিবারকে কোন কিছুর কথা দিয়ে কথনো ভুলে যাবেন না বা অবহেলা করবেন না। পরিবারকে আপনার ভয়ে তটস্থ রাখবেননা, পরিবারের সকলের মাঝে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, বেঁচে থাকাটা তখন হয়তো আর অনর্থক মনে হবেনা।

জানার আগ্রহ থেকে whyorhwn এবং Pratiborton এ লেখালেখি করি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *