গুগল কি? Google এর জনক ও ইতিহাস

গুগল কি

গুগল কি – what is Google? গুগল একটি সার্চ ইঞ্জিন, এটি কে না জানে? ব্রাউজারে প্রবেশ করে, যেই বার এ আমরা কোনো কিছু লিখে সার্চ করি, তাইতো গুগল। এমনটাইতো ভাবছেন? কিন্তু, কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, গুগল কিভাবে কাজ করে? গুগল এর পরিচয় কি এতোটুকুই, নাকি এর বাইরেও কিছু আছে?

গুগল সার্চ ইঞ্জিন আসলে কি, আজকে গুগলকে আপনার সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবো। গুগল এর পরিচয় শুধু ওই সার্চ বার ছাড়িয়ে, আজ আপনার আর আমার প্রায় প্রতিটি কাজে জড়িয়ে গেছে।

শুনে অবাক হবেন, এই সার্চ ইঞ্জিন ছাড়াও গুগল এর আরও ৫০ টিরও বেশি সার্ভিস এবং, প্রোডাক্ট রয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১০ সালের পর থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই, গুগল নতুন নতুন অনেক সার্ভিস ক্রয় করা অব্যাহত রেখেছে। বুঝুন তবে, গুগল নামক এই সার্চ ইঞ্জিন এর কতটুকু জানি আমরা?

নড়েচড়ে বসুন। কারণ আমরা আজ গুগল কি, গুগলের জনক, এর জন্ম থেকে, আজ অব্দি যতো বিষয় আছে, গুগল এর কি কি সার্ভিস আছে, এমনকি এর ভবিষ্যত ও জানবো আজ।

গুগল কি? what is google

গুগল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন, যা মানুষের প্রয়োজনীয় সার্চ করা সমস্যা, প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে সামনে নিয়ে আসে। গুগল আমাদের প্রয়োজনীয় সংবাদ, ওয়েবসাইট, ভিডিও, ইমেজ, লোকেশনসহ আরো বিভিন্ন জিনিস সহজে খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

তবে গুগল তার যাত্রা একটি সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে শুরু করলেও এখন কিন্তু গুগল বলতে সার্চ ইঞ্জিন বললে চলছে না। গুগলকে যদি আপনি শুধু সার্চ ইঞ্জিন বলেন, তবে ইউটিউবকে কি বলবেন? কারণ ইউটিউবের বর্তমান মালিকও গুগল, যেটি আবার দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন। পিক্সেল মোবাইলের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন! এই মোবাইলটিও গুগল কোম্পানীর। ব্লগ, ওয়েবসাইট, কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখার সময় যে অ্যাড দেখেন সেটিও গুগলের, যা গুগল এডসেন্স নামে পরিচিত।

তাই, গুগল বর্তমানে তার বিভিন্ন সেবা, সার্ভিস, টুল, ডিভাইস মিলিয়ে একটি বিশাল মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে গুগলের কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১লাখ, যারা গুগলের বিভিন্ন পরিসেবার সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের বাংলাদেশ থেকেও বর্তমানে গুগলে অনেকেই জব করছেন।

গুগল এর জনক কে? history of Google  in Bangla

গুগল সার্চ ইঞ্জিন কিইতিহাসের প্রথম থেকেই শুরু করা যাক। google একটি আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, যা ইন্টারনেট সম্পর্কিত বিভিন্ন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সার্ভিস প্রদান করে থাকে। এর হেডকোয়ার্টার ক্যালিফোর্নিয়ার, মাউন্টেইন ভিউ তে অবস্থিত। আর এই হেডকোয়ার্টার এর নাম, গুগলপ্লেক্স।

গুগল এর ডেভেলপমেন্ট শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন পি এইচ ডি ছাত্র এটি তৈরি করেন। এদের নাম হলো, ল্যারি পেইজ এবং সার্গে ব্রেইন। গুগল ছিল তাদের রিসার্চ প্রজেক্ট। ইন্টারনেট এর শুরুর দিকে সবকিছু আসলে খুবই অগোছালো ছিল। নতুন নতুন ওয়েবসাইট তো তৈরি হচ্ছিল ঠিকই। আবার তাতে অনেক তথ্যও পাবলিশ হতো। কিন্তু, কোন ওয়েবসাইটে কি তথ্য আছে, তা খুঁজে বের করা প্রায় অসাধ্য ছিল। কেউ যদি ওয়েবসাইট এর নাম জানতো, তবেই তা থেকে তথ্য খুঁজে পেতো।

ল্যারি পেইজ এবং সার্গে ব্রেইন চিন্তা করছিলেন, এমন কোনও অ্যালগরিদম তৈরি করতে, যার দ্বারা কোনো একটি শব্দ সার্চ করা হবে। আর, সে সম্পর্কিত সকল তথ্যের লিঙ্ক খুঁজে পাওয়া যাবে। এরই ভিত্তিতে তারা কাজ শুরু করেন। আর, গুগল কে যে আমরা এখনো সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে চিনি, এটি আসলে সার্চ ইঞ্জিন হিসেবেই যাত্রা শুরু করেছিলো।

তখন অবশ্য এই সার্চ ইঞ্জিন এর নাম গুগল ছিলোনা। BackRub নামক অ্যালগরিদম দ্বারা তৈরি হয়েছিলো বলে, এর নাম রাখা হয় ব্যাকরাব (BackRub). সে সময় এর কোনো অফিসিয়াল ডোমেইন ছিলোনা। পরে ১৯৯৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, তারা google.com নামে নিজেদের অফিসিয়াল ডোমেইন রেজিস্টার করেন। অবশেষে, ১৯৯৮ এর চৌঠা সেপ্টেম্বর থেকে, গুগল নামে ইন্টারনেট জগতে যাত্রা শুরু হয়।

Related:  গুগল একাউন্ট খোলার নিয়ম | How to create Google Account

গুগলের যাত্রা শুরুর দিকে, এর লোগো টি ডিজাইন করা হয় GIMP নামক একটি ফ্রি সফটওয়্যারের মাধ্যমে। আর বর্তমান লোগোটি ডেভেলপ করেন, রুথ কেদার।

মনে হতে পারে, গুগল বুঝি শুরু থেকেই এত দাপটের সাথে ব্যবসা করে আসছে। কিন্তু, অন্য সব নতুন স্টার্টআপের মতো, গুগল এর আর্থিক অবস্থা ছিল করুণ। আজ যে এত বড় গুগলপ্লেক্স তৈরি হয়েছে, এর শুরু হয়েছিলো একটি গ্যারেজের মধ্যে। ভাবতেই অবাক লাগে, তাইনা?

গুগল এর যাত্রা কালে, খুব অল্প সংখ্যক সার্চ ইঞ্জিন তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু তাদের কেউই এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। এখনও অল্প কিছু সার্চ ইঞ্জিন টিকে থাকলেও, গুগলের সাথে পাল্লা দেয়ার কথা তারা ভাবতেও পারে না। পুরো পৃথিবীতে, সবচেয়ে বেশি ভিজিট করা ওয়েবসাইট একমাত্র গুগল।

জন্মের পর থেকে আজ অব্দি, গুগল এর জনপ্রিয়তা শুধু বেড়েই চলেছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে, অনলাইন সার্চ এর ৭০ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করে এই কোম্পানি। গুগল প্রতি সেকেন্ডে, গড়ে ৪০ হাজারেরও বেশি সার্চ রেজাল্ট অনুসন্ধান করে। ২০০০ সালের জুন মাসে, একে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০১৫ সালে, গুগল নিজেকে অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেশনের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বলে ঘোষণা করে। সে বছরের ১০ই আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত, গুগল এর সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত, সুন্দর পিচাই। তার বীচক্ষণ উদ্যোগের কারণে, গুগলের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে।

গুগল কিভাবে আয় করে?

গুগল কি তা না হয় জানলেন, তবে আপনি কি জানেন, গুগল এর বার্ষিক আয় কত? ২০২১ সালে, গুগলের বার্ষিক রেভিনিউ ছিল ৬৫.১ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় ৫,৫৮৮,০৬৫,৫১৮,০০০ টাকা। অর্থাৎ,পাঁচ লাখ আটান্ন হাজার আটশত ছয় কোটি পঞ্চান্ন লাখ আঠার হাজার টাকা!

আমরা যখন গুগলে কিছু সার্চ করি, তার জন্য গুগল আমাদের থেকে কোনও টাকা কেটে নেয় না। তাহলে , এত পরিমাণ আয়ের উৎস কি?

গুগলের আয়ের মূল উৎস, সার্চ ইঞ্জিন নয়। বরং অ্যাডভার্টাইজমেন্ট। খেয়াল করে দেখবেন, আপনার সার্চ রেজাল্ট এর লিঙ্ক এর পাশে ছোট্ট, করে ads কথাটি লিখা থাকে।

গুগলের বিশেষ অ্যালগরিদম এর কারণে, আমরা খুব সহজেই যেকোনো তথ্য পেয়ে যাই। আর এই কারণে গুগল এর ভিজিটর বা, ব্যবহারকারী অনেক বেশি। আবার, বিভিন্ন কোম্পানির, প্রোডাক্ট বিক্রয় করার জন্য প্রয়োজন অনেক অডিয়েন্স।

তাই, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট শো করার করার জন্য, গুগলকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পে করে থাকে। শুধুমাত্র অ্যাডভার্টাইজমেন্ট থেকেই, গুগল প্রতিদিন ১২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে থাকে।

গুগলের অন্যান্য সার্ভিস ও প্রোডাক্ট কোনগুলো?

এতক্ষনে নিশ্চয়ই গুগল কি তার উত্তর পেয়ে গেছেন, এবং আপনিও এখন একমত হবেন যে, এটি শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিন নয়। চলুন, আপনার ধারণাকে আরো একটু পরিষ্কার করতে আমরা গুগলের যেসব সেবা নিচ্ছি, অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিনের বাইরে গুগল আমাদের যেসব সার্ভিস দিচ্ছে সেগুলো দেখে নেওয়া যাক।

সুন্দর মুহুর্তগুলো ধরে রাখার জন্য, আমরা অসংখ্য ছবি তুলি। কিন্তু, এত ছবি স্টোর করে রাখার জায়গা তো নেই ডিভাইসে। চিন্তা কি? গুগল ফটোজ (Google photos) তো এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। আবার প্রয়োজনীয় ফাইল স্টোর ও লিঙ্ক শেয়ার করার জন্য, গুগল ড্রাইভ (Google drive) এর সমকক্ষ বুঝি আর নেই।

আর, জিমেইল (Gmail) ই বা বাদ দেই কি করে? আরে, আপনার হাতের স্মার্ট ফোন কি অ্যান্ড্রয়েড (Android) ? অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম (Android Operating System) যে গুগল এর একটি সফটওয়্যার, তা কি আপনি জানতেন?

গত দুই বছর যাবত, গুগল মিট (Google meet), গুগল ক্লাসরুম (Google classroom), এই দুটি অ্যাপ্লিকেশন তো ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এছাড়া Google Docs, Google sheet, Google slides, Google map, ইউটিউব কোনোটিই বাদ দেয়ার উপায় নেই। গেইম, গান ডাউনলোড করতে গেলেও আপনার প্রয়োজন Google play, Google Play store, Google music সফটওয়্যার গুলো।

শুধু কি তাই? বর্তমানে অনলাইন আয়ের একটি বিশাল মাধ্যম ব্লগিং। ব্লগার দের জন্যও গুগল এর রয়েছে স্পেশাল সার্ভিস। Blogger, Google ads, Google adsense, Google alerts, Google analytics, Google app engine, Google blog, Google URL shortener ইত্যাদি ।এই সার্ভিস গুলোর মাধ্যমে আপনি ব্লগ সাইট তৈরি থেকে শুরু করে, ব্লগ পোস্ট, মেইন্টেইন, অ্যাড শো করে আয় করা- সবকিছু করতে পারবেন।

Related:  সার্চ ইঞ্জিন কি? Search Engine কীভাবে কাজ করে?

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে, Google calender, Google Form. বিভিন্ন বিষয়ের উপর স্কলার লিটারেচার ও রিসার্চ পেপার আপনি পেয়ে যাবেন Google scholar এ।

Google Chrome তো এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্রাউজার । যেখানে Google gravityর মত মজাদার বিষয়গুলো আপনি দেখতে পাবেন। Google CSE (custom search engine) এর মাধ্যমে আবার আপনি নিজের পছন্দমত করে, সার্চ ইঞ্জিন সাজিয়ে নিতে পারবেন।

ওয়েব ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার দের জন্য রয়েছে, Google fonts. Google wallet নামে যে গুগলের একটি অর্থ আদান প্রদান সার্ভিস রয়েছে, তা কি আপনি জানতেন? আবার Wing নামে একটি ড্রোন ডেলিভারি সার্ভিস ও রয়েছে গুগলের। ড্রোনের মাধ্যমে, কম ওজনের প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেয়া হয় এর মাধ্যমে। আরো রয়েছে, নিউজ বুলেটিন সার্ভিস,  Google images নামে ইমেজ সার্চ সার্ভিস। যেখানে, টেক্সট এর বদলে, ছবি দিয়ে সার্চ করা যায়। ভিডিও চ্যাট এর জন্য রয়েছে Google duo.

আপনি যদি একজন বইপ্রেমী হয়ে থাকে, তবে Google Books কিন্তু আপনার জন্যই তৈরি হয়েছে। এখানে আপনি হাজার হাজার বই সার্চ, ডাউনলোড এবং পড়তে পারবেন।

গুগলের আরো একটি বিশেষ সার্ভিস হল, টুলবার। যারা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে, windows অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এই সার্ভিস। ব্রাউজারে প্রবেশের পর, ডান পাশে এই টুলবার খুঁজে পাবেন আপনি। এখান থেকে গুগলের সার্ভিস গুলো সরাসরি ব্যবহার করা যাবে।

শুধু সফটওয়্যার সার্ভিস নয়, গুগলের কিছু যুগান্তকারী হার্ডওয়্যার সার্ভিস ও রয়েছে। pixel নামে একটি স্মার্টফোন লঞ্চ করার মাধ্যমে শুরু হয় এই যাত্রা। আরো রয়েছে Chrome book নামক ল্যাপটপ। এই ল্যাপটপে, গুগলের নিজের তৈরি অপারেটিং সিস্টেম Chrome OS ব্যবহার করা হয়েছে। শুনে অবাক হবেন, বর্তমানে আমেরিকার বিদ্যালয় গুলোতে ব্যবহৃত ল্যাপটপ এর ৬০% ই chrome book.

Google daydreamer হলো, VR হেডসেট। আবার Google Home নামে ভার্চুয়াল হোম Assistant ও রয়েছে এই কোম্পানিটির।

অর্থ্যাৎ, যেকোনো বয়স, পেশার, সকলের জন্যই গুগলের কোনো না কোনো স্পেশালাইজড সার্ভিস রয়েছে। গুগলের সকল প্রোডাক্ট ও সার্ভিস দেখতে ক্লিক করুন।

গুগলের বন্ধ হয়ে যাওয়া সার্ভিস সমুহ

গুগলের কি সকল সার্ভিসই সফল? না, এমন অনেক সার্ভিস আছে, যেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু সার্ভিস অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রয় করা হয়েছে। কোনোটি আবার মার্জ করা হয়েছে। কিছু সার্ভিস আবার, অন্য কোম্পানির কোনো প্রোডাক্টের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারেনি।

এর মধ্যে রয়েছে Google +, Google Allo, Google buzz, Google base, Google First flip, Google help out, Tango, YouTube Video editor.

২০০৬ এর ডিসেম্বরে, Google answers সার্ভিস টি রিড-অনলি মোড করে দেয়া হয়। checkout কে ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর, রিপ্লেস করে দেয়া হয় Wallet এর সাথে। Google dictionary নামে পূর্বে যেই সার্ভিস টি চালু ছিলো, সেটি এখন গুগল সার্চ এর সাথেই মার্জ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে Google play নামে যেই সার্ভিস রয়েছে, সেটি একসময় Market নামে ছিল। ২০১২ সালে rebrand করে, Google play নামকরণ করা হয় এর।

গুগলের কিছু হার্ডওয়্যার সার্ভিসও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল Project Ara. এটি একটি এক্সপেরিমেন্টাল স্মার্টফোন ছিল। যা ২০১৬ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়।

গুগলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও সার্ভিস

গুগলের কিছু advanced technology কিন্তু আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। যেমন Google Wing. আবার Boston dynamic project এ রয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রোবট, যা কিনা একজন মানুষের মতই সকল কাজ করতে পারবে।

গুগল ফাইবার (Google fiber) নামে একটি সার্ভিস আমেরিকায় চালু হয়েছে। যার মাধ্যমে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল (optical fiber cable) দ্বারা ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়। এই সার্ভিস টি ইন্টারনেট ব্যবহার কে সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন করবে।

এগুলো তো বর্তমানে কাজ শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু, খুব শীঘ্রই, পুরো পৃথিবী এমন কিছু পরিবর্তন দেখতে যাচ্ছে, যা হয়তো শুধু কল্পনাতেই ছিল।

Related:  গুগল কিভাবে কাজ করে | How google search works

ধারণা করা হচ্ছে, হার্ডওয়্যার শিল্পে গুগল অন্য সব কোম্পানি কে টেক্কা দিয়ে, অবস্থান করবে সবার উপরে। খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, গুগলের স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ গুলো যথেষ্ট সাশ্রয়ী। তাই, মানুষ গুগলের দিকেই বেশি ঝুঁকবে।

খুব শীঘ্রই, loon balloons নামে একটি প্রজেক্ট চালু করবে গুগল। যার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যাবে ইন্টারনেট সেবা।

গুগলের প্রধান উদ্দেশ্য, ইউজার বৃদ্ধি করা। যতো বেশি ইউজার, তত বেশি তথ্য। আমরা যখন গুগল ব্যবহার করি, আমাদের সকল তথ্য গুগল স্টোর করে রাখে। আমাদের পছন্দ, অপছন্দ সবকিছু গুগলের কাছে রয়েছে। এই সব তথ্য ব্যবহার করেই কিন্তু গুগল প্রত্যেক ইউজার এর জন্য ভিন্ন ভিন্ন সার্ভিস শো করে।

খেয়াল করে দেখবেন, আমরা বিভিন্ন সময় বন্ধুদের সাথে অনলাইনে, কোনো একটি প্রোডাক্ট নিয়ে আলোচনা করি। এর কিছুক্ষন পরেই, ফেসবুক, ব্রাউজার সহ সব জায়গায় কিন্তু ওই প্রোডাক্ট এর অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দেখা যায়। এর কারণ হলো, গুগল আমাদের সমস্ত কথা বার্তা এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করে। এরপর এই সকল তথ্য ব্যবহার করে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট শো করে।

ভবিষ্যতে এই সার্ভিস আরো উন্নত হবে। আপনি চিন্তা করছেন, আর সেই প্রোডাক্টের পুরো ডিটেইলস আপনার সামনে চলে আসছে। এমনটা হলে খুব অবাক হওয়ার কিছু নেই।

বলে রাখা ভাল, গুগল কিন্তু এমন ডিভাইস তৈরির কথা ভাবছে, যা ব্যবহার করার জন্য ডিভাইসটিকে ছোঁয়ারও প্রয়োজন হবে না।

কিছুক্ষন আগেই বলছিলাম অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এর কথা। এখন পর্যন্ত advertisement শুধু অনলাইনে প্রবেশ করলেই দেখা যায়। ভবিষ্যতে offline advertisement চালু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে গুগল।

চোখের contact lens দিয়ে যদি রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপ করা যায়, তবে কেমন হবে? আবার, গাড়ি যদি নিজে নিজেই ড্রাইভ করে? এখন ভাবতে অবাক লাগলেও, গুগল কিন্তু আমাদের চেয়ে কয়েক হাজার গুন এগিয়ে আছে।

এমনি অনেক হাই ইন্ড সার্ভিস (high-end service), বাজারে নিয়ে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছে গুগল।

গুগল কিভাবে এত সফল (how Google is so successful)

প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে কিছু মূলমন্ত্র থাকে। থাকে কিছু বিশেষ স্ট্র্যাটেজি। গুগলের প্রাতিষ্ঠানিক মূলমন্ত্র টি খুবই ভিন্নধর্মী। এটি হলো, “don’t go evil”.

তবে, গুগল মূলত বিশ্বের সকল মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। ইন্টারনেট দুনিয়ার সকল তথ্য যেনো সবার জন্য সহজলভ্য হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে গুগল। আর এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি হল, ব্যবহারকারী বৃদ্ধি ও অ্যাডভার্টাইজিং।

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে আরো একটি বড় ফ্যাক্টর হল, এর কর্মী। গুগল যেমন আমাদের জন্য ইউজার ফ্রেন্ডলি ( user friendly), ঠিক তেমনি এর কর্মীদের জন্য এমপ্লয়ি ফ্রেন্ডলি (employee friendly).

বোঝাই যাচ্ছে, গুগলের কাজ গুলো খুবই সৃজনশীল। ক্রিয়েটিভ প্রতিষ্ঠান তো সবসময় কাজ করার জন্য ফ্রেন্ডলি হওয়াই চাই। এখানে কর্মরত, প্রত্যেকের জন্য গুগল উন্নত খাবার, কফি এবং নাস্তার ব্যাবস্থা করে রাখে। আবার, কেউ চাইলে তার প্রিয় পোষা প্রাণীটিকেও অফিসে নিয়ে আসতে পারে।

সাফল্যের চূড়ায় থাকা প্রতিষ্ঠান, গুগল কে দেখে বোঝার উপায় নেই, এর যে বেশ কিছু ফান ফ্যাক্ট ও রয়েছে।

যেমন, গুগলের ডুডল (doodle) এর কথাই ধরা যাক। এই মজার বিষয়টি ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট চালু করা হয়। খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, বিশেষ কোনো দিন বা ব্যক্তির স্মরণে, গুগল তার লোগো পরিবর্তন করে। কখনো হয়তো লোগোর মধ্যে ভেসে ওঠে কোনো ব্যক্তির ছবি। কখনো আবার লোগো তে ক্লিক করলে কোনো শর্ট অ্যানিমেশন দেখতে পাওয়া যায়।

গুগল কি এবিষয়ে শেষ কথা

আশা করি আমাদের আজেকের আলোচনা থেকে গুগল কি এই প্রশ্নের উত্তর আপনি জানতে পেরেছেন। গুগলের (Google) প্রতিটি সার্ভিসই গুগলকে দিন দিন সকলের কাছে আরো বেশি প্রিয় করে তুলছে।

যদিও এখন বিশ্বের সেরা ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গুগল রয়েছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে, নতুন নতুন সব প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে গুগল সবাইকে পেছনে ফেলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে, কারণ তারা যেভাবে নতুনত্বকে স্বাগতম জানায়, অন্য কেউ এতটা চ্যালেঞ্জ নিতে এখনো সেই তুলনায় কম আগ্রহী।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।