ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

কোন কারণে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে চাইলে অথবা বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করতে না চাইলে ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম জানতে হবে। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম জানা থাকলে আপনি ঘরে বসে কিংবা নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার থেকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে নিতে পারবেন।

তবে শুধুমাত্র বিকাশ একাউন্ট থাকলেই বন্ধ করা যায় না, এজন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করতে হয়। তাই, কিভাবে আপনার বিকাশ একাউন্ট ঘরে বসে সফলভাবে বন্ধ করতে পারবেন, সেবিষয়ে জানাতেই আমাদের আজকের আলোচনা। চলুন তবে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম জেনে নেওয়া যাক।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম | How to delete bKash account

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার ২টি উপায় রয়েছে। প্রথমত, ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করা যায়, দ্বিতীয়ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে আবেদন করলে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে একাউন্ট বন্ধ করে নিতে পারবেন।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার পদ্ধতি আপনি যেটাই বেছে নিন না কেন, একাউন্ট ডিলিট করার জন্য আপনার কিছু প্রয়োজনীয় রিকুয়েরমেন্টস পূরণ করতে হবে। চলুন তবে সেসব জেনে নেওয়া যাক।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য যা যা করতে হবে

১. ব্যালেন্স জিরো করা: বিকাশ একাউন্ট ডিলিট করার পর আপনি আর কোনভাবেই তা এক্সেস করতে পারবেন না। সুতরাং, একাউন্টে টাকা থাকা অবস্থায় একাউন্ট ক্লোজ করলে টাকাগুলো নষ্ট হবে। যদিও, বিকাশ এজেন্ট যদি আপনার ব্যালেন্স চেক করে টাকা পায়, তবে একাউন্ট বন্ধ করবেনা। তারপরেও, নিজের অর্থের কথা বিবেচনা করে আপনার বিকাশ একাউন্টে কত টাকা আছে তা চেক করে অন্য কারো একাউন্টে ট্রান্সফার করুন, অথবা ক্যাশ আউট করে ব্যালেন্স ০ করে ফেলুন।

২. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস: বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ডের অরিজিনাল কপি এবং সর্বশেষ লেনদেনের তথ্য জানতে হবে। ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম ফলো করে একাউন্ট বন্ধ করতে চাইলে ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার জানলেই হবে। তবে, এজেন্ট আপনার বাবা ও মায়ের নাম জানতে চাইতে পারে।

৩. প্রয়োজনীয় ডিভাইস: আপনার bkash account deactivate করার জন্য অবশ্যই যে সিমের নাম্বারে বিকাশ একাউন্ট খোলা হয়েছিল তা সচল রাখতে হবে। এজন্য আপনার একটি সচল মোবাইল প্রয়োজন হবে।

ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য বিকাশ হেল্পলাইন 16247 নাম্বারে আপনার একাউন্ট রেজিষ্টার করা সিম থেকে কল দিন। কোন অবস্থাতেই অন্য নাম্বার থেকে কল দিবেন না। অন্য নাম্বার থেকে কল দিলে আপনাকে কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টে যোগাযোগ করার জন্য বলা হতে পারে।

কল দেওয়ার পর কাস্টমার এজেন্ট এর সাথে কথা বলার অপশন বেছে নিন। এজেন্টকে আপনার bkash account deactivate করার ইচ্ছার কথা জানান। তিনি আপনার কাছে আপনার বিকাশ একাউন্ট নাম্বার, সর্বশেষ লেনদেনের তথ্য, ব্যালেন্স, এবং ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য চাইবেন।

সবকিছু ঠিকঠাক বলতে পারলে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে এবং আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে দিবে।

এজেন্ট পয়েন্ট থেকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার পদ্ধতি

আপনি যদি টাকা খরচ করে বিকাশে ফোন দিতে না চান, কিংবা কোন কারণে বিকাশ এজেন্ট আপনাকে একাউন্ট বন্ধ করে না দিয়ে নিকস্থ কাস্টমার কেয়ারে যেতে বলে তবে আপনাকে এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে একাউন্ট বন্ধ করার জন্য যেতে হলে আপনার সাথে ভোটার আইডি কার্ডের এক কপি ফটোকপি এবং অরিজিনাল কপি সাথে নিতে হবে। সেইসাথে আপনার একাউন্ট রেজিস্টার করা সিম সচল অবস্থায় সাথে নিতে হবে।

কাস্টমার এজেন্টকে বলতে হবে যে, আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে চান। তিনি আপনার কাছে লেনদেনের তথ্য, বর্তমান ব্যালেন্স এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ড চাইবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই মিনিটের account deactivate হয়ে যাবে।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার পর কি আবার চালু করা যাবে?

যি, অবশ্যই আপনি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার পর কখনো পুনরায় বিকাশে একাউন্ট ব্যবহার করতে চাইলে পূর্বের মতোই খুব সহজে ঘরে বসে একাউন্ট খুলে নিতে পারবেন।

যদি আপনি আপনার বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন করার জন্য একাউন্ট বন্ধ করতে চান, তবে তার কোন দরকার নেই। কেননা, বিকাশ অ্যাপ দিয়ে আপনি খুব সহজেই বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।

আশা করি, ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম সম্পর্কে আপনি শতভাগ অবগত হয়েছেন। সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!