ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো: ফ্রিল্যান্সিং!! এই শব্দটা এখন আমাদের অনেকেরই বেশ পরিচিত ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে রীতিমতো হইচই চারদিকে। পেপার, টেলিভিশন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া সবজায়গায় ট্রেন্ডিং টপিক Freelancing এবং আউটসোর্সিং।

ফ্রিল্যান্সারদের অনেকেই লক্ষ টাকা আয় করে এসব গল্প আমরা রোজ শুনি, আর তাই আমাদের এই বিষয়েটার প্রতি আগ্রহেরও কমতি নেই। কেউ আবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে Freelancing, ফ্রিল্যান্সিং শেখার উপায় নিয়ে বই পর্যন্ত লিখে ফেলেছেন।

বাজারের সেসব বইয়ের অনেকগুলোই আপনার ফ্রীল্যান্সিং এর প্রতি আগ্রহ ধূলিসাৎ করার জন্য যথেষ্ট। প্র‍্যাক্টিক্যাল আর পুঁথিগত বিদ্যার পার্থক্যটা আমাদের এসব মহান বুদ্ধিজীবিরা প্রায়ই ভুলে যান।

মানুষের আগ্রহের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমার আজ “ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো” টপিক নিয়ে লেখা। আজকে কথা বলবো কীভাবে ফ্রীল্যান্সিং শেখা যায় তা  নিয়ে, তবে তার আগে আমাদের যা জানতে হবে তা হলো  ফ্রিল্যান্সিং আসলে কি।

ফ্রিল্যান্সিং কি? ( What is Freelancing in Bangla )

খুব সহজ বাক্যে Freelanccing হচ্ছে নিজের যেখানে ইচ্ছা সে অনুযায়ী কাজ করা। যার জন্য জমা দিতে হয়না কোনো সিভি কিংবা করতে হয়না ৯টা থেকে ৫টার অফিস। “নিজের বস নিজে” এ কথাটা মূলত ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

ধরুন কোনো একটা নতুন কোম্পানির বাজারে আসলো। এখন তাদের বেশ কিছু জিনিসের প্রয়োজন। বিশেষ করে লোগো ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, কার্ড ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডিটেইলস, বিজ্ঞাপন কপিরাইটিং, কনটেন্ট, ফটোগ্রাফস ইত্যাদি।

অনলাইন মার্কেটেপ্লেসে যারা এক্সপার্ট তারা চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কাজগুলো চুক্তিভিত্তিক করে থাকে। আর্টিকেল বা ব্লগ লেখকরা রাইটিং এর কাজটা করে, ওয়েব ডেভোলোপার সাইট ডেভেলপমেন্ট আর ডিজাইনাররা কার্ড বা লোগো ডিজাইনের কাজ করে। কাজ শেষে ক্লায়েন্ট তার একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে দেয়।

এখানে সুবিধা হলো, কোম্পনীর Employee খুঁজতে হলোনা, কিংবা ইনভেস্ট করে তাদের প্রতিমাসে বেতনও দিতে হচ্ছেনা। অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সারও তার এই কাজ ঘরে বসেই শেষ করতে পারলো। এবং তার দক্ষতার জন্য কাজেরও অভাব হবেনা। ইটস আ উইন উইন গেম!!

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং?

ফ্রিল্যান্সিং শিখতে গেলে আপনাকে সবার আগে ঠিক করতে হবে আপনি কোনো বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী। উদাহরণ হিসেবে এই যে আমি, আর্টিকেল লিখছি এটা আমার আগ্রহের জায়গা। আপনিও যদি লেখালেখি করতে চান তাহলে ব্লগ বা আর্টিকেল লিখতে পারেন।

কিংবা আপনি যদি এম.এস ওয়ার্ড, এম.এস এক্সেল বা পাওয়ার পয়েন্টের স্লাইড তৈরির কাজ করতে পারেন তাহলে আপনি এই সার্ভিসটাও দিতে পারেন।

আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনিং পারলে ক্লায়েন্টের লোগো বা কার্ড ডিজাইন করে দিতে পারেন। কোডিং পারলে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে পারেন।

এখন আপনার প্রশ্ন থাকতে পারে আমি যদি কিছুই না পারি তখন!

না পারাটা খুবই স্বাভাবিক। সবাই কোনো না কোনো এক সময়ে কাজ শিখেছিল বলেই আজ তারা কাজটি করতে পারছে। আজকে শিখলে কালকে আপনিও পারবেন। মায়ের পেট থেকে আসার সময়েই তো আর কেউ কাজ শিখে আসেনা।

এখন আপনার প্রশ্ন হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ কিভাবে শিখবো? প্রথম শর্ত কাজ শেখার সময় ধৈর্য্য ধারণ করাটা অত্যন্ত জরুরি। বিরক্ত হওয়া যাবেনা, হাল ছাড়া যাবেনা।

আর আপনার কাজ যেন কখনোই আপনাকে বিরক্ত করতে পারে এবং কাজ করাটা যেন উপভোগ্য হয় তাই সবার আগে কি কাজ শিখতে চান তা ঠিক করে ফেলুন।

সফল ফ্রিল্যান্সার হবার কৌশল

কাজ শিখার ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ থাকবে সহজে করা যায় এমন কোনো কাজ শিখবেননা। কারণ সহজে যে কাজটা করা যায় তার কদর কিন্তু বেশিদিন থাকেনা।

একটা সময় ছিলো যখন ইমেজ ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করার কাজের অনেক চাহিদা ছিলো, কিন্তু আজ আপনাদের মধ্যে এমন কাউকে খুজে পাওয়া যাবেনা ছবি এডিট করতে পারেনা।

অর্থাৎ মার্কেটে এই কাজটার ডিমান্ড কিন্তু আজ একদমই নেই, অথচ কয়েক বছর আগেও এই কাজ করে অনেকে মোটা অংকের টাকা আয় করতো।

তাই আপনি যেই কাজটা শিখতে চান তার ভবিষ্যৎ কি সেটা আগে ভেবে নিবেন। কিছুদিন পরেই যদি সে কাজের ডিমান্ড আর না থাকে তখন কিন্তু আপনাকে আবার নতুন করে কাজ শিখতে হবে তখন হয়তো আপনি উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলবেন।

সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার ইচ্ছা থাকলে কাজ শেখার ক্ষেত্রে যেটা সহজ কেবল সেটাকেই প্রাধান্য দিবেননা। যেটা কঠিন কাজ সেটা কিন্তু খুব বেশি মানুষ করেন না, তাই ওই কাজটা শিখা কিন্তু আপনার জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট।

একটু এডভান্স কাজ শিখলে আপনি সারাজীবন নিশ্চিন্তে কাজ করে যেতে পারবেন।

অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং শেখার প্রাথমিক পর্যায়ে একসাথে অনেকগুলো বিষয় আয়ত্ত্ব করার চেষ্টা করেন। আমি বলছিনা অনেক বিষয়ে পারদর্শী হওয়াটা কোনো ভুল কাজ।

একজন ফুটবলার কিন্তু চাইলেই ক্রিকেট খেলতে পারেন তাতে কোনো বাধা নেই, কিন্তু একজন ফুটবলার কি জাতীয় দলের হয়ে ফুটবল এবং ক্রিকেট দুটোই খেলতে পারেন? মূল কথা হলো তিনি কি দুটোতেই এক্সপার্ট হতে পারবেন! এটা কি সম্ভব?

নাহ, মোটেই সম্ভব না বললে ভুল হবে। কিন্তু এই সংখ্যাটা কত? তারা কোনো উদাহরণ নয়, এক্সেপশনাল।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার উপায়

তাই আপনি যত খুশি কাজ শিখুন তাতে কোনো বাধা নেই তবে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে করতে হবে। আমি সব শিখে ফেলবো এইধরনের মনোভাব বর্জন করতে হবে।

একটা বিষয়েই প্রথমে কাজ শিখাটা নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। সেই বিষয়ে যখন আপনার আয়ত্ত আসবে তখন আরেকটা কাজ শিখবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো

এই পর্যায়ে বলে রাখা উত্তম, কাজ শেখার আগে আপনার অবশ্যই অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলো ভিজিট করা প্রয়োজন যেমন: আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার, ফাইভার  খুব মনযোগ দিয়ে ভিজিট করতে হবে।

অবশ্যই তাদের জব ক্যাটাগরি গুলো দেখবেন, কি ধরনের জব অপশন রয়েছে, কোন কাজের কেমন চাহিদা সেসব সম্পর্কে তাহলে খুব সহজেই আপনি ধারণা গড়ে তুলতে পারবেন।

এরপর নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোন কাজটা আপনি করতে চান। আমি আবারও বলছি যেই বিষয়ের প্রতি আপনার আগ্রহ সেটাকেই প্রাধান্য দিবেন, তবে সহজ কাজের দিকে খুব বেশি ঝুঁকবেননা।

আপনার জিজ্ঞাসা থাকতে পারে, আপনি কোথায় গেলে ভালোভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারবেন? এক্ষেত্রে আমার ব্যাক্তিগত অভিমত প্রাথমিকভাবে ফ্রি  কোর্স করে। যারা অনালাইনে খুব সাক্সেসফুল তাদের বেশিরভাগই কিন্তু এভাবেই যাত্রা শুরু করেছিলেন।

ইউটিউব থেকেও আপনি চাইলে খুব সহজে আউটসোর্সিং করা যায় এমন কাজ শিখতে পারেন। বাংলাদেশের অনেক সাক্সেসফুল ফ্রিল্যান্সারের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল আছে। অনেকগুলো ফ্রি কোর্সের ভিডিও তারা আপ্লোডও করেছেন চ্যানেলে। এছাড়া অনেক মেন্টরও আছে ইউটিউবে।

আপনি যে বিষয় শিখতে চান তা নিয়ে সার্চ করলেই অজস্র ভিডিও পেয়ে যাবেন। অনেকে আবার ধারাবাহিক ভাবে পুরো একটা কোর্সের ভিডিও প্রকাশ করে। আমি চাইলেই আপনাকে ৫টা চ্যানেলের নাম বলে দিতে পারি কিন্তু সেটা করা কোনো অর্থেই সমুচিত হবেনা।

আপনি যদি ফ্রিতে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোনো বিষয়ে শিখতে চান তবে বিভিন্ন সাইটের ফ্রি কোর্সগুলো থেকে কিছুটা জ্ঞান অর্জন করে নিন।

চাইলে প্রথমেই টাকা দিয়ে কোর্স করতে পারেন। বাংলাদেশেও বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইন কোর্স করাচ্ছে যার অনেকগুলোর বিজ্ঞাপন আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন।

কাজ শেখা শুরু করতে সতর্ক থাকুন

এছাড়াও বিশেষ করে ফেসবুকে বেশ কিছু পেজ রয়েছে। যারা অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে কাজ শেখায়। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করবেন না বুঝে কোনো প্রতারণার ফাঁদে পা দিবেননা। টাকা দেয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিবেন।

আপনি আপনার আশেপাশে ভালো কোনো কোচিং সেন্টার বা মেন্টরের কাছ থেকে শিখে নিতে পারেন।

আমার অনুরোধ থাকবে আশেপাশে এর রিসোর্স আপনি পাবেন সব জায়গায় ট্রাই করুন সেটা হউক ইউটিউব, প্রফেশনাল কোর্স, আশেপাশের মেন্টর, বই, আর্টিকেল।

ট্রাই করে দেখার পর সিদ্ধান্ত নিন কোথায় থেকে শিখবেন, কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখবেন। আমি প্রায় সম্ভাব্য সবগুলো উপায় বলেছি এখন সিদ্ধান্ত আপনার।

শেষ কথা

একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মনে রাখবেনন আপনার কাজ শেখার বা করার উদ্দেশ্য যদি অর্থ উপার্জন না হয় তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবে যা খু্শি তা শিখতে পারেন। তবে যদি অর্থ উপার্জন আপনার উদ্দেশ্য হয়, তবে অবশ্যই মার্কেট ডিমান্ড সম্পর্কে জেনে নিবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কাজের ভবিষ্যতের কথা ভাববেন আর প্রতিনিয়ত স্কিল ডেভেলপ করবেন। একবার শিখেই কাজ করা শুরু করে দিবেন এবং অনবরত  করতেই থাকবেন এমনটা কিন্তু না। সেই সাথে নিজেকে প্রতিদিন আরো উন্নতির সুযোগ দিন।

ইউটিউবে মাসে ৩০০ ডলার বা ৪০০ ডলার আয় করুন, বিকাশে ইনকাম, গেমস খেলে টাকা আয় ইত্যাদি ট্যাগ দেখে উচ্ছাসিত হবেননা। আর প্রথমেই হাজার টাকা আয় করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়বেননা।

অবশ্যই ডেটা এন্ট্রি টাইপ কাজ শেখা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন সাময়িক সময় ডেটা এন্ট্রি থেকে কিছু উপার্জন হলেও ডেটা এন্ট্রি টাইপ কাজ কখনো আপনার Career Buildup এ সাহায্য করবেনা।

আর্টিকেল পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবেন এবিষয়ে জানতে আমাদের গাইডলাইনটি পড়ে ফেলতে পারেন।

আপনার কোনো মতামত থাকলে কমেন্ট কিরে জানিয়ে দিন আমাদের।

I'd love to introduce myself as 'insane'

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *