টেলিমেডিসিন! নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে শব্দটা দুই-একবার শুনেছেন। কিন্তু টেলিমেডিসিন কি? কাকে বলে জানেন কি? অনেকেই ভাবেন টেলিমেডিসিন হয়তো রোবটিক কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি, টেলিমেডিসিন চিকিৎসায় বুঝি খুব ব্যথা লাগে। আসলে এমন কিছুই নয়। এটা ঘরে বসে ডাক্তারের সাথে কথা বলে চিকিৎসা নেওয়ার আধুনিক পদ্ধতি।

গ্রামে গিয়ে হঠাৎ শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে? জরুরী স্বাস্থ্য সেবা নেওয়া দরকার অথচ আশে পাশে না আছে হাসপাতাল আর না কোনো অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস? আপনি যে সমস্যায় পড়েছেন, আমাদের গ্রামের বাসিন্দারা প্রায়শই এমন সমস্যায় পড়ে যান।

এমতাবস্থায় ডাক্তারের কাছে না গিয়েও সেবা নেওয়া গেলে কতই না ভালো হতো বলুন! আপনার-আমার এমন কঠিন সময়ে প্রয়োজনে পাশে থাকতেই প্রযুক্তি ও মেডিকেল এর সমন্বয়ে এসেছে টেলিমেডিসিন সেবা।

বেশ কয়েক বছর আগেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া ছিলো চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তবে প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবনে স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হয়েছে অনেক নতুন ব্যবস্থা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশে শুরু হয় টেলিমেডিসিন কার্যক্রম।

আসুন টেলিমেডিসিন কি? টেলিমেডিসিন সেবা বাংলাদেশে কিভাবে আসলো, কিভাবে টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিমেডিসন সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

টেলিমেডিসিন কি?

Telemedicine শব্দটি tele এবং‎ medicine শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। কোনো ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থানরত রোগীকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বিশেষায়িত নেটওয়ার্ক ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র, ইত্যাদির সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াকে টেলিমেডিসিন বলা হয়।

টেলিমেডিসিন সেবা telehealth, telecare এবং e-medicine নামেও পরিচিত।

টেলিমেডিসিন সেবার কারণে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া যাচ্ছে তা নয়, বরং ঘরে বসে দেশের প্রসিদ্ধ ডাক্তারদের পাশাপাশি দেশের বাইরের চিকিৎসকদের সাথেও ভিডিও কলে কথা বলে সেবা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়ে সমস্যা সম্পর্কে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে।

সুতরাং, অর্থ সংকটের কারণে যারা বিদেশে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলাম, টেলিমেডিসিন সেবার বদৌলতে সেই সংখ্যাটা যে অনেকাংশে কমে যাবে তা বলাই যয়।

ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে যেহেতু ঘরে বসে সেবা নেওয়া যায়, তাই যাতায়াতে যেসব রোগীর সমস্যা বেড়ে যেতে পারে যেমন, গর্ভবতী মহিলার জন্য।

আবার, কাউকে ছোঁয়াচে রোগ জনিত কারণে হাসপাতালে নেওয়া হলে অন্যদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় পড়তে হয়। এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে টেলিমেডিসিন সেবা কার্যকর হতে পারে।

টেলিমেডিসিন সেবা ও বাংলাদেশ

বাংলাদেশে টেলিমেডিসিনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে Swinfen Charitable Trust এর হাত ধরে। তখন ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় ছবি তুলে ইমেইলের মাধ্যমে কনসালট্যান্টের কাছে পাঠানো হতো।

সেবছর জুলাই মাসে প্রতিরোধযোগ্য রোগের চিকিৎসায় টেলিমেডিসিন সেবা প্রয়োগের লক্ষ্যে Telemedicine Reference Centre Ltd.(TRCL) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতে TRCL গ্রামের ডাক্তারদের ২০০ জন বিশেষজ্ঞের সাহায্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

২০০১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত US Trade Show তে TRCL বাংলাদেশ ও US এর চিকিৎসকদের টেলিমেডিসিন সিস্টেম প্রদর্শন করে। সেবছর এপ্রিল মাসে Bangladesh Telemedicine Association (BTA) প্রতিষ্ঠা করা হয়।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে Sustainable Development Network Programme (SDNP) Bangladesh চালু করা হয়।

২০০৫ সালের আগস্ট মাসে Diabetic Association of Bangladesh এর সহযোগিতায় Grameen Telecom বাংলাদেশে প্রথম ভিডিও পরামর্শ সেবা চালু করে।

২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রায় ১ কোটি গ্রাহককে এসএমএস ভিত্তিক ল্যাব রিপোর্ট, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা পরামর্শ সেবা দানের উদ্দেশ্যে ডায়াল ৭৮৯ চালু করে গ্রামীণফোন এবং TRCL.

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামাঞ্চলে হেলথকেয়ার সুবিধা উন্নয়নে “ICT in Rural Bangladesh” নামে একটি নতুন প্রজেক্ট উদ্ভোদন করে SPIDER, যা ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলমান ছিলো।

টেলিমেডিসিন সেবার চাহিদা

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে চিকিৎসা সেবার চাহিদা সবসময়ই বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি হেলথকেয়ার সার্ভিসের চাহিদাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু বয়োবৃদ্ধ লোকদের রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, তাই তাদের চিকিৎসা সেবার বেশি প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও, ৬১% মানুষ এখনো গ্রামে বসবাস করে। মানসম্মত বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অধিকাংশ শহরাঞ্চলে সেবা প্রদান করে। ফলে গ্রামীণ জনগণ এখনো মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।

এছাড়াও দেশের নিম্নমানের চিকিৎসা ব্যবস্থার ফলে প্রতি বছর ৭ লাখের বেশি মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান।

চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সুলভ মূল্যে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ডিজিটাল হেলথকেয়ার ও হেলথট্যাক স্টার্ট-আপগুলো এগিয়ে এসেছে।

সরকারি উদ্দ্যোগে টেলিমেডিসিন সেবা

দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৮টি হাসপাতালে উন্নত মানের টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে। এই সেবা চালুর ফলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা আধুনিক মানের টেলিমেডিসিন পদ্ধতিতে বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারছেন।

এছাড়া প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ ও ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ওয়েব ক্যামেরা প্রদান করা হয়েছে। ফলে নিম্ন পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীদের জন্য উচ্চ পর্যায়ের হাসপাতালসমূহে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

কমিউনিটি ক্লিনিকেও টেলিমেডিসিন সেবা চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেসব রোগীর চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন হয়, সেসব রোগীর জন্য ভিডিও কনফারেন্স চালু করে উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

সরকারি টেলেমেডিসিন সেবা নিতে মোবাইল নাম্বার খুঁজছেন?

মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্য সেবা ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে আপনার এলাকা নির্বাচন করে show Mobile No.  এ ক্লিক করুন। এখানে আপনার এলাকার যতগুলো হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে, সবগুলোর নাম্বার পেয়ে যাবেন।

টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠান ও অ্যাপস

সঙ্গত কারণেই দেশের ডিজিটাল হেলথকেয়ার সার্ভিসগুলো করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কারণেই সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬১% মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ফলে হেলথট্যাক কোম্পানিগুলো মোবাইল ভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু টেলিমেডিসিন অ্যাপ হলো:

  • জয় বাংলা টেলিমেডিসিন
  • সেবাঘর, ডক্টরোলা
  • ডকটাইম
  • ডাক্তারভাই
  • মায়া
  • স্মার্ট হসপিটাল
  • ডক্টর দেখাও, ইত্যাদি।

বাংলাদেশের হেলথট্যাক স্টার্টআপগুলো মূলত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, মেডিকেল কনসালটেন্সি, মেডিসিন ডেলিভারি, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, টেস্টিং সুবিধা, মেডিকেল ইন্সুরেন্স ইত্যাদি সেবা দিয়ে আসছে।

জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ

জয় বাংলা ফ্রি টেলিমেডিসিন সেবা অ্যাপদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন’ অ্যাপ চালু করা হয়।

স্যোশাল মিডিয়া সম্বলিত অ্যাপ ভিত্তিক ফ্রি টেলিমেডিসিন সেবা শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে এটাই প্রথম। ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন’ অ্যাপটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির উদ্যোগে ডেভেলপ করা হয়।

‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন’ অ্যাপের মাধ্যমে দেশের মানুষ ভিডিও কলের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। এই অ্যাপে রোগীদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে ফলে এই তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে রোগ নিয়ন্ত্রণে গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, মফস্বল শহর বা পল্লী অঞ্চলের সাধারণ দরিদ্র অসহায় রোগী বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইলে ঘরে বসেই সেবা নিতে পারবেন।

ডকটাইম

doctime টেলিমেডিসিন সার্ভিসদেশে অনলাইন ভিত্তিক চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয়তা বাড়ানো ও স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন দ্বার উন্মোচনের প্রয়াস নিয়ে ডকটাইম বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ টেলিমেডিসিন সেবা চালু করে।

এই অ্যাপে একজন রোগী তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসক খুঁজে নিয়ে তার সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে কনসালটেশন করতে পারবেন। কনসালটেশন শেষে অ্যাপের মাধ্যমেই চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে ই-প্রেসক্রিপশন আপলোড করে দেন।

এই অ্যাপের মাধ্যমেই ভিডিও কল করা হয়। এই ভিডিও কল ২৫৬ বিট এনক্রিপ্টেড মেথডে এনক্রিপশন করে সিকিউরড করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ব্যাতিত ভিডিও কলটি অন্যকেউ দেখতে পারবে না। রোগী তার প্রয়োজন অনুসারে পেমেন্ট করতে পারেন।

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অ্যাপের মধ্যেই হওয়ার কারণে একজন রোগী খুব দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসক দেখিয়ে প্রেসক্রিপশন পেয়ে যান। সাথে রয়েছে প্রয়োজনীয় ঔষধ হোম ডেলিভারির সুবিধা। অর্থাৎ, রোগী চাইলে ডকটাইম অ্যাপ থেকেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঔষধ এর হোম ডেলিভারি নিতে পারবেন।

শুধু তা–ই নয়, ডকটাইম অ্যাপে একজন রোগীর আগের রোগের বৃত্তান্ত ও প্রেসক্রিপশন জমা থাকে, যা পরবর্তী যেকোনো কনসালটেশনে চিকিৎসক দেখতে পারেন।

ফলে চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন লেখার সময় সচেতন থাকতে পারেন, যাতে ‘ড্রাগ ইন্টার–অ্যাকশন’ না হয় এবং সঠিক ডায়াগনোসিস হয়।

ডকটাইম বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগে গড়ে উঠেছে। এর সব কার্যক্রম ঢাকা ও লন্ডনে অবস্থিত অফিস থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

একজন রোগী ডকটাইমের সঙ্গে নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের থেকে তাঁর সমস্যার সঙ্গে মিল রেখে চিকিৎসক নির্বাচন করবেন। তারপর তিনি নির্ধারিত কনসালটেশন ফি পরিশোধ করে চিকিৎসকের সঙ্গে ভিডিও কলে কনসালটেশন করবেন। কনসালটেশন শেষে চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন আপলোড করে দিলে তিনি তা ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। ডকটাইম অ্যাপে ফলোআপ কনসালটেশন করারও ব্যবস্থা আছে।

কেউ তাঁর পরিচিত চিকিৎসক বা একই চিকিৎসকের সঙ্গে পরবর্তীকালে কনসালটেশন করতে চাইলে এই অ্যাপে সেই চিকিৎসকের নাম বা কোড দিয়ে সার্চ দিতে পারবেন।

ডকটাইমে এ মুহূর্তে কয়েকটি প্রমোশন চলছে। যে কেউ চাইলে ১০ টাকায় মেডিসিন চিকিৎসক, ২০ টাকায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ২৫ টাকায় স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ, ৯৯ টাকায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।

একজন রোগী ১০ টাকা, ২০ টাকা বা ২৫ টাকা দিলেও একজন চিকিৎসক আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত ফি পেয়ে থাকেন। বাকি টাকা ডকটাইম করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির অংশ হিসেবে দিয়ে থাকে।

মায়া

টেলিমেডিসিন সেবা নাম্বারযৌন ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত (বিশেষ করে মহিলাদের জন্য) টেলি কনসালটেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় মায়া। প্ল্যাটফর্মটি মেশিন লার্নিং এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে QnA ভিত্তিক সার্ভিস দিয়ে থাকে।

এছাড়া ব্যবহারকারীরা মায়া অ্যাপের রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারে। স্থানীয় মেডিসিন ডেলিভারি সার্ভিস BanglaMeds এর সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে মায়া ঔষধ ডেলিভারি সেবা প্রদান করছে।

অন্যদিকে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে “পাঠাও” মায়ার সাথে পার্টনারশিপে ‘পাঠাও হেলথ’ সেবা চালু করে। ২০২১ সালে মায়া Anchorless Bangladesh এবং The Osiris Group এর মাধ্যমে ২২লাখ ডলার সিড ফান্ড পায়। মায়ার তথ্যমতে তারা এই ফান্ড তাদের সেবার মানোন্নয়নে ব্যয় করবে।

ডাক্তার দেখাও

ডাক্তার দেখাওশারীরিক অসুস্থতা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্ক ও মাতৃকালীন স্বাস্থ্যসেবা বা নবজাতকের যত্ন এবং পরামর্শের জন্য কয়েক মিনিটের মধ্যে ভিডিও কল করে পেশাদার চিকিৎসকদের সাথে কথা বলতে পারেন ডাক্তার দেখাও অ্যাপের মাধ্যমে। অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা অথবা স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোনো পরামর্শ ভিডিও কল করে গ্রহণ করা যায় খুব সহজে।

অ্যাপের মাধ্যমে এপয়েন্টমেন্ট তৈরি, ভিডিও কলের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ, এবং চিকিৎসকের প্রদানকৃত প্রেসক্রিপশন খুব সহজেই নেওয়া যায়।

ডাক্তারের সাথে ভিডিও কল শেষ হওয়ার সাথে সাথে অ্যাপে ডাক্তারের দেয়া ব্যবস্থাপত্রটি পৌঁছে যায়। এছাড়া সময়মত ঔষধ খাওয়ার জন্য দেয়া হয় রিমাইন্ডার।

ডাক্তার দেখাও অ্যাপ প্রোফাইলে প্রথমে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে পরবর্তীতে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এছাড়া মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল রিপোর্ট আপলোড করা যায় এবং তা নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়।

টেলিমেডিসিন বিষয়ে পরিশেষ

দেশের সাধারণ জনগণ এখনো অনলাইন ভিত্তিক চিকিৎসা সেবায় পুরোপুরি ভরসা পাচ্ছে না। বাংলাদেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর টেলিমেডিসিন খাতে অভ্যস্ত হতে হয়তো আরও কয়েক বছর লেগে যাবে।

কিন্তু টেলিমেডিসিন সেবা যে কিছুদিন পর সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সেবার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে তা কিন্তু নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

আশা করি, আর্টিকেলটির মাধ্যমে টেলিমেডিসিন নিয়ে আপনার অনেক প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে পেয়েছেন, তবে আরো কোনো প্রশ্ন অনুত্তরিত থাকলে কমেন্ট করতে সংকোচ করবেন না।


0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen − thirteen =

error: Content is protected !!