গুগলে র‍্যাঙ্ক করার উপায় : আপনি কি নিজের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন এক হাজার অর্গানিক ক্লিক পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন? যদি দশ হাজার বা সম্ভবত আরও বেশি পাওয়া যায়, তবে কেমন হয়!

এই পরিমান ট্রাফিক পাওয়া সম্ভব, এবং প্রচুর ওয়েবসাইট প্রতিদিন এরচেয়েও বেশি ট্রাফিক গুগল থেকে পাচ্ছে। তবে আপনিও যদি এই পরিমান ডেইলি ভিজিটর পেতে চান তবে, আপনাকে আপনার ব্লগকে গুগলের অনুসন্ধান ফলাফলগুলিতে প্রথম ১০ সার্চ রেজাল্টে র‍্যাঙ্ক করতে হবে, অর্থাৎ প্রথম পেজে নিয়ে আসতে হবে।

গুগলে র‍্যাঙ্ক করা বলতে কি বুঝায়?

গুগলে র‌্যাঙ্ক করা বলতে কি বুঝায়

গুগলে একটি ব্লগ র‍্যাঙ্কিংয়ের অর্থ হলো কেউ যখন একটি শব্দ বা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে গুগল করে তখন অনুসন্ধানের ফলাফলগুলোর প্রথম দিকে আপনার ওয়েবসাইটকে তালিকাভুক্ত করা।

এটি বেশিরভাগ ওয়েবসাইট মালিকদের প্রধান লক্ষ্য এবং এর মাধ্যমেই আপনার সাইটে প্রচুর পরিমাণে অর্গানিক ট্র্যাফিক নিয়ে আসা সম্ভব।

যদি ব্লগটি শীর্ষ দশে র‍্যাঙ্ক না করে থাকে, তবে খুব কম লোক গুগল সার্চ রেজাল্টে আপনার আর্টিকেল বা প্রোডাক্টটি দেখতে পাবে, এবং আরো কম সংখ্যক লোক আপনার ওয়েবসাইটে ক্লিক করবে।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম পৃষ্ঠার পরের রেজাল্টগুলো এক শতাংশের নীচে ক্লিক পায়। সুতরাং, ওয়েবসাইটে ভিজিটর বৃদ্ধি করতে শীর্ষ ১০ সার্চ রেজাল্টে (যা প্রথম পৃষ্ঠায় প্রদর্শিত হবে) র‍্যাঙ্কিং আবশ্যক।

আপনার ব্লগকে গুগলের শীর্ষ দশ পজিশনে নেওয়ার উপায়

টার্গেট কীওয়ার্ডগুলোর জন্য গুগলের শীর্ষ দশে র‌্যাঙ্ক করলে আপনার ওয়েবসাইটটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার ক্লিক আসতে পারে।

স্বাভাবিকভাবেই, এটি প্রতিযোগিতার বিষয়। সুতরাং, র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা একটি ব্লগ শুরু করার মতো সহজ বিষয় নয়।

গুগল ধারাবাহিকতা পছন্দ করে: এর অর্থ হল সঠিক জিনিসগুলি বারবার করা এবং আপনার পাঠকদের জন্য মূল্যবান ও নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে ওঠা।

এটি একটি প্রক্রিয়া এবং আপনি যখন ধারাবাহিকভাবে স্টেপগুলো অনুসরণ করবেন, তখন আপনার ব্লগের আর্টিকেলগুলো প্রথম ১০ সার্চ রেজাল্টে র্যাঙ্কিংয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং অবশ্যই ধীরে ধীরে র্যাঙ্ক করতে শুরু করবে।

1. যে কীওয়ার্ডটি র‍্যাঙ্ক করাতে চান তার শীর্ষ ১০ ফলাফলগুলো নিয়ে গবেষণা করুন

গুগলের কেন আপনার আর্টিকেলটিকে শীর্ষ দশে স্থান দেওয়া উচিত?

গুগল ভিজিটরদের এমন বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটগুলিতে পাঠাতে চায় যেটি তাদের জিজ্ঞেসিত প্রশ্নের সেরা উত্তর সেরা উপায়ে বর্ণনা করেছে।

ওয়েবসাইটের লেখক যদি আপনি একাই হন, আর আপনি যদি আপনার বিড়ালের কীভাবে যত্ন নেবেন এবং তারপরে কিভাবে ব্যাঙ্ক একাউন্ট তৈরি করবেন শীর্ষক আর্টিকেল লেখেন, তবে গুগল আশ্চর্য্য হতে পারে যে, আপনার দক্ষতা আসলে কোন বিষয়ে?

সুতরাং, ব্লগিং নিশ সিলেক্ট করার সময় আপনার দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ। ব্লগিং শুরু করার পর নিশকে মেইনটেইন করে ভিডিজটররা রিলেভেন্ট যা সার্চ করছেন সেসব টপিক নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে।

এখানেই কীওয়ার্ড রিসার্চ এর গুরুত্ব চলে আসে।

বিভিন্ন কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস ব্যবহার করে আপনি বুঝতে পারবেন যে ব্যবহারকারীরা কীভাবে গুগল অনুসন্ধান করছে, আপনাকে কি নিয়ে আর্টিকেল লিখতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি ফেসবুক টাইপ করতে পারেন এবং ফেসবুক সম্পর্কিত অন্যান্য কীওয়ার্ডগুলো যা লিখে লোকেরা অনুসন্ধান করছে যেমন ফেসবুক স্ট্যাটাস, ফেসবুক চালু, ফেসবুক আইডির মতো জনপ্রিয় কিওয়ার্ড  খুঁজে পেতে পারেন।

রিলেভেন্ট টপিক আইডিয়া

ব্লগিং এ সফলতা পাওয়ার জন্য পেইড কিছু টুলস আবশ্যক, যার মাঝে কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল অন্যতম। তবে অনেকেই পেমেন্ট মেথডের জন্য ইচ্ছা থাকলেও নিতে পারেন না।

এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে রয়েছে BDSEOTOOLS, যেখানে আপনি মাত্র ১৯৯ টাকা খরচ করে বিভিন্ন জনপ্রিয় পেইড ব্লগিং টুল পেয়ে যাবেন।

যখন আপনি ব্লগ আর্টিকেল লেখার জন্য রিলেভেন্ট কিওয়ার্ড পেয়ে যাবেন, তখন মূল কাজ হলো কম্পিটিশন বিশ্লেষন করা।

কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস কিংবা গুগল করেও প্রথম ১০ সার্চ রেজাল্টে আসা আর্টিকেলগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

  • আর্টিকেলটি কত শব্দের?
  • তারা কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে?
  • কোন ধরণের ডোমেন (যদি .edu হয় তবে তাদের পরাজিত করা কঠিন হতে পারে)?
  • ডোমেইন অথরিটি কত?
  • আর্টিকেলগুলো কি কোনো ব্যাকলিঙ্ক পেয়েছে?

কোন পৃষ্ঠাগুলি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে অবস্থান করবে তা নির্ধারণের জন্য গুগল একটি জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। তাই প্রতিযোগীদের বিশ্লেষন করার মাধ্যমে গুগল আসলে কী সন্ধান করছে সেসম্পর্কে ধারণা দেয়।

যে বিষয়গুলো এই আর্টিকেলগুলোকে শীর্ষে অবস্থান করাচ্ছে, সেগুলো নোট করে ফেলুন। আপনার আর্টিকেলটিকে গুগলে টপ র‍্যাঙ্ক করানোর জন্য এগুলোর পাশাপাশি নিজস্ব পার্সোনাল টাচ দিয়ে আরো বেশি সহজ, হেল্পফুল তথা মূল্যবান করে তুলুন।

2. অন-পেজ এসইও অপটিমাইজেশন

অন পেজ এসইও এমন একটি প্রসেস যার মাধ্যমে কোনো আর্টিকেল র‍্যাঙ্ক করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে কনটেন্ট, এইচটিএমএল এবং নিজের ওয়েবসাইটের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।

আমি প্রায়শই বলি যে, ব্লগিংয়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্রাফিককে সন্তুষ্ট করা। অর্থাৎ, আপনাকে মূলত ভিজিটর ও তার চাহিদা টার্গেট করে লিখতে হবে।

তবে একইসাথে গুগলকেও কসেভেন্স করত  হবে যে, আপনার আর্টিকেলটি বিশ্বস্ত এবং ভিজিটরের চাহিদা পূরণে সক্ষম। গুগল মানুষ নয়, তাই এটি আপনার পাঠকদের মতো সামগ্রিকভাবে ব্যাখ্যা বা সমালোচনা করে না।

গুগলের নিজস্ব ভাষা রয়েছে এবং সেরা দশ সার্চ রেজাল্টে আপনার কনটেন্ট নিয়ে আসার জন্য গুগলের সাথে কনটেন্ট দিয়েই প্রোপারলি কনটাক্ট করতে হবে এবং বুঝাতে হবে।

গুগলের অ্যালগরিদমগুলি গত দশক বা তারও অনেক আগে এসেছিল এবং আজ তা এত উন্নত যে এটি ভিতরের অর্থও বুঝতে পারে। অনেকসময় দেখা যায়, সঠিক কিওয়ার্ড জানা না থাকায় আমরা গুগলকে বুঝানোর মতো করে কিছু লিখে সার্চ করি, কিন্তু আশ্চর্য্যজনকভাবে গুগল আমাদের সঠিক সার্চ রেজাল্ট সামনে এনে দেয়।

তবে, এত উন্নত অ্যালগরিদমের হওয়ার পরেও প্রথম দশ সার্চ রেজাল্টে নিজের পজিশন নিয়ে আসতে চাইলে অবশ্যই কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিটি কনটেন্ট এর কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে গুগল বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই আপনার কীওয়ার্ডটি এসব জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ:

  • শিরোনাম
  • মেটা ডেস্ক্রিপশান
  • ইমেজ ফাইল নেম
  • ইমেজ ক্যাপশন
  • পেজ কনটেন্ট
  • ইমেজ অল্ট
  • ইউআরএল

তবে মনে রাখবেন যে User Experience First অর্থাৎ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি সুযোগে লেখার মধ্যে কীওয়ার্ডগুলি কেবল স্টাফিং (Stuffing) করলে লেখার মান কমার পাশাপাশি পঠনযোগ্যতা কমে যায়, যা কোনোভাবেই ন্যাচারাল মনে হবেনা।

কখনো গুগল ট্রান্সলেটেড কনটেন্ট পড়েছেন? বিরক্ত লেগেছে নিশ্চয়ই!

কিওয়ার্ড স্টাফিং করলে ঠিক একইরকম অভিজ্ঞতার কারণে ভিজিটর ধরে রাখতে পারবেন না, আপনার ব্লগ থেকে চলে যাবে, অর্থাৎ বাউন্স রেট বেড়ে যাবে।

আল্টিমেটলি গুগল তার ট্রাফিককে আরো ভালো অভিজ্ঞতা দিতে আপনার র‍্যাঙ্ক নামিয়ে দিবে, আপনার ওয়েবসাইটকে খারাপ চোখে দেখতে শুরু করবে এবং ফলস্বরূপ, আপনার ট্রাফিক কমে যাবে।

গুগল ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বোঝে, তাই আপনার অন পেজ এসইও এর একটি বড় অংশ নিশ্চিত করছে যে আপনি এই কাজগুলোকে সঠিকভাবে করেছেন।

ভিজিটর একটি ক্লিন এবং ফাস্ট ইউজার এক্সপেরিয়েন্স চায়, তাই নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ:

  • কীওয়ার্ড স্টাফ করবেন না
  • ইমেজ অপটিমাইজ করুন
  • পড়ার সুবিধার্থে লেখাগুলো ছোট ছোট প্যারায় ভাগ করুন
  • লম্বা কনটেন্ট হলে পেজ স্পিড ঠিক রাখতে প্রয়োজনে একাধিক পেজে ভাগ করে নিন
  • খুব ছোট কনটেন্ট প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন।

অন পেজ এসইও একটি বোল্টের সাথে সঠিকভাবে নাট লাগানোর মতো। সুতরাং, প্রতিবার কোনো আর্টিকেল লেখার সময় অপটিমাইজেশন নিশ্চিত করা জরুরী।

3. টেকনিক্যাল এসইও অপটিমাইজেশন

আপনাকে একটি ওয়েবসাইটের কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি রাগান্বিত করে?

নিশ্চয়ই ধীরে লোড নেয় এমন কোনো সাইট? কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোতে ক্লিক করার পর শুধু ঘুরতেই থাকে, কিন্তু পেজ আর আসে না।

এটা কমন ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এরোর গুলোর মধ্যে একটি এবং একারনে অনেক ভিজিটর সাইটে প্রবেশ না করে চলে যায়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রবেশ করলেও দ্বিতীয় পেজে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকে। যার কারণে আল্টিমেটলি আপনার বাউন্স রেট বেড়ে যায়।

গুগল ব্যবহারকারীদের বিরক্তির ওয়েবসাইটগুলোতে লোক পাঠাতে চায় না, তাই এটি ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড এর মত বিষয়গুলোতে গভীরভাবে নজর রাখে।

এর অর্থ হলো, আপনার সাইটের ওয়েবপেজগুলো রিডারদের জন্য সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাতে তৈরি, তা নিশ্চিত করতে টেকনিক্যাল এসইও’তে যা করা সম্ভব সবকিছু অপটিমাইজ করতে হবে।

ফাস্ট লোডিং স্পিডের পাশাপাশি মোবাইল ফ্রেন্ডলি থিমও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বর্তমানে AMP সাইটকেও গুগল গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

আপনি হয়তো বলতে পারেন তাহলে প্রতিবর্তন কেন AMP ব্যবহার করছে না?

খেয়াল করলে দেখবেন, প্রতিবর্তন ব্লগের পাশাপাশি একটি এজেন্সিও বটে। যার কারণে এমন কিছু ফিচার এড করা আছে যা AMP তে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে, যা আমরা চাচ্ছি না।

৪. ব্যাকলিঙ্ক নিন

লিঙ্ক বিল্ডিং

যদি পাশের বাড়ির প্রতিবেশী আপনাকে কোনো একটি ’ক মডেলের’ বাইক কিনতে পরামর্শ দেয়, আপনি সম্ভবত প্রথমে যা করবেন তা হলো কেন তিনি এই মডেলের কথা বলছেন তা জিজ্ঞাসা করবেন এবং তারপরে অন্য লোকেরাও একই বাইকের কথা বলে কিনা তা যাচাই করবেন।

আমরা যা শুনি তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য বোঝার জন্য প্রমাণ খুঁজি। যখন কথা হচ্ছে ব্লগ নিয়ে তখন গুগলও একই জিনিস দেখতে চায়।

আপনি কী বলছেন এবং কীভাবে এই ইন্ডাস্ট্রির লোকজন মূল্যায়ন করছে, গুগল তা দেখতে চায় এবং এটি করার মূল উপায় হলো আপনার লিঙ্ক প্রোফাইল বিশ্লেষণ করা (আপনার ওয়েবসাইটের কোয়ালিটি ও রিলেভেন্ট ব্যকলিঙ্ক সংখ্যা)।

এখন, অন্য এক প্রতিবেশীর থেকে পরামর্শ নেওয়া যাক! তিনি একজন চিত্রশিল্পী। তিনি বললেন, আমি একমত, আপনার অবশ্যই ক মডেল বাইক ক্রয় করা উচিত।

আপনি নিশ্চয়ই এখনো নিশ্চিত নন! কারণ তার এবিষয়ে খুব বেশি জানাশোনা নেই। তাই, এবিষয়ে তার মতামতকে আপনি হয়তো গুরুত্ব দিতে চাইবেন না।

অন্য একজন ব্যক্তিও এই পরামর্শটি সমর্থন করছেন এবং তিনি বাইক বিষয়ে বেশ পারদর্শী বলেই সবাই জানেন। সুতরাং, তার মতামত কিছুটা ওজন বহন করতে পারে।

অন্যদিকে, বাইক কেনার পরিকল্পনা চলাকালীন সময়ে একজন অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার বন্ধুর সাথে আপনার কথা হলো এবং তিনিও এই মডেলের বাইক কেনার বিষয়ে সমর্থন দিলেন। এবং অবশ্যই তার এই সুপারিশটি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ওজন বহন করবে কারণ, তিনি অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার।

ব্যাকলিঙ্কগুলি একইভাবে কাজ করে। আপনি যা বলছেন তার সাথে আপনার যত বেশি রিলেভেন্ট ব্যাক আপ রয়েছে (আপনার সাথে লিঙ্ক করা) এবং এই সাইটগুলো যত বেশি বিশ্বাসযোগ্য তত বেশি গুগল আপনার তথ্যের উপর বিশ্বাস রাখতে শুরু করবে।

গুগলের অ্যালগরিদম কন্টেন্ট ভ্যালু বুঝতে আরো পারদর্শী হয়ে উঠেছে, তবে ব্যাকলিঙ্কগুলি এখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে।

৫. মূল্যবান কনটেন্ট তৈরি করুন

ভ্যালুয়েবল কনটেন্ট বলতে কী বুঝায়?

একটি ব্লগ পাঠককের কাছে বিভিন্ন কারণে মূল্যবান হতে পারে। সমস্যার সমাধান দিয়ে, কোনও প্রশ্নের উত্তর, কিংবা বিনোদন দেওয়া অথবা তিনটির সংমিশ্রণ থাকার কারণেও ভিজিটর বারবার, নিয়মিত একটি ব্লগ ভিজিট করেন।

এক্ষেত্রে আপনার টার্গেট করা পাঠকদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বোঝা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। লোকেরা কী তথ্য চাচ্ছে এবং কীভাবে তারা সার্চ ইঞ্জিনে অনুসন্ধান করছে তা যদি আপনি জানতে পারেন তবে, আপনি একটি ইন-ডেপথ আর্টিকেল তৈরি করতে পারবেন যা তাদের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ করে তুলবে।

বর্তমানে গুগল ভিজিটরকে বেস্ট এক্সপেরিয়েন্স দেওয়ার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ আর্টিকেলকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। যদি এমন কোনো ছোট কনটেন্ট পাবলিশ করেন যা ভিজিরের রিলেভেন্ট বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেনা, আর্টিকেলটি পড়ার পর সেই বিষয় নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে অন্য কোনো আর্টিকেল পড়তে হচ্ছে, তবে যে পরিমান এংগেজমেন্ট পাওয়ার কথা, স্বাভাবিকভাবেই তা পাবেননা।

আপনি যদি সত্যিই ভালো মানের কন্টেন্ট তৈরি করতে চান যা Google এ Rank করে, তবে অতিরিক্ত কাজগুলো কনফার্ম করুন এবং  র‍্যাঙ্কিংয়ের যোগ্য হিসেবে নিশ্চিত করুন।

দুর্দান্ত এংগেজিং কন্টেন্ট তৈরির ৬ টি ফর্মুলা, যা আমি ফলো করি:

  1. অরিজিনাল কনটেন্ট: কখনো অন্যের আইডিয়া সম্পূর্ণ ফলো করবেন না, বা কপি করবেন না।
  2. শিরোনাম: আর্টিকেলের শিরোনাম ছোট ও আকর্ষনীয় রাখুন, যা ভিজিটরকে ক্লিক করতে অনুপ্রাণিত করবে। তবে আর্টিকেলের সাথে অসামাঞ্জস্য কোনো শিরোনাম দিবেন না।
  3. উত্তর দিন: সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে যেসব প্রশ্ন সার্চ করা হয় সেগুলোর ভাল উত্তর সরবরাহ করার কারণেই সার্চ ইঞ্জিন ভিজিটর পাঠায়।
  4. তথ্যসূত্র সঠিকভাবে উল্লেখ করা: আর্টিকেলে কোনো তথ্য ব্যবহার করলে অবশ্যই ট্রাস্টেড সাইট কিনা দেখে নিবেন এবং তথ্যসূত্র উল্লেখ করে দিবেন।
  5. শুধু টেক্সট এর উপর নির্ভর করবেন না: আরও বেশি লোকের কাছে আবেদন করার জন্য চিত্র এবং ভিডিও ব্যবহার করুন।
  6. কনটেন্ট আপডেট করুন: সময়ের সাথে সাথে তথ্য এবং মানুষের প্রশ্ন দুইটাতেেই পরিবর্তন আসে। তাই গুগলও নতুন কনটেন্ট পছন্দ করে। সুতরাং, র‍্যাঙ্ক ধরে রাখতে কনটেন্টগুলো নিয়মিত বিরতিতে আপডেট করুন।

ধারাবাহিকভাবে হাই-কোয়ালিটি কনটেন্ট তৈরি করা সহজ নয়, তবে একটি সম্পাদকীয় ক্যালেন্ডার, অর্থাৎ সপ্তাহের কোন দিনটিতে আর্টিকেল পাবলিশ করবেন তা ঠিক করে নিলে অতিরিক্ত দায়িত্ব অনুভব করবেন, যা আপনার কনসিস্টেন্সি ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

৬. AIDA মডেল ব্যবহার করুন

AIDA সাধারণত ডিজিটাল মার্কেটিং মডেল। যেহেতু ব্লগ কনটেন্ট ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত, তাই যখন ব্লগ লেখেন তখন এটি আপনার জন্য সহায়ক হতেই পারে।

এইডা মডেল

এইডা মডেলের চারটি ধাপ:

  • সচেতনতা বৃদ্ধি
  • আগ্রহ সৃষ্টি
  • ইচ্ছা জাগ্রত করা এবং
  • একশন

আপনার আর্টিকেল স্ট্রাকচার করার এটি একটি ভাল উপায় হতে পারে।

কীভাবে এইডা মডেল এর সাথে গুগলে র‌্যাঙ্ক করবেন?

আপনার প্রথমে যে কাজটি করা দরকার তা হলো মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, সুতরাং আপনি কীভাবে এটি করতে পারেন?

যদি কেউ আর্টিকেলটি কোনো সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পায়, তবে কী তাদের এটি আকর্ষণ করছে?

একটি আকর্ষনীয় শিরোনাম বা অসাধারণ চিত্র আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।

একবার যখন তাকে ক্লিক করিয়ে আর্টিকেল ওপেন করাতে পারলেন, তখন আপনার কাজ হবে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি করা।

কথায় আছে, আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী। সুতরাং, আপনার প্রথম কিছু প্যারাগ্রাফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি এখানে পাঠককে বুঝাতে না পারেন যে, আমরা আসলে আর্টিকেলটি কেন পড়ছি, পড়া শেষে কোন কোন সমস্যার সমাধান পাবো, তবে আপনি পাঠকটিকে হারিয়ে ফেলবেন।

ধরে নিচ্ছি, আপনি এই কাজটাও সুন্দর করে করলেন, অর্থাৎ আপনার পাঠক এখন আগ্রহী। কিন্তু কীভাবে আপনি সেই আগ্রহকে আকাঙ্ক্ষায় পরিণত করবেন?

এখন আপনি পুরো ব্যাপারটা বিশ্লেষন করা শুরু করুন। পার্ট বাই পার্ট, এবং সিরিয়াল মেইনটেইন করে উত্তর দিতে থাকুন। পাঠক আস্তে আস্তে তার কাঙ্খিত প্রশ্নের উত্তর পেতে শুরু করলে পরবর্তী ধাপ একশন এর জন্য তৈরি হয়ে যাবে।

উদাহরণস্বরূপ, গুগলে ব্লগ র‍্যাঙ্ক করার উপায় একটি প্রশ্ন-উত্তর ভিত্তিক আর্টিকেল। আপনি ইতিমধ্যে কোয়ালিটি আর্টিকেল কিভাবে লিখবেন এবং Google top Rank করার গুরুত্ব সম্পর্কে জেনেছেন।

সুতরাং, এটা আমার জন্য আপনাকে জানানোর সুযোগ যে, প্রতিবর্তন আর্টিকেল শপ কিভাবে আপনার ব্লগের জন্য কোয়ালিটি আর্টিকেল লিখে গুগলে র‍্যাঙ্ক করাতে পারে।

শেষ ধাপ অর্থাৎ একশন নির্ভর করে আপনার প্রথম তিন স্টেপ এর সফলতার উপর। এটা আপনার জন্য একটা টেস্ট বলা যায়। আপনি কতটা ভালো করেছেন সেটাই ঠিক করে দিবে কতজন ভিজিটর অন্য আর্টিকেল ক্লিক করবে, সার্ভিস (যেমন: কোনো ভিজিটর আর্টিকেল অর্ডার করবে), পণ্য অর্ডার, সাবস্ক্রাইব কিংবা বুকমার্ক করে রাখবে।

কীভাবে ব্লগ র‍্যাঙ্ক করা যায় – FAQ

আমি কীভাবে আমার ব্লগের জন্য এসইও করব?

যারা নিজেরাই বেসিক এসইও শিখতে চান তাদের জন্য প্রচুর ফ্রি এসইও কোর্স রয়েছে, তাছাড়া বিভিন্ন ব্লগিং শেখার ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যেখানে শিখতে পারেন।

এছাড়াও বর্তমানে প্রচুর পরিমানে পেইড কোর্স রয়েছে যা অনলাইনে ঘরে বসেই শেখা সম্ভব।

গুগলে র‍্যাংক করার জন্য আমার পোস্টের শব্দ সংখ্যা কত হওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন যে গুগলে ভাল র‌্যাঙ্ক করতে আপনার ব্লগ পোস্টগুলি প্রায় ২,০০০ শব্দ হওয়া উচিত।

একটি নতুন কনটেন্ট পোস্ট করার সেরা সময় কখন?

এটা আপনার ব্লগিং নিশ, এবং পাঠকদের উপর নির্ভর করে। তবে ভালো হয় যদি আপনি নির্দিষ্ট দিন এবং সময়ে নিয়মিত পোস্ট করে যান।

একটি ব্লগ অনলাইনে আনার আগে কতগুলো পোস্ট রেডি করা উচিৎ?

আপনি যখন কোনো ব্লগ শুরু করতে যাচ্ছেন, তখন গুগলে ইনডেক্স ও কোথাও লিঙ্ক শেয়ার করার আগে অন্তত ৫টি পোস্ট পাবলিশ করুন। যেন পাঠকরা বুঝতে পারেন আপনার ব্লগটি কোন টপিকের উপর কাজ করতে যাচ্ছে।

পরিশেষ

গুগল সার্চ রেজাল্টে শীর্ষ ১০ পজিশনে র‍্যাঙ্ক করার কোনো শর্টকাট নেই। গুগলে ব্লগ র‍্যাঙ্ক করার উপায় হলো সঠিক কাজগুলো বারবার করা ও নিয়মিত এসইও অপটিমাইজড আর্টিকেল পাবলিশ করা।

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, গুগল টপ ১০ সার্চ রেজাল্টে কেমন কনটেন্ট চাচ্ছে?, এবং আমি নিশ্চিত আপনি এখন এবিষয়ে বেশ ভালই জানেন।

তাহলে! গুগল সার্চ রেজাল্টে র‍্যাঙ্ক করার মতো কনটেন্ট কেমন হওয়া উচিৎ?

  • হাই কোয়ালিটি ও কপিরাইট ফ্রি কনটেন্ট
  • কম্পিটিটরদের চেয়ে সামান্য বেশি শব্দের ব্যবহার
  • সঠিক জায়গাগুলোতে ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার
  • রিলেভেন্ট কিওয়ার্ড ব্যবহার
  • আউটবাউন্ড লিঙ্ক ও কোটেশান যুক্ত করা (ইনফরমেটিভ আর্টিকেলের ক্ষেত্রে)
  • যতটা সম্ভব ইন্টারনাল লিঙ্কিং করা
  • রিলেভেন্ট প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং
  • ইমেজ অপটিমাইজেশন
  • কম্পিটিটরদের ব্যাকলিঙ্ক থাকলে ব্যাকলিঙ্ক নেওয়া

অসাধারণ কনটেন্ট তৈরি যা টার্গেট ভিজিটরের জন্য অপটিমাইজ করা এবং ফাস্ট, ক্লিন ইউজার এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করার মাধ্যমে গুগলে র‍্যাঙ্ক করা সম্ভব, যা আপনার ট্রাফিক বৃদ্ধি করবে।

গুগলে র‍্যাঙ্ক তথা ট্রাফিক পেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন, তবে অসম্ভব কিছু না।

এবার বলুন, আপনার ব্লগ কি কোনো কিওয়ার্ডের জন্য গুগল সার্চ রেজাল্টে শীর্ষ দশে রয়েছে?


Abdullah

বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে অধ্যয়নরত। জানার আগ্রহ থেকে whyorwhen এবং Pratiborton এ লেখালেখি করি।

0 Comments

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 1 =

error: Content is protected !!