ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন – এ টু জেড জেনে নিন

ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন

ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন passport হাতে পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ইনভেস্টিগেশন অফিসার ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট দেওয়ার পরেই কেবল আপনার আবেদন ঢাকার পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছাবে। পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেগেটিভ হলে আপনার পাসপোর্ট আবেদনের যাত্রা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস পর্যন্তই থাকবে। মোট কথা, আপনি পাসপোর্ট পাবেন না!

বর্তমানে ঘরে বসে অনলাইনে ই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায়। আপনি যদি ইতিমধ্যে অনলাইনে আবেদন এবং আঞ্চলিক অফিসে ই পাসপোর্ট আবেদন পত্র জমা, ছবি উঠানোসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করে থাকেন, তবে পরবর্তীতে ই পাসপোর্ট হাতে পেতে সবচেয়ে বড় বাধা ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন।

ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন কি?

Police Verification এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোন প্রার্থী/নাগরিকের প্রদান করা সকল দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা হয়।

একজন নাগরিক হিসেবে আপনার বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন জায়গা যেমন: পাসপোর্ট, চাকরি জয়েন বা লাইসেন্স করার সময় আপনার দেওয়া তথ্য কতটুকু সত্য তা যাচাই করার জন্য একজন পুলিশ অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনি আপনার এলাকায় গিয়ে এসব তথ্য যাচাই করে দেখেন। আর এই প্রক্রিয়াকে পুলিশ ভেরিফিকেশন বলে।

আপনি যদি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করে থাকেন, তার অর্থ আপনি দেশের বাইরে যেতে ইচ্ছুক (ব্যতিক্রম কারণও থাকতে পারে)। সেক্ষেত্রে, আপনার নামে দেশে কোন অভিযোগ আছে কি না, তা খুঁজে দেখতেই মূলত পুলিশ ভেরিফেকশন করা হয়।

ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফেকেশন প্রক্রিয়া

ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন এক জায়গায় কিংবা দুই জায়গায় হতে পারে। আপনি যদি বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা একই দিয়ে থাকেন, তবে শুধুমাত্র এক জায়গাতেই ভেরিফিকেশন হবে।

যদি বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা আলাদা হয়, সেক্ষেত্রে দুই জায়গাতেই ভেরিফিকেশন করা হবে এবং দুজন পুলিশ অফিসার দায়িত্বে থাকবেন।

সাধারণত, স্থায়ী ঠিকানার ক্লিায়ারেন্স পেলে তারপর বর্তমান ঠিকানায় ভেরিফিকেশন করার জন্য আরেকজন অফিসারের কাছে অর্ডার আসবে।

স্থায়ী ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফাই করতে গেলে সাধারণত নাগরিক সনদ পত্র বা চেয়ারম্যান প্রত্যয়ন পত্র এবং ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দিতে হয়। যদি আপনি সেইস্থানে পুলিশ আসার সময় অবস্থান করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে পরিচিত কারো কাছে এই ডকুমেন্টসগুলো পাঠিয়ে দিবেন।

একইভাবে, আপনার বর্তমান ঠিকানায় পুলিশ আসার পরেও এজাতীয় কাগজপত্র চাইবে। শহরে থাকলে চেয়ারম্যান সনদের জায়গার কাউন্সিলর থেকে প্রাপ্ত নাগরিক সনদ পত্র দরকার হতে পারে। তাছাড়া, আপনি যদি ছাত্র হয়ে থাকেন, তাহলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের মূল কপি দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে।

পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেগেটিভ রিপোর্ট আসার কারণ কী?

ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন দেশ ও দেশের আইনের শাসনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, পাসপোর্ট পেয়ে গেলে বিদেশে চলে যেতে আর খুব একটা বাধা থাকে না। সেক্ষেত্রে কোন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী, মামলা চলমান অবস্থা কিংবা অন্য কোন অপরাধে জড়িত কোন নাগরিক যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তো চলুন, e-passport police verification report নেগেটিভ বা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো কি তা জেনে নেওয়া যাক:

  1. আবেদনকারী কোন ফৌজদারী, রাজনৈতিক বা অন্য কোন মামলায় অভিযুক্ত, গ্রেফতার, দন্ডিত, বা নজরবন্দি থাকলে।
  2. আবেদনকারীর কোন মামলায় সাজাপ্রাপ্তির রেকর্ড থাকলে।
  3. কোন দেশদ্রোহী ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে।
  4. ই পাসপোর্ট আবেদনকারীর চারিত্রিক ও সামাজিক অবস্থান।

আপনি যদি এধরনের কোন কর্মকান্ডে জড়িত না থাকেন, তবে আশা করতে পারেন পুলিশ ভেরিফিকেশনে ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট চলে আসবে এবং পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। পরবর্তীতে ই পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করলে দেখবেন পেন্ডিং ফর ফাইনাল এপ্রুভাল। এরপর প্রিন্ট হয়ে আঞ্চলিক অফিসে চলে আসবে, তখন সেখান থেকে মেইল কিংবা মেসেজ পাওয়ার পর গিয়ে ডেলিভারী নিতে পারবেন।

ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশনে সাধারণত এক জায়গায় করলে ৭-১০ দিন সময় প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমান ও স্থায়ী দুই ঠিকানাতেই করতে ১৫-২০ দিন সময় প্রয়োজন হবে।

আশা করি, ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভাল একটি ধারণা পেয়েছেন। এখনো কোন প্রশ্ন থেকে থাকলে কমেন্ট বক্স আপনার জন্য উম্মুক্ত রইলো।

6 thoughts on “ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন – এ টু জেড জেনে নিন”

  1. আমার স্থায়ী ঠিকানা, এবং বর্তমান ঠিকানা একই জেলায়, শুধুমাত্র থানা টি ভিন্ন যার দূরত্ব ১কিলোমিটার এর মধ্যেই, এক্ষেত্রে পুলিশের ভেরিফিকেশন কি দুই জায়গায় হবে নাকি এক জায়গায়

    1. নিয়ম অনুযায়ী দুই জায়গাতেই হবে। তবে আপনি যদি এখনো পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে না থাকেন, তাহলে আমাদের পরামর্শ হবে আপনার আইডি কার্ডে থাকা ঠিকানা উভয় ঠিকানা (বর্তমান এবং স্থায়ী) হিসেবে ব্যবহার করুন। পুলিশ ভেরিফিকেশনে আসার আগে আপনাকে কল করেই আসবে, তখন আপনি উপস্থিত হলেই চলবে।

  2. আমার বয়স বিশ বছর। আমি যদি পাসপোর্ট করি তাহলে আমি কি শুধু আমার এনআইডি এবং স্কুলস্কুলের সাটিফিকেট দিয়ে করতে পারব?

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

error: Content is protected !!