ব্লগ আর্টিকেল লেখার নিয়ম : অন পেজ এসইও অপটিমাইজেশন

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

ব্লগ আর্টিকেল লেখার নিয়ম এবং একটি সাধারণ পত্রিকায় বা অন্য কোথাও লেখার ধরনে কৌশলগত বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। মূল পার্থক্য হলো একটি ব্লগে লেখা কোনো পোস্ট পাঠকের পড়ার সুবিধার পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনের জন্যও লিখতে হয়, যাকে আমরা অন পেজ এসইও অপটিমাইজেশন বলি। ব্লগের ইনকাম নির্ভর করে ভিজিটরস সংখ্যার উপর, যার সিংহভাগ আসে GOOGLE থেকে, এবং সেইসাথে কিছু পরিমাণ ভিজিটরস পাওয়া যায় অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন যেমন Bing, Yahoo থেকে। কিন্তু ব্লগ থাকলেই ভিজিটরস পাওয়া যাবে এমন কোনো কথা নেই। ভিজিটরস নিয়ে আসার জন্য সঠিক আর্টিকেল লেখার নিয়ম অনুসরণ করে অন পেজ এসইও করতে হয়, যেন সার্চ ইঞ্জিন আপনার পোস্ট সম্পর্কে সঠিকভাবে বুঝতে পারে এবং ভ্যালু দিয়ে প্রথম পেজে স্থান দেয়।

আর্টিকেল লেখার কৌশল এর সঠিক প্রয়োগে প্রতিটি আর্টিকেলের Readability বৃদ্ধি পায় এবং সার্চ ইঞ্জিনের কাছে সহজবোধ্য ও মানসম্মত মনে হয়। যার কারণে পাওয়া যায় ভালো Ranking এবং আরো বেশি অর্গানিক ট্রাফিক।

এই পোস্টে আমরা আপনার ওয়েবসাইটের Rank বৃদ্ধিতে সহায়ক এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট লেখার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করবো। জানাবো কিভাবে একটি আর্টিকেল লিখতে হয়। অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে যে, কিওয়ার্ড রিসার্চ কিভাবে করবো? ব্লগ আর্টিকেলের কিওয়ার্ড কোথায় বসাতে হয়? এই লেখাটির মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজড ইংরেজি ও বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম শিখতে পারবেন আশা করছি।

ব্লগ আর্টিকেল লেখার নিয়ম

একটি এসইও অপটিমাইজড আর্টিকেল লেখার জন্য আমাদের কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে হয়। এই কাজগুলোকে আমরা ভিন্ন ভিন্ন স্টেপ এ ভাগ করে নিবো। প্রতিটি পর্যায়ে আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করতে হয়।

১) Primary বা মেইন কীওয়ার্ড সিলেক্ট করুন

কনটেন্ট রাইটিং শেখার উপায় জানার আগে আমাদের একটি সঠিক কীওয়ার্ড বাছাই করতে শেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আর্টিকেলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দেওয়া: ব্লগ এসইওর জন্য এমন একটি মেইন কীওয়ার্ড বাছাই করুন যা দিয়ে আপনার লেখার বিষয়বস্তুকে এক বাক্যে বুঝানো যায় অর্থাৎ মূল থিমটি ধারণ করতে পারে।

সার্চ ভলিয়্যুম: মেইন কীওয়ার্ডটি যেন ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়। অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিনে প্রায়শই ব্যবহৃত হওয়া কোনো কীওয়ার্ড বাছাই করুন।

উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার বিষয়টি “অন পেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন” হয়, এবং রিসার্চ করে দেখতে পেলেন যে গুগলে “অন পেজ এসইও” লিখে বেশি অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তবে  “অনপেজ এসইও” আপনার পোস্টের জন্য “অন পেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন” এর চেয়ে ভাল মেইন কীওয়ার্ড হতে পারে।

Low Competition Rate: এমন একটি কীওয়ার্ড বাছাই করুন যার জন্য প্রতিযোগিতা অনেক কম। কীওয়ার্ডটি নিয়ে খুব বেশি ওয়েবসাইটে লেখা হয়নি এমন হলে ভালো হয়।

অথবা আপনার ওয়েবসাইটটির ডোমেইন রেটিং, অথোরিটি High থাকতে হবে। তবে ডোমেইন রেটিং যাই হোক, অধিক সফলতার সুযোগের জন্য লো কম্পিটিটিভ কিওয়ার্ড বেছে নেওয়া উচিৎ।

জনপ্রিয় কীওয়ার্ড রিসার্চ টুলস ALEXA, Ahref, SEMrush, Ubersuggest, KeywordPlanner ইত্যাদি। গুগলের কিওয়ার্ড প্লানার ব্যতীত বাকিগুলোর সম্পূর্ণ সুবিধা নিতে পেইড ভার্সন ব্যবহার করতে হবে।

২) কয়েকটি রিলেটেড কীওয়ার্ড সিলেক্ট করুন

মেইন কীওয়ার্ড শনাক্ত করার পরে পোস্টে ব্যবহার করার জন্য দুই থেকে চারটি সেকেন্ডারি বা রিলেটেড কীওয়ার্ড বাছাই করতে হবে।

সেকেন্ডারি কীওয়ার্ডস যা কিনা ল্যাটেন্ট সিমেটিক ইনডেক্সিং কীওয়ার্ডস ( LSI Keywords ) হিসাবেও পরিচিত। রিলেটেড কীওয়ার্ডগুলো আপনার মূল কীওয়ার্ডের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হওয়া উচিৎ।

কোনও পোস্টে কয়েকটি  রিলেটেড কিওয়ার্ডস ব্যবহার করলে সার্চ ইঞ্জিন পোস্টটি কোন টপিকর উপর করা হয়েছে, সেসম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়। যা আরো ভালো Rank করতে সহায়তা করে।

রিলেটেড কীওয়ার্ড সার্চ করার উপায়

গুগলে আপনার মেইন কীওয়ার্ডটি লিখে সার্চ করুন। সার্চ রেজাল্টের নিচে রিলেটেড সার্চ লিস্টগুলো দেখতে পাবেন। মূল কীওয়ার্ডের সাথে সম্পর্কিত দুই থেকে তিনটি LSI Keywords বাছাই করে নিন।

আর্টিকেল লেখার কৌশল

এখন আপনার কাছে একটি মেইন কীওয়ার্ড এবং কয়েকটি রিলেটেড কীওয়ার্ড রয়েছে। একটি এসইও আর্টিকেল লেখা শুরু করার জন্য এখন আপনি তৈরি।

এসইও আর্টিকেল লেখার নিয়ম ও টিপস

একটি দূর্দান্ত ব্লগ আর্টিকেল পাঠক এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের জন্যই যথোপযুক্ত। পাঠকদের কথা মাথায় রেখে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য কিভাবে একটি ব্লগ আর্টিকেল লিখতে হয় তা জানতে এই ব্লগপোস্ট রাইটিং টিপসগুলো শিখে নিন।

১) সার্চ ইঞ্জিন না, পাঠকদের জন্য লিখুন

আর্টিকেল লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম– সর্বদা আপনার পাঠকদের কথা মনে রাখবেন। এসইও অপটিমাইজড করতে গিয়ে লেখার Readability কমিয়ে ফেলবেননা।

অর্থাৎ অভার অপটিমাইজেশনের কারণে পাঠকের আর্টিকেল পড়তে বিরক্ত লাগবে এবং একইসাথে এধরনের আর্টিকেল সার্চ ইঞ্জিন তথা গুগলও পছন্দ করেনা।

আপনার আর্টিকেলটি এমনভাবে এসইও করতে হবে যেন পাঠক বুঝতে না পারে লেখাটা শুধু তার জন্য নয়, গুগলের জন্যও অপটিমাইজেশন করা হয়েছে।

তাই লেখায় এমন কোনো জোরপূর্বক পরিবর্তন নিয়ে আসবেননা, যা এসইওর উন্নতি ঘটায় কিন্তু user experience কমিয়ে দেয়।

২) আর্টিকেলে ৩০০ ‘র অধিক শব্দ লিখতে হবে

কোনও ব্লগ পোস্টের জন্য যদিও শব্দ সংখ্যার লিমিট নেই। তবে একটি ন্যূনতম শব্দ সংখ্যার Requirement রয়েছে, যা আপনি একটি বেঞ্চমার্ক হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।

৩০০ বা তার ততোধিক শব্দ লিখলে সার্চ ইঞ্জিনগুলি আর্টিকেলটি ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং আরও ভাল Rank দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য খুঁজে পায়।

ব্লগ এসইও প্রাক্টিসে আর্টিকেলের শব্দ সংখ্যা সম্পর্কে অনেকগুলো মতামত রয়েছে। তবে সর্বোত্তম অনুশীলন হিসাবে ৫০০ থেকে ২,৫০০ শব্দের মধ্যে যতটুকু দরকার ততটুকু লিখুন।

কিন্তু, আপনি যদি এর চেয়েও বেশি শব্দের আর্টিকেল লিখতে চান তবে লেখাটিকে ২টি আলাদা লিঙ্কে সিরিজ হিসেবে পাবলিশ করলেই ভালো হবে।

৩) আর্টিকেলের বিভিন্ন জায়গায় মেইন কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন

নতুন ব্লগারদের অনেকের কমন প্রশ্ন কিভাবে, কোথায় কিওয়ার্ড বসাতে হয়। কারণ কিওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার না হলে সার্চ রেজাল্টের টপ লিস্টে আসা অসম্ভব বলা যায়।

সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে কনটেন্ট সম্পর্কে বুঝতে এবং শ্রেণীবদ্ধ করতে সহায়তা করার জন্য আর্টিকেলজুরে বিভিন্ন জায়গায় মেইন কীওয়ার্ডটি ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

অবশ্যই ন্যাচারালি যেসব জায়গায় বসে শুধু সেসব জায়গায় ব্যবহার করুন, জোরপূর্বক ব্যবহার করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন।

একটি ভাল কীওয়ার্ডের ডেনসিটি ২% হওয়া উচিৎ। সুতরাং, প্রতি ১০০ শব্দের জন্য এক থেকে দুইবার মূল কীওয়ার্ডটি ব্যবহার করাই বেস্ট অন পেজ এসইও অপটিমাইজেশন প্রাক্টিস।

৪) আর্টিকেলে রিলেটেড কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন

রিলেটেড কীওয়ার্ডগুলো আপনার লেখা আর্টিকেলটি সঠিক ক্যাটাগরিতে ইনডেক্স করার জন্য অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করে। পোস্টে অন্তত একবার করে আপনার দুই থেকে চারটি রিলেটেড কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

৫) প্রথম প্যারাগ্রাফে মেইন কীওয়ার্ডটি ব্যবহার করুন

সার্চ ইঞ্জিন কিছু জায়গায় গুরুত্ব দিয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করে। এসব জায়গার মাঝে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলের শুরুর প্যারাগ্রাফগুলো। তাই যেকোনো এসইও আর্টিকেল লেখার জন্য ভূমিকা অংশে কীওয়ার্ড রাখতে হবে।

বেস্ট রেজাল্ট পাওয়ার জন্য Main Keyword টি প্রথম প্যারাগ্রাফে রাখুন এবং সম্ভব হলে প্রথম লাইনে অন্তর্ভুক্ত করুন।

৬) সাব-হেডিং এ মেইন কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন

আর্টিকেলের বিভিন্ন জায়গায় ব্রেক দেওয়ার জন্য H2, H3, H4, H5 সাবহেডিং ব্যবহার করা হয়। পাঠককে পুরো আর্টিকেলটি একনজরে স্ক্যান করারও সুযোগ দেয় সাবহেডিং। একইসাথে অনুসন্ধান ইঞ্জিনগুলোকে আর্টিকেলটির থিম বুঝতে সহায়তা করে।

তাই সাবহেডিংগুলোর সঠিক ব্যবহার করুন এবং কমপক্ষে একটি সাবহেডিং এ মেইন কীওয়ার্ডটি ব্যবহার করুন।

৭) পৃষ্ঠার শেষ দিকে কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

আপনার পোস্টটি যখন শেষের দিকে চলে আসবে তখন ১ থেকে ২ বার পুনরায় মেইন কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন। উপসংহারে ব্যবহার করা কিওয়ার্ড পোস্টের শুরুতে ব্যবহারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

৮) ইউনিক কনটেন্ট লিখুন

সার্চ ইঞ্জিন ডুপ্লিকেট কনটেন্ট পছন্দ করে না। আপনার ওয়েবসাইটের অন্য কোনো আর্টিকেল কিংবা বা অন্য কোনো ওয়েবসাইটের আর্টিকেল থেকে কনটেন্ট কপি করবেন না।

এসবের পরিবর্তে ১০০% কনটেন্ট লিখুন, যা এখনো কোনো ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা হয়নি। ইউনিক আর্টিকেল আপনার ব্লগের এসইও পাওয়ার বৃদ্ধি করে।

৯) আর্টিকেলে কোনও বানান এবং ব্যাকরণগত ভুল করা যাবেনা

কেবল পাঠকই উচ্চ মানের, গ্রামাটিক্যালি নির্ভুল আর্টিকেল পছন্দ করে এমনটা নয়। বরং Search Engine গুলোও আর্টিকেলের ব্যাকরণ, সিনট্যাক্স এবং বানান পর্যবেক্ষণ করে সার্চ পেজে Rank দেয়।

আপনার কনটেন্ট পাবলিশ করার আগে সাবধানতার সাথে পরীক্ষা করে নিন যাতে এটিতে কোনো Grammatical Error বা ভুল বানান না থাকে।

ইংরেজিতে যারা ব্লগিং করেন তাদের জন্য এটি বিশেষ করে লক্ষণীয়। তবে এখন বাংলা ভাষাতেও গুগল বানানগুলোর কারেকশন করতে পারে।

পূর্বে ইংরেজিতে কোনো বানান কিংবা গ্রামাটিক্যালি ভুল কোনো বাক্য লিখে গুগলে সার্চ করলে  instead for রেজাল্ট Show করতো। কিন্তু এখন বাংলাতেও পরিবর্তিত রেজাল্ট দেওয়া শুরু করেছে।

১০) Readability বৃ্দ্ধি করুন

যেসব আর্টিকেলের পঠনযোগ্যতা ভালো সেগুলো পাঠক এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয়ই গুরুত্ব দেয়। তাই সংক্ষিপ্ত বাক্য এবং শর্ট প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করে লিখুন।

বড় প্যারা কিংবা Passive Sentence ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

১১) ইন্টারনাল লিঙ্ক যুক্ত করুন

ইন্টারনাল বা ইনবাউন্ড লিঙ্ক হলো আপনার ওয়েবসাইটে থাকা পোস্টগুলোর মাঝে এক অপরের সাথে লিঙ্ক-আপ। হাইপারলিঙ্কগুলি Search Engine কে বুঝাতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যগুলোকে হাইলাইট করতে সহায়তা করে। সুতরাং প্রাসঙ্গিক হলে আপনার আর্টিকেলে ইন্টারনাল লিঙ্কগুলো যুক্ত করুন।

লিঙ্কআপ করার সময় এমন বাক্য বা শব্দে লিঙ্ক যুক্ত করবেন যেটি রিলেটেড কিওয়ার্ড বা তার সাথে সম্পর্কিত। অবশ্যই মেইন কিওয়ার্ডে লিঙ্ক যুক্ত করবেননা।

১২) আউটবাউন্ড লিঙ্ক যুক্ত করুন

আউটবাউন্ড লিঙ্ক হলো অন্য কোনও ওয়েবসাইটে থাকা পোস্ট বা পেজের লিঙ্ক আপনার আর্টিকেলের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করা। এই ধরণের লিঙ্কগুলি আপনার কনটেন্ট এ তথ্যসূত্রে উল্লেখ করার জন্য ব্যবহার করা উচিত।

আপনি যখন অন্য ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু বা তথ্য উল্লেখ করেন তখন এই লিঙ্কগুলি আপনার লেখা আর্টিকেলে ন্যাচারালি ব্যবহার করুন।

প্রো এসইও কনটেন্ট রাইটিং টিপস: আউটবাউন্ড লিঙ্কগুলোতে open in a new tab সেট করে দিন, যাতে আপনার ভিজিটরস এসব লিঙ্কে ক্লিক করলেও আপনার সাইট থেকে চলে না যান।

আর্টিকেল অন পেজ এসইও অপ্টিমাইজেশন

এতক্ষনে আপনি SEO আর্টিকেল লেখার বিভিন্ন নিয়ম এবং টিপস জেনেছেন। এখন কিছু ব্যাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অপটিমাইজেশনের কাজ বাকি রয়েছে, যেগুলো আপনার আর্টিকেলটিকে Rank করাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

কন্টেন্ট লেখার নিয়ম

১৩) আর্টিকেল টাইটেলে মেইন কীওয়ার্ড ব্যবহার

টাইটেল হলো আর্টিকেল বা পোস্টটির নাম, যা দেখেই মূলত কোনো পাঠক আপনার লেখাটি পড়তে আসবে। এমন একটি টাইটেল তৈরি করুন যার মধ্যে মেইন কীওয়ার্ড রয়েছে। সম্ভব হলে টাইটেলের শুরুর দিকে কীওয়ার্ডটি রাখার চেষ্টা করুন। এটি সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারকে পোস্টটিতে কী রয়েছে তা বুঝতে সহায়তা করে।

এসইও অপটিমাইজড কোনো আর্টিকেলের টাইটেল ৫৫টি অক্ষরের বেশি হওয়া উচিত নয়। কারণ, এর বেশি ক্যারেক্টার থাকলে সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফল পৃষ্ঠাগুলিতে পূর্ণাঙ্গ টাইটেল দেখানোতে বাধা পায়, যা ক্লিক কম পড়ার কারণ হতে পারে।

আপনি যদি ব্লগারে ব্লগিং করেন তবে এসইও আর্টিকেল লেখার এই নিয়ম ফলো করতে কাউন্টিং ক্যারেক্টারস সাইট থেকে লেন্থ টেস্ট করে নিতে পারেন।

১৪) পার্মালিঙ্কে মেইন কীওয়ার্ড ব্যবহার

একটি permalink হলো URL এর সেই অংশ যা প্রতিটি পেজ এবং এবং পোস্টের জন্য অনন্য এবং ইউনিক। এসইও ফ্রেন্ডলি ইউআরএল তৈরি করতে পার্মালিঙ্কে মেইন কীওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করুন ( উদাহরণস্বরুপ- আমাদের এই আর্টিকেলের পার্মালিঙ্ক হলো “আর্টিকেল লেখার নিয়ম” )। সেই সাথে URL যতটা সম্ভব ছোট রাখার চেষ্টা করুন।

যারা ব্লগারে বাংলায় আর্টিকেল লেখেন, তাদের জন্য এক্ষেত্রে অপটিমাইজেশন করার সুযোগ নেই, কারণ ব্লগারে এখনো বাংলায় পারমালিঙ্ক যুক্ত করার সুবিধা দেওয়া হয়নি।

১৫) মেটা ডেস্ক্রিপশনে মেইন কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন

একটি মেটা ডেস্ক্রিপশন হলো পুরো আর্টিকেলের সারাংশ। টাইটেলের মতো মেটা ডেস্ক্রিপশনটিও Backend information যুক্ত করে যা Search Engine crawler কে পোস্ট সম্পর্কে অবহিত করে।

Meta Description সার্চ রেজাল্টেও Show করে। যা ব্যবহারকারীদের কোন আর্টিকেলটি বাছাই করতে হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।

আপনার আর্টিকেলের জন্য এমন একটি মেটা বিবরণ লিখুন যেন সেখানে মূল কীওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত থাকে। অবশ্যই ১৫৫ টি অক্ষরের বেশি নয়, তাহলে পুরো মেটা ডেস্ক্রিপশনটি সার্চ রেজাল্ট পৃষ্ঠায় দেখাবে। যা আপনার বেশি ভিজিটরস পেতে ভূমিকা রাখতে পারে।

১৬) উপযুক্ত ক্যাটেগরি এবং ট্যাগ ব্যবহার

ট্যাগ ও ক্যাটেগরি আর্টিলগুলোকে একটি অপরটির সাথে কানেক্ট করে রাখে। যেকোনো ব্লগকে সাজিয়ে রাখতে এবং সাইটের সহজ নেভিগেশনের জন্যও ট্যাগ এবং ক্যাটেগরির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

আর্টিকেলের বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে সঠিক ট্যাগ ব্যবহার করতে হয়। তবে প্রয়োজনের অধিক ট্যাগ ব্যবহারকরা এসইওর জন্য ভালো নয়।

একটি সুগঠিত ট্যাগ ও ক্যাটেগরি যেকোনও সাইটের এসইওকে বুস্ট করতে পারে। প্রতিটি পোস্ট এক থেকে দুটি ক্যাটেগরিতে রাখবেন।

আপনার ব্লগের নিসের উপর নির্ভর করে ট্যাগগুলো তৈরি করুন যেন কয়েকটি মাত্র ট্যাগ বারবার ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে গুগল আপনার ব্লগ কোন টপিকের উপর প্রতিষ্ঠিত তা সহজেই বুঝতে পারবে।

১৮) ব্লগ আর্টিকেলের ছবি অপ্টিমাইজেশন

যথোপযুক্ত ছবি ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠক ও সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আরো সুন্দর ও সহজবোধ্যভাবে আর্টিকেলটি উপস্থাপন করা সম্ভব। তাই আর্টিকেলে কমপক্ষে একটি ছবি যুক্ত করুন। তবে আরো ভালো এসইও রেজাল্টের জন্য প্রতি ৪০০ শব্দের জন্য একটি করে ইমেজ ব্যবহার করা উচিৎ।

ছবির ফাইল সাইজ কম রাখার চেষ্টা করুন। চেষ্টা করবেন যেন কোনো ছবির সাইজই ৫০ কেবির বেশি না হয়। ভাল কোয়ালিটির কপিরাইট ফ্রি ছবি ব্যবহার করুন।

ব্যবহার করা ছবির টাইটেল এবং Alt অপশনে primary Keyword ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ছবি ব্যবহার করলে রিলেটেড কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

কিন্তু কথনো একই কিওয়ার্ড সকল ইমেজে ব্যবহার করবেননা। অর্থাৎ প্রতিটি ছবির জন্য ভিন্ন ভিন্ন Alt ব্যবহার করতে হবে।

আর্টিকেলের এসইও ডাবল চেক করুন

উপরের আলোচনায় কিভাবে একটি এসইও অপ্টিমাইজড আর্টিকেল লিখতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখন কনটেন্ট রাইটিং এর যে টিপসটি বলবো সেটি সবার জন্য নয়। কারণ এটি ফ্রিতে ব্যবহারযোগ্য নয়। তাই লো কম্পিটিশনে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।

আপনার লেখা পোস্টটি কতটা আর্টিকেল লেখার নিয়ম অনুসারে অপটিমাইজড হলো তা জানার জন্য পেইড টুলস ব্যবহার করতে পারেন।  কনটেন্টটির এসইও স্কোর এবং আপনার কম্পিটিটরদের স্কোরও জানতে পারবেন।

সর্বোপরি, আপনার আর্টিকেল কত নাম্বার পজিশন আসতে পারে, কিংবা আর কি কি কৌশল অবলম্বন করলে আরো ভালো Search Result Rank পেতে পারে তা জানার জন্য আর্টিকেলটি পাবলিশ করার পরপরই  Alexa Advanced Plan ব্যবহার করে জানতে পারেন।

যদি আর্টিকেল লেখার নিয়ম অনুসরণ করে কোয়ালিটি আর্টিকেল লিখতে পারেন তাহলে, আপনার ব্লগের ভিজিটরস সংখ্যায় দ্রুতই বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে পারবেন আশা করি।

pratiborton@gmail.com | Website | + posts

বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে অধ্যয়নরত। জানার আগ্রহ থেকে whyorwhen এবং Pratiborton এ লেখালেখি করি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *