অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি | Affiliate Marketing করে আয় করার উপায়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো একটি বিপণন ব্যবস্থা যেখানে অ্যাফিলিয়েটরা তাদের মার্কেটিং এর কারণে প্রতিটি ভিজিট, সাইন-আপ বা বিক্রয়ের জন্য কমিশন পান।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি, এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো, এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে লাভজনক পদ্ধতিগুলোর মাঝে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অন্যতম। Affiliating marketing এর মাধ্যমে অনেকে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছেন।

affiliate marketing কি এবং মার্কেটিং এর সঠিক প্রসেস এবং কাজ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকের ইচ্ছা থাকলেও এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারছেন না। আপনাদের জন্যই আমাদের এই আর্টিকেলটি।

আজ আমরা এই Affiliate Marketing Tutorial থেকে আমরা Affiliate Marketing ki এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়, অ্যাফিলিয়েট ,মার্কেটিং করে আয় করার উপায় সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পাবো ইন-শা-আল্লাহ। আজকের আলোচনা থেকে আমরা জেনে নিবো;

  • এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?
  • affiliate marketing শুরু করতে আপনার কী কী দক্ষতা প্রয়োজন?
  • অ্যাফিলিয়েটিং করে আয় করার জন্য আপনি প্রস্তুত কি না?
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কোন নিস সিলেক্ট করবেন?
  • Affiliate প্রোডাক্ট কোথায় পাবেন ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

সূচীপত্র

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি | What is Affiliate Marketing in Bangla?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন অ্যাফিলিয়েট অন্য ব্যক্তি বা কোম্পানির পণ্য প্রচার চালিয়ে বিক্রিতে সহায়তা করার জন্য কমিশন উপার্জন করে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মডেল
ছবি: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং পদ্ধতি

Affiliate Marketing সম্পর্কে বোঝার আগে মার্কেটিং সম্পর্কে বোঝা দরকার। মার্কেটিং বলতে বোঝায় কোন প্রোডাক্ট প্রমোট করা অর্থাৎ, প্রচার করার মাধ্যমে ওই পন্যের ক্রেতা তৈরি করা।

মার্কেটিং ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি  বিষয়। অফলাইন-অনলাইন সব ধরনের ব্যবসায় মার্কেটিং দরকার হয়। অফলাইনে যখন কোন প্রোডাক্টের প্রোমশন করা হয় তবে তাকে বলা হয় মার্কেটিং। যখন এই মার্কেটিং অনলাইন মাধ্যমে করা হয় তখন তাকে বলে ডিজিটাল মার্কেটিং ( Digital marketing )।

ডিজিটাল মার্কেটিং যদি কেউ নিজের প্রোডাক্টের জন্য করে তবে তাকে বলা হয় ইন্টারনেট মার্কেটিং। কিন্তু, যদি এই ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্য কোন ব্যাক্তি বা কোম্পানীর পণ্য প্রমোট করা হয় তবে তাকেই বলা হয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)। এফিলিয়েট মার্কেটিং যারা করে তাদের অ্যাফিলিয়েটার বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার বলে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবো?

বর্তমানে অনলাইনে কেনাকাটা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই অনলাইনভিত্তিক বিজনেসও বাড়ছে। কিন্তু একজন গ্রাহক চায় সবচেয়ে ভালো প্রোডাক্টটি নিজের হাতে পেতে। তাই কোন কিছু কেনার আগে আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে রিভিউ দেখি, স্পেসিফিকেশন জেনে নেই।

যদি আপনার এমন কোন পেজ,  ব্লগ বা চ্যানেল থাকে যেখানে রিভিউ করে সবচেয়ে ভালো প্রোডাক্টটির একটি লিঙ্ক যুক্ত করে দেন তবে অনেক গ্রাহকই সেটা ক্রয় করতে অনুপ্রেরণা পাবেন।

তাহলে, এখানে গ্রাহক তার জন্য ভালো প্রোডাক্ট পেলো, বিক্রেতার প্রোডাক্ট বিক্রি হওয়ায় লাভ হলো। কিন্তু আপনি যে কষ্ট করে লিখলেন আপনার লাভ কি? আপনার লাভ হলো বিক্রেতা তার লাভের একটি অংশ আপনাকে কমিশন হিসেবে দিবে। প্রোডাক্ট প্রমোট করে যে আয় করার প্রসেস এটাই Affiliate Marketing.

অর্থাৎ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে ৩ পক্ষ যুক্ত থাকে, যথা:

  1. বিক্রেতা
  2. ক্রেতা
  3. ইনফ্লুয়েন্সার বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার।

সহজ কথায়, ধরুন আপনার কোন প্রোডাক্ট আছে, আমি আপনার প্রোডাক্ট বিভিন্ন উপায়ে প্রমোট করে কয়েকটা বিক্রি করলাম। এজন্য আপনি আমাকে কমিশন দিলেন। এটাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এক কথায় অন্যের পণ্য বিক্রি করে টাকা আয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায় এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় আনলিমিটেড ইনকাম করা সম্ভব। আপনি যত বেশি সময় দিবেন, যত ভালো কৌশলী হবে, যত ভালো মার্কেটিং করবেন তথা বিক্রি বৃদ্ধি করার সাথে সাথে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

Related:  টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট - সেরা ৫টি বাংলাদেশী ইনকাম সাইট

10beasts.com-টেক নিস অ্যামাজন এফিলিয়েট ওয়েবসাইট, ​tripsavvy.com-ট্রাভেল ব্লগ সাইট, ​toptenreviews.com-রিভিউ সাইট। এসব বড় বড় ওয়েবসাইটে অনলাইনে টিকে রয়েছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইনকামের উপর।

এখানে সেরা দশ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের তালিকা রয়েছে যারা গড়ে ৫০ হাজার ডলারের বেশি প্রতিমাসে ইনকাম করছেন। এত এত স্কোপ যদি থাকে তবে অবশ্যই কিছু দক্ষতাও প্রয়োজন, নইলে তো সবাই তাদের মতো কোটিপতি হয়ে যেত, কি বলেন!

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কোন বিষয়ে জানা প্রয়োজন?

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য যেসব স্কিল প্রয়োজন:

  • সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা
  • সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা
  • ক্রিয়েটিভিটি ও মার্কেটিং দক্ষতা
  • টেকনিক্যাল নলেজ
  • কমিউনিকেশন স্কিলস
  • ডাটা এনালাইসিস করতে জানতে হবে
  • ম্যানেজমেন্ট এন্ড লিডারশীপ স্কিলস
  • এসইও (Search engine optimisation )
  • English language skill

এতো স্কিলস প্রয়োজন? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সবগুলো সকল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং পলিসির জন্য প্রয়োজন নেই।

হ্যা, তবে যদি আপনি টিম নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে মার্কেটিং করতে চান তবে সবগুলোই দরকার হবে। নিচের আলোচনায় ধীরে ধীরে পয়েন্টগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কত প্রকার

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ৩ প্রকার:

  1. Unattached Affiliate Marketing
  2. Related Affiliate Marketing
  3. Involved Affiliate Marketing

1. Unattached Affiliate Marketing

Unattached Affiliate Marketing হলো বেসিক পে-পার-ক্লিক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সিস্টেম যেখানে, আপনি যে প্রোডাক্টটি প্রচার করছেন তার সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। আপনার এবং গ্রাহকের মধ্যেও কোন সংযোগ থাকবে না। আপনি যা করবেন তা হলো Google Adwords, Facebook এবং অন্যান্য মিডিয়ার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক সমৃদ্ধ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা। আপনার বিজ্ঞাপন লিঙ্কে ক্লিক করে যতগুলো পণ্য বিক্রি হবে তার বিপরীতে আপনি কমিশন উপার্জন করবেন।

2. Related Affiliate Marketing

Related Affiliate Marketing এ আপনার অনলাইন প্লাটফর্ম রয়েছে যেমন ব্লগ, পডকাস্ট, ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার সাইটের সম্পর্কিত পণ্যগুলোর জন্য অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক তৈরি করে লিঙ্ক-আপ করতে হবে। কিন্তু সেসব পণ্য এমন যা আসলে আপনি হয়তো নিজে ব্যবহার করেননি।

3. Involved Affiliate Marketing

Involved Affiliate Marketing হলো এমন কোন পণ্য বা পরিষেবা সম্পর্কে সুপারিশ করা (Recommend) যা সত্যিকার অর্থেই আপনি নিজে ব্যবহার করেছেন এবং কোনো ব্যানার বিজ্ঞাপনে না বলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার তার নিজস্ব প্লাটফর্ম যেমন ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ফেসবুক পেজে রিকমেন্ড করে লিঙ্ক সংযুক্ত করবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিস

অ্যাফিলিয়েট নিস বা বিষয়বস্তু সিলেক্ট করার আগে আমাদের সিলেক্ট করতে হবে প্রোডাক্টটি কোন টাইপের হবে। প্রোডাক্ট দুই ধরনের হতে পারে যেমন- Physical Product এবং Digital Product ;

1. ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট | Physical Product

ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বলতে বোঝায় এমন কিছু প্রোডাক্টকে বোঝায় যা আমরা টাচ করতে পারি, হাতে ধরতে পারি, যে পণ্যেরউচ্চতা বা আকার-আকৃতি আছে। যেমন – ইলেক্ট্রিক্যাল প্রোডাক্ট, বিউটি প্রোডাক্ট, ফ্যাশন প্রোডাক্ট।

2. ডিজিটাল প্রোডাক্ট | Digital Product

ডিজিটাল প্রোডাক্ট হলো এমন পণ্য যা ছোয়া বা ধরা যায় না, যার কোন ফিজিক্যাল অস্তিত্ত্ব নেই। আপনি নিশ্চয়ই ই-বুকের ঘ্রাণ নিতে পারবেন না, কোনো ওয়েবসাইট থিম ধরে দেখতে পারবেন না।

অ্যাফিলিয়েটিং
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য কোন প্রোডাক্ট বেছে নিবেন?

সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নেওয়ার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা জরুরী কারণ যার মেকআপ বক্স দরকার তাকে আপনি যত সুন্দর বই দেখান তিনি যে নিবেন না সে সম্ভাবনাই বেশি।

  • গ্রাহকের বয়স কত
  • গ্রাহকের অধিকাংশ কোন লিঙ্গের
  • এই বয়সের গ্রাহকদের কি ধরনের প্রোডাক্ট পছন্দ
  • আপনার গ্রাহকের বাজেট কেমন
  • কোন দেশের নাগরিক

প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি সিলেক্ট করার পর আপনাকে উপযোগিতা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। নতুন প্রোডাক্ট যা আমাদের কোন বড় ধরনের সমস্যা সমাধান করতে পারে (যেমন- মিনি ইউপিএস কিনলে বিদ্যুৎ না থাকলেও ব্রডবান্ড কানেকশন ধরে রাখা যাবে)।

অথবা এমন কোন প্রোডাক্ট যা আমাদের সব সময় প্রয়োজন হয়, এসব প্রোডাক্টের ওপর কোন অফার আসলে অ্যাফিলিয়েট করলে রেস্পন্স পাওয়া যায়। সর্বোপরি আপনার ক্লায়েন্ট কি চায় এটা বুঝতে হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট | AFFILIATE PROGRAM WEBSITES

জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট হলো:

  • Amazon
  • ebay
  • Ali Express
  • Evanto
  • Namecheap
  • Bluehost
  • Godaddy
  • Themeforest
  • Shutterstock
  • Freelancer
  • Upwork
  • Fiverr, ইত্যাদি।

1. আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

Amazon সারা বিশ্বের নাম্বার ওয়ান ই-কমার্স সাইট। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট (Amazon Affiliate Program) কে ঘিরেই হাজার হাজার ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে।

অ্যামাজন নিজেকে বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই ক্লায়েন্টকে বিশ্বস্ততা নিয়েও চিন্তা করতে হবেনা। তবে আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও এবং ইংরেজি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেল ল্যাঙ্গুয়েজ অবশ্যই ইংরেজিতে হতে হবে।

Related:  অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং : কিভাবে শুরু করবেন?

কিন্তু, আপনি যদি শুধু দেশীয় গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে চান তবে আমি বলবো অ্যামাজন নিয়ে কাজ না করাই ভালো কারণ অ্যামাজনে যে ধরনের পেমেন্ট সিস্টেম রয়েছে তা বাংলাদেশীদের কাছে খুব একটা নেই।

2. e-Bay

eBay Inc. হলো একটি আমেরিকান বহুজাতিক ই-কমার্স সাইট যা ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে’তে অবস্থিত।  এখানে ভোক্তা-থেকে-ভোক্তা এবং ব্যবসা-থেকে-ভোক্ত‘র মাঝে বিক্রির সুবিধা দিয়ে থাকে।

eBay অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের কাছে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট যেখানে অ্যাফিলিয়েট হিসেবে যুক্ত হয়ে মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন।

3. Ali Express

AliExpress হলো চীনের একটি অনলাইন খুচরা পরিষেবা যা আলিবাবা গ্রুপের মালিকানাধীন। যা আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্রেতাদের পণ্য ডেলিভারি অফার করে।

AliExpress আরেকটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট যেখানে রয়েছে হাজার হাজার পণ্য। AliExpress বর্তমানে আরেকটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট যেখানে যুক্ত হয়ে আপনিও ইনকাম করতে পারবেন।

4. Evanto

Evanto আন্তর্জাতিকভাবে ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর বাজার যেখানে তুলনামূলক কম দামে বিভিন্ন টুলস, কোডিং, থিম পাওয়া যায়। যারা ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছে প্রচার করে আপনি এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারবেন।

5. Namecheap

নেমচিপ একটি ডোমেইন-হোস্টিং সার্ভিসিং এর জন্য বিশ্বস্ত সাইট। বর্তমানে ডোমেইন এবং হোস্টিং নিয়ে অনেক চাহিদা রয়েছে। কেননা, প্রতিদিন নতুন নতুন ওয়েবসাইট, ব্লগ অনলাইনে আসছে।

তাই, ব্লগিং নিশ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার সেরা ওয়েবসাইট হলো নেমচিপ।

বাংলাদেশী জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট তালিকা:

  1. সহজ অ্যাফিলিয়েটস ( Sohoj Affiliates )
  2. বিডিশপ.কম ( bdshop )
  3. দারাজ ( বর্তমানে বন্ধ )

বাংলাদেশী ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার ওয়েবসাইট তালিকা:

  1. বহুব্রীহি অনলাইন কোর্স
  2. ডায়ানাহোস্ট (ডোমেইন এন্ড হোস্টিং)
  3. হোস্টিং বাংলাদেশ (ডোমেইন এন্ড হোস্টিং)
  4. থিম বাজার (Themesbazar)

আরো বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের বাংলাদেশের সেরা ১০টি এফিলিয়েট মার্কেট সম্পর্কিত আর্টিকেলটি পড়ে নিন।

আফিলিয়েট মার্কেটিং কৌশল | Affiliate Marketing Strategy

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফলতার একটাই উপায়। আপনার লিঙ্ক প্রচুর মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। যতো বেশি মানুষের কাছে আপনার প্রোডাক্ট পৌছাবে ততোবেশি সেল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে এবং একইভাবে যতো বেশি সেল ততোবেশি কমিশন একাউন্টে যোগ হবে। এই লিঙ্ক পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে।

১) Text Message Marketing

মেসেজ মার্কেটিং এর মাধ্যমে সাধারণত বিভিন্ন অফার প্রোডাক্ট প্রোমোট করা হয়। তবে যেকোন প্রোডাক্ট সম্পর্কে খুব ছোট করে বর্ণনার সাথে লিঙ্কসহ মেসেজ পাঠানো সম্ভব।

টেক্সট মেসেজ মার্কেটিং করার জন্য নাম্বার সংগ্রহ করতে হয়। নাম্বার সংগ্রহ করতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যায়, তবে এজন্য সময় প্রয়োজন। দ্রুত মার্কেটিং করার জন্য ক্রয় করে নিতে পারেন।

২) Email Marketing

মার্কেটিং কৌশলগুলোর মধ্যে মেইল মার্কেটিং অন্যতম জনপ্রিয়। মেসেজ এর চেয়ে মেইলে মার্কেটিং করা সুবিধাজনকও বটে। মেইলে প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে গ্রাহককে পাঠানো যায়।

মেসেজ মার্কেটিং করার মতো মেইলের জন্যও আপনার টার্গেট গ্রাহকদের মেইল এড্রেস সংগ্রহ করতে হবে। এক্ষেত্রেও মেইল এড্রেস কিনে নেওয়া যায়।

৩) স্যোশাল মিডিয়া Marketing

যদি ফেসবুকে আপনার কোন বড় পেজ বা গ্রুপ থাকে তবে খুব সহজেই প্রচুর মানুষের কাছে আপনার প্রোডাক্ট লিঙ্ক পৌছাতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম, কোরা, টেলিগ্রাম, পিন্টারেস্ট, টুইটার, প্রভৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা সম্ভব।

বড় বড় তারকারা এই স্যোশাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয়। তাদের ভাষায় যেটিকে ইনফ্লুয়েন্স বলা হয়।

৪) ওয়েবসাইটে Affiliate marketing

সবচেয়ে ভাল উপায় প্রোডাক্ট  রিভিউ লিখে ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা। তাহলে স্যোশাল মিডিয়ার মতো প্রতিদিন ছবি পোস্ট করা লাগবে না বা ক্লায়েণ্ট এর প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে না।

আপনার রিভিউ এর সাথে প্রোডাক্টের অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক দিবেন ক্র‍য় করার জন্য। একদিন শুধু কষ্ট করে প্রোডাক্টটির সুন্দর একটি রিভিউ লিখবেন। লেখার সময় মনে রাখতে হবে, আপনি যতো ভালভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, ক্রেতা জিনিস কিনতে ততো বেশি আগ্রহী হবে।

তবে ওয়েবসাইটে কাজ শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই SEO সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান আহরণ করতে হবে। এসইও সম্পর্কে না জানলে আপনার ওয়েবসাইট র‌্যাঙ্ক করবেনা, আর র‌্যাঙ্ক না করলে ভিজিটরস পাবেন না অর্থাৎ আপনার প্রোডাক্ট গ্রাহক পর্যন্ত পৌছাবে না।

৫) ইউটিউব অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ওয়েবসাইটের মতো ইউটিউবেও একই কাজ করা যায় শুধু উপস্থাপন ভিন্ন ধরনের। ইউটিউবে সাফল্য পাওয়ার জন্য প্রয়োজন সাবস্ক্রাইবার এবং সেইসাথে ভালো ভিডিও তৈরি করে আরো বেশি ভিউ নিয়ে আসা। ভিডিওর সাথে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিঙ্কটি ডেস্ক্রিপশন বক্সে দিয়ে দিতে হবে।

Related:  মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার উপায় : Apps + ওয়েবসাইট

ইউটিউবে যে এসইও করা যায় সে সম্পর্কে আমাদের অনেক ইউটিইবারই জানেনা। একইসাথে ইউটিউব ভিডিও কোয়ালিটি এবং উপস্থাপন সুন্দর হওয়া জরুরী।

৬) বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে মার্কেটিং

Advertisement এর মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে প্রোডাক্ট পৌছানো পুরাতন তবে চিরতরুন কৌশল। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞাপন মার্কেটিং কৌশলের উন্নতি হয়েছে।

আপনার বাজেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের সাথে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন অথবা গুগলের সাথেও বিজ্ঞাপন দেখাতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো

এফিলিয়েট মার্কেটিং টিউটোরিয়াল
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার পদ্ধতি

১. ট্রাফিক: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফলতা পেতে সঠিক Affiliate marketing product বেছে নেওয়া খুবই গুরত্বপূর্ণ। আপনার কাছে এমন একটি পেজ, ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে যেখানে বেশ ভালো পরিমাণ ভিজিটরস রয়েছে। অথবা, অনলাইন মার্কেটিং করার মতো টাকা খরচ করতে হবে।

২. নিশ নির্বাচন: গ্রাহকের চাহিদা সম্পন্ন প্রোডাক্ট নির্বাচন করতে হবে এবং সাইট বিশ্বস্ততা সম্পর্কে গবেষণা করে নিন।

৩. অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট তৈরি: এখন সিলেক্টেড সাইটের জন্য কাজ করতে আপনাকে একটি অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর তাদের যেসব প্রোডাক্ট নিয়ে আপনি কাজ করতে চান সেগুলো বাছাই করুন।

৪. অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক তৈরি: প্রোডাক্ট লিঙ্ক কপি করে আপনার অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট ড্যাশবোর্ড থেকে লিঙ্কটিকে কনভার্ট করে আপনার নিজস্ব এবং সতন্ত্র অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক জেনারেট করে নিতে হবে।

৫. প্রচারণা: এবার আপনার যেকোন সোশ্যাল সাইট কিংবা অন্য যেকোন মার্কেটিং মিডিয়া যেমন; ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ, গ্রুপ প্রভৃতির মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন।

ব্যাস, আপনার কাজ শেষ। এখন এই লিঙ্ক দিয়ে কেউ যদি কোন প্রোডাক্ট ক্রয় করে বা সেবা নেয় তবে বিক্রেতার লাভের একটি অংশ আপনার একাউন্টে চলে আসবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার উপায়

আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্যাসিভ ইনকামকে প্রফেশন বানিয়ে নিতে হলে একটি ভালো মার্কেটিং কোর্স করুন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ দক্ষতা অর্জন করার জন্য বহু ফ্রি অনলাইন কোর্স রয়েছে যেগুলো কম্প্লিট করে একজন সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে পারবেন আশা করা যায়।

এ ছাড়া, আরো অনেক অনলাইন কোর্স করার সাইট রয়েছে যেখানে আপনি মার্কেটিং শেখার জন্য কোর্স করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে কত টাকা প্রয়োজন?

আমরা মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছি। উপরে যে স্টেপগুলো নিয়ে কথা বললাম তোর মাঝে কোথায় কোথায় খরচ হতে পারে বলুন তো?

  1. স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে
  2. মেইল কিংবা নাম্বার ক্রয় করতে
  3. বিজ্ঞাপন প্রকাশে

এই তিনটি স্টেপের প্রতিটাতেই খরচ শূন্য হতে পারে আবার কয়েক হাজারও হতে পারে। যদি আপনার মেইল বা নাম্বার থেকে থাকে অথবা প্রয়োজন না হয়, তবে আপনার এখানে কোন খরচ হচ্ছে না।

যদি আপনার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার কোন প্রয়োজন না হয়, তাহলে বিজ্ঞাপনের জন্য কোন খরচ হবে না। আপনার যদি মার্কেটিং করার জন্য প্রয়োজনীয় স্কিল থেকে থাকে তাহলে এখানেও খরচ শূন্য। সুতরাং আপনার কোন খরচই নেই।

কিন্তু যার কাছে এসব রিসোর্স নেই তাকে উপরোক্ত তথ্য পেতে এবং দক্ষতা অর্জন করতে কিছু টাকা খরচ করতে হবে। আবার ধরুন আপনি নিজে SEO না করে এক্সপার্ট হায়ার করেন সেখানে আরো বেশি টাকা লাগবে।

ভালোভাবে আন্তর্জাতিকভাবে অ্যাফিলিয়েট শুরু করার জন্য গড়ে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হতে পারে। আপনি যতোবেশি স্কিলড এবং তথ্যসমৃদ্ধ হবেন আপনার খরচ সেভাবেই কমতে থাকবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে শেষ কথা

তাহলে আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি, এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবো তা জেনে নিলাম। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) করে আয় করে মাস শেষে বড় একটা এমাউন্টের প্যাসিভ ইনকাম করা সম্ভব।

তবে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার আগে আপনার বেশ ভালো পরিমাণ ভিজিটরস কিংবা সাবস্ক্রাইবার তৈরি করতে হবে। কিংবা আপনাকে টার্গেট গ্রাহকের  মেইল এড্রেস বা মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করতে হবে। এ ছাড়া নিজের মার্কেটিং দক্ষতা ও এসইও নলেজ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে ধৈর্য্য ধরতে হবে। এমনকি সফলতা পেতে আপনার বছরও লেগে যেতে পারে। কিন্তু, একবার প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে আর পিছনে তাকাতে হবেনা।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করে অনেকে প্রথম দিনেই কমিশন পেয়ে যান কিন্তু দ্রুতই হারিয়েও যান, তাই প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে ধীরে ধীরে নিজের ভিত্তি শক্ত করুন।

মানুষ প্রতিদিন আরো বেশি অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়ছে সুতরাং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ভবিষ্যত যে উজ্জ্বল তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) এর পথচলা শুভ হোক।

13 thoughts on “অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি | Affiliate Marketing করে আয় করার উপায়”

    1. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়ে লেখা আর্টিকেল র‍্যাংক করানোর চেষ্টা করার আগে আপনার সাইটটি কাস্টোমাইজ করে নিন।
      সেক্ষেত্রে প্রতিবর্তনেও সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন (পেইড)।

  1. ধন্যবাদ আব্দুল্লাহ ভাইকে, সুন্দর একটা আর্টিকেল লেখার জন্য। আমি আমাজনে এফিলেট মার্কেটিং করার জন্য নিবন্ধন করেছি। একটি বগ্ল সাইটও্ খোলেছি। সাইটটি ভিজেট করে পরার্শ দিলে খুশি হতাম।
    topelectronics70

    1. আপনার সাইটের এসইও খুবই দূর্বল এবং নামটাও যথার্থ হয়নি, যার কারণে গুগলে সার্চ করলেও পাওয়া মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।

  2. অনেক ভালো লাগলো। ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর e-cab এর ১১ দিনের একটি ট্রেনিং নিয়ে ধারনা পাই।এরপর আমি নিজেই আমার ও অন্যদের প্রডাক্ট সেল নিয়ে কাজ করি।তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে একটু সমস্যা ছিলো । নিজেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছি অথচ নিজে জানতাম না এটাকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে।ধন্যবাদ ও শুভকামনা লেখকের জন্য।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।