অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো? ( Affiliate Marketing Tutorial Bangla ) এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে লাভজনক পদ্ধতিগুলোর মাঝে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অন্যতম। অনেকে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ( Affiliating marketing ) এর মাধ্যমে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং মার্কেটিং এর সঠিক প্রসেস এবং কাজ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকের ইচ্ছা থাকলেও এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারছেন না। আপনাদের জন্যই আমাদের এই আর্টিকেলটি।

আজ আমরা এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং টিউটোরিয়াল থেকে আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার ( Affiliate Marketer ) এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং কি সেসম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পাবো ইনশা’আল্লাহ।

  • আমরা জেনে নিবো এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?
  • affiliate marketing শুরু করতে আপনার কী কী দক্ষতা প্রয়োজন?
  • অ্যাফিলিয়েটিং করে আয় করার জন্য আপনি প্রস্তুত কি না?
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কোন নিস সিলেক্ট করবেন?
  • Affiliate প্রোডাক্ট কোথায় পাবেন ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

সূচীপত্র

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? ( What is Affiliate Marketing )

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মডেলঈদে বন্ধুর সাথে কেনাকাটা করা কিন্তু মার্কেটিং নয়। মূলত, মার্কেটিং বলতে বোঝায় কোন প্রোডাক্ট প্রমোট করা অর্থাৎ প্রচার করার মাধ্যমে ওই পন্যের ক্রেতা তৈরি করা।

মার্কেটিং ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি  বিষয়। অফলাইন – অনলাইন সব ধরনের ব্যবসায় মার্কেটিং দরকার হয়। অফলাইনে যখন কোন প্রোডাক্টের প্রোমশন করা হয় তবে তাকে বলা হয় মার্কেটিং। যখন এই মার্কেটিং অনলাইন মাধ্যমে করা হয় তখন তাকে বলে ডিজিটাল মার্কেটিং ( Digital marketing )।

ডিজিটাল মার্কেটিং যদি কেউ নিজের প্রোডাক্টের জন্য করে তবে তাকে বলা হয় ইন্টারনেট মার্কেটিং ( Internet marketing )। কিন্তু যদি এই ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্য কোন ব্যাক্তি বা কোম্পানীর পণ্য প্রমোট করা হয় তবে তাকেই বলা হয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ( Affiliate Marketing )।

বর্তমানে অনলাইনে কেনাকাটা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই অনলাইনভিত্তিক বিজনেসও বাড়ছে। কিন্তু একজন গ্রাহক চায় সবচেয়ে ভালো প্রোডাক্টটি নিজের হাতে পেতে। তাই কোন কিছু কেনার আগে আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে রিভিউ দেখি, স্পেসিফিকেশন জেনে নেই।

যদি আপনার এমন কোন পেজ,  ব্লগ বা চ্যানেল থাকে যেখানে রিভিউ করে সবচেয়ে ভালো প্রোডাক্টটির একটি লিঙ্ক যুক্ত করে দেন তবে অনেক গ্রাহকই সেটা ক্রয় করতে অনুপ্রেরণা পাবেন।

তাহলে এখানে গ্রাহক তার জন্য ভালো প্রোডাক্ট পেলো, বিক্রেতার প্রোডাক্ট বিক্রি হওয়ায় লাভ হলো। কিন্তু আপনি যে কষ্ট করে লিখলেন আপনার লাভ কি? আপনার লাভ হলো বিক্রেতা তার লাভের একটি অংশ আপনাকে কমিশন হিসেবে দিবে। প্রোডাক্ট প্রমোট করে যে আয় করার প্রসেস এটাই Affiliate Marketing.

অর্থাৎ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে ৩ পক্ষ যুক্ত থাকে, যথা:

  1. বিক্রেতা
  2. ক্রেতা
  3. ইনফ্লুয়েন্সার বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার।

সহজ কথায় ধরুন আপনার কোন প্রোডাক্ট আছে, আমি আপনার প্রোডাক্ট বিভিন্ন উপায়ে প্রমোট করে কয়েকটা বিক্রি করলাম। এজন্য  আপনি আমাকে কমিশন দিলেন। এটাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এক কথায় অন্যের পণ্য বিক্রি করে টাকা আয়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য কী কী জানতে হবে?

  • 10beasts.com – টেক নিস অ্যামাজন এফিলিয়েট ওয়েবসাইট।
  • ​tripsavvy.com – ট্রাভেল নিশ ব্লগ।
  • ​toptenreviews.com – রিভিউ সাইট।

এসব বড় বড় ওয়েবসাইটে অনলাইনে টিকে রয়েছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইনকামের উপর। এখানে সেরা দশ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের তালিকা রয়েছে যারা গড়ে ৫০ হাজার ডলারের বেশি প্রতিমাসে ইনকাম করছেন। এত এত স্কোপ যদি থাকে তবে অবশ্যই কিছু দক্ষতাও প্রয়োজন, নইলে তো সবাই তাদের মতো কোটিপতি হয়ে যেত, কি বলেন?

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য যেসব স্কিল প্রয়োজন :

  • সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা
  • সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা
  • ক্রিয়েটিভিটি ও মার্কেটিং দক্ষতা
  • টেকনিক্যাল নলেজ
  • কমিউনিকেশন স্কিলস
  • ডাটা এনালাইসিস করতে জানতে হবে
  • ম্যানেজমেন্ট এন্ড লিডারশীপ স্কিলস
  • এসইও ( Search engine optimisation )
  • English language skill

এতো স্কিলস প্রয়োজন? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সবগুলো সব মার্কেটিং পলিসির জন্য প্রয়োজন নেই। হ্যা তবে যদি আপনি টিম নিয়ে মাল্টিন্যাশনালি মার্কেটিং করতে চান তবে সবগুলোই দরকার হবে। নিচের আলোচনায় ধীরে ধীরে পয়েন্টগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

কী ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা যায়

অ্যাফিলিয়েট নিস বা বিষয়বস্তু সিলেক্ট করার আগে আমাদের সিলেক্ট করতে হবে প্রোডাক্টটি কোন টাইপের হবে। প্রোডাক্ট দুই ধরনের হতে পারে যেমন- Physical Product এবং Digital Product ;

১) ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট ( Physical Product )

ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বলতে বোঝায় এমন কিছু প্রোডাক্টকে বোঝায় যা আমরা টাচ করতে পারি, হাতে ধরতে পারি, যে পণ্যেরউচ্চতা বা আকার-আকৃতি আছে। যেমন – ইলেক্ট্রিক্যাল প্রোডাক্ট, বিউটি প্রোডাক্ট, ফ্যাশন প্রোডাক্ট।

২) ডিজিটাল প্রোডাক্ট ( Digital Product ) বা সার্ভিস

ডিজিটাল প্রোডাক্ট হলো এমন পণ্য যা ছোয়া বা ধরা যায় না, যার কোন ফিজিক্যাল অস্তিত্ত্ব নেই। আপনি নিশ্চয়ই ই-বুকের ঘ্রাণ নিতে পারবেন না, কোনো ওয়েবসাইট থিম ধরে দেখতে পারবেন না।

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য কোন প্রোডাক্ট বেছে নিবেন?

সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নেওয়ার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা জরুরী কারণ যার মেকআপ বক্স দরকার তাকে আপনি যত সুন্দর বই দেখান তিনি যে নিবেন না সে সম্ভাবনাই বেশি।

  • গ্রাহকের বয়স কত
  • গ্রাহকের অধিকাংশ কোন লিঙ্গের
  • এই বয়সের গ্রাহকদের কি ধরনের প্রোডাক্ট পছন্দ
  • আপনার গ্রাহকের বাজেট কেমন
  • কোন দেশের নাগরিক

প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি সিলেক্ট করার পর আপনাকে উপযোগিতা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। নতুন প্রোডাক্ট যা আমাদের কোন বড় ধরনের সমস্যা সমাধান করতে পারে (যেমন- মিনি ইউপিএস কিনলে বিদ্যুৎ না থাকলেও ব্রডবান্ড কানেকশন ধরে রাখা যাবে)।

অথবা এমন কোন প্রোডাক্ট যা আমাদের সব সময় প্রয়োজন হয়, এসব প্রোডাক্টের ওপর কোন অফার আসলে অ্যাফিলিয়েট করলে রেস্পন্স পাওয়া যায়। সর্বোপরি আপনার ক্লায়েন্ট কি চায় এটা বুঝতে হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেট সাইটের বিশ্বস্ততা

আপনি যখন কোনো নির্দিষ্ট ক্যাটাগরী সিলেক্ট করে নিবেন তখন আপনার ক্লায়েন্টের জন্য বেস্ট প্রোডাক্ট, সেবা সিলেক্ট করা আপনার কর্তব্য হয়ে যায়।

আপনার রেফারেন্সে যদি প্রোডাক্ট বা সেবা নিয়ে গ্রাহক এক্সপেরিয়েন্স খারাপ হয় তবে আপনি রেটিং এবং গ্রাহক হারাতে থাকবেন। সুতরাং খুব সাবধানতার সাথে প্রোডাক্ট সাইট নির্বাচন করতে হবে। একই সাথে দামে তুলনামূলক কম হওয়াও জরুরী।

আমাদের হাতে একই প্রোডাক্টের জন্য বিভিন্ন সাইটের সাথে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা সম্ভব। যেমন ধরুন আপনি যদি ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে অ্যাফিলিয়েট করতে চান তবে ৫ থেকে ৬ টি বাংলাদেশী কোম্পানীর সাথে যুক্ত হতে পারবেন। কিন্তু সবার সার্ভিস কি একই রকম?

না! সবাই ভালো সার্ভিস দিতে পারেনা। তাই এমন কোনো কোম্পানী সিলেক্ট করবেন না যার প্রোডাক্ট ক্রয় করে আমাদের মতো গ্রাহকদের সমস্যায় পরতে হয়।

অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম সাইটস ( AFFILIATE PROGRAM SITES )

ই-কমার্স সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে। লোকাল সাইট ছাড়াও মাল্টিন্যাশনাল সাইটও রয়েছে। একটু আগে আমরা আমাদের টার্গেট প্রোডাক্টের জন্য জাতীয়তা নিয়ে চিন্তা করেছি।

এখন সাইট সিলেক্ট করার আগে জানতে হবে এই সাইটের প্রোডাক্ট সেই দেশে পাওয়া যায় কি না, তারা সেদেশে হোম ডেলিভারী দিচ্ছে কি না। যদি দেশীয় গ্রাহকদের নিয়ে কাজ করেন তবে জানতে হবে এই সাইটের পেমেন্ট সিস্টেম কি ধরনের। জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট সাইট হলো Amazon, ebay, Ali Express, Evanto ইত্যাদি।

এছাড়া ডিজিটাল প্রোডাক্টের জন্য Godaddy, Themeforest, Shutterstock, Freelancer, Upwork, Fiverr ইত্যাদি।

আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা – অসুবিধা (Amazon Affiliate Marketing )

Amazon সারা বিশ্বের নাম্বার ওয়ান ই-কমার্স সাইট। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট ( Amazon Affiliate Program ) কে ঘিরেই হাজার হাজার ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে।

অ্যামাজন নিজেকে বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই ক্লায়েন্টকে বিশ্বস্ততা নিয়েও চিন্তা করতে হবেনা। তবে আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও এবং ইংরেজি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেল ল্যাঙ্গুয়েজ অবশ্যই ইংরেজিতে হতে হবে।

কিন্তু আপনি যদি দেশীয় গ্রাহকের কাছে পৌছাতে চান তবে আমি বলবো অ্যামাজন নিয়ে কাজ না করাই ভালো কারণ অ্যামাজনে যে ধরনের পেমেন্ট সিস্টেম রয়েছে তা বাংলাদেশীদের কাছে খুব একটা নেই।

এফিলিয়েট মার্কেটিং বাংলাদেশ

বাংলাদেশী মার্কেট নিয়ে কাজ করে সাফল্য পাওয়া খুব কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করার জন্য বাংলাদেশী সাইট সিলেক্ট করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বাংলাদেশে অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট সাইট যদিও সীমিত তবে ডিজিটাল প্রিাডাক্ট নিয়ে কাজ করার মতো বেশ কছিু সাইট রয়েছে।

বাংলাদেশী ফিজিক্যাল ই-কমার্স সাইট

  1. সহজ অ্যাফিলিয়েটস ( Sohoj Affiliates )
  2. বিডিশপ.কম ( bdshop )
  3. দারাজ ( বর্তমানে বন্ধ )

বাংলাদেশী ডিজিটাল প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সাইট :

  1. বহুব্রীহি অনলাইন কোর্স
  2. ডায়ানাহোস্ট ( ডোমেইন এন্ড হোস্টিং )
  3. হোস্টিং বাংলাদেশ ( ডোমেইন এন্ড হোস্টিং )
  4.  থিম বাজার (themesbazar)

আরো বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের বাংলাদেশের সেরা ১০টি এফিলিয়েট মার্কেট সম্পর্কিত আর্টিকেলটি পড়ে নিন।

আফিলিয়েট মার্কেটিং কৌশল ( Affiliate Marketing )

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ সফলতার একটাই উপায়। আপনার লিঙ্ক প্রচুর মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। যতো বেশি মানুষের কাছে আপনার প্রোডাক্ট পৌছাবে ততোবেশি সেল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে এবং একইভাবে যতো বেশি সেল ততোবেশি কমিশন একাউন্টে যোগ হবে। এই লিঙ্ক পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে।

১) Text Message Marketing

মেসেজ মার্কেটিং এর মাধ্যমে সাধারণত বিভিন্ন অফার প্রোডাক্ট প্রোমোট করা হয়। তবে যেকোন প্রোডাক্ট সম্পর্কে খুব ছোট করে বর্ণনার সাথে লিঙ্কসহ মেসেজ পাঠানো সম্ভব।

টেক্সট মেসেজ মার্কেটিং করার জন্য নাম্বার সংগ্রহ করতে হয়। নাম্বার সংগ্রহ করতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যায়, তবে এজন্য সময় প্রয়োজন। দ্রুত মার্কেটিং করার জন্য ক্রয় করে নিতে পারেন।

২) Email Marketing

মার্কেটিং কৌশলগুলোর মধ্যে মেইল মার্কেটিং অন্যতম জনপ্রিয়। মেসেজ এর চেয়ে মেইলে মার্কেটিং করা সুবিধাজনকও বটে। মেইলে প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে গ্রাহককে পাঠানো যায়।

মেসেজ মার্কেটিং করার মতো মেইলের জন্যও আপনার টার্গেট গ্রাহকদের মেইল এড্রেস সংগ্রহ করতে হবে। এক্ষেত্রেও মেইল এড্রেস কিনে নেওয়া যায়।

৩) স্যোশাল মিডিয়া Marketing

যদি ফেসবুকে আপনার কোন বড় পেজ বা গ্রুপ থাকে তবে খুব সহজেই প্রচুর মানুষের কাছে আপনার প্রোডাক্ট লিঙ্ক পৌছাতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম, কোরা, টেলিগ্রাম, পিন্টারেস্ট, টুইটার, প্রভৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা সম্ভব।

বড় বড় তারকারা এই স্যোশাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয়। তাদের ভাষায় যেটিকে ইনফ্লুয়েন্স বলা হয়।

৪) ওয়েবসাইটে Affiliate marketing

সবচেয়ে ভাল উপায় প্রোডাক্ট  রিভিউ লিখে ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা। তাহলে স্যোশাল মিডিয়ার মতো প্রতিদিন ছবি পোস্ট করা লাগবে না বা ক্লায়েণ্ট এর প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে না।

আপনার রিভিউ এর সাথে প্রোডাক্টের অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক দিবেন ক্র‍য় করার জন্য। একদিন শুধু কষ্ট করে প্রোডাক্টটির সুন্দর একটি রিভিউ লিখবেন। লেখার সময় মনে রাখতে হবে, আপনি যতো ভালভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, ক্রেতা জিনিস কিনতে ততো বেশি আগ্রহী হবে।

তবে ওয়েবসাইটে কাজ শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই SEO সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান আহরণ করতে হবে। এসইও সম্পর্কে না জানলে আপনার ওয়েবসাইট র‌্যাঙ্ক করবেনা, আর র‌্যাঙ্ক না করলে ভিজিটরস পাবেন না অর্থাৎ আপনার প্রোডাক্ট গ্রাহক পর্যন্ত পৌছাবে না।

৫) ইউটিউব Affiliate মার্কেটিং

ওয়েবসাইটের মতো ইউটিউবেও একই কাজ করা যায় শুধু উপস্থাপন ভিন্ন ধরনের। ইউটিউবে সাফল্য পাওয়ার জন্য প্রয়োজন সাবস্ক্রাইবার এবং সেইসাথে ভালো ভিডিও তৈরি করে আরো বেশি ভিউ নিয়ে আসা। ভিডিওর সাথে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিঙ্কটি ডেস্ক্রিপশন বক্সে দিয়ে দিতে হবে।

ইউটিউবে যে এসইও করা যায় সে সম্পর্কে আমাদের অনেক ইউটিইবারই জানেনা। একইসাথে ইউটিউব ভিডিও কোয়ালিটি এবং উপস্থাপন সুন্দর হওয়া জরুরী।

৬) বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে মার্কেটিং

Advertisement এর মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে প্রোডাক্ট পৌছানো পুরাতন তবে চিরতরুন কৌশল। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞাপন মার্কেটিং কৌশলের উন্নতি হয়েছে।

আপনার বাজেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের সাথে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন অথবা গুগলের সাথেও বিজ্ঞাপন দেখাতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফলতা পেতে সঠিক Affiliate marketing product বেছে নেওয়া খুবই গুরত্বপূর্ণ। ধরে নিচ্ছি আপনার কাছে এমন একটি পেজ, ব্লগ ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যেখানে বেশ ভালো পরিমাণ ভিজিটরস রয়েছে।

আমরা আমাদের গ্রাহকের চাহিদা সম্পন্ন প্রোডাক্ট নির্বাচন করেছি এবং সাইট বিশ্বস্ততা সম্পর্কে গবেষণা করে একটি নির্দিষ্ট সাইট সিলেক্ট করেছি।

এখন সিলেক্টেড সাইটের জন্য কাজ করতে আপনাকে একটি অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর তাদের যেসব প্রোডাক্ট নিয়ে আপনি কাজ করতে চান সেগুলো বাছাই করুন।

প্রোডাক্ট লিঙ্ক কপি করে আপনার অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট ড্যাশবোর্ড থেকে লিঙ্কটিকে কনভার্ট করে আপনার নিজস্ব এবং সতন্ত্র অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক জেনারেট করে নিতে হবে। ব্যাস, আপনার কাজ শেষ। এবার আপনার যেকোন সোশ্যাল সাইট কিংবা অন্য যেকোন মার্কেটিং মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন।

এখন এই লিঙ্ক দিয়ে কেউ যদি কোন প্রোডাক্ট ক্রয় করে বা সেবা নেয় তবে বিক্রেতার লাভের একটি অংশ আপনার একাউন্টে চলে আসবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখতে চাই

আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্যাসিভ ইনকামকে প্রফেশন বানিয়ে নিতে চান, তবে আমার পরামর্শ আপনি একটি ভালো কোর্স করুন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ দক্ষতা অর্জন করার জন্য বহু ফ্রি অনলাইন কোর্স রয়েছে যেগুলো কম্প্লিট করে একজন সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে পারবেন আশা করা যায়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে কত টাকা প্রয়োজন?

আমরা মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছি। উপরে যে স্টেপগুলো নিয়ে কথা বললাম তোর মাঝে কোথায় কোথায় খরচ হতে পারে বলুন তো?

  1. স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে
  2. মেইল কিংবা নাম্বার ক্রয় করতে
  3. বিজ্ঞাপন প্রকাশে

এই তিনটি স্টেপের প্রতিটাতেই খরচ শূন্য হতে পারে আবার কয়েক হাজারও হতে পারে। যদি আপনার মেইল বা নাম্বার থেকে থাকে অথবা প্রয়োজন না হয়, তবে আপনার এখানে কোন খরচ হচ্ছে না।

যদি আপনার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার কোন প্রয়োজন না হয়, তাহলে বিজ্ঞাপনের জন্য কোন খরচ হবে না। আপনার যদি মার্কেটিং করার জন্য প্রয়োজনীয় স্কিল থেকে থাকে তাহলে এখানেও খরচ শূন্য। সুতরাং আপনার কোন খরচই নেই।

কিন্তু যার কাছে এসব রিসোর্স নেই তাকে উপরোক্ত তথ্য পেতে এবং দক্ষতা অর্জন করতে কিছু টাকা খরচ করতে হবে। আবার ধরুন আপনি নিজে SEO না করে এক্সপার্ট হায়ার করেন সেখানে আরো বেশি টাকা লাগবে।

ভালোভাবে আন্তর্জাতিকভাবে অ্যাফিলিয়েট শুরু করার জন্য গড়ে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হতে পারে। আপনি যতোবেশি স্কিলড এবং তথ্যসমৃদ্ধ হবেন আপনার খরচ সেভাবেই কমতে থাকবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে শেষ কথা

তাহলে আমরা এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবো তা জেনে নিলাম। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন এফিলিয়েট মার্কেটিং ( Affiliate Marketing ) করে আয় করে মাস শেষে বড় একটা এমাউন্টের প্যাসিভ ইনকাম করা সম্ভব।

তবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার আগে আপনার বেশ ভালো পরিমাণ ভিজিটরস কিংবা সাবস্ক্রাইবার তৈরি করতে হবে। কিংবা আপনাকে টার্গেট গ্রাহকের  মেইল এড্রেস বা মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া নিজের মার্কেটিং দক্ষতা ও এসইও নলেজ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে ধৈর্য্য ধরতে হবে। এমনকি সফলতা পেতে আপনার দুই তিন বছর লেগে যেতে পারে। কিন্তু একবার প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে আর পিছনে তাকাতে হবেনা।

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করে অনেকেই প্রথম দিনেই কমিশন পেয়ে যান কিন্তু দ্রুতই হারিয়েও যান, তাই প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে ধীরে ধীরে নিজের ভিত্তি শক্ত করুন।

মানুষ প্রতিদিন আরো বেশি অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়ছে সুতরাং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ভবিষ্যত যে উজ্জ্বল তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ( Affiliate Marketing ) এর পথচলা শুভ হোক।


Abdullah

বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে অধ্যয়নরত। জানার আগ্রহ থেকে whyorwhen এবং Pratiborton এ লেখালেখি করি।

4 Comments

Niloy · জুন 3, 2021 at 11:28 অপরাহ্ন

Thank you so much. Onnek kisu janlam

    Abdullah · জুন 4, 2021 at 2:34 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ

Nahin Ferdous · ডিসেম্বর 19, 2020 at 6:29 অপরাহ্ন

অনেক ভালো লাগলো। ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর e-cab এর ১১ দিনের একটি ট্রেনিং নিয়ে ধারনা পাই।এরপর আমি নিজেই আমার ও অন্যদের প্রডাক্ট সেল নিয়ে কাজ করি।তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে একটু সমস্যা ছিলো । নিজেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছি অথচ নিজে জানতাম না এটাকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে।ধন্যবাদ ও শুভকামনা লেখকের জন্য।

    Pratiborton · ডিসেম্বর 20, 2020 at 8:36 পূর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ ভাই। আপনার জন্যও শুভকামনা।

মন্তব্য করুন

Avatar placeholder

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen + 8 =

error: Content is protected !!